ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আর বিভেদ নয়, ঐক্যের বাংলাদেশ চাই


আর বিভেদ নয়, ঐক্যের বাংলাদেশ চাই

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরেও বাংলাদেশ কেন কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ? বর্তমানে কেন দেশের কোটি কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে? মানুষ দুবেলা দুমুঠো খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে কেন? এ দেশের শিশুরা কেন বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মারা যাচ্ছে? নারীদের সম্ভ্রমহানি কেন ঘটছে চারপাশে? অনেকেই এ বিষয়ে বিভিন্ন কারণে অবহিত হবেন। তবে একটু গভীরে গেলে একটি কারণ উল্লেখযোগ্য- আমাদের মধ্যে বিভেদ। বিভেদ থেকে উৎপন্ন হয়েছে হানাহানি। এই বিভাজন বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে চাপা দিয়ে রেখেছে। সম্ভাবনা অফুরন্ত, মানুষের অদম্য প্রাণশক্তি এবং প্রকৃতির অপার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে? বিভক্তি আর হানাহানিই এর প্রধান কারণ। বাংলাদেশের একটি অপূর্ব ঐক্যের মেলবন্ধনে বিনির্মিত হয়েছে। অধিকাংশ মানুষ এখানে এক ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, এবং ধর্মীয় বিশ্বাসে একত্রিত। জাতিগত দাঙ্গা কিংবা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ এখানে অনেক কম। সংস্কৃতির ভেতরেও তেমন ভেদাভেদ নেই। তবুও কিছু মানুষ ক্রমেই অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে, প্রতিটি মতকে নিষ্প্রাণ করতে উদ্যত। ভিন্নমত খতম করার মানসিকতায় আমাদের সম্ভাবনা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্তি দিয়েছিল। গোটা জাতির ঐক্যই আমাদের বিজয়ী করেছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পরে দ্বেষবিভাজন বজায় রাখতে আমাদের সক্ষমতা কমে এসেছে। ক্ষুদ্র স্বার্থে, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেশকে বিভক্ত করেছি। একে অপরের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করেছি। সরকারি কর্মচারী, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক- সর্বত্র বিভাজনের রাজনীতির একটা ভয়াবহ প্রবণতা বিদ্যমান। বিরোধীপক্ষ মানে শত্রু, তাকে নিঃশেষ করার মানসিকতা মহামারির মতো সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে। ইতিহাস দেখায়, যিনি ক্ষমতায় যান, বিরোধী মতকে নির্মূল করতে চান, না হলে ক্ষমতার চেয়ার নিরাপদ নয়। ভিন্নমত দমনের নামে রাজনীতির এক নীতিহীন প্রকাশ শুরু হয়েছে। দেশকে সংকীর্ণ দলীয় রাজনীতির চোরাগলিতে বন্দি করে রেখেছে। মানুষের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা জন্য ৩০ লাখ শহীদ তাঁদের জীবন দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা ছিল ভিন্নমতের প্রতি সম্মান। দেশের অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, সার্বভৌমত্বে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত। কিন্তু আমরা এখন পথ হারিয়েছি। সঠিক পথে ফিরে আসা এখন জরুরি। উন্নয়নের রোল মডেল রাষ্ট্রগুলোর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মৌলিক প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্রগুলো যত বেশি উন্নতি করে। গণতন্ত্রে অনুকরণীয় রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে তীব্র মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু দেশের প্রশ্নে তারা ঐক্যবদ্ধ থাকে। সরকার পরিবর্তনের পর রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো এক থাকে। গুণগত শাসনের সৌন্দর্য। কিন্তু আমরা ৫৫ বছর পরেও এ ধারাকে প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে কারা দেশের পক্ষের, কারা বিপক্ষের। ক্ষমতাসীনরা বিরোধী দলের মতামতকে অগ্রাহ্য করে, আবার বিরোধীদল ক্ষমতাসীনদের ভালো কাজের প্রশংসা করতে কুণ্ঠিত। ক্ষমতাসীনরা নিজেদের লোক খুঁজে বেড়ায়, সুবিধাবাদী এবং চাটুকারদের বেছে নেয়। ভিন্নমতকে গ্রহণ করার মানসিকতা ক্রমশঃ হ্রাস পাচ্ছে। এই দুষ্টচক্র থেকে বের হয়ে আসার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা উচিত। একটি সরকার যখন গঠিত হয়, তখন তাদের সকল জনগণের সরকার হতে হবে। সরকারি কাজের লক্ষ্য সকল নাগরিকের কল্যাণ নিশ্চিত করা। রক্তের মূল্যায়ন ছাড়া একজন চিকিৎসক ভিন্নমত বিকাশ করতে পারেন, তাই তাঁকে হরণ করা গণতান্ত্রিক সরকারের মানসিকতা নয়। গণতন্ত্রে ভিন্নমত থাকা দরকার। বিভাজনের রাজনীতি এই সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয়। প্রতিশোধ আর পাল্টা প্রতিশোধের রাজনীতির নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে ব্যবসায়ীদের সঙ্কটের মুখে পড়তে হয়। ক্ষমতার দৌড়ে আসা দলগুলো বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা হিসেবে ক্ষমতাসীনদের কাছে আনুগত্য দাবি করে। নিষ্পত্তি করতে না পারলে তারা ব্যবসায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এতে জাতীয় অর্থনীতি গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিভাজনের রাজনীতি বাংলাদেশকে পিছিয়ে দিচ্ছে। বর্তমান অবস্থার পরিবর্তনের জন্য একটি সুযোগ এসেছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার প্রথম ১০০ দিনে প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার সংকেত দিয়েছে। সংসদে বিরোধী দলের মতামত গ্রহণের পথে প্রচেষ্টা চলছে। প্রধানমন্ত্রীর সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার বাণী কার্যকর হতে হবে। আসন্ন বাজেট ঐক্যের বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ এনে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেছেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে সংকটে। আসন্ন বাজেট থেকে এই সংকটের সমাধান খুঁজতে হবে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। বিভক্তির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এলেই সামনে এগিয়ে যাওয়ার গতি ফিরে আসবে। আসন্ন বাজেটে খাতের বরাদ্দের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা। ইউনূস সরকারের সময় বিতর্কিত ঘটনা দেশের অর্থনীতিকে বিভক্ত করেছে। দেশের ২০ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করলেই অর্থনীতি পুনরুদ্ধার সম্ভব। বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গী হতে হবে এবং তাদের আইনগত সুরক্ষা দিতে হবে। ইতিমধ্যে বন্ধ কলকারখানা খুলে দিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য পক্ষপাতহীনভাবে দেশবাসীর স্বার্থের দিকে নজর দিতে হবে। প্রশাসনিক ব্যবস্থা না থাকলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়। তাই নতুন অর্থবছরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি প্রয়োজন। আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সকল নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, যেন তারা ভীতিহীন পরিবেশে থাকতে পারেন। কেউ যদি মনে করে, দেশটা আমার, তবে এই দেশের অগ্রযাত্রা বন্ধ করতে পারবে না। সরকারের প্রথম ১০০ দিনের পরিকল্পনা জনগণের কাছে পৌঁছানোর একটি উদ্যোগ। যেখানে সবার আগে বাংলাদেশের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। আইনের শাসন এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে অঙ্গীকার রয়েছে। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রের নির্মাণের অভিপ্রায় প্রকাশ করা হয়েছে। এবারের বাজেট তার বাস্তবায়নের সূচনা হোক। বাজেট নির্ধারিত খাতওয়ারি বরাদ্দের হিসাব নয়, বরং সুশাসন ও জবাবদিহির একটি রূপরেখা। এই বাজেট তাই সরকারের প্রথম পরীক্ষার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শীতলক্ষ্যায় খালেদা জিয়ার ভিত্তি স্থাপন করা সেতুর স্থানে পরিদর্শনে চীনা প্রতিনিধিদল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৪৪ এম


শীতলক্ষ্যায় খালেদা জিয়ার ভিত্তি স্থাপন করা সেতুর স্থানে পরিদর্শনে চীনা প্রতিনিধিদল

নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ সেতুর স্থানে পরিদর্শন করেছেন চীনের বিশেষ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

সোমবার (১ জুন) দুপুরে ওই এলাকা পরিদর্শন করেন চীন সরকারের মালিকানাধীন চীনা রোড ও ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) একটি প্রতিনিধি দল। এ সময় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সঙ্গে চীনের বিশেষ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

নারায়ণগঞ্জের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর প্রস্তাবিত হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ সেতু, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প এবং পানি পরিশোধন প্লান্ট নির্মাণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়ে চীনের বিশেষ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা নগর ভবনে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলোচনা করেন।

পরে চীনের প্রতিনিধি দলটি নগরীর হাজীগঞ্জ এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর প্রস্তাবিত হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ সেতুর নির্ধারিত স্থান ও ভিত্তিপ্রস্তর পরিদর্শন করেন।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন: নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. নূর কুতুবুল আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চ.দা.) মো. আজগর হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) মোহাম্মদ ইসমাইল চৌধুরী এবং নগর পরিকল্পনাবিদ মো. মঈনুল ইসলাম।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন: নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিব ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা।

চীনের প্রতিনিধি দল সেতুর প্রস্তাবিত স্থান ও ভিত্তিপ্রস্তর পরিদর্শন শেষে হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পানি পরিশোধন ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জকে পরিচ্ছন্ন, টেকসই ও নাগরিকবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, বিগত ২০০৬ সালের ৮ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া হাজীগঞ্জ খেয়াঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর ও বহুল প্রত্যাশিত এ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সেতুটি বাস্তবায়িত হলে শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ে নারায়ণগঞ্জ শহর ও পূর্ব পাড়ে বন্দর উপজেলার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দ্বার উন্মোচন হবে। পাশাপাশি শিল্প, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক গতি সঞ্চার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের স্বর্ণ ও রুপার আজকের বাজারদর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১৫ এম


দেশের স্বর্ণ ও রুপার আজকের বাজারদর

সবশেষ সমন্বয়ে দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম বাড়ানো হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ (মঙ্গলবার, ২ জুন) মূল্যবান এই ধাতু দুটি বিক্রি হচ্ছে সবশেষ নির্ধারিত দামে।

সবশেষ গত ২৫ মে সকালে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণ ও রুপার দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ওই দিনে ভরিতে মূল্যবান এই ধাতু দুইটির দাম যথাক্রমে ২ হাজার ১৫৮ টাকা ও ১১৭ টাকা বাড়ানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ ও রুপার (পিওর গোল্ড ও সিলভার) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণ ও রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। সেদিন সকাল ১০টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

এর আগে, সবশেষ গত ২৩ মে সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময়ে ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৩ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৫ হাজার ২৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৬৯ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৩৭ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ৩২ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সঙ্গে দেশের বাজারে বাড়ানো হয়েছে রুপার দামও। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৭৭৪ টাকায়।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৫৫৮ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৪০ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ২২ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে বাকি ১৮ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, নিহত ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১৭ এম


ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, নিহত ৫

ফরিদপুরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গ্যাসবোঝাই ট্রাকের পেছনে দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন, সে মধ্যে রয়েছে শিশুও।

মঙ্গলবার (২ জুন) ভোররাতে পৌনে ৪টার দিকে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা উপজেলার মালিগ্রাম এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে হতাহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবু জাফর জানালেন, ঢাকা থেকে যশোরগামী একটি প্রাইভেটকার মালিগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে একই লেনে দাঁড়িয়ে থাকা গ্যাসবোঝাই ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই দুই নারী ও দুই পুরুষসহ মোট ৪ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন এক শিশুসহ আরও ৩ জন।

খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। পরে গুরুতর আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও এক শিশুর মৃত্যু ঘটে।

শিবচর হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুর আলম জানান, দুর্ঘটনায় প্রাইভেটকারের চালকসহ মোট ৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তাদের পরিচয় শনাক্তের জন্য চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় দুমড়েমুচড়ে যাওয়া প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাজারের দিঘিতে কুমির টেনে নেয়া শিশুর মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:২০ এম


মাজারের দিঘিতে কুমির টেনে নেয়া শিশুর মরদেহ উদ্ধার

বাগেরহাটে, খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের টেনে নিয়ে যাওয়া শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরবেলা মহিলা ঘাটের পাশে খাদেম ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন।

ঘাটের পাশে থাকা দোকানি বিনা বলেন, শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুমিরের কামড়ের দাগ রয়েছে।

মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম জানান, ভোরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং মরদেহ মহিলা ঘাটে রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে মরদেহ দাফন ও পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা রয়েছে।

এর আগের দিন, সোমবার (১ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে, খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘির পূর্ব পাশে নারীদের ঘাটে গোসল করতে নামলে কুমিরটি শিশু ফাতেমা আক্তারকে (৭) টেনে নিয়ে যায়। এ সময় চারদিকে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়ে যায়। স্থানীয়রা মাজার এলাকায় নৌকা নামিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন।

স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, রাতে ওই ঘাটে অনেক মানুষ ছিল। মেয়েটি গোসল করতে নামার পরই কুমিরটি তাকে টেনে নিয়ে যায়। ঘটনার পর চিৎকার করলেও কেউ তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে যাননি।

শিশু ফাতেমা আক্তার একটি ভবঘুরে মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর মেয়ে। মাজার সংশ্লিষ্টরা এবং পুলিশ প্রশাসন তার পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারেননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%