০৬:২৪ পি.এম
পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এবং বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে থাকায়, যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে বলেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে।
বার্তা সংস্থা সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানাচ্ছে, জুন ও জুলাই মাসজুড়ে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের গড় মূল্য ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ)।
সংস্থাটির নতুন পূর্বাভাস অনুসারে, মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার জন্য সরবরাহ সংকট আরো তীব্র হতে পারে। ফলে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম বর্তমান প্রায় ৯১ ডলার এবং যুদ্ধ শুরুর আগে প্রায় ৭০ ডলারের তুলনায় অনেক বেশি অবস্থানে থাকতে পারে।
আরও পড়ুন: আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনকে লজ্জাজনক বললেন নেতানিয়াহু
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তেল রপ্তানি সীমিত থাকবে এবং উৎপাদন ও মজুদ কমে আসবে—এমন ভিত্তিতে এই মূল্য পূর্বাভাস তৈরি করা হয়েছে বলেও জানায় ইআইএ।
প্রতিবেদনে জ্বালানি বিশ্লেষকদের একাংশও একই ধরনের পূর্বাভাস দিয়েছেন। মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগানের মতে, যদি হরমুজ প্রণালি চলতি মাসেই পুনরায় চালু হয়, তাহলে তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্রেন্ট ক্রুডের গড় মূল্য ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৪ ডলার থাকতে পারে।
ইআইএ’র এই পূর্বাভাস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবির সঙ্গে কিছুটা সাংঘর্ষিক বলা হচ্ছে। ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, ইরানের সাথে একটি চুক্তি সম্পন্ন হলে বিশ্ববাজারে তেল ও জ্বালানির দাম দ্রুত কমে যাবে। তিনি বারবার দাবি করেছেন, এমন একটি চুক্তি খুব শিগগিরই সম্পন্ন হতে যাচ্ছে।
তবে সরকারি পূর্বাভাসে এখনো উচ্চমূল্যের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: নায়ক মান্নার গাড়িতে আগুন, গ্রেফতার দুজন কারাগারে
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি মূল্য নিয়েও নতুন পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে ইআইএ। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে দেশটিতে গ্যাসোলিনের গড় মূল্য প্রতি গ্যালন ৩ দশমিক ৯০ ডলার এবং পরের বছর ৩ দশমিক ৬৪ ডলার হতে পারে। মে মাসে প্রকাশিত পূর্ববর্তী প্রতিবেদনের তুলনায় এই পূর্বাভাস সামান্য বেশি বলা হয়েছে।
তবে ইআইএ বলছে, বৈশ্বিক চাহিদা কিছুটা কমে যাওয়ায় জ্বালানির দাম আরো বেশি বাড়েনি। উচ্চমূল্যের কারণে ভোক্তাদের মধ্যে ব্যয় কমানো, জ্বালানির সীমিত প্রাপ্যতা এবং এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সাশ্রয়ী উদ্যোগ গ্রহণের ফলে চাহিদা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ তেল উৎপাদনের পূর্বাভাসও সামান্য বেশি করা হয়েছে। নতুন হিসাব অনুযায়ী, দেশটির দৈনিক তেল উৎপাদন ১ কোটি ৩৭ লাখ ব্যারেলে পৌঁছাতে পারে। এর আগে ইআইএ ধারণা দিয়েছিল যে উৎপাদন প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে এবং দৈনিক এক কোটি ৩৬ লাখ ব্যারেল থাকবে।
আরও পড়ুন: লুলার বিজয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা, ভূরাজনীতির নতুন সমীকরণ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন