০৬:৩২ এম
মুক্তির আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছে হলিউডের মাস্টারমাইন্ড পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলানের আগামী সিনেমা ‘দ্য ওডিসি’। মহাকবি হোমারের গ্রিক মহাকাব্য অবলম্বনে নির্মিত এই তারকাখচিত সিনেমাটির কাস্টিং, চরিত্রের পোশাক এবং আধুনিক সংলাপ নিয়ে নেটিজেনদের একাংশ তীব্র আপত্তি তুলেছেন। বিশেষ করে ধনকুবের ইলন মাস্ক এবং ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকরা (মাগা বেস) কাস্টিংয়ের জাত-বর্ণ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্য ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।
তবে মুক্তির আগে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াকে পুরোপুরি ‘অর্থহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন নোলান। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, এই ধরনের সমালোচনা নিয়ে মাথা ঘামানোর তার কোনো সময় নেই এবং দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে অভ্যস্থ হয়ে গেছেন।
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নোলান বলেন, সিনেমা দেখার আগে তা নিয়ে যে সমস্ত আলোচনা বা বিতর্ক তৈরি হয়, তার কোনো মূল্য নেই। কারণ যারা সমালোচনা করছেন, তাদের কেউই জানেন না সিনেমাটি কেমন হয়েছে। এই ধরনের বিতর্ককে তিনি পেশাগত জীবনের অংশ হিসেবেই দেখেন। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, এর আগে তার বিখ্যাত ‘ব্যাটম্যান’ ট্রিলজি নির্মাণের সময়ও তিনি ১০ বছর ধরে বিপুল ভক্তকুলের প্রত্যাশা ও সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি শিখেছেন যে, এসব নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার মোটেও প্রয়োজন নেই।
আরও পড়ুন: বিদ্যুৎখাতে লুটপাটের জন্য ইনডেমনিটি দিয়েছিল আওয়ামী সরকার: রিজভী
নোলানের মতে, মূল রচনার প্রতি সৎ থেকে নিজের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ দক্ষতা দিয়ে সেটিকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলাই একজন নির্মাতার আসল কাজ।
সিনেমাটি নিয়ে বিতর্কের সূচনা হয় গত ফেব্রুয়ারিতে, যখন জানা যায় ট্রয়ের হেলেন চরিত্রে কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেত্রী লুপিটা নিয়ংও অভিনয় করছেন। এরপরই ইলন মাস্ক সামাজিক মাধ্যমে তীব্র কটাক্ষ করে লেখেন, নোলান তার সততা হারিয়েছেন। রক্ষণশীল রাজনৈতিক বিশ্লেষক ম্যাট ওয়ালশও এই কাস্টিং নিয়ে বর্ণবাদী মন্তব্য করেন। মাস্ক দাবি করেন, নোলান কেবল পুরস্কার জেতার লোভেই চরিত্রগুলোর জাতিগত পরিচয় পরিবর্তন করছেন।
এ ছাড়া হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা এলিয়ট পেজ এই সিনেমায় গ্রিক যোদ্ধা একিলিসের চরিত্রে অভিনয় করছেন—এমন একটি ভিত্তিহীন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে ট্রাম্প সমর্থকরা নোলানের ওপর ক্ষুব্ধ হন। তবে পরে জানা যায়, পেজ আসলে একিলিস নয়, বরং ‘সিনন’ নামের এক যোদ্ধার চরিত্রে অভিনয় করছেন।
কাস্টিংয়ের পাশাপাশি সিনেমার চরিত্রদের আর্মার বা বর্মের নকশা নিয়েও সমালোচনা হয়েছে, যা অনেকের কাছে নোলানের ‘ব্যাটম্যান’ স্যুটের মতো আধুনিক মনে হয়েছে।
আরও পড়ুন: সরকারকে সেলিম উদ্দিনের আহ্বান, গণরায়ের বিরুদ্ধে না গিয়ে জনগণের পক্ষে দাঁড়ান
টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই পোশাক বিতর্কেরও নোলান জবাব দিয়েছেন। তিনি জানান, প্রাচীন আমলেও ব্রোঞ্জকে কালো করার প্রযুক্তি ছিল এবং কস্টিউম ডিজাইনার এলেন মিরোজনিক অত্যন্ত ব্যয়বহুল উপকরণ ব্যবহার করে চরিত্রগুলোর আভিজাত্য ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।
ম্যাট ডেমন এবং জেনডায়ার মতো তারকাদের নিয়ে নির্মিত ইউনিভার্সাল পিকচার্সের এই বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমাটি আগামী ১৭ জুলাই বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। সমস্ত বিতর্ক পেরিয়ে নোলানের এই নতুন সৃষ্টি রুপালি পর্দায় দর্শকদের কতটা মুগ্ধ করতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন