সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:২৮ পি.এম
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যার ঘটনায় পুলিশ আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই মাস পর মামলার সন্দেহভাজন আসামি তরিক মোমেনকে গ্রেফতার করা হয়।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ঘাগড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ পর্যন্ত মামলাটির সঙ্গে জড়িত ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গত ১৫ জুলাই রাতে মিঠামইন সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসভবনের সামনে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মিঠামইন থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এরপর থেকেই হত্যার কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করা হলেও হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য এখনো উন্মোচিত হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে অভিযান চালানো হচ্ছে। স্থানীয় জনতার সহায়তায় ইতোমধ্যে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সর্বশেষ ঘাগড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তরিক মোমেনকে গ্রেফতার করা হলো। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
এদিকে, জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় মিঠামইন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন খোকাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব না হওয়ায় মামলার তদন্ত ও হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের বিষয়গুলো নিয়ে নানা প্রশ্নও রয়েছে।
মিঠামইন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনোয়ার মোহাম্মদ বলেন, তরিক মোমেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। মামলার বাকি সন্দেহভাজন ও পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর মহাদেবপুরে ভুল চিকিৎসার কারণে নাছিমা খাতুন (৪২) নামে এক নারীর মৃত্যু ঘটেছে, যার পর হাসপাতালটি সিলগালা করা হয়েছে। মৃত নাছিমা খাতুন উপজেলার উত্তরগ্রাম ইউপির চকগৌড়া গ্রামের রেজাউল ইসলামের স্ত্রী। সোমবার দুপুরে সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম অভিযান চালিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশের সরকার টাওয়ারে অবস্থিত আল মদিনা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালটি সিলগালা করেন এবং বিষয়টি তদন্তের জন্য ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
রোগীর স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, পাইলসের সমস্যায় আক্রান্ত নাছিমা খাতুনকে গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আল মদিনা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পাইলসের অপারেশনের জন্য ওই হাসপাতালের পরিচালক মো. আমিনুর রহমান মন্ডলের সঙ্গে ১২ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। ওই দিন রাতেই মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. দেওয়ান আব্দুস সবুর রোগীর অপারেশন করেন। অপারেশনের পর থেকেই রোগীর অবস্থা খারাপ হতে থাকে এবং পরদিন রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে নাছিমা খাতুনের মৃত্যু ঘটে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইউপি সদস্য মকবুল হোসেনের উপস্থিতিতে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে সমঝোতা করেন, যদিও সেখানে কোনো টাকার উল্লেখ নেই। তবে ৩০ হাজার টাকায় দফারফা শেষে নাছিমার মরদেহ স্বজনরা নিয়ে যান বলে একাধিক সূত্র জানায়।
রোগীর স্বজন জাকারিয়া জানান, ভর্তির পর নাছিমার রক্তসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এ সময় নাছিমার হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ছিল ৭ দশমিক ৪ গ্রাম/ডেসিলিটার। একই দিনে করা অন্য একটি রিপোর্টে হিমোগ্লোবিন পাওয়া যায় ৭ দশমিক ৫ গ্রাম/ডেসিলিটার। এরপর রোগীর অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত, রক্তস্বল্পতা বিবেচনা, অস্ত্রোপচার পরবর্তী পর্যবেক্ষণ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রোগীর স্বজনরা। শুধু হিমোগ্লোবিন নয়, দুই রিপোর্টে রক্তের অন্যান্য উপাদানেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে।
একটি রিপোর্টে প্লাটিলেট ৩ লাখ ৮৪ হাজার, অন্যটিতে ৬ লাখ ৫ হাজার উল্লেখ করা হয়েছে। এমন রিপোর্টের পর রোগীর অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি কিভাবে নেওয়া হয়েছিল, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবারের দাবি, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নাছিমাকে অপারেশন কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ইমরান আলী অ্যানেস্থেশিয়া দেন এবং ডা. দেওয়ান মো. আব্দুস সবুর অস্ত্রোপচার করেন।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের সময় বা পরে রক্তস্বল্পতার কারণে নাসিমাকে ‘বি’ পজিটিভ গ্রুপের এক ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়।
মৃত নাসিমার স্বামী রেজাউল ইসলাম বলেন, অস্ত্রোপচারের পর রাতে তার স্ত্রীর অবস্থা মোটামুটি ভালোই ছিল; কিন্তু পরদিন সকাল ৮টার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তার স্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসককে ডাকতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে সকাল ৯টার দিকে অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক ডা. দেওয়ান মো. আব্দুস সবুর হাসপাতালে আসেন। তিনি রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে হাসপাতাল থেকে অন্যত্র নেওয়ার আগেই নাসিমার মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের লিখিতভাবে মীমাংসা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ডা. দেওয়ান মো. আব্দুস সবুর বলেন, তিনি প্রায় পাঁচ বছর ধরে অস্ত্রোপচার করছেন। রোগীর কাগজপত্র ও পরীক্ষার রিপোর্ট দেখেই অস্ত্রোপাচার করা হয়েছে। অস্ত্রোপচারের আগে হিমোগ্লোবিন ৭ দশমিক ৪ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অস্ত্রোপচারের সময় রোগীকে এক ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছিল।
আল মদিনা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক আমিনুর রহমান মন্ডল জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন মেডিকেল অফিসার দিয়ে অ্যানেস্থেশিয়া ও অস্ত্রোপচার করানো হয়েছে। রোগীর কাগজপত্র দেখেই চিকিৎসক অস্ত্রোপচার করেছেন। বিষয়টি চিকিৎসকই ভালো বলতে পারবেন। রোগীর মৃত্যুর পর তার স্বজনদের সঙ্গে লিখিতভাবে মীমাংসা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন অভিযোগের কারণে এর আগেও ওই ক্লিনিক বন্ধ করা হয়েছিল। রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পেরে তিনি হাসপাতালটি সিলগালা করেন এবং বিষয়টি তদন্তের জন্য ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. খুরশিদুল ইসলাম, আবাসিক মেডিকেল অফিসার মো. ইমরুল কায়েশ প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের ক্রমাগত আক্রমণের কারণে সৌদি আরব বর্তমানে একটি বড় সংকটে রয়েছে। সৌদি সমর্থিত বাহিনীগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে একের পর এক এলাকা হারাতে বাধ্য হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বিভিন্ন আঞ্চলিক দেশের পাশাপাশি ইসরাইলেরও পরোক্ষ সাহায্য চেয়েছেন, যা ইসরাইলি গণমাধ্যম ‘ইসরাইল হায়োম’ দ্বারা জানানো হয়েছে।
সৌদি আরব সরাসরি উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে সাহায্য চাইলেও, মার্কিন সেন্টকমের মাধ্যমে ইসরাইলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। রিয়াদ, হুথিদের হাতে বাবেল মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ চলে না যায়, সেজন্য গোয়েন্দা তথ্য ও অন্যান্য সামরিক সহায়তা চেয়েছে।
যুবরাজ সালমান সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে সৌদি তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত না হওয়া পর্যন্ত সৌদি আরব ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার নীতিতে অটল ছিল। তাই ইসরাইলের সাহায্য চাওয়ার বিষয়টি একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংকটময় পরিস্থিতি সৌদিকে ইসরাইলের কাছাকাছি নিয়ে আসতে পারে।
এদিকে, সৌদি যুবরাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সরাসরি হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে রাজি হয়নি, বরং শুধুমাত্র গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তার কথা বলেছে। এর অংশ হিসেবে সেন্টকম প্রধান ব্র্যাড কুপার বর্তমানে সৌদি আরব সফর করছেন।
পাকিস্তান ও তুরস্ক মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে, কিন্তু যুদ্ধের মধ্যে জড়াতে চাচ্ছে না। অন্যদিকে, সুয়েজ খালের বাণিজ্যের কারণে মিসর সৌদির পাশে রয়েছে।
যুদ্ধক্ষেত্রে হুথিরা ইতোমধ্যে মোগা বন্দর ও বেশ কিছু দ্বীপের দখল নিয়েছে এবং সৌদি বাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে। তারা দক্ষিণ সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও বিমান ঘাঁটিতেও নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।
সূত্র: আল-মায়াদিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উন্নয়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান এমপির সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বক্তারা উল্লেখ করেছেন যে, ১৭ বছর পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা একই মঞ্চে অংশ নেওয়ায় এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।
সভাটি সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক মিজ রুজি আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান সভায় বলেন, "১৭ বছর পর একসঙ্গে সব দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি মিটিং হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক একটি বিষয়। সংকটে সমাধান আছে। দেশের সার্বভৌমত্বের বিষয়ে আমরা এক থাকব, একসঙ্গে কাজ করব।"
তিনি আরও বলেন, "মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন সমস্যা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়েও সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।" তিনি সিএনজি গ্যাস নিয়ে যে সংকট ছিল, সেটি ইতোমধ্যে সমাধান হয়েছে বলেও জানান।
গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন সভায় বলেন, "কুমিল্লা একটি বড় জেলা। শিগগিরই কুমিল্লাকে মেট্রোপলিটন করা হবে। এতে পুলিশ সুপারের ওপর চাপ কমবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।"
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের সমন্বয়ক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, "কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে যেন কোনো ধরনের আঞ্চলিক বিদ্বেষ ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।"
বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের মন্তব্য করেন, "কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের অনেক কষ্ট করছেন। তিনি নিজে স্বাক্ষর সংগ্রহ করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।"
সভায় কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া, কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. জসিম উদ্দিন, কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মনিরুল হক চৌধুরী এবং কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুল ইসলাম শাওন বক্তব্য দেন।
এছাড়া কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, কুমিল্লা ওয়াসার চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দৈনিক যুগান্তরে ১৩ সেপ্টেম্বর ‘ভালোবাসার কাছে হার মানল দারিদ্রতা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর শেরপুর জেলায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং ফেসবুক প্ল্যাটফর্মে আলোচনার ঝড় ওঠে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এবং বিদেশ থেকেও ওই হতদরিদ্র বৃদ্ধ দম্পতির সাহায্যের জন্য অনেকেই এগিয়ে আসেন।
স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং ব্যক্তিরা সরাসরি বৃদ্ধ দম্পতির বাড়িতে গিয়ে তাদের সাহায্য সহযোগিতা করতে থাকেন।
এদিকে, ১৩ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে শেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হযরত আলী বৃদ্ধ দম্পতির বাড়িতে গিয়ে ২০ হাজার টাকা নগদ অর্থসহায়তা প্রদান করেন এবং তিন মাসের খাবারও দিয়ে আসেন। তিনি ওই পরিবারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ সময় তিনি নিজ বাড়ি থেকে রান্না করা খাবার নিয়ে গিয়ে বৃদ্ধ দম্পতিকে খাইয়ে দেন। বিএনপির বিভিন্ন নেতারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
যুগান্তরের খবরটি ভাইরাল হওয়ার পর শেরপুর জেলা প্রশাসনও তৎপর হয়ে ওঠে। ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার সকালে শেরপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা ইয়াসমিন বৃদ্ধ দম্পতির বাড়িতে যান। তিনি বৃদ্ধ দম্পতির স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন এবং প্রতি মাসে খাবার দেওয়া, ঘর সংস্কার ও চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ভলান্টিয়ারদের মাধ্যমে শহরের হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। সেখানে তাদের ভর্তি করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন।
জেলা প্রশাসকের সঙ্গে এ সময় জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কামরুজ্জামান খান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা বিনতে রফিক, যুগান্তর প্রতিনিধি ও শেরপুর প্রেস ক্লাবের কার্যকরী সভাপতি রফিক মজিদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ