মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৩৬ পি.এম
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি শহরের সড়ক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘Vision Zero Reimagined’ পরিকল্পনায় শহরের প্রথম কিছু পথচারী-নির্ভর ও গাড়িমুক্ত জেলা তৈরির উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নিরাপদ সড়ক নকশা, গণপরিবহন উন্নয়ন, সাইকেল অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমানোর জন্য একাধিক পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে।
মামদানি প্রশাসনের ১০ বছরের এই পরিকল্পনায় ১০০টির বেশি নীতিগত উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে শহরের প্রথম ‘pedestrian-only’ এবং ‘pedestrian-priority’ district তৈরি, প্রতি বছর অন্তত ১ হাজার ইন্টারসেকশনে পথচারী নিরাপত্তার উন্নয়ন, সাইকেল লেন সম্প্রসারণ এবং বাস চলাচল আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য করার উদ্যোগ রয়েছে। তবে কোন কোন এলাকায় পুরোপুরি গাড়িমুক্ত জেলা তৈরি হবে, সে বিষয়ে পরিকল্পনায় এখনো নির্দিষ্ট স্থান ঘোষণা করা হয়নি।
এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য দুর্ঘটনার পরিণতি কমানো নয়, বরং সড়কের নকশা এমনভাবে পরিবর্তন করা যাতে দুর্ঘটনা ও গুরুতর আঘাতের ঝুঁকি হ্রাস পায়। মেয়রের কার্যালয় জানাচ্ছে, নিউইয়র্কে গাড়ি জড়িত দুর্ঘটনা শহরের মোট ট্রাফিক মৃত্যুর বড় অংশের জন্য দায়ী। তাই হাঁটা, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট, সাইকেল ও অন্যান্য বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, সহজলভ্য ও আকর্ষণীয় করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
মামদানি পরিকল্পনা ঘোষণার সময় উল্লেখ করেন, নিউইয়র্কের সড়ককে আরও নিরাপদ করার জন্য শহরকে এমন নকশা গ্রহণ করতে হবে যেখানে মানুষকে কেন্দ্র করে রাস্তা ও পাবলিক স্পেস তৈরি করা হবে। পরিকল্পনায় ‘safe systems’ পদ্ধতির উল্লেখ রয়েছে। এর অর্থ হলো, শুধু চালকদের আচরণ পরিবর্তন বা আইন প্রয়োগের ওপর নির্ভর না করে সড়কের নকশা, গতি নিয়ন্ত্রণ, পথচারী অবকাঠামো এবং যানবাহনের নিরাপত্তা একসঙ্গে উন্নত করা।
নিউইয়র্কে কিছু সড়ক পুনর্নকশার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সেপ্টেম্বরে প্রশাসন পার্ক অ্যাভিনিউর ১১টি ব্লকের নতুন নকশা প্রকাশ করেছে, যেখানে একটি গাড়ির লেনকে দুই দিকের সুরক্ষিত সাইকেল লেনে রূপান্তর, মিডিয়ান বড় করা এবং পথচারীদের জন্য অতিরিক্ত জায়গা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে ১১৬তম স্ট্রিটে ২ দশমিক ৫ মাইল নতুন বাস লেন ও অন্যান্য সড়ক নিরাপত্তা অবকাঠামোর নির্মাণ শুরু হয়েছে। শহরের হিসাব অনুযায়ী, ওই করিডোর দিয়ে প্রতিদিন ৬৫ হাজারের বেশি বাসযাত্রী চলাচল করেন।
নিউইয়র্কের বর্তমান ‘Vision Zero’ কর্মসূচির ওপরও নতুন পরিকল্পনাটি তৈরি করা হয়েছে। শহরের পরিবহন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে পথচারী মৃত্যুর সংখ্যা রেকর্ডের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি ছিল এবং ২০১৪ সালে Vision Zero চালুর পর থেকে পথচারী মৃত্যুর হার ৪২ শতাংশের বেশি কমেছে। প্রশাসনের দাবি, নতুন পরিকল্পনার লক্ষ্য এই অগ্রগতিকে আরও এগিয়ে নেওয়া।
গাড়িমুক্ত বা পথচারী-নির্ভর এলাকা তৈরির ধারণা নতুন নয়। বার্সেলোনা, প্যারিসসহ ইউরোপের বিভিন্ন শহরে দীর্ঘদিন ধরে পথচারী-কেন্দ্রিক সড়ক ব্যবস্থার ব্যবহার রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে গবেষণার ফল একেবারে একমুখী নয়। স্পেনের বিভিন্ন শহরের ওপর একটি গবেষণায় পথচারী-নির্ভর এলাকায় দোকানের বিক্রি বাড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে, তবে ২০২৬ সালে বার্সেলোনার ২০১৪ থেকে ২০২২ সালের বাণিজ্যিক তথ্য বিশ্লেষণ করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পথচারীকরণ পুরোনো কিছু ব্যবসা বন্ধ হওয়া এবং খুচরা ব্যবসার বৈচিত্র্য কমার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। গবেষকরা বলেছেন, শুধু পথচারীকরণকে এসব পরিবর্তনের একমাত্র কারণ হিসেবে দেখা যায় না এবং পর্যটনের চাপও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
ফলে, মামদানির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি, পথচারী, সাইকেল ও পাবলিক ট্রান্সপোর্টের মধ্যে জায়গা ভাগাভাগির ধরন বদলাতে পারে। তবে কোন এলাকা কতটা গাড়িমুক্ত হবে, স্থানীয় ব্যবসা ও বাসিন্দাদের ওপর এর কী প্রভাব পড়বে এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো কীভাবে তৈরি হবে, এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপে নির্ধারিত হওয়ার কথা। পরিকল্পনাটি আপাতত একটি দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত রূপরেখা, চূড়ান্ত সড়ক নকশা নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরা, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের উদ্যোগে আজ প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশের অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে ছিল।
মঙ্গলবার বিকালে শহরের মাওয়া চায়নিজ রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে একটি মিছিল বের হয়ে প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে চায়না বাংলা শপিং সেন্টারের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন জেলা যুবদলের সভাপতি হাফিজুর রহমান মুকুল। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি'র সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু।
জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল আলম বাবুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই প্রতিবাদ সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি শেখ মনিরুজ্জামান প্রিন্স, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল ইসলাম চন্দন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুম রানা সবুজ। এছাড়া সদর থানা যুবদলের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম এবং পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আলী শাহিনও উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় জেলা যুবদলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বান্দরবান, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: বান্দরবান পার্বত্য জেলাকে আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন পর্যটন নগরীতে রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু।
আজ বান্দরবান পৌরসভার চারপাশের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় শহরের পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কার কার্যক্রমের ওপরও নজর দেন তিনি।
মন্ত্রী শহরের ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল রোডের সংলগ্ন সড়কের খানাখন্দ এবং ভগ্নদশা দ্রুত মেরামতের নির্দেশনা দেন। এছাড়া ৩ নং ওয়ার্ড কালাঘাটা এলাকার চৌরাস্তা সংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে জমা হওয়া ময়লা-আবর্জনা ও আগাছা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করে তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কারের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং যানজট নিরসনের লক্ষ্যে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে সরকারি খাসজমি ও সড়কের ওপর অবৈধভাবে গড়ে তোলা সকল উচ্ছেদযোগ্য স্থাপনা দ্রুত অপসারণের জন্য জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন মন্ত্রী।
পরে, মন্ত্রী পৌরসভার রোয়াংছড়ি বাস টার্মিনাল এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখানে বিদ্যমান সুপেয় পানির সংকট, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিম্নমানের যাত্রীসেবা এবং সামগ্রিক অব্যবস্থাপনা দেখে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। যাত্রীসাধারণের ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেন তিনি।
এছাড়া, পর্যটক ও স্থানীয়দের সুবিধার্থে প্রধান ডাকঘরের কাছে থানচি বাস স্ট্যান্ড এবং রুমা বাস টার্মিনাল সংলগ্ন পৃথক দুটি স্থানে অত্যাধুনিক ও পরিচ্ছন্ন পাবলিক টয়লেট নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনকালে বান্দরবান জেলার জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস, বান্দরবান স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক এস এম মনজুরুল হক, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, বান্দরবান ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাতসহ জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনের শেষে মন্ত্রী বলেন, "সরকারের সঠিক পরিকল্পনা ও স্থানীয় জনগণের সর্বাত্মক সহযোগিতায় অতি দ্রুত বান্দরবান একটি পরিচ্ছন্ন, সুসংগঠিত ও মডেল পর্যটন নগরী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ক্রিকেটের ইতিহাসে দুর্দান্ত পেস বোলিং জুটির উদাহরণ কমই দেখা যায়। তবে ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনিসের নাম আলাদা এক আবহে উচ্চারিত হয়। পাকিস্তানের এই দুই কিংবদন্তি শুধু ভয়ংকর গতির জন্যই নয়, বরং সুইং, রিভার্স সুইং ও নিখুঁত ইয়র্কারের সমন্বয়ে নব্বইয়ের দশকে ব্যাটারদের জন্য কঠিন পরীক্ষা তৈরি করেছিলেন। আজও তাদের বোলিংকে ক্রিকেটের অন্যতম সেরা পেস জুটি হিসেবে গণ্য করা হয়।
একসঙ্গে দুই দিক থেকে আক্রমণ
ওয়াসিম ছিলেন বাঁহাতি, অন্যদিকে ওয়াকার ছিলেন ডানহাতি। ফলে তাদের বোলিংয়ের কোণ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। যখন একজন বাঁহাতি অ্যাঙ্গেল থেকে বল সুইং করাতেন, তখন অন্যজন বিপরীত প্রান্ত থেকে গতি ও মুভমেন্টের মাধ্যমে ব্যাটারকে চাপে ফেলতেন। এই বৈচিত্র্য তাদের জুটিকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছিল।
আইসিসির হল অব ফেমে ওয়াসিমকে সুইং ও সিম বোলিংয়ের অন্যতম সেরা কারিগর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অপরদিকে, ওয়াকার পরিচিত ছিলেন রিভার্স সুইং ও ইন-সুইং ইয়র্কারের মাস্টার হিসেবে।
রিভার্স সুইংয়ে নতুন মাত্রা
ওয়াসিম-ওয়াকারের বোলিংয়ের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল রিভার্স সুইং। পুরোনো বলকে বাতাসে অস্বাভাবিকভাবে দুই দিকে মুভ করিয়ে ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করার ক্ষেত্রে তারা ছিলেন অসাধারণ।
বিশেষ করে ওয়াকারের দ্রুতগতির ইয়র্কার ছিল ব্যাটারদের জন্য একটি বড় হুমকি। আইসিসিও তাকে রিভার্স সুইংয়ের অন্যতম সেরা বোলার এবং ইন-সুইং ইয়র্কারের দক্ষ কারিগর হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ওয়াসিমের দক্ষতা ছিল আরও বহুমাত্রিক। তিনি একই অ্যাকশন থেকে বল দুই দিকে সুইং করাতে পারতেন এবং উচ্চ গতিতে ইয়র্কারও করতে পারতেন। সাবেক ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেসার কোর্টনি ওয়ালশ ওয়াসিমকে তার সময়ের অন্যতম বিধ্বংসী বাঁহাতি পেসার হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তার সুইং ও ইয়র্কারের পাশাপাশি রিভার্স সুইংয়ের বিশেষ দক্ষতার কথাও উল্লেখ করেছেন।
পরিসংখ্যানেও তাদের শ্রেষ্ঠত্ব
ওয়াসিম আকরাম টেস্টে ১০৪ ম্যাচে ৪১৪ উইকেট নিয়েছেন। ওয়ানডেতে ৩৫৬ ম্যাচে তার শিকার ৫০২ উইকেট। অন্যদিকে ওয়াকার ইউনিস ৮৭ টেস্টে ৩৭৩ এবং ২৬২ ওয়ানডেতে ৪১৬ উইকেট নিয়েছেন।
অর্থাৎ আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে তারা দুজন মিলে ৯০০-র বেশি উইকেট শিকার করেছেন। আইসিসির ভাষ্যেও তাদের একসঙ্গে ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর বোলিং আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুধু গতি নয়, ছিল বুদ্ধির খেলাও
ওয়াসিম-ওয়াকারের বিশেষত্ব শুধু বলের গতি কিংবা সুইংয়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। তারা ব্যাটারের দুর্বলতা বুঝে বলের লাইন, লেংথ ও মুভমেন্ট পরিবর্তন করতেও দক্ষ ছিলেন। নতুন বলে সুইং, পুরোনো বলে রিভার্স সুইং এবং শেষদিকে ইয়র্কার—একটি স্পেলের মধ্যেই তারা আক্রমণের ধরন বদলে দিতে পারতেন।
এই কারণে তাদের বিপক্ষে ব্যাট করা শুধুমাত্র শারীরিক চ্যালেঞ্জ ছিল না, বরং মানসিক পরীক্ষাও ছিল।
কেন আজও আলাদা?
আধুনিক ক্রিকেটে উন্নত প্রযুক্তি, বিশ্লেষণ ও প্রশিক্ষণের কারণে পেস বোলিংয়ের ধরন অনেক বদলে গেছে। কিন্তু ওয়াসিম-ওয়াকারের জুটির বিশেষত্ব ছিল তাদের বৈচিত্র্য ও পারস্পরিক পরিপূরকতা। একজন বাঁহাতি, অন্যজন ডানহাতি; একজন সুইংয়ে দক্ষ, অন্যজন রিভার্স সুইং ও ইয়র্কারে দুর্দান্ত—দুজনের অস্ত্রভাণ্ডার একে অপরকে আরও কার্যকর করে তুলেছিল।
সুতরাং, শুধুমাত্র উইকেটের সংখ্যা দিয়ে ওয়াসিম-ওয়াকারের প্রভাব বোঝা কঠিন। তাদের বোলিংয়ের সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল ব্যাটারের ওপর অবিরাম চাপ তৈরি করা। ক্রিকেট ইতিহাসে ‘টু ডব্লিউস’ নামে পরিচিত এই জুটি সেই কারণেই আজও পেস বোলিংয়ের এক অনন্য অধ্যায় হয়ে আছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গত ৮ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে ভারতের গুজরাটের সুরাটের শ্যাম সঙ্গিনী টেক্সটাইল মার্কেটের একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এই আগুনের ফলে ১৪টি দোকান সম্পূর্ণরূপে পুড়ে যায়। এতে ২৪ কোটি রুপির কাপড় ভস্মীভূত হয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, পুলিশের তদন্তে একটি মারাত্মক প্রতিশোধের কাহিনী উন্মোচিত হয়েছে।
চাকরিচ্যুত এক হিসাবরক্ষক তার মালিকের প্রতি প্রতিশোধ নিতে পুরো মার্কেটটিকে পুড়িয়ে দিয়েছে। ওই হিসাবরক্ষকের দাবি, তার নিয়োগকর্তার কাছে ১০ হাজার রুপি বেতন বাকি ছিল। এই ১০ হাজার রুপির জন্যই সে ২৪ কোটি রুপির সম্পদকে ধ্বংস করেছে। তার জন্য সে খরচ করেছে মাত্র ১৫০ রুপির পেট্রল এবং দুটি ম্যাচের কাঠি।
মঙ্গলবার গুজরাটের সুরাটের পুলিশ এ তথ্য প্রকাশ করেছে। যে অগ্নিকাণ্ডটিকে প্রথমে একটি সাধারণ দুর্ঘটনা মনে করা হয়েছিল, তদন্তের পর তা একটি বড় অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত হয়। এর সূত্র ধরে ক্রাইম ব্রাঞ্চ বিনোদ পণ্ডিত সাভলে নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।
মামলাটির রহস্য তখনই উন্মোচিত হয় যখন সিকিউরিটি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, মুখ ঢাকা এক ব্যক্তি ৮ সেপ্টেম্বর রাতে শ্যাম সঙ্গিনী টেক্সটাইল মার্কেটের একটি দোকানের বাইরে কাপড়ের পার্সেল থেকে আগুন ধরাচ্ছে। পুলিশ জানায়, এই আগুন পরবর্তীতে অন্তত ১৪টি দোকানে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় ২৪ কোটি টাকার কাপড় পুড়িয়ে দেয়।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) করণরাজ বাঘেলা জানিয়েছেন, সাভলে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস থেকে প্রায় তিন মাস মার্কেটটির ৬৩৯ নম্বর দোকানে কর্মরত ছিল। অ্যাকাউন্টসের কাজ সঠিকভাবে না সামলাতে পারায় গত জুনে তাকে চাকরি ছাড়তে হয়েছিল বলে এই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, সাভলের দাবি ছিল যে তার প্রাক্তন মালিকের কাছে ১০ হাজার রুপি পাওনা রয়েছে এবং সে মালিককে একটি শিক্ষা দিতে চেয়েছিল। সাভলে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ ও বোতলে করে কাছের একটি গ্রামের পেট্রল পাম্প থেকে ১৫০ টাকার পেট্রল কিনেছিল। এরপর ৮ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে সে মার্কেটে প্রবেশ করে। সাভলে পাঁচতলার সিঁড়ির কাছে লুকিয়ে থাকে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে মার্কেট যখন জনশূন্য হয়ে পড়ে, তখন সে নিজের সাবেক কর্মস্থল সেই দোকানের দিকে যায়।
ক্রাইম ব্রাঞ্চের উদ্ধার করা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মুখে সাদা কাপড় বাঁধা এবং কাঁধে একটি ব্যাগ ঝোলানো অবস্থায় অভিযুক্ত ব্যক্তি মার্কেটের ষষ্ঠ তলায় পৌঁছায়। সে এলাকা পর্যবেক্ষণ করে। ব্যাগ থেকে একটি পেট্রোল ভর্তি বোতল বের করে এবং দোকানের বাইরে রাখা কাপড়ের বাক্স ও পার্সেলের ওপর তা ঢেলে দেয়। দেশলাই কাঠি দিয়ে আগুন ধরানোর প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হয়; দ্বিতীয় চেষ্টায় কাপড়ে আগুন ধরে যায়।
ফুটেজে দেখা যায়, আগুনের শিখা ওপরে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। তার পরিকল্পনা সফল হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে সে একবার পিছন ফিরে তাকায়।
বহু পরিমাণ কাপড় এবং প্যাকিং সামগ্রী থাকার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশ কয়েকটি দোকানকে গ্রাস করে। পুলিশ জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল কর্মীদের কয়েক ঘণ্টা সময় লেগেছিল।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর সারোলি এলাকার পুলিশ এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে। পুলিশ জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ক্রাইম ব্রাঞ্চ অভিযুক্তের মার্কেটে প্রবেশ থেকে শুরু করে বের হওয়ার পথের একটি চিত্র দাঁড় করায়। এই ফুটেজের সূত্র ধরে তদন্তকারীরা ডিন্ডোলির বিলিপত্র রেসিডেন্সির বাসিন্দা সাভলের সন্ধান পান।
পুলিশের মতে, ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর এবং সাভলে যখন জানতে পারে যে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, তখন সে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে দেয় এবং স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে সুরাট ছেড়ে চলে যায়। প্রথমে সে রাজস্থানের খাতু শ্যাম মন্দিরে যায় এবং এরপর অযোধ্যায় যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, সাভলে সুরাটে ফিরে আসার পর ডিন্ডোলির ফ্লাওয়ার গার্ডেনের কাছ থেকে ক্রাইম ব্রাঞ্চের একটি দল তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
বাঘেলা জানান, সাভলে কীভাবে খোলা পেট্রল কিনেছিল এবং পেট্রল পাম্পটি নিয়মকানুন মেনে চলেছিল কি না তাও পুলিশ খতিয়ে দেখছে। কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তদন্তে কোনো ধরনের গাফিলতি পাওয়া গেলে পাম্পটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ক্রাইম ব্রাঞ্চ বর্তমানে সাভলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং সে একাই এই অগ্নিসংযোগের পরিকল্পনা করেছিলেন নাকি এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল তাও তদন্ত করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ