ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাংলাদেশে ৬ লাখ চাকরি হারানোর শঙ্কা : বিশ্বব্যাংক


বাংলাদেশে ৬ লাখ চাকরি হারানোর শঙ্কা : বিশ্বব্যাংক

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পড়ছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং সার উৎপাদনের পরিমাণ কমছে।

 

পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয়ের বৃদ্ধি ঘটছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব পণ্যের দাম, কৃষি, মানুষের আয়-রোজগার এবং কর্মসংস্থানেও পড়ছে। যদি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বাংলাদেশে প্রায় ৬ লাখ মানুষ চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক। একই সঙ্গে, চলতি বছরে দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার কথা ছিল এমন মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

 

বিশ্বব্যাংকের জুনের মাঝামাঝি সময়ে করা মূল্যায়নে এসব ঝুঁকির বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। সরকারকে বাজেট সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তাবিত একটি প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই মূল্যায়নটি করা হয়।

বাংলাদেশ এমন একটি অবস্থানে এসে পৌঁছেছে, যখন অর্থনীতি ইতোমধ্যে চাপে রয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল ব্যাংক খাত এবং সরকারের সীমিত আর্থিক সক্ষমতার কারণে নতুন কর্মসংস্থান প্রত্যাশিত হারে তৈরি হচ্ছে না।

 

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মধ্যে দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ১৪ লাখ বেড়ে যাবে। ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ না হলে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারতেন। কিন্তু যুদ্ধের প্রভাবে এই সংখ্যা কমে প্রায় ৫ লাখে দাঁড়াতে পারে। অর্থাৎ যুদ্ধের কারণে দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ হারাতে পারেন আরও প্রায় ১২ লাখ মানুষ।

বিশ্বব্যাংকের মতে, এই বছর দেশে দারিদ্র্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব প্রায় ১০ শতাংশ থাকবে।

 

জ্বালানির দাম ধাপে ধাপে সাধারণ মানুষের ওপর চাপানো হলে মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেলে পরিবহন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, যা শিল্পকারখানার উৎপাদন খরচকেও প্রভাবিত করবে। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়বে খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে।

আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সম্প্রতি বলেছেন, জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের নিচে নেমেছে। তিনি মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ না হলে মূল্যস্ফীতি আরও কমত।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সরাসরি প্রভাব দেশের জ্বালানি খাতে পড়ছে। বাংলাদেশের প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহের অর্ধেকের বেশি আসে গ্যাস থেকে। কিন্তু দেশে গ্যাসের উৎপাদন ২০১৬ সালের সর্বোচ্চ উৎপাদনের তুলনায় ১৫ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে, আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ এবং এলএনজির ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।

যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যে পেট্রোবাংলার ছয়টি এলএনজি সরবরাহ চুক্তির পাঁচটিকে ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করা হয়েছে। স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম বেড়ে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪ থেকে ২৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের দামের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। সংকটের মধ্যে সেপ্টেম্বরে সরবরাহের জন্য দুটি এলএনজি চালান কিনতে বাংলাদেশকে প্রতি ইউনিটে ২৪ ডলারের বেশি দিতে হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জ্বালানি খাতে সরকারের ভর্তুকি জিডিপির ২ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। সব মিলিয়ে ভর্তুকির চাপ ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন থেকে ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াতে পারে। এতে অন্যান্য খাতে সরকারি ব্যয় কমার ঝুঁকি রয়েছে।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম

জ্বালানি সংকট কৃষিতেও প্রভাব ফেলছে। দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। সার উৎপাদন ও আমদানিতে সমস্যা হলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বেন ছোট কৃষকরা।

বাংলাদেশে প্রতি হেক্টর জমিতে গড়ে ৩৯১ দশমিক ৯ কেজি সার ব্যবহার করা হয়, যা বৈশ্বিক গড়ের দ্বিগুণের বেশি। দেশে সার উৎপাদনের জন্যও গ্যাস প্রয়োজন। ইতোমধ্যে ছয়টি ইউরিয়া সার কারখানার পাঁচটিকে গ্যাস সংকটে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। এদিকে ইউরিয়ার দামও বেড়ে গেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের আশঙ্কা, সংকট দীর্ঘ হলে সারের দাম দ্বিগুণ হতে পারে।

জ্বালানি ও সরবরাহ সংকটে স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশে প্রায় ১৯ হাজার সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ছয় হাজার ২০০ বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা হলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে, ফলে জ্বালানি ব্যয় বাড়ছে।

দেশের প্রায় ২৫০টি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে ওষুধ তৈরির কাঁচামাল আনে। এ ছাড়া হাসপাতালের ৯০ শতাংশের বেশি সরঞ্জাম আমদানিনির্ভর। তাই আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকট ও জাহাজভাড়া বৃদ্ধি পেলে স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়।

আরও পড়ুন: সাঈদীর মামলার বাদীকে দাফনে বাধা দেয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন জামায়াতের

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব কর্মসংস্থানে পড়তে শুরু করেছে বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, শিল্পকারখানায় নতুন করে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। কোথাও কাজের সময় কমানো হয়েছে, আবার জ্বালানি সংকটে কিছু কারখানা বন্ধও হয়ে গেছে।

তাঁর মতে, কারখানা বন্ধ হওয়া ও শ্রমিকদের চাকরি হারানোর সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের ৬ লাখ চাকরি হারানোর আশঙ্কা সেই বাস্তবতাকেই আরও স্পষ্ট করেছে।

সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বাংলাদেশের জন্য শুধুমাত্র জ্বালানি সংকট নয়; বরং কর্মসংস্থান, কৃষি, মূল্যস্ফীতি, দারিদ্র্য এবং স্বাস্থ্যসেবায় একযোগে চাপ তৈরি করছে। সংকট দীর্ঘ হলে এর বোঝা সবচেয়ে বেশি বহন করতে হবে নিম্নআয়ের মানুষকে।

আরও পড়ুন: বিয়ের আশ্বাসে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, এসআইকে প্রত্যাহার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ইন্দো-প্যাসিফিকে নজর বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ন্যাটোকে আরো দায়িত্ব নিতে বলল পেন্টাগন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২১ পি.এম


ন্যাটোকে আরো দায়িত্ব নিতে বলল পেন্টাগন

যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোকে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষায় আরও বড় দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছে। একই সময়ে, ওয়াশিংটন ইউরোপে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি কমানোর বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করছে।

 

এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে এসেছে, যখন ওয়াশিংটন দেশের আশপাশের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে চাইছে। বর্তমানে ইউরোপে মার্কিন সেনাদের সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। তবে, ভবিষ্যতে এই সংখ্যা কতটা কমানো হবে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র পর্যালোচনা করছে। রাশিয়ার মতো প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করার জন্য ন্যাটোর সামরিক সক্ষমতার জন্য ইউরোপে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি দীর্ঘকাল ধরে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্র কতটা সেনা সরিয়ে নেবে, তা ইউরোপীয় মিত্র দেশ ও কানাডার জোটের দায়িত্ব ভাগাভাগি নিয়ে ওয়াশিংটনের দাবির প্রতি তাদের সাড়া দেওয়ার ওপর নির্ভর করবে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ইউরোপের প্রচলিত প্রতিরক্ষার বড় অংশের দায়িত্ব ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো গ্রহণ করবে। প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সহায়তা প্রদান করবে। এই ব্যবস্থার আওতায় পারমাণবিক প্রতিরক্ষার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

 

বৃহস্পতিবার, বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ন্যাটোর সদর দপ্তরে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী এলব্রিজ কলবি জার্মানি, পোল্যান্ড ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশগুলোর বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তবে, তিনি উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের অন্যান্য মিত্রদের কাছ থেকেও আরও বেশি উদ্যোগ প্রত্যাশা করছে। কলবি সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোর কাছ থেকে ওয়াশিংটন আরও কিছু আশা করছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো ন্যাটোকে আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকর করা।

 

একই সঙ্গে, ওয়াশিংটন জোটের সামরিক দায়িত্ব আরও ভারসাম্যপূর্ণভাবে ভাগ করে দিতে চায়। কলবির ভাষায়, ন্যাটোকে এমন একটি কাঠামোয় নিয়ে যেতে হবে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যকর এবং সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ইউরোপে মার্কিন সামরিক অবস্থান পর্যালোচনা করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর ইউরোপীয় মিত্রদের প্রত্যাশা পূরণের জন্য বিভিন্ন দেশকে একটি প্রশ্নপত্র পাঠিয়েছে। কলবি জানান, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দেশ প্রশ্নপত্রের উত্তর দিয়েছে। এখন সেসব উত্তর যুক্তরাষ্ট্র পর্যালোচনা করবে। তবে, কোন কোন দেশ উত্তর দিয়েছে, তা তিনি প্রকাশ করেননি। প্রশ্নপত্রে শুধুমাত্র ন্যাটোর সামরিক দায়িত্ব নিয়ে তথ্য চাওয়া হয়নি, বরং মিত্র দেশগুলোর ঘাঁটি ও আকাশসীমায় মার্কিন সেনাদের প্রবেশের সুযোগ নিয়েও জানতে চাওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, কোনো সামরিক অভিযানের প্রয়োজন হলে মার্কিন বাহিনী যেন মিত্র দেশগুলোর ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারে, সে বিষয়ে আগাম নিশ্চয়তা চাচ্ছে ওয়াশিংটন।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরুর সময় ইউরোপের কয়েকটি দেশ দ্বিধায় পড়ে যায়। কারণ, ওয়াশিংটন মিত্রদের সঙ্গে আগাম আলোচনা না করেই অভিযান শুরু করেছিল। এর পর থেকেই মার্কিন বাহিনীর জন্য ইউরোপের ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কলবি বলেন, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার বিষয়ে ইউরোপেরও স্বার্থ রয়েছে। তাই, এ ধরনের পরিস্থিতিতে কার্যকরভাবে অভিযান চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সক্ষমতা থাকা জরুরি। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন এমন একটি পরিস্থিতি চায়, যেখানে সামরিক অভিযানের প্রয়োজন হলে আগে থেকেই কীভাবে তা পরিচালনা করা হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকে।

যুক্তরাষ্ট্র যখন ন্যাটোর ভেতরে ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর দায়িত্ব বাড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছে, একই সময়ে ওয়াশিংটন ইউরোপে নিজেদের সেনা কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। বর্তমানে ইউরোপে প্রায় ৮০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। এই সংখ্যা কমানো হবে কি না এবং হলে কতটা কমানো হবে, তা এখন পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, ইউরোপের প্রচলিত প্রতিরক্ষায় ইউরোপীয় দেশগুলোকে আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। ওয়াশিংটন প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা করবে, কিন্তু ইউরোপের নিরাপত্তার পুরো দায়িত্ব একা যুক্তরাষ্ট্র বহন করবে না। ফলে, ন্যাটোর সামরিক কাঠামোয় দায়িত্ব ভাগাভাগি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইউরোপে মার্কিন সেনা কমানোর সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে মিত্র দেশগুলো ওয়াশিংটনের এই নতুন কাঠামোয় কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে সাড়া দেয় তার ওপর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপালে উদ্ধার মরদেহগুলোর বেশিরভাগই শনাক্ত করা যায়নি, খাবার ও পানির সংকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২৪ পি.এম


নেপালে উদ্ধার মরদেহগুলোর বেশিরভাগই শনাক্ত করা যায়নি, খাবার ও পানির সংকট

নেপালের দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলের তরাই অঞ্চলের চিতওয়ান জেলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন্যার পর উদ্ধার করা

শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। চিতওয়ান জেলা প্রশাসন কার্যালয় একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও নদীর তীর থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো পচে যাওয়ার কারণে সেগুলো শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনাক্ত না হওয়া মরদেহগুলো বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রাখা হয়েছে। এসব মরদেহ শনাক্ত করার জন্য ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও নথিভুক্ত করার কাজ চলছে।

খাবার ও পানির সংকট

নেপালে ভয়াবহ বন্যার পর আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের সরকার জরুরি ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করেছে। দেশটিতে এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।

 

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ নেপালে ত্রাণসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।

জাতিসংঘের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নেপালের কয়েক হাজার পরিবার খাবার ও জরুরি পানীয় জলের সংকটে ভুগছে। নেপালের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পর প্রায় ৪ হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে, চীন তিব্বতে বন্যায় সাতজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

 

সামনে আরো বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় উদ্ধার ও নিখোঁজদের সন্ধান কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে প্রাণ গেল একজনের 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২৫ পি.এম


বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে প্রাণ গেল একজনের 

সাতক্ষীরায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। 

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে দেবহাটা উপজেলার দেবীশহর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত আব্দুল আলিম (৫০) উপজেলার রামনাথপুর মাঠপাড়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে ও পেশায় একজন মাছ ব্যবসায়ী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আব্দুল আলিম গাজীরহাট বাজার থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। পথিমধ্যে দেবীশহর এলাকায় পৌঁছালে কালীগঞ্জ থেকে সাতক্ষীরাগামী কাজী এন্টারপ্রাইজের একটি যাত্রীবাহী বাসের (সিরাজগঞ্জ-ব-১১-০০৮৬) সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। 

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আব্দুল আলিমকে সাতক্ষীরা ব্লিস হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। 

এ বিষয়ে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি জব্দ করেছে। পাশাপাশি নিহত ব্যক্তির মোটরসাইকেলটি পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপালের বন্যার পানি কি বাংলাদেশে আসবে, বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২৭ পি.এম


নেপালের বন্যার পানি কি বাংলাদেশে আসবে, বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

নেপালে হিমবাহ ও পাহাড়ি ঢল থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে, যা বাংলাদেশে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন উঠেছে, নেপালের এই বন্যার পানি কি নদীপথে বাংলাদেশে এসে বড় ধরনের বন্যা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, নেপালের বন্যার পানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর সুযোগ থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা কম। তবে উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় আকস্মিক বন্যায় ৫৭০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন পর্যটকসহ আরও এক হাজারের বেশি মানুষ। বন্যার পানির তোড়ে সেতু, সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, হিমালয়ের একটি পর্বত থেকে হিমবাহ ও পাথরের ধস নেমে লেন্দে নদীর প্রবাহ আটকে যায়। পরে বিপুল পরিমাণ পানি, কাদা ও পাথর একসঙ্গে প্রবল গতিতে নিচের দিকে নেমে আসে। এতে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে গালছি এলাকায় নদীর পানির উচ্চতা প্রায় ৯ মিটার বেড়ে যায়।

এই পাহাড়ি ঢলের পানি ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদী হয়ে নারায়ণী-গণ্ডক নদী ব্যবস্থায় প্রবেশ করবে। এরপর গণ্ডক নদী ভারতের বিহার হয়ে গঙ্গায় মিশবে। গঙ্গার প্রবাহের সঙ্গে সেই পানি ফারাক্কা হয়ে বাংলাদেশেও আসতে পারে।

তবে নেপাল থেকে বাংলাদেশে আসার পথে পানিকে দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দিতে হবে। এ সময় পানির একটি বড় অংশ ছড়িয়ে পড়বে এবং পলি জমার কারণে স্রোতের গতিও কমে আসবে। ফলে বাংলাদেশে পৌঁছানোর আগেই বন্যার পানির তীব্রতা অনেকটা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাৎক্ষণিক বড় বন্যার আশঙ্কা কম

গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মুশফিকুস সালেহীন বলেন, "নেপালের এই বন্যার কারণে বাংলাদেশে তাৎক্ষণিক বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা আমি দেখছি না।" তবে উজানের নদীগুলোর পানির উচ্চতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, "নেপালের বন্যার পানি ভারতে প্রবেশ করে গঙ্গায় পড়ার পর বিহার পর্যন্ত যেতে যেতে অনেকটা ছড়িয়ে পড়বে।" ফলে বাংলাদেশের নদীগুলোতে পানির উচ্চতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কম।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের গবেষক মো. আজাহার হোসেনের মতে, আগামী কয়েক দিনে উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হলে নেপালের বন্যার পানির সঙ্গে নতুন করে পানি যোগ হয়ে দ্বিতীয় দফায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, "নেপালের বন্যার উৎপত্তিস্থল থেকে বাংলাদেশের নদীপথের দূরত্ব প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার।" এত দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার সময় পানি ছড়িয়ে পড়বে এবং স্রোতের গতিও কমবে। তাই সরাসরি ভয়াবহ বন্যা বাংলাদেশে আঘাত হানার সম্ভাবনা কম।

তবে আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে উজানে ভারী বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

নজরে রাখতে হবে ভারতের নদী ও বৃষ্টি

বিশেষজ্ঞদের মতে, নেপালের বন্যার প্রভাব বুঝতে হলে শুধু নেপালের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেই হবে না। ভারতের বিহার, উত্তর প্রদেশ ও আসামের বৃষ্টিপাত এবং সেখানকার নদীগুলোর পানির উচ্চতার ওপরও নজর রাখতে হবে।

ড. মুশফিকুস সালেহীন গণমাধ্যমকে বলেন, "ভারত থেকে পাওয়া বন্যা ও নদীর পানির উচ্চতার তথ্য নিয়মিত বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশে সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে আগাম সতর্কতা দেওয়া সম্ভব।"

গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মো. আজাহার হোসেনের পরামর্শ, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ফারাক্কা ও তিস্তা ব্যারাজসহ সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখা উচিত। পাশাপাশি বিহার ও উত্তর প্রদেশের গঙ্গা অববাহিকায় বৃষ্টিপাত ও নদীর পানির তথ্যও নিয়মিত সংগ্রহ করতে হবে।

বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১০ দিনে গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে না। ফলে নেপালের বর্তমান বন্যার পানি নিয়ে বাংলাদেশে তাৎক্ষণিক বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা কম।

ভবিষ্যতে বাড়তে পারে হিমবাহজনিত বন্যা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ গলে হ্রদ ভেঙে আকস্মিক বন্যার ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক পর্বত উন্নয়ন কেন্দ্র ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির এক যৌথ গবেষণায় হিমালয় অঞ্চলে তিব্বত, নেপাল ও ভারতের অববাহিকায় ৪৭টি হ্রদকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তাহলে নেপালের সাম্প্রতিক বন্যাকে শুধু একটি দেশের দুর্যোগ হিসেবে না দেখে পুরো হিমালয়-গঙ্গা অববাহিকার জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ ভাটির দেশ হওয়ায় উজানের যেকোনো বড় পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে আগাম তথ্য সংগ্রহ এবং নদীগুলোর পানি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%