ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

তীব্র গরমে ২০২৫ সালে বাংলাদেশে ১,৭৫০ কোটি ডলার ক্ষতি


তীব্র গরমে ২০২৫ সালে বাংলাদেশে ১,৭৫০ কোটি ডলার ক্ষতি

বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৫ সালে দেশের সম্ভাব্য আয়ের তুলনায় তীব্র গরমের ফলে ক্ষতি হয়েছে ১৭.৫ বিলিয়ন বা ১,৭৫০ কোটি মার্কিন ডলার। একই সময়ে, ১৯৮৬-২০০৫ সালের তুলনায় শিশুদের মধ্যে তাপপ্রবাহের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি ১৬২ শতাংশ এবং প্রবীণদের মধ্যে ১৩৬ শতাংশ বেড়ে গেছে। অন্যদিকে, মানবসৃষ্ট সূক্ষ্ম কণাদূষণের কারণে ২০২৩ সালে দেশে আনুমানিক দুই লাখ ৩৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

‘ল্যানসেট কাউন্টডাউন ২০২৬ : স্বাস্থ্য ও জলবায়ু পরিবর্তন’ প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। গতকাল রোববার ঢাকার ব্র্যাক সেন্টার ইনে বাংলাদেশের জন্য প্রতিবেদনটির তথ্য তুলে ধরে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সিথ্রিইআর)।

প্রতিবেদনে জলবায়ু পরিবর্তনকে জনস্বাস্থ্যের বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং নীতিনির্ধারণ, কার্বন নিঃসরণ কমানো ও অর্থায়নে স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০১৬-২০২৫ সময়ে জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতির অনেক সূচক আগের দশকের তুলনায় দ্রুত বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন ইউনিট (সিসিএইচপিইউ)।

আরও পড়ুন: আলিম পাসের পরদিনই বাসচাপায় প্রাণ গেল সাকিবের

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিবেশ অর্থনীতিবিদ শৌর্য দাশগুপ্ত। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. ইকবাল কবির। স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিইআর-এর পরিচালক গোলাম রব্বানী।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জলবায়ুনীতিতে কৃষি ও পানির পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে এসব নীতি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় মনোযোগ ও অর্থায়নের ঘাটতি রয়েছে। তীব্র গরমের কারণে কৃষক, বাইরে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষ এবং শহরের বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ডেঙ্গু নিয়মিত জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এসব ঝুঁকি মানুষের স্বাস্থ্য, জীবিকা এবং নিরাপদে কাজ করার সক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে।

প্রতিবেদনের তথ্য কাজে লাগিয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, আগাম সতর্কতা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রস্তুতি জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।

মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে গরমের কারণে প্রতি বছর গড়ে ২৬ বিলিয়নের বেশি শ্রমঘণ্টা নষ্ট হয়েছে। ১৯৯০-এর দশকের বার্ষিক গড়ের তুলনায় এ ক্ষতি ৭১ শতাংশ বেশি।

আরও পড়ুন: গ্যাস ও তেলের খনির সম্ভাবনা, আগুনের তীব্রতা কমলে রিলিফ কূপ খনন হবে

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে এক বছরের কম বয়সি শিশু এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সি মানুষ যথাক্রমে ৭.৬ ও ৭.২ দিন তাপপ্রবাহের মধ্যে কাটিয়েছে। ১৯৮৬ থেকে ২০০৫ সালের তুলনায় এ হার যথাক্রমে ১৬২ ও ১৩৬ শতাংশ বেশি। এছাড়া, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৬৫ বছরের বেশি বয়সি মানুষের তাপজনিত মৃত্যুর আর্থিক মূল্য বছরে গড়ে ৩৮০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। ২০০০ থেকে ২০০৪ সালের তুলনায় এ ক্ষতি ৪৯৫ শতাংশ বেশি। এ অর্থ ওই বয়সি মানুষের গড় বার্ষিক আয়ের প্রায় দুই লাখ ১৬ হাজার গুণ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে মানবসৃষ্ট অতিক্ষুদ্র বস্তুকণায় (পিএম ২.৫) বায়ুদূষণের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা ২০১৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ৪০ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৩ সালে এ ধরনের দূষণজনিত মৃত্যুর ৩৭.৫ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল জীবাশ্ম জ্বালানি। একই বছরে গৃহস্থালি বায়ুদূষণের সঙ্গে ৭৭ হাজার ৫০০ জনের মৃত্যুর সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

২০১৬ সালে এ সংখ্যা ছিল ৯০ হাজার ৭০০। বায়ুদূষণের কারণে অকালমৃত্যুর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৭.৬ বিলিয়ন বা ৭,৭৬০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৬.৪ শতাংশের সমান।

অন্যদিকে, ২০১৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থার কার্বন নিঃসরণ তীব্রতা ৯.৯ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৪ সালে জীবাশ্ম জ্বালানিতে নিট ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ৫৩০ কোটি ডলার, যা জাতীয় স্বাস্থ্য বাজেটের ৫২.৯ শতাংশের সমান। এতে আরো বলা হয়েছে, ৪৮টি উন্নয়নশীল দেশের স্বাস্থ্য খাতে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য বছরে অন্তত ৩৩০ কোটি ডলার প্রয়োজন। অথচ ২০২৪ সালে এ খাতে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে মাত্র ১১০ কোটি ডলার, যা চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

আরও পড়ুন: ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল, সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর মনোনীত

পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, বাংলাদেশের জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) এবং জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনায় (ন্যাপ) স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন এসব অঙ্গীকার বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দিতে হবে। বায়ুদূষণে দুই লাখ ৩৯ হাজার মানুষের মৃত্যুর তথ্য দূষণ ও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজের (সিএসডি) নির্বাহী পরিচালক ড. আতিক রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্যের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাপমাত্রা বাড়ানোর কারণে শ্রমজীবী মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একই সঙ্গে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাড়তি ঝুঁকিতে পড়ছে।

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে, যথাযথ পদক্ষেপ নিতে আমরা দেরি করে ফেলেছি।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত বলেন, ল্যানসেট কাউন্টডাউনের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে। তবে পদক্ষেপ নিতে হবে স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায়। তীব্র গরমের মধ্যেও অনেক মানুষ জীবিকার প্রয়োজনে বাইরে কাজ করতে বাধ্য হন।

আরও পড়ুন: ঢাকাসহ ১৩ সিটি করপোরেশনে ই-রিকশার নিবন্ধন শুরু, ফি ৮-১০ হাজার টাকা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেন্টমার্টিনে কোটি টাকায় স্থায়ী ‘বেওয়ারিশ কুকুর আশ্রম’ প্রতিষ্ঠা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৪ এম


সেন্টমার্টিনে কোটি টাকায় স্থায়ী ‘বেওয়ারিশ কুকুর আশ্রম’ প্রতিষ্ঠা

প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা চার হাজারের বেশি। খাবারের অভাব, রোগব্যাধি ও চিকিৎসার অভাবে এসব কুকুরের দুর্ভোগ ক্রমশ বাড়ছে। এ অবস্থায় দ্বীপের কুকুরগুলোর জন্য নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা ও পরিচর্যার উদ্দেশ্যে কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা হয়েছে দেশের প্রথম স্থায়ী কুকুর আশ্রয়কেন্দ্র। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নির্মিত এ আশ্রয়কেন্দ্রে অসুস্থ কুকুরের চিকিৎসার পাশাপাশি বন্ধ্যাকরণ কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে। উদ্যোগটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন জার্মানি ও পেরুর দুই তরুণী।

মানবিকতার টানে জার্মানি থেকে সেন্টমার্টিনে এসেছেন জলপিয়া। তার সঙ্গে রয়েছেন পেরুর জেসিকা মারিয়া। তারা আশ্রয়কেন্দ্রে অসুস্থ ও বিপন্ন কুকুরগুলোর খাবার, চিকিৎসা ও পরিচর্যায় কাজ করছেন। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে, কেবল অসুস্থ কুকুরের চিকিৎসা নয়, দ্বীপে কুকুরের অনিয়ন্ত্রিত বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রাণীগুলোর জন্য তুলনামূলক নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা অনুযায়ী, সেন্ট মার্টিন দ্বীপে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা চার হাজারের বেশি। কিন্তু এত বিপুলসংখ্যক কুকুরের জন্য পর্যাপ্ত খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। ফলে অনেক কুকুর অপুষ্টি ও নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। চিকিৎসার অভাবে কিছু কুকুর প্রাণও হারাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সীমিত সামর্থ্যের কারণে এত বিপুলসংখ্যক প্রাণীর দায়িত্ব নেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্রে কুকুরের খাবার ও চিকিৎসার পাশাপাশি বন্ধ্যাকরণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। উদ্যোক্তারা মনে করছেন, পরিকল্পিতভাবে বন্ধ্যাকরণ করা গেলে কুকুরের অনিয়ন্ত্রিত বংশবৃদ্ধি কমবে। এতে ভবিষ্যতে খাবার ও চিকিৎসার সংকটও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে।

পেরুর জেসিকা মারিয়া বলেন, "একটি স্ত্রী কুকুর বছরে একাধিকবার বাচ্চা জন্ম দিতে পারে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে কুকুরের সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। এ কারণে বন্ধ্যাকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি আরও বলেন, "অনেক কুকুরের শরীরে টিউমার ও চর্মরোগ দেখা যাচ্ছে। এসব রোগের কারণে প্রাণীগুলো প্রচণ্ড কষ্ট পাচ্ছে। তাদের দুর্ভোগ কমাতে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি।"

জার্মানির জলপিয়া বলেন, "রাস্তা থেকে অসুস্থ কুকুর উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হচ্ছে। সেখানে তাদের সুস্থ করে তোলার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি কিছু কুকুরের বন্ধ্যাকরণও করা হচ্ছে, যাতে ধীরে ধীরে তাদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আসে।" তার মতে, কুকুরের সংখ্যা কমলে তাদের খাবার, চিকিৎসা ও অন্যান্য দুর্ভোগও কমানো সম্ভব হবে।

জলপিয়া আরও বলেন, "আগে দ্বীপে কুকুরের সংখ্যা আরও বেশি ছিল বলে তিনি শুনেছেন। এত বেশি কুকুরের কারণে তাদের নানা ধরনের কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। এখন ধাপে ধাপে বন্ধ্যাকরণ ও চিকিৎসার মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতির চেষ্টা চলছে। তবে অসুস্থ কুকুরের সংখ্যা দেখে তার খারাপ লাগে। একসঙ্গে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব না হলেও একেকটি কুকুরকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।"

আশ্রয়কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কিশোর কুমার দাশ। তিনি বলেন, "সেন্ট মার্টিনে এসে কুকুরগুলোর অবহেলিত অবস্থা এবং কয়েকটি কুকুরকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা তাকে ব্যথিত করে। তখনই দ্বীপের কুকুরগুলোর জন্য নিরাপদ আশ্রয় তৈরির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন তিনি।"

কিশোর কুমার দাশ বলেন, "কুকুরদের নিয়ে অনেকেই কথা বলেন, কেউ কেউ এ বিষয়কে কেন্দ্র করে ব্যবসাও করেন। কিন্তু প্রাণীগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সমাধানের উদ্যোগ খুব বেশি দেখা যায় না। শুধু সাময়িক খাবার বা চিকিৎসা দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। কুকুরগুলোর জন্য স্থায়ী ও মানবিক ব্যবস্থা গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।"

তিনি আরও বলেন, "দ্বীপের প্রকৃতি, মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাও এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। কুকুরগুলোর নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে তাদের দুর্ভোগ কমাতে কাজ করতে চান তারা।"

আশ্রয়কেন্দ্রটিতে রয়েছে ২০টি শেল্টার। প্রতিটি শেল্টারে ১২টি করে কুকুর রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। এসব কুকুরের চিকিৎসা ও সার্বিক পরিচর্যার দায়িত্বে রয়েছেন দুই চিকিৎসক।

উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা, আশ্রয়কেন্দ্রটির মাধ্যমে সেন্ট মার্টিনের বেওয়ারিশ কুকুরগুলোর দুর্ভোগ কমবে। পাশাপাশি পরিকল্পিত চিকিৎসা ও বন্ধ্যাকরণ কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষ ও প্রাণীর সহাবস্থানের একটি মানবিক দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বারডেমে ক্যানসার পরীক্ষার অবিশ্বাস্য মূল্য, চিকিৎসার ধরনও জানা যাচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৫ এম


বারডেমে ক্যানসার পরীক্ষার অবিশ্বাস্য মূল্য, চিকিৎসার ধরনও জানা যাচ্ছে

বিদেশে যে পরীক্ষার খরচ দেড় লাখ টাকা বা তার বেশি, সেই জিন বিশ্লেষণ পরীক্ষা এখন রাজধানীর বারডেম জেনারেল হাসপাতালে মাত্র ১২ হাজার থেকে ৬৫ হাজার টাকায় করা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে স্বল্প খরচে ও দেশের ভেতরেই ক্যানসারের জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং সুনির্দিষ্ট চিকিৎসার ধরন জানার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বারডেমের অণু-পরীক্ষা গবেষণাগারে যুক্তরাষ্ট্রের ইলুমিনা প্রতিষ্ঠানের আধুনিক মাইসিক ও নেক্সটসিক ৫৫০ যন্ত্র ব্যবহার করে ক্যানসারসংশ্লিষ্ট জিনের পরিবর্তন বা মিউটেশন শনাক্ত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে একসঙ্গে বহু জিন বিশ্লেষণ করে ক্যানসারের জিনগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। রোগীর জন্য কোন চিকিৎসা কার্যকর হতে পারে, নির্দিষ্ট ওষুধে সাড়া দেওয়ার সম্ভাবনা কতটা কিংবা বংশগতভাবে ক্যানসারের ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা নির্ধারণেও সহায়তা করে এ প্রযুক্তি। বারডেমের এই গবেষণাগার আমার দেশ-এর প্রতিবেদককে ঘুরে দেখান হাসপাতালটির প্রধান গবেষণা কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহরাব আলম।

বারডেমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সেখানে ১৪০টি জিনের পরিবর্তন পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে ১১১টি জিনের ডিএনএ এবং ২৯টি জিনের আরএনএ বিশ্লেষণ করা হয়। ডিএনএ হলো জীবদেহের বংশগত বৈশিষ্ট্য বহনকারী উপাদান। আরএনএ জিনের নির্দেশনা অনুযায়ী কোষের বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে ভূমিকা রাখে। এ দুটি উপাদান বিশ্লেষণ করে ক্যানসার কোষে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে, তা শনাক্ত করা সম্ভব। স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে বিআরসিএ-১, বিআরসিএ-২, পিআইকেথ্রিআইসিএ, টিপি৫৩ ও এটিএমসহ বিভিন্ন জিন পরীক্ষা করা হয়। ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে বিআরসিএ-১, বিআরসিএ-২, আরডি৫১সি ও বিআরআইপি-১ এবং ফুসফুসের ক্যানসারে ইজিএফআর, বিআরএএফ, কেআরএএস, এমইটি, এএলকে, আরওএস-১ ও আরইটি জিন বিশ্লেষণ করা হয়। এ ছাড়া পাকস্থলী, খাদ্যনালি, বৃহদান্ত্র, মলাশয়, যকৃৎ, পিত্তনালি, অগ্ন্যাশয়, ত্বক ও মস্তিষ্কের ক্যানসারসংশ্লিষ্ট জিনও পরীক্ষার আওতায় রয়েছে।

অধ্যাপক সোহরাব আলম বলেন, মানুষের শরীর অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত। প্রতিটি কোষের কেন্দ্রের মধ্যে থাকে ক্রোমোজোম, আর ক্রোমোজোমের মধ্যে রয়েছে জিন। জিন তৈরি হয় ডিএনএ দিয়ে। ডিএনএর গঠনে পরিবর্তন বা মিউটেশন হলে ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হতে পারে। ধূমপান, ক্ষতিকর বিকিরণ ও পরিবেশগত বিভিন্ন কারণে জিনের এ পরিবর্তন ঘটতে পারে। কোন জিনে কী ধরনের পরিবর্তন হয়েছে, তা শনাক্ত করতে আধুনিক জিন বিশ্লেষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। প্রচলিত পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট একটি জিন বা তার বিশেষ পরিবর্তন পরীক্ষা করা হলেও নতুন প্রযুক্তিতে একসঙ্গে অনেক জিন বিশ্লেষণ করা সম্ভব। এতে ক্যানসারের ধরন ও বৈশিষ্ট্য বুঝে রোগীর চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা পাওয়া যায়।

ক্যানসারের চিকিৎসায় সব রোগীর জন্য একই ওষুধ বা পদ্ধতি কার্যকর হয় না। একই অঙ্গের ক্যানসার হলেও রোগীর জিনগত বৈশিষ্ট্য ভিন্ন হতে পারে। পরীক্ষায় এসব পার্থক্য শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসকেরা নির্দিষ্ট জিনের পরিবর্তনকে লক্ষ্য করে ওষুধ বা চিকিৎসাপদ্ধতি নির্বাচন করতে পারেন। একে লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা বলা হয়। এটি রোগীর ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়ার একটি পদ্ধতি। এ ছাড়া চিকিৎসায় রোগীর সাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা, ওষুধের বিরুদ্ধে ক্যানসার কোষের প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হওয়া এবং রোগের ভবিষ্যৎ অবস্থা সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়। নির্দিষ্ট পরীক্ষার মাধ্যমে বংশগত ক্যানসারের ঝুঁকি শনাক্ত এবং চিকিৎসার পর শরীরে ক্যানসার কোষের সামান্য অংশ অবশিষ্ট রয়েছে কি না, তা মূল্যায়নেও জিন বিশ্লেষণ ভূমিকা রাখে।

বারডেমে স্তন ও ডিম্বাশয়ের বংশগত ক্যানসারের ঝুঁকি নির্ণয়ে বিআরসিএ-১ ও বিআরসিএ-২ জিন পরীক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে। পাশাপাশি এইচআরআর বা কোষের ডিএনএ মেরামতকারী ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত ২৭টি জিনের পরীক্ষা করা হয়। এসব জিনে পরিবর্তন থাকলে কোষের ক্ষতিগ্রস্ত ডিএনএ মেরামতের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। নির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে এ তথ্য চিকিৎসার ধরন নির্ধারণে সহায়ক হয়।

অধ্যাপক সোহরাব আলম জানান, বাংলাদেশে এসব পরীক্ষার খরচ ১২ হাজার থেকে ৬৫ হাজার টাকা। অথচ বিদেশে একই ধরনের পরীক্ষা করাতে প্রায় দেড় লাখ টাকা বা তার বেশি ব্যয় হতে পারে। বিদেশে নমুনা পাঠানো এবং পরীক্ষার প্রতিবেদন পেতে ১৫ দিন থেকে এক মাস পর্যন্ত সময় লাগে। দেশে পরীক্ষার সুযোগ থাকায় রোগীদের অর্থ ও সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি বিদেশে যাতায়াতের ভোগান্তিও কমবে। পরীক্ষার জন্য রোগীর টিস্যুর নমুনা অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত সংগ্রহ করা হয়। টিস্যুভিত্তিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে রোগীর টিস্যু পরীক্ষার প্রতিবেদনসহ পর্যাপ্ত ক্যানসার আক্রান্ত টিস্যুর নমুনা প্রয়োজন। হাসপাতালের রোগতত্ত্ব বিভাগ থেকে নমুনার ক্যানসার আক্রান্ত অংশ নির্বাচন ও প্রস্তুত করা হয়। হাসপাতালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ প্রক্রিয়ার জন্য অতিরিক্ত কোনো খরচ নেওয়া হয় না। তবে পরীক্ষার আন্তর্জাতিক মান ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে গবেষণাগারটির আন্তর্জাতিক মান সনদ অর্জনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য আইএসও ১৫১৮৯:২০২২ স্বীকৃতি নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির (বাডাস) মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন বলেন, ক্যানসার রোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নতুন প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি যুক্ত করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বারডেমে আধুনিক জিন বিশ্লেষণ প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্যানসারের জিনগত বৈশিষ্ট্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটি লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা ও রোগীর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ওষুধ নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, দেশে উন্নত ক্যানসার পরীক্ষা ও চিকিৎসার পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় অনেক রোগীকে চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে হয়। দেশে আধুনিক পরীক্ষার সুবিধা সম্প্রসারণ করা গেলে রোগীদের বিদেশমুখিতা কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। গবেষণাগারের আন্তর্জাতিক মান সনদ অর্জনের জন্য চেষ্টা রয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ছয় মাস থেকে এক বছর সময় লাগতে পারে।

এদিকে বারডেমের নিজস্ব ক্যানসার হাসপাতাল নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। এ জন্য মূল হাসপাতালের আশপাশে অন্তত দুই একর জমি খুঁজছে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল নির্মাণে আগে সরকারের কাছে প্রকল্প প্রস্তাব জমা দেওয়া হলেও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে তা অনুমোদন পায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেঙ্গুতে মারা গেল জুলাই যোদ্ধা বেরোবি শিক্ষার্থী চন্দন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৫ এম


ডেঙ্গুতে মারা গেল জুলাই যোদ্ধা বেরোবি শিক্ষার্থী চন্দন

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী চন্দন সূত্রধর, যিনি জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ছিলেন।

রবিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বড় ভাই আনন্দ সূত্রধর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চন্দন সূত্রধর বেরোবির জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলায় অবস্থিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহপাঠীদের সূত্রে জানা যায়, চন্দন বৈষম্যবিরোধী জুলাই অভ্যুত্থানে সম্মুখসারিতে থেকে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। আন্দোলনের সময় আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পর তার মাথায় এখনো গুলির অংশ (বুলেট) রয়ে গিয়েছিল।

চন্দনের অকালমৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার সহপাঠী আজিজুর রহমান গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘ডেঙ্গুতে আমার বন্ধুকে হারাতে হবে, তা কখনো কল্পনাও করিনি। এমন একজন প্রাণবন্ত মানুষের এভাবে চলে যাওয়া মেনে নেওয়া কঠিন। আমরা এমন এক বন্ধুকে হারিয়েছি, যার শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।’

এ সময় ডেঙ্গুর ভয়াবহতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন, ডেঙ্গু এখন আর সাধারণ কোনো রোগ নয়, এটি প্রাণঘাতী রূপ নিয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

চন্দনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ত্বহা হুসাইন বলেন, ‘খবরটি শুনে অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছি। চন্দন খুব ভালো মনের একটি ছেলে ছিল এবং সে একজন সাহসী জুলাই যোদ্ধাও ছিল। হঠাৎ করে তার এভাবে চলে যাওয়া কোনোভাবেই বিশ্বাস করা যাচ্ছে না।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাবাকে হারানোর শোক সত্ত্বেও লিজার জিপিএ ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৬ এম


বাবাকে হারানোর শোক সত্ত্বেও লিজার জিপিএ ৫

যে বাবার হাত ধরে জীবনের পথচলা শুরু হয়েছিল, যে মানুষটি সন্তানের ভালো ফলের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন, সেই বাবাই আজ নেই। এইচএসসি পরীক্ষার মাত্র কয়েক দিন আগে বাবাকে হারান লিজা আক্তার। শোকের ভারে চারপাশ থমকে গিয়েছিল, স্বপ্ন ও প্রস্তুতি এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল। তবুও বাবার স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে, চোখের জল মুছে পরীক্ষার হলে বসেছিলেন তিনি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত পরীক্ষার ফলাফলে লিজা পেয়েছেন জিপিএ ৫। জীবনের এই আনন্দের দিনে সবচেয়ে প্রিয় মানুষটিকে পাশে না পাওয়ার বেদনা তার আনন্দকে ছাপিয়ে যাচ্ছে।

লিজা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া এলাকার ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। বাবার মৃত্যুর শোক সামলে তার এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

লিজার বাড়ি আখাউড়া পৌর এলাকার মসজিদপাড়া এলাকায়। তার বাবা মৃত রেজাউল ইসলাম (ছায়েদ) এবং মা রোজিনা আক্তার গৃহিণী। লিজা দুই ভাইয়ের মধ্যে বড়। এর আগে এসএসসি পরীক্ষাতেও সে জিপিএ ৫ পেয়েছিল। পড়াশোনায় মেধাবী লিজার সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণা ও যত্ন ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি।

কিন্তু এইচএসসি পরীক্ষার কয়েক দিন আগে বাবার মৃত্যুতে লিজার চেনা জীবন হঠাৎ বদলে যায়। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে লিজা। বই খুললেই বাবার কথা মনে পড়ত। পড়ায় মন বসত না। এমন পরিস্থিতিতে স্বজনদের সাহস ও পরামর্শে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সে। বাবার স্বপ্ন পূরণের তাগিদেই নিজেকে সামলে নেয়। বুকের ভেতর জমে থাকা শোক নিয়েই একে একে শেষ করে পরীক্ষাগুলো।

ফল প্রকাশের পর জিপিএ ৫ পাওয়ার খবর শুনে স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী আনন্দিত হয়েছেন। তবে এই আনন্দের সঙ্গে মিশে আছে এক গভীর অপূর্ণতা। লিজার বিশ্বাস, বাবা বেঁচে থাকলে তার এই ফলাফলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। হয়তো সবার আগে মেয়েকে বুকে টেনে নিতেন। অথচ আজ সেই মানুষটিই নেই।

নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে লিজা বলেন, ‘বাবা সব সময় চাইতেন আমার ফল ভালো হোক। পরীক্ষার আগে বাবাকে হারানো ছিল জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত। বাবার স্বপ্ন পূরণের কথা ভেবেই নিজেকে সামলে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলাম। বাবার মৃত্যুর পর কোনো কিছুই ভালো লাগত না। বারবার বাবার মুখ মনে পড়ত, পড়াশোনায় মন বসত না। বাবা বেঁচে থাকলে আমার এই ফল দেখে অনেক খুশি হতেন। সবার কাছে বাবার জন্য দোয়া চাই।’

আখাউড়া নাছরীন নবী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক খোরশেদ আলম জানান, আখাউড়া ক্যামব্রিয়ান কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পুরো আখাউড়া উপজেলায় একমাত্র জিপিএ ৫ পেয়েছে আমাদের শিক্ষার্থী লিজা। পরীক্ষা শুরুর অল্প কিছুদিন আগে তার বাবা মারা যান। তারপরও সে ভেঙে পড়েনি। সে তার বিশেষত্ব ধরে রেখেছে। সে এখন ঢাকায় রেটিনাতে কোচিং করছে। সেখানে তার মন টিকতে চায় না। সময়ে অসময়ে ফোন দিয়ে কান্নাকাটি করে। তাকে মোটিভেট করার চেষ্টা করা হয়।

ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রাজ্জাক হাজারী বলেন, ‘লিজা শুরু থেকেই মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। তার ভালো ফলের ব্যাপারে শিক্ষকদের প্রত্যাশা ছিল। তবে পরীক্ষার কিছুদিন আগে বাবার মৃত্যুতে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। এসময় কলেজের শিক্ষকরা তাকে সাহস জুগিয়েছেন এবং সার্বিক সহযোগিতা করেছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাবাকে হারানোর মতো বড় শোক সামলে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৫ অর্জন করা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তার এ সাফল্যে কলেজের সবাই আনন্দিত। আশা করি, ভবিষ্যতেও সে সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখবে।’

লিজার হাতে আজ জিপিএ ৫-এর সাফল্য, সামনে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু এই অর্জনের গল্পে যে মানুষটির সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হওয়ার কথা ছিল, তিনি নেই। তাই ফলাফলের আনন্দের মাঝেও লিজার কাছে সবচেয়ে বড় হয়ে আছে বাবার শূন্যতা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%