শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:০৪ পি.এম
মাত্র আড়াই বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েছিলেন এস এম তাইজুল ইসলাম। স্বামীকে হারিয়ে তিন সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন মা হাওয়া বেগম। অভাবের সংসারে কখনো একবেলা খাবার জোটেনি, কখনো সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে না পেরে কেঁদেছেন তিনি। তবু হাল ছাড়েননি। একটাই স্বপ্ন ছিল—ছেলেকে পড়াশোনা করিয়ে একদিন বিচারকের আসনে বসাবেন।
মায়ের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তবে বিচারকের আসনে বসার পথটি মোটেও সহজ ছিল না। দারিদ্র্য, পিতৃহীন শৈশয় ও কঠোর সংগ্রামের পর যখন স্বপ্ন পূরণের পথে এগোচ্ছিলেন তাইজুল, তখনই নেমে আসে জীবনের সবচেয়ে কঠিন বিপর্যয়। একে একে অকেজো হয়ে যায় তাঁর দুই কিডনি। শুরু হয় নিয়মিত ডায়ালাইসিস। প্রয়োজন পড়ে কিডনি প্রতিস্থাপনের। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হয় পরিবারকে।
একসময় হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন তাইজুল। যে পরিবারে একবেলা খাবার জোগাড় করাই কঠিন ছিল, তাদের কাছে চিকিৎসার জন্য ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা জোগাড় করা ছিল প্রায় অসম্ভব। তখন পাশে দাঁড়ান বন্ধু, সহপাঠী, বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। মায়ের অক্লান্ত চেষ্টা আর মানুষের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত ২০১৭ সালে ভারতে গিয়ে কিডনি প্রতিস্থাপন করান তিনি।
মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আবার পড়াশোনায় ফেরেন তাইজুল। দীর্ঘ লড়াই শেষে ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় ১২০তম স্থান অর্জন করে চূড়ান্তভাবে সিভিল জাজ হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। হাসপাতালের বিছানা থেকে বিচারকের আসনে পৌঁছানোর এই গল্পে মিশে আছে একজন মায়ের ত্যাগ, সন্তানের অদম্য লড়াই এবং মানুষের মানবিক সহযোগিতার অনন্য দৃষ্টান্ত।
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নের পূর্ব আলীপুর গ্রামের সন্তান তাইজুল ইসলাম। মাত্র আড়াই বছর বয়সে বাবাকে হারান তিনি। এরপর তিন সন্তানকে মানুষ করার পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে মা হাওয়া বেগমের ওপর।
সংসারে অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন হাওয়া বেগম। কখনো মাঠে কাজ করেছেন, কখনো নিজের প্রয়োজনের কথা ভুলে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতা নিয়েছেন নিজের ভাইদের কাছ থেকেও।
হাওয়া বেগম বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর সন্তানদের নিয়ে অনেক কষ্ট করেছি। কখনো এমনও হয়েছে, ছেলেমেয়েদের মুখে খাবার দিতে পারিনি। আমার ভাইয়েরা তখন আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। মাঠে কাজ করেছি, পরিশ্রম করেছি। আমার একটাই স্বপ্ন ছিল—আমার ছেলে একদিন জজ হবে।”
প্রায় ৩১ বছর ধরে একাই সন্তানদের জন্য সংগ্রাম করেছেন এই মা। তাঁর সেই দীর্ঘ ত্যাগের যেন পূর্ণতা এসেছে ছেলের বিচারক হওয়ার মধ্য দিয়ে।
অভাব-অনটনের মধ্যেও পড়াশোনায় মেধার স্বাক্ষর রাখেন তাইজুল। ২০০৮ সালে আলীপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় গোল্ডেন এ+ অর্জন করেন তিনি। মাদ্রাসাটির ইতিহাসে তিনিই প্রথম গোল্ডেন এ+ পাওয়া শিক্ষার্থী।
পরে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজে মানবিক বিভাগে ভর্তি হন। ২০১০ সালের এইচএসসি পরীক্ষাতেও এ+ অর্জন করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি পরীক্ষায় মেধাক্রমে ৫৮তম স্থান অর্জন করে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। ২০১৫ সালে এলএলবি এবং ২০১৮ সালে এলএলএম সম্পন্ন করেন তিনি।
তখন স্বপ্নের পথ অনেকটাই পরিষ্কার। কিন্তু এর মধ্যেই শুরু হয় তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়।
২০১৩ সাল থেকে শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগতে শুরু করেন তাইজুল। প্রথমে কোমর ও পিঠে ব্যথা, পরে ২০১৫ সালে কিডনির সমস্যা ধরা পড়ে। একপর্যায়ে চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর দুই কিডনিই অকেজো হয়ে গেছে।
শুরু হয় নিয়মিত ডায়ালাইসিস। বাড়তে থাকে চিকিৎসার ব্যয়। একসময় চিকিৎসকেরা কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেন। প্রয়োজন হয় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অবস্থার কারণে এই অর্থ জোগাড় করা ছিল দুঃসাধ্য।
তাইজুল বলেন, “আমার দুটি কিডনি যখন ড্যামেজ হয়ে গেল, তখন লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। আমি তখন অনার্স তৃতীয় বর্ষে। আমাদের ঘরে খাওয়ার মতো চালও থাকত না। এমন অবস্থায় ৩০ লাখ টাকা চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন হলো। তখন মনে হয়েছিল, আমি হয়তো আর বাঁচব না, মায়ের স্বপ্নও পূরণ করতে পারব না।”
তাইজুলের অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লে পাশে দাঁড়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু, সহপাঠী, বড় ভাই, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।
ছেলের চিকিৎসার জন্য নিজের জমিজমা ও যা কিছু ছিল, তা বিক্রি করেও অর্থ জোগাড়ের চেষ্টা করেন হাওয়া বেগম। তাতেও প্রয়োজনীয় অর্থ পূরণ হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত মানুষের সহযোগিতায় চিকিৎসার অর্থ জোগাড় হয়। ২০১৭ সালে ভারতে গিয়ে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয় তাইজুলের।
হাওয়া বেগম বলেন, “আমার ছেলে এমন রোগে পড়েছিল যে মনে হয়েছিল, তাকে আর বাঁচাতে পারব না। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আর মানুষের সহযোগিতায় সে ফিরে এসেছে। আমার ছেলে আজ জজ হয়েছে। আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আল্লাহর কাছে আমি কৃতজ্ঞ।”
সেই দুঃসহ সময়ের কথা মনে করে তাইজুল বলেন, “একদিকে আমার জীবন, অন্যদিকে আমার ক্যারিয়ার—সবকিছু শেষের দিকে চলে গিয়েছিল। তখন মনে হতো, আমি যদি মারা যাই, তাহলে কীভাবে জজ হব? এই চিন্তা আমাকে আরও ভেঙে দিত। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি।”
কিডনি প্রতিস্থাপনের পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে আবার পড়াশোনায় ফেরেন তিনি। শারীরিক নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নিজের স্বপ্নকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে থাকেন।
তাইজুল বলেন, “আমি মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে ফিরেছি। আমার মা চেয়েছিলেন আমি জজ হই। বন্ধুবান্ধব, বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই, আত্মীয়স্বজন—অনেকে আমাকে সহযোগিতা করেছেন। তাঁরা যদি সেদিন পাশে না দাঁড়াতেন, হয়তো আমি আজ এখানে থাকতাম না। আল্লাহর রহমতে আমি বেঁচে আছি এবং আজ জজ হতে পেরেছি। আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।”
অবশেষে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত দিন। ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় ১২০তম স্থান অর্জন করে সিভিল জাজ হিসেবে উত্তীর্ণ হন এস এম তাইজুল ইসলাম।
যে মা একসময় ছেলের চিকিৎসার জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে সহযোগিতা চেয়েছেন, সেই মায়ের চোখে এখন আনন্দের অশ্রু। দীর্ঘ ৩১ বছরের সংগ্রামের পর ছেলের সাফল্য যেন তাঁর সব কষ্টকে সার্থক করে দিয়েছে।
তাইজুলের ভাই নাজমুল ও বোন খুরশিদা বলেন, “আমরা কখনো ভাবিনি ভাই আবার সুস্থ হয়ে সংসারের হাল ধরবে। এমন রোগ হয়েছিল যে সবাই ভেবেছিল, সে হয়তো আর বাঁচবে না। কিন্তু আল্লাহর রহমত আর মানুষের সহযোগিতায় ভাই বেঁচে ফিরেছে। আজ সে জজ হয়েছে, মায়ের স্বপ্ন পূরণ করেছে। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় আনন্দের।”
তাইজুলের সাফল্যে আনন্দিত তাঁর এলাকার মানুষও। তাঁদের ভাষ্য, একসময় যে ছেলেকে নিয়ে সবাই শঙ্কায় ছিলেন, সেই ছেলেই আজ এলাকার গর্ব।
তাইজুল ইসলামের গল্প শুধু একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর সাফল্যের গল্প নয়। এটি একজন মায়ের দীর্ঘ ত্যাগ, একজন সন্তানের অদম্য লড়াই এবং মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতায় ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।
পিতৃহীন শৈশব, দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা, দুই কিডনি অকেজো হয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া, নিয়মিত ডায়ালাইসিস, কিডনি প্রতিস্থাপন—জীবনের প্রতিটি ধাপেই নতুন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি।
একসময় হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে যে তরুণের একমাত্র আকুতি ছিল বেঁচে থাকা, সেই তাইজুলই আজ বিচারকের আসনে বসার অপেক্ষায়। তাঁর এই পথচলায় পূরণ হয়েছে মায়ের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন; আর প্রমাণিত হয়েছে—কঠিন সময় যত দীর্ঘই হোক, মানুষের সহযোগিতা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ তৈরি করা সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শহরের বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করে ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ক্লিন চাঁদপুর’। সংগঠনটি ‘বর্জ্য জমা দিন, খাদ্য ও গাছ নিন’ স্লোগানের মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য সংগ্রহের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে খাবার ও গাছ বিতরণ করছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চাঁদপুর শহরের পুরান বাজার বৌ-বাজার সড়কের পৌরসভার ডাস্টবিন সংলগ্ন এলাকায় এই কর্মসূচিটি পরিচালিত হয়। এ সময় সংগঠনের সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য সংগ্রহ করেন। বিনিময়ে তাদের মধ্যে খাবার ও গাছ বিতরণ করা হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ‘ক্লিন চাঁদপুর’-এর প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খান আকাশসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।
অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খান আকাশ জানান, চাঁদপুর শহরকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজায়ন করা তাদের সংগঠনের প্রধান লক্ষ্য। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তারা বিভিন্ন সচেতনতামূলক ও বাস্তবমুখী কর্মসূচি পরিচালনা করছেন।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ বিপর্যয়ের এই সময়ে জলাশয় রক্ষা এবং বিভিন্ন রোগবালাই থেকে মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন ড্রেনে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য জমা হচ্ছে। বিশেষ করে প্লাস্টিক বর্জ্য ড্রেনে পড়ে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এর ফলে জলাবদ্ধতা ও বিভিন্ন ধরনের পরিবেশগত সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
সংগঠনটির সূত্রে জানা গেছে, ‘ক্লিন চাঁদপুর’ শুধুমাত্র শহরকেন্দ্রিক নয়, বরং জেলার বিভিন্ন স্থানে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। সড়ক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, সড়ক সংস্কারে স্বেচ্ছাশ্রম দেওয়া এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে সংগঠনের সদস্যরা যুক্ত রয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন উৎসব ও দুর্যোগের সময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ান সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রীম কোর্টের এডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে বিশ্বের একমাত্র জিয়া পরিবারের '৩য় সদস্য হিসেবে তারেক রহমান' ভাষণ দিয়ে একটি নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। এর আগে, বিশ্বের কোনো পরিবারের 'বাবা, মা এবং ছেলে' রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান হিসেবে জাতিসংঘের অধিবেশনে ভাষণ দেননি। তারেক রহমানের বাবা, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘের অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন। তারেক রহমানের এই ভাষণ জাতিসংঘে নজিরবিহীন ইতিহাস হয়ে থাকবে। এতে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতি হিসেবে আমরা গর্বিত এবং সম্মানিত হয়েছি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দাউদকান্দি পৌর সদরে ফ্যাসিস্ট আ'লীগের দেশবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্র ও সহিংসতার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশ শেষে প্রধান অতিথি ড. খন্দকার মারুফ হোসেনের নেতৃত্বে দাউদকান্দি পৌর সদরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। দাউদকান্দি পৌর বিএনপি এই বিশাল মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করেছে।
ড. খন্দকার মারুফ বলেন, তারেক রহমানের জাতিসংঘের ভাষণে জাতির মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে দেশ ও জনগণের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। কিন্তু এদিকে, দেশকে অস্থিতিশীল করতে ফ্যাসিস্ট আ.লীগ গভীর ষড়যন্ত্রে ব্যস্ত রয়েছে। দেশ ও জনগণের প্রতি এই সন্ত্রাসী সংগঠনটির সামান্যতম ভালোবাসা নেই।
তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমান জাতিসংঘের ভাষণে টেকসই গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাসহ একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের জন্য আগামীর পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। তারেক রহমান ভাষণে ফ্যামিলি, ফার্মার্স ও ই-হেলথ কার্ডসহ সামাজিক সুরক্ষার সুবিধাগুলো সমন্বয় করে ভবিষ্যতে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানান। এই কার্ডের মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই ব্যাংক বা মোবাইল ওয়ালেটে সরাসরি প্রণোদনা পৌঁছানো এবং কৃষি ভর্তুকি ও চিকিৎসাসেবা সহজ করার সুযোগ থাকবে।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির এই সদস্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী অধিবেশনের ফাঁকে সাইডলাইনে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সাথে বৈঠক করেন। তিনি বৈঠকে নিজ দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নানা প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ অধিবেশনে উপস্থিত বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের কাছে দারুণভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট আ'লীগ একদলীয় শাসন চালিয়ে বিগত ১৬ বছর দেশের জনগণকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। তাদের নেতাও একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্র ও মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে। জনগণের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে। ফ্যাসিস্ট হাসিনাও বিএনপি এবং ভিন্নমতের নেতাকর্মীদের গুম, অপহরণ ও হত্যা করেছে। মিথ্যা মামলায় আয়নাঘরে ও জেলে আটকে রেখে অগণিত মানুষের জীবন ও পরিবার বিপন্ন করেছে।
নিষিদ্ধ আ'লীগের নেতারা বিদেশে বসে নিজ দেশে অশান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। শান্তিপ্রিয় জনগণ তাদের সহিংস তৎপরতা রুখে দেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দাউদকান্দি পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকারের সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক পিটার চৌধুরীর সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন, দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক এম. এ লতিফ ভূইয়া, সাবেক সদস্য সচিব ভিপি জাহাঙ্গীর আলম, বিএনপি নেতা আবদুস সাত্তার, কাউসার আলম সরকার, মাহবুব হোসেন হিরণ, কামাল হোসেন, খন্দকার বিল্লাল হোসেন সুমন, শরীফ চৌধুরী, রোমান খন্দকার, আইরিন সরকার ফরিদা ইয়াসমিন, ছাত্র দল নেতা মো. রাসেল ও পাভেল আহমেদ লিটন প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হারিকেন হেলেনের সময় গ্যারেজে থাকা বৈদ্যুতিক গাড়ির টেসলার ব্যাটারি সিস্টেম লবণাক্ত পানির সংস্পর্শে এসে একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি ট্যাম্পার ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট আগুনে একটি পরিবারের কয়েক মিলিয়ন ডলারের বিলাসবহুল বাড়ি সম্পূর্ণরূপে পুড়ে গেছে।
অটো ডিলার মাইকেল মারফির গ্যারেজে রাখা ২০২১ মডেলের 'টেসলা মডেল এস প্লেইড' গাড়িতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় মাইকেল শহরের বাইরে থাকলেও তার স্ত্রী সিলভানা, দুই শিশুকন্যা এবং শ্বশুর-শাশুড়ি বাড়ির ভেতরেই আটকা পড়েছিলেন। পরবর্তীতে একটি বেসরকারি উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের নিরাপদে বের করে আনতে সক্ষম হলেও, তাদের ৫ হাজার ৪০০ বর্গফুটের বিশাল বাড়িটি ধ্বংস হয়ে যায়।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল যে উদ্ধারকারীরা পরিবারের প্রিয় কুকুরটিকে বাঁচাতে পারেননি। ২৪ সেপ্টেম্বর দায়ের করা অভিযোগে মারফি পরিবার দাবি করেছে, পানিতে ভিজলে টেসলার ব্যাটারি থেকে যে ভয়াবহ বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির সতর্কবার্তা থাকা সত্ত্বেও তারা ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি বিক্রি অব্যাহত রেখেছে।
হারিকেন হেলেনের প্রভাবে ট্যাম্পা বে এলাকায় গত ১০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাস দেখা দেয়, যার ফলে মারফি পরিবারের গ্যারেজে লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়ে। পানি গাড়ির নিচের অংশে পৌঁছাতেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বন্যার পানি এবং আগুনের কারণে জরুরি সেবাকর্মীরা সেখানে পৌঁছাতে পারছিলেন না। পরবর্তীতে মাইকেল মারফির অনুরোধে 'গ্রে বুল রেসকিউ' নামের একটি বেসরকারি উদ্ধারকারী দলের সাহসিকতায় নৌকার সাহায্যে পরিবারের সদস্যদের ওই জ্বলন্ত বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়।
মারফি পরিবারের দাবি, এই বিস্ফোরণের মূল কারণ টেসলার ত্রুটিপূর্ণ ব্যাটারি প্যাক এবং এর ডিজাইন। ইলন মাস্কের মালিকানাধীন টেসলা ২০১০ সাল থেকেই লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির এই 'থার্মাল রানঅ্যাওয়ে' বা অনিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রার সমস্যার বিষয়ে অবগত ছিল। তারা এমনকি আগুন প্রতিরোধক উপাদানের পেটেন্টও করেছিল, কিন্তু নিজেদের গাড়িতে তা সঠিকভাবে ব্যবহার করেনি।
ফ্লোরিডায় এর আগেও হারিকেন হেলেনের সময় পানিতে ডুবে একাধিক টেসলা গাড়িতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছিল, যা নেভাতে দমকলকর্মীদের চরম বেগ পেতে হয়। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে ত্রুটি সংশোধনে ব্যর্থতার অভিযোগে মারফি পরিবার এখন টেসলার কাছে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আইনি লড়াই শুরু করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশের মাটিতে ফ্যাসিবাদী অপশক্তিকে আর রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, "যারা এ দেশে গণহত্যা চালিয়েছে, মানুষের বুকে গুলি চালিয়েছে, তাদের কোনো ক্ষমা নেই। প্রত্যেকের বিচার করা হবে।"
আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সাদেক হোসেন খোকা মাঠে অনুষ্ঠিত ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ঢাকা-৬ আসন’ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, "পতিত ফ্যাসিবাদের দোসররা প্রতিনিয়ত ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কথা বলছে। শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।"
তিনি জানান, গত ১৭ বছরে যারা বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, যে সরকার বিনা ভোটে দেশ পরিচালনা করেছে এবং গণতন্ত্রকে সিস্টেমেটিক্যালি হত্যা করেছে, তারা পৃথিবীর বুকে একটি লজ্জাজনক ইতিহাস রচনা করেছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাবর্তনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি জানান, ভারত সরকার এখনো এর কোনো জবাব দেয়নি। মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও তার সহযোগীরা যে দেশে অবস্থান করছেন, সেই দেশের প্রতি তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে তাদের বিচার হয়েছে। প্রয়োজনে তারা আপিলের সুযোগ চাইলে সেই সুযোগ দেওয়া হবে এবং দেশে ফিরে সুষ্ঠু ন্যায়বিচার সম্পন্ন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ