ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নেপালের বন্যার পানি কি বাংলাদেশে আসবে, বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা


নেপালের বন্যার পানি কি বাংলাদেশে আসবে, বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

নেপালে হিমবাহ ও পাহাড়ি ঢল থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে, যা বাংলাদেশে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন উঠেছে, নেপালের এই বন্যার পানি কি নদীপথে বাংলাদেশে এসে বড় ধরনের বন্যা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, নেপালের বন্যার পানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর সুযোগ থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা কম। তবে উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় আকস্মিক বন্যায় ৫৭০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন পর্যটকসহ আরও এক হাজারের বেশি মানুষ। বন্যার পানির তোড়ে সেতু, সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, হিমালয়ের একটি পর্বত থেকে হিমবাহ ও পাথরের ধস নেমে লেন্দে নদীর প্রবাহ আটকে যায়। পরে বিপুল পরিমাণ পানি, কাদা ও পাথর একসঙ্গে প্রবল গতিতে নিচের দিকে নেমে আসে। এতে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে গালছি এলাকায় নদীর পানির উচ্চতা প্রায় ৯ মিটার বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন: ৬০ হাজার কোটি টাকায় কুমিল্লা–ঢাকা নতুন রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা

এই পাহাড়ি ঢলের পানি ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদী হয়ে নারায়ণী-গণ্ডক নদী ব্যবস্থায় প্রবেশ করবে। এরপর গণ্ডক নদী ভারতের বিহার হয়ে গঙ্গায় মিশবে। গঙ্গার প্রবাহের সঙ্গে সেই পানি ফারাক্কা হয়ে বাংলাদেশেও আসতে পারে।

তবে নেপাল থেকে বাংলাদেশে আসার পথে পানিকে দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দিতে হবে। এ সময় পানির একটি বড় অংশ ছড়িয়ে পড়বে এবং পলি জমার কারণে স্রোতের গতিও কমে আসবে। ফলে বাংলাদেশে পৌঁছানোর আগেই বন্যার পানির তীব্রতা অনেকটা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাৎক্ষণিক বড় বন্যার আশঙ্কা কম

গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মুশফিকুস সালেহীন বলেন, "নেপালের এই বন্যার কারণে বাংলাদেশে তাৎক্ষণিক বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা আমি দেখছি না।" তবে উজানের নদীগুলোর পানির উচ্চতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

আরও পড়ুন: দীর্ঘদিনের ক্ষমতার অবসান, সার্বিয়ার নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে জয়

তিনি আরও বলেন, "নেপালের বন্যার পানি ভারতে প্রবেশ করে গঙ্গায় পড়ার পর বিহার পর্যন্ত যেতে যেতে অনেকটা ছড়িয়ে পড়বে।" ফলে বাংলাদেশের নদীগুলোতে পানির উচ্চতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কম।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের গবেষক মো. আজাহার হোসেনের মতে, আগামী কয়েক দিনে উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হলে নেপালের বন্যার পানির সঙ্গে নতুন করে পানি যোগ হয়ে দ্বিতীয় দফায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, "নেপালের বন্যার উৎপত্তিস্থল থেকে বাংলাদেশের নদীপথের দূরত্ব প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার।" এত দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার সময় পানি ছড়িয়ে পড়বে এবং স্রোতের গতিও কমবে। তাই সরাসরি ভয়াবহ বন্যা বাংলাদেশে আঘাত হানার সম্ভাবনা কম।

তবে আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে উজানে ভারী বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন: ৩৬ জেলায় ১০১ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর

নজরে রাখতে হবে ভারতের নদী ও বৃষ্টি

বিশেষজ্ঞদের মতে, নেপালের বন্যার প্রভাব বুঝতে হলে শুধু নেপালের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেই হবে না। ভারতের বিহার, উত্তর প্রদেশ ও আসামের বৃষ্টিপাত এবং সেখানকার নদীগুলোর পানির উচ্চতার ওপরও নজর রাখতে হবে।

ড. মুশফিকুস সালেহীন গণমাধ্যমকে বলেন, "ভারত থেকে পাওয়া বন্যা ও নদীর পানির উচ্চতার তথ্য নিয়মিত বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশে সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে আগাম সতর্কতা দেওয়া সম্ভব।"

গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মো. আজাহার হোসেনের পরামর্শ, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ফারাক্কা ও তিস্তা ব্যারাজসহ সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখা উচিত। পাশাপাশি বিহার ও উত্তর প্রদেশের গঙ্গা অববাহিকায় বৃষ্টিপাত ও নদীর পানির তথ্যও নিয়মিত সংগ্রহ করতে হবে।

আরও পড়ুন: হুথিদের হামলার হুমকির মধ্যেই রিয়াদ বিমানবন্দর পুনরায় চালু করল সৌদি আরব

বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১০ দিনে গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে না। ফলে নেপালের বর্তমান বন্যার পানি নিয়ে বাংলাদেশে তাৎক্ষণিক বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা কম।

ভবিষ্যতে বাড়তে পারে হিমবাহজনিত বন্যা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ গলে হ্রদ ভেঙে আকস্মিক বন্যার ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক পর্বত উন্নয়ন কেন্দ্র ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির এক যৌথ গবেষণায় হিমালয় অঞ্চলে তিব্বত, নেপাল ও ভারতের অববাহিকায় ৪৭টি হ্রদকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তাহলে নেপালের সাম্প্রতিক বন্যাকে শুধু একটি দেশের দুর্যোগ হিসেবে না দেখে পুরো হিমালয়-গঙ্গা অববাহিকার জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ ভাটির দেশ হওয়ায় উজানের যেকোনো বড় পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে আগাম তথ্য সংগ্রহ এবং নদীগুলোর পানি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্র সফর করলেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেমন আছেন এক বছর আগে ভাইরাল হওয়া সেই বাবা-মেয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২৯ পি.এম


কেমন আছেন এক বছর আগে ভাইরাল হওয়া সেই বাবা-মেয়ে

এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল, যেখানে একটি বাবা ও মেয়ে একসাথে ছিলেন। সেই ছোট্ট ঘরোয়া ভিডিওটি দেখে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে বাবা-মেয়ের সম্পর্কের এই সুন্দর দৃশ্যটি নেটিজেনদের প্রশংসা অর্জন করে। এক বছর পেরিয়ে গেলেও, ভিডিওর মাধ্যমে পরিচিত হওয়া বাবাকে এখনো অনেক মানুষ মনে রেখেছেন।

নওগাঁর মেয়ে লামিয়া জান্নাত ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট তার ফেসবুক পেজে ভিডিওটি প্রকাশ করেছিলেন। তিনি তার অনুভূতির কথাও সেখানে তুলে ধরেন। এরপর ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ঠিক এক বছর পর, ২৮ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টা ৪৯ মিনিটে লামিয়ার ছোট বোন মালিহা তার ফেসবুক পেজ "প্যাশন" থেকে ভিডিওটি আবার প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি বাবা-মেয়ের বর্তমান পরিস্থিতি ও মানুষের ভালোবাসার কথা তুলে ধরেন।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, এক বছর আগে প্রকাশিত ওই ভিডিওর মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ তাদের বাবাকে চিনেছিলেন। তবে ভিডিওটি তারা খুব সাধারণভাবে ধারণ করেছিলেন, কারণ পরিবারের মধ্যে এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটত।

ভিডিওটির পেছনের গল্প জানিয়ে তিনি বলেন, সেদিন তার মেজো বোন ঢাকা থেকে বাবা-আম্মুকে না জানিয়ে শুধুমাত্র তাকে জানিয়ে বাড়িতে এসেছিলেন। এরপর বাবা-মাকে চমকে দেন। সেই মুহূর্তটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার পর তা ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

এক বছর পরেও ভিডিওটির জনপ্রিয়তা কমেনি। বরং ভিডিওটির মাধ্যমে পরিচিত হওয়া বাবাকে এখনো অনেকেই ভালোবাসা ও সম্মান জানান।

লামিয়ার বোন জানান, তার বাবা প্রায় প্রতিদিন বাইরে থেকে বাড়িতে ফিরে তাদের বলেন, রাস্তাঘাটে কিংবা তার দোকানে এখনো অনেক মানুষ দেখা করতে আসেন। তারা ভিডিওটির কথা বলেন এবং বাবাকে সম্মান জানান। এমনকি অনেকে তাকে বলেন, তারাও বাবার মতো বাবা হতে চান।

পরিবারটির ভাষ্য, তাদের বাবাকে দেখে অনেক বাবা হয়তো আরও ভালো বাবা হওয়ার অনুপ্রেরণা পান। এ কারণেই তারা সবার কাছে বাবার জন্য দোয়া চেয়েছেন।

পোস্টে তারা লিখেছেন, সবাই যেন তাদের বাবার জন্য দোয়া করেন, যাতে তিনি সব সময় হাসিখুশি ও সুস্থ থাকেন এবং পরিবারের সঙ্গে ভালো থাকেন।

একটি সাধারণ পারিবারিক মুহূর্ত থেকে পরিচিতি পাওয়া এই বাবা এক বছর পরও মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান পাচ্ছেন—যা পরিবারের জন্য আনন্দের বিষয় হয়ে উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মসজিদের ভেতর থেকে মুয়াজ্জিনের মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৩১ পি.এম


মসজিদের ভেতর থেকে মুয়াজ্জিনের মরদেহ উদ্ধার

পটুয়াখালীর দুমকীতে পুলিশ মো. সাইম (২০) নামের এক মুয়াজ্জিনের মরদেহ উদ্ধার করেছে, যা মসজিদের ভেতরের একটি কক্ষ থেকে পাওয়া যায়।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে পাঙ্গাসিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাওলাদার বাড়ি মসজিদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

নিহত সাইম পটুয়াখালী সদর উপজেলার লাউকাঠি ইউনিয়নের ছোট জামুরা এলাকার মৃত জব্বার মৃধার ছেলে। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ওই মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এক মুসল্লি মসজিদের দরজা খোলা দেখতে পান। এরপর তিনি ভেতরে প্রবেশ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের থাকার জন্য নির্ধারিত কক্ষে যান।

 

সেখানে তিনি খাটের ওপর সাইমকে পড়ে থাকতে দেখেন।

ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা সেখানে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

 

পুলিশ জানিয়েছে, মসজিদের ওই কক্ষের ফ্যানের হুকের সঙ্গে একটি দড়ি লাগানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে সাইমের গলায় দাগও দেখা গেছে। এসব বিষয় সামনে রেখে তার মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

 

সাইমের মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশি তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিউইয়র্কে নয়, পেন্টাগনে ৯/১১-এর ২৫তম বার্ষিকী পালন করবেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৩২ পি.এম


নিউইয়র্কে নয়, পেন্টাগনে ৯/১১-এর ২৫তম বার্ষিকী পালন করবেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার জানিয়েছেন, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার ২৫তম বার্ষিকী তিনি পেন্টাগনে উদযাপন করবেন।

তবে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত স্মরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না পাওয়ার কারণে তিনি সেখানে যাবেন না—এমন খবর তিনি ক্ষোভের সঙ্গে অস্বীকার করেছেন।

এএফপি সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রথমে নিউইয়র্কে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারের স্থানে গিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, যেখানে ৯/১১-এর ২৫তম বার্ষিকী স্মরণ করা হবে। কিন্তু স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজকেরা সেখানে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি না দেওয়ায় তিনি তার পরিকল্পনা পরিবর্তন করেন।

শুক্রবার সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, কেন তিনি ৯/১১-এর বার্ষিকীতে নিউইয়র্কে যাচ্ছেন না।

ট্রাম্প এর জবাবে বলেন, ‘কারণ, আমি পেন্টাগনে যাচ্ছি।’

সাংবাদিকরা জানতে চান, কেন তিনি একই সময়ে দুই জায়গাতেই যেতে পারবেন না। ট্রাম্প তখনও একই উত্তর দেন।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ওই সন্ত্রাসী হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হয়।

ইসলামপন্থী জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার ছিনতাইকারীরা দুটি যাত্রীবাহী বিমান নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে আছড়ে ফেলে। তৃতীয় একটি বিমান ওয়াশিংটনের কাছে পেন্টাগনে আঘাত হানে। যাত্রীদের প্রতিরোধের পর চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়।

হোয়াইট হাউস এএফপিকে জানিয়েছে যে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এখনও নিউইয়র্কে সফর করছেন। প্রশাসনের কর্মকর্তারা তিনটি স্মরণস্থলেই উপস্থিত থাকবেন।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই মর্মান্তিক দিনের ২৫তম বার্ষিকীতে প্রেসিডেন্ট সেইসব মানুষকে স্মরণ করবেন, যারা দুষ্ট সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হয়েছেন। তিনি তাদের স্বজনদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন এবং মার্কিন নাগরিকদের উদ্ধারে জীবন বাজি রাখা সাহসী উদ্ধারকর্মীদের প্রতি সম্মান জানাবেন।’

পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

এর আগে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন। সেখানে তিনি সংবাদপত্রটির প্রতিবেদনকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেন এবং এর সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যানকে কটাক্ষ করে ‘ম্যাগট হ্যাগারম্যান’ নামে অভিহিত করেন।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘এটি আরও একটি দুর্নীতিগ্রস্ত সংবাদ। আমি বছরের পর বছর বহুবার নিউইয়র্কে গিয়েছি, সেখানে কেউ কখনো বক্তব্য দেয় না। এটি একটি ‘গম্ভীর স্মরণ অনুষ্ঠান’!’

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ম্যাগট যা বানিয়ে লিখেছে, এমন কিছু আমি কখনো ভাবিওনি। আর সত্যি বলতে, আমি বক্তব্য না দিলেও খুশি, কারণ আমি সব সময়ই কথা বলছি। এটি নিহতদের এবং তাদের প্রিয় স্বজনদের স্মরণ করার দিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স : বিদ্যমান  আইন বাস্তবায়নে সারাদেশে বিশেষ অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৩৫ পি.এম


মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স : বিদ্যমান  আইন বাস্তবায়নে সারাদেশে বিশেষ অভিযান

মাদকের বিস্তার রোধে সরকারের ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতি বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। সারাদেশে এই বিশেষ অভিযানটি পুলিশ, র‌্যাব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) এর সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের জন্য বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মধ্যে অপরাধীদের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে। বর্তমানে মাদক সংক্রান্ত সকল অপরাধের বিচার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী হচ্ছে। এই আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।

আইনের প্রথম তফসিলে মাদকদ্রব্যকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। 'ক' শ্রেণি: সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মাদক, যেমন- হেরোইন, কোকেন, ইয়াবা (অ্যামফিটামিন), পেথিডিন, আফিম, কোকা গাছ, প্রিকারসর কেমিক্যালস। এই শ্রেণির জন্য শাস্তি সবচেয়ে বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে।

‘খ’ শ্রেণি: গাঁজা, ভাং, চরস ইত্যাদি। ‘গ’ শ্রেণি: অ্যালকোহল, বিয়ার, দেশি মদ, রেকটিফাইড স্পিরিট ইত্যাদি।

সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড:

আইনের পঞ্চম অধ্যায়ের ধারা ৩৬(১) এর সারণিতে দণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ রয়েছে। প্রথম তফসিলের ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত মাদক যেমন- হেরোইন, কোকেন, ইয়াবা (অ্যামফিটামিন) এর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। ধারা ৩৬(১) এর ক্রমিক ৭ ও ৮ অনুযায়ী, ‘ক’ শ্রেণির ৪ নং ক্রমিকভুক্ত হেরোইন, কোকেন, মরফিন জাতীয় মাদকের পরিমাণ ২৫ গ্রাম বা মিলিলিটারের ঊর্ধ্বে হলে উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বহন, পরিবহন, আমদানি-রফতানি, ক্রয়-বিক্রয়, সংরক্ষণ ও হস্তান্তর- যে কোনো অপরাধে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। একইভাবে ক্রমিক ১০ অনুযায়ী, 'ক' শ্রেণির ৫ নং ক্রমিকভুক্ত ইয়াবা বা অ্যামফিটামিন জাতীয় মাদকের ক্ষেত্রে ৪০০ গ্রামের ঊর্ধ্বে হলে একই দণ্ড প্রযোজ্য।

‘ক’, ‘খ’, ‘গ’ শ্রেণির শাস্তি :

‘ক’ শ্রেণির ক্ষেত্রে ৫ গ্রাম পর্যন্ত হলে অন্যূন ১ বছর, অনূর্ধ্ব ৫ বছর, ৫-২৫ গ্রাম পর্যন্ত হলে অন্যূন ৫ বছর, অনূর্ধ্ব ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত গাঁজা, ভাং, চরস এর ক্ষেত্রে ধারা ৩৬(১) এর ক্রমিক ১৯ ও ২০ অনুযায়ী, ১ কেজি পর্যন্ত হলে অন্যূন ১ বছর, অনূর্ধ্ব ৩ বছর, ১-৫ কেজি হলে অন্যূন ৩ বছর, অনূর্ধ্ব ৭ বছর এবং ৫ কেজির ঊর্ধ্বে হলে অন্যূন ৭ বছর, অনূর্ধ্ব ১০ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

'গ' শ্রেণিভুক্ত অ্যালকোহল জাতীয় মাদকের ক্ষেত্রে ক্রমিক ৩২ অনুযায়ী, ৫০ কেজি/লিটার পর্যন্ত অনূর্ধ্ব ১ বছর, ৫০-৫০০ কেজি/লিটার পর্যন্ত অন্যূন ৬ মাস, অনূর্ধ্ব ২ বছর এবং ৫০০ কেজি/লিটারের ঊর্ধ্বে হলে অন্যূন ২ বছর, অনূর্ধ্ব ৫ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

মাদক সেবনে শাস্তি :

ধারা ৩৬(১) এর ক্রমিক ১৬ ও ২১ অনুযায়ী, 'ক' ও 'খ' শ্রেণির মাদক সেবনের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন শাস্তি অন্যূন ৩ মাস, অনূর্ধ্ব ২ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে ধারা ৩৬(৪) অনুযায়ী আদালত সেবনকারীকে কারাদণ্ডের পরিবর্তে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করতে পারেন। চিকিৎসায় অনিচ্ছুক হলে অন্যূন ৬ মাস, অনূর্ধ্ব ৫ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

এছাড়া ধারা ৩৬(৫) অনুযায়ী নেশাগ্রস্ত অবস্থায় জনশান্তি বিনষ্ট বা যানবাহন চালালে অনূর্ধ্ব ১ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে, ধারা ৪৬ অনুযায়ী সকল অপরাধ আমলযোগ্য এবং ধারা ৪৭ অনুযায়ী গুরুতর অপরাধে জামিন প্রায় অসম্ভব।

৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার:

আইনের ধারা ৪৬ অনুযায়ী সকল মাদক অপরাধ আমলযোগ্য ও জামিন অযোগ্য। ধারা ৪৭ অনুযায়ী, আদালত সহজে জামিন দিতে পারবে না, যদি না সে নারী, শিশু বা শারীরিকভাবে বিকলাঙ্গ হয়। ধারা ৪৮ ও ৫১ অনুযায়ী গুরুতর অপরাধের বিচার দ্রুত, ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।

মোবাইল কোর্ট- সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। ৩৬(১) এর ক্রমিক ১৬: 'ক' শ্রেণির মাদক সেবন (ধারা ৯(১)(গ) লঙ্ঘন)- শাস্তি অন্যূন ৩ মাস, অনূর্ধ্ব ২ বছর। যেমন - ইয়াবা, হেরোইন সেবনরত অবস্থায় ধরা পড়লে। ধারা ৩৬(১) এর ক্রমিক ২১ ও ২৫: 'খ' শ্রেণি (গাঁজা) ও 'খ' শ্রেণির ৩ নং (অ্যালকোহল) সেবন-শাস্তি ৩ মাস থেকে ২ বছর।

ধারা ৩৯: তল্লাশি ও গ্রেফতারের ক্ষমতার অপব্যবহার - কোনো অফিসার যদি বিনা কারণে কাউকে হয়রানিমূলক তল্লাশি বা গ্রেফতার করে, তার বিচারও মোবাইল কোর্টে হবে। শাস্তি অনূর্ধ্ব ১ বছর।

ধারা ৪২(১): যে অপরাধের জন্য স্বতন্ত্র কোনো শাস্তির উল্লেখ নেই, সেই সব লঘু অপরাধের শাস্তি অনূর্ধ্ব ১ বছর।

এসব ধারায় কোকেন, হেরোইন, ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ‘ক’ তফসিলের মাদকদ্রব্য সেবন বা ব্যবহারসহ বিভিন্ন অপরাধের জন্য ৩ মাস থেকে সর্বোচ্চ ২ বছরের সাজার বিধান রয়েছে।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট খালিদ হোসাইন রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সময়োপযোগী আইন। এই আইনে ধারা ৩৬ অনুযায়ী ২৫ গ্রাম হেরোইন বা ২০০ গ্রামের বেশি ইয়াবার জন্য মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তি রাখা হয়েছে যা সরকারের ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে ধারা ৩৬(৪) ও ধারা ১৮-তে মাদকসেবীকে অপরাধী না ভেবে রোগী হিসেবে চিকিৎসার সুযোগও রাখা হয়েছে। এটি অত্যন্ত মানবিক।

তিনি আরও বলেন, আইনটির ধারা ৫৭ অনুযায়ী মোবাইল কোর্টকে ২ বছর পর্যন্ত শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়ায় মাঠ পর্যায়ে মাদক প্রতিরোধে দ্রুত বিচার সম্ভব হচ্ছে।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে জানান, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদকের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের কোন ভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%