ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নেপালে যেভাবে ৯০০ শিক্ষার্থীর প্রাণ বাঁচালেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক


নেপালে যেভাবে ৯০০ শিক্ষার্থীর প্রাণ বাঁচালেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক

গত সপ্তাহে নেপালের ত্রিশূলী নদীর পাশে একটি স্কুলে প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদির কাছে জরুরি সতর্কবার্তা নিয়ে এক সহকর্মী ছুটে আসেন।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক এএফপিকে দেওয়া এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমার হিসাবরক্ষক স্কুলে এসে বললেন, ‘বন্যা আসছে, বন্যা আসছে।’

এসময় দাওয়াদি দ্রুত সকলকে স্কুল থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। শিক্ষকরা দ্রুত শত শত শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে নিরাপদ উঁচু স্থানে নিয়ে যান।

আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে

কয়েক মিনিট পরেই ৪৭ বছর বয়সী দাওয়াদি দেখতে পান, ত্রিশূলী বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি প্রবল স্রোতের মধ্যে ধসে পড়ছে।

দাওয়াদি বহু বছর ধরে এই স্কুলে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২৬ আগস্টের সেই সকালের ঘটনা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘তথ্যটি ভুল হলে আমাদের শুধু এক দিনের পড়াশোনা নষ্ট হতো। কিন্তু তথ্যটি সত্য হলে আমাদের জীবনই হারাতে হতো।’

তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। এমনকি এক ছাত্রী জ্ঞানও হারায়। স্কুলে আসা বাসচালকদেরও নিরাপদ স্থানে ফিরে যেতে বলা হয়। তাদের মধ্যে একজন চালক তখনই স্কুল চত্বরে প্রবেশ করেছিলেন।

তবে সময়মতো সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ফলে প্রায় ৯০০ জনের প্রাণ রক্ষা পায়।

আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৭৭.৭ শতাংশ, ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ

দুর্যোগের এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পরে নুওয়াকোট জেলার ক্ষতবিক্ষত নদীতীরের ওপর দাঁড়িয়ে দাওয়াদি নিজেকে এখন শুধু ‘একটি স্কুলবিহীন প্রধান শিক্ষক’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় হিমবাহ ও পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে পড়ার পর বরফ, পানি ও ধ্বংসাবশেষের সুনামির মতো ঢল নেমে আসে। এতে দুই দেশে অন্তত ১ হাজার ৩৬২ জন নিহত ও ৫ হাজার ৫০০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন।

দাওয়াদি জানান, স্কুলের বাইরে বন্যার পানিতে পাঁচ শিক্ষার্থী, এক শিক্ষক ও এক নিরাপত্তাকর্মী মারা গেছেন। তিনি আরও জানান, ত্রিশূলী বাজারের কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের জন্য কোনো উচ্ছেদ বা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেনি। ত্রিশূলী বাজারের কর্তৃপক্ষ লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য আগাম কোনো সতর্কবার্তা দেয়নি।

কয়েকজন বাসিন্দা সেতু পার হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু প্রবল স্রোতে তারা ভেসে যান। অন্যরা উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেন। দাওয়াদি বলেন, ‘পেছনে ফিরে তাকিয়ে দেখলাম, স্কুলটি তখনও সবচেয়ে সুন্দর ভবনের মতো দাঁড়িয়ে আছে। আর পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সব ধসে পড়ল।’

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

তিনি আরও বলেন, ‘এই স্কুলেই আমি পড়াশোনা করেছি। এখন কিছুই অবশিষ্ট নেই।’ ১৭ বছর বয়সী সন্তোষী দোতেল তখন হিসাববিজ্ঞান ক্লাসে ছিলেন। সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ আসার পর প্রথমে তিনি পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারেননি।

তিনি বলেন, ‘বন্যার পানি যে এতটা ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে— আমরা কখনো ভাবিনি।’ প্রথমে তিনি এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে নদীর কাছে নেমে সেতু পার হয়ে পরিবারের কাছে বাড়ি পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।

কিন্তু হঠাৎ পানির স্রোত বেড়ে যায়। তিনি বলেন, ‘সেতুটি পানির স্রোতে ভেসে গেল। আমি কাঁদতে শুরু করলাম, কারণ মনে হচ্ছিল আমি আর কখনো বাড়ি ফিরতে পারব না এবং আমাদের করার মতো কিছুই ছিল না।’

নিচে বন্যার পানি প্রচণ্ড বেগে বয়ে যাওয়ার সময় তার বন্ধু তাকে টেনে পাহাড়ের উঁচু ঢালে তুলে নেন। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরও বাবা-মা বেঁচে আছেন কি না, তা জানতে না পারার কষ্টের কথা বলতে গিয়ে সান্তোষী কান্নায় ভেঙে পড়েন।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি তিনি বারবার মুঠোয় চেপে ধরছিলেন। শেষ পর্যন্ত ঘটনার চার দিন পর একটি হেলিকপ্টার তাকে পরিবারের কাছে নিয়ে যায়।

সান্তোষী বলেন, ‘হেলিকপ্টার থেকে নামতেই আমি মাকে দেখতে পেলাম। তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করলেন। তখন আমার মাথা যেন আর কাজ করছিল না।’ তার মা দুর্গা দোতেল ভেবেছিলেন মেয়েকে হয়তো আর জীবিত পাওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, ‘নদীর ভয়াবহ বন্যা দেখে আমি আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম যে আমার মেয়ে বেঁচে আছে।’ সেভ দ্য চিলড্রেনের উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় অন্তত ৬৯টি স্কুল ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ১৯ হাজার শিশুর পড়াশোনা ব্যাহত হয়েছে।

দাওয়াদি বলেন, এই দুর্যোগ ২০১৫ সালে নেপালে আঘাত হানা ভূমিকম্পের চেয়েও ভয়াবহ। তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্পের পর স্কুলটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমরা সেটি আবার তৈরি করেছিলাম।’

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪

আবার এই স্কুলটি গড়ে তোলা দরকার। তবে তার আগে নিরাপদ জায়গায় স্কুলটি নির্মাণের ব্যবস্থা করতে হবে বলে অভিমত দেন দাওয়াদি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় মালদ্বীপের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার বাংলাদেশের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:০৭ পি.এম


জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় মালদ্বীপের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার বাংলাদেশের

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে মালদ্বীপের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ। মালদ্বীপে ইউনিসেফের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইয়ুথ ট্র্যাক টু কপ-৩১’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপের জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ ও জ্বালানি মন্ত্রী আলী শরীফ।

হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম তরুণ অংশগ্রহণকারীদের উদ্যম, সৃজনশীলতা ও অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে টেকসই, জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যৎ নির্মাণে তরুণদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রতিনিয়ত নানা ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। জলবায়ু ক্রমবর্ধমান পরিবর্তন দুই দেশের জনগণের জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়নে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতায় রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী ও অন্যান্য জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশের অংশগ্রহণে ত্রিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। 

হাইকমিশনার বলেন, জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়নে মালদ্বীপের সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও গভীর ও কার্যকর করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নড়াইলে ৬ ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগ, মাদরাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:০৮ পি.এম


নড়াইলে ৬ ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগ, মাদরাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার

নড়াইলের সদর উপজেলায় ছয় শিশুছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে এক মাদরাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সদর থানা পুলিশ এই ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় এক ছাত্রের মায়ের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে।রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকার গাছা থানা থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষকের নাম মাহবুবুর রহমান, বয়স ২৫ বছর। তিনি মাইজপাড়া ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের পুত্র এবং নড়াইল পৌরসভার ওই মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক।

 

মামলার বিস্তারিত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে ভুক্তভোগী এক শিশুর মা তার সন্তানকে দেখতে ডুমরতলা গ্রামে অবস্থিত মাদরাসায় যান। সেখানে ভুক্তভোগী শিশু (৮) তার মাকে জানায় যে, মারাসার শিক্ষক মাহবুবুর রহমান বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাতে তাকে ধর্ষণ করেছে। শিশুটির মা সঙ্গে সঙ্গে মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ শিশুটির কাছে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া সব কিছু খুলে বলে।

 

এ সময় মাদরাসায় উপস্থিত অন্য পাঁচ ছাত্রও অভিযোগ করে যে, তাদেরও ধর্ষণ করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রকাশের পর অভিযুক্ত শিক্ষক মাহবুবুর রহমান আত্মগোপনে চলে যান। ভুক্তভোগী শিশুর মা শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার ১০ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষককে গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে সদর থানা পুলিশ।

নড়াইল সদর থানার ওসি অজয় কুমার কুণ্ডু বলেন, ‘এক ভুক্তভোগী নারী তার বাচ্চাকে ধর্ষণ করেছে এমন অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেন।

 

বিষয়টি আমরা নিয়মিত মামলা রুজু করি। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এজহারনামীয় আসামি মাহবুবুর রহমানকে মামলা রুজুর ১০ ঘণ্টার মধ্যে গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করি। আজ তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।’

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তিনতলা পর্যন্ত মাটির নিচে, কাদার স্তূপে ক্ষীণ কান্না; ১০ দিন কীভাবে বেঁচে ছিলেন বৃদ্ধা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১৪ পি.এম


তিনতলা পর্যন্ত মাটির নিচে, কাদার স্তূপে ক্ষীণ কান্না; ১০ দিন কীভাবে বেঁচে ছিলেন বৃদ্ধা?

নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের ১০ দিন পর ৬৪ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে কাদামাটির স্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার নুয়াকোট জেলার বিদুর পৌরসভা এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরানোর সময় উদ্ধারকারীরা তাঁর ক্ষীণ কান্নার শব্দ শুনতে পান। পরে জানালা ভেঙে তাঁকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনা হয়।

উদ্ধার হওয়া বৃদ্ধার নাম চণ্ডিকা শ্রেষ্ঠা। তিনি বেত্রাবতী নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা। গত ২৬ আগস্ট হড়পা বানের পানির স্রোত ও কাদামাটির নিচে তাঁদের চারতলা বাড়ির নিচের তিনটি তলা সম্পূর্ণ চাপা পড়ে যায়। বাড়িটির চতুর্থ তলারও একটি অংশ কাদায় ডুবে ছিল।

নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (এপিএফ) জানিয়েছে, ওই এলাকায় এর আগে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। তখন কাউকে জীবিত থাকার কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরে এলাকাটি পরিষ্কার করে রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন উদ্ধারকর্মীরা।

এপিএফের ইনস্পেক্টর সুমন বিকে জানান, শনিবার বাড়িটির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ খুব ক্ষীণ একটি শব্দ শুনতে পান তাঁরা। এরপর দ্রুত কাদা সরানোর কাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়িটির চতুর্থ তলার একটি জানালা ভেঙে হামাগুড়ি দিয়ে ভেতরে ঢোকেন উদ্ধারকারীরা। তখন চণ্ডিকার কণ্ঠস্বর আরও স্পষ্টভাবে শোনা যায়।

উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, প্রায় ১০ দিন কীভাবে ওই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বেঁচে ছিলেন চণ্ডিকা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। শারীরিকভাবে দুর্বল থাকায় তিনি তেমন কিছু বলতে পারেননি। পরে নেপালি সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে তাঁকে চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে নেয়া হয়।

চণ্ডিকার পরিবারের চার সদস্যও ওই দুর্যোগের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। এমনকি তাঁকে মৃত ধরে নিয়ে পরিবারের জীবিত সদস্যরা তাঁর শেষকৃত্যের প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন।

চণ্ডিকার আত্মীয় রমেশ মান শ্রেষ্ঠা বলেন, উদ্ধারের খবর শুনে তাঁরা হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে চণ্ডিকাকে জীবিত দেখে তাঁরা বিস্মিত হয়ে পড়েন।

উদ্ধারকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হড়পা বানের স্রোতে ওই এলাকার ভূমি প্রায় ১০০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়ে গেছে। অনেক তিনতলা বাড়ি পুরোপুরি কাদামাটির নিচে চাপা পড়েছে। কিছু বাড়ি আবার স্রোতের সঙ্গে ভেসে গেছে।

নেপালে ভয়াবহ এই দুর্যোগে এখন শনিবার পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লালপুরে মসজিদ কমিটি নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১৮ পি.এম


লালপুরে মসজিদ কমিটি নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৯

নাটোরের লালপুর উপজেলায় মসজিদ কমিটি গঠন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে আড়বাব ইউনিয়নের কারিগরপাড়া জামে মসজিদ এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ৮ থেকে ৯ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর কারিগরপাড়া জামে মসজিদের কমিটি গঠন এবং মসজিদের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আফসার আলী গ্রুপ এবং মসজিদ কমিটির সভাপতি নাসির উদ্দিন ও রফিকুল ইসলাম গ্রুপের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। যদিও ওই সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু সেই বিরোধের জের ধরে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পরে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তেজিত হয়ে ওঠে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আড়বাব ইউনিয়নের কচুয়া বাজার এলাকা থেকে বিএনপিপন্থী নেতা কালু, যিনি আলাল মেম্বারের ছেলে, তার নেতৃত্বে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন লোক আফসার আলীর পক্ষ নিয়ে কারিগরপাড়া এলাকায় অবস্থান নেন। পরে উভয় পক্ষের লোকজন মুখোমুখি হলে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হন।

 

আহতদের মধ্যে রয়েছেন-কচুয়া গ্রামের আলাল মেম্বারের ছেলে মিজানুর রহমান কালু (৪২), তার ছেলে মুন্না (১৮), অপর ছেলে শুভ (২৯), মাহাবুলের ছেলে মাহমুদুল হাসান (১৪), মৃত আনোয়ার হোসেনের মেয়ে চম্পা (৩৫), বড় শেরপাড়া গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে আলমগীর হোসেন (৩৮), কেশববাড়িয়া গ্রামের হারুনুর রশিদের ছেলে বনি আমিন (২১), আনসার আলীর ছেলে মাহাতাব হোসেন (৩৮) এবং হাঁসবারিয়া গ্রামের আবুল হাশেম কবিরাজের ছেলে মাসুদ রানা (৪৫)।

আহতদের প্রথমে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর মাসুদ রানার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এদিকে, সংঘর্ষের খবর পেয়ে লালপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মসজিদ কমিটি নিয়ে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%