মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৪৯ পি.এম
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, বাংলাদেশ মক্কা জোটে যুক্ত হওয়ার আগে পরিস্থিতি যাচাই-বাছাই করছে।
তিনি মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) আইপিইউ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বহুপক্ষীয় ফোরামে অংশগ্রহণের আগে বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতি অনুসরণ করা হয়। তিনি বলেন, "এখানে যুক্ত হলে বাংলাদেশের কি সুবিধা, জনগণের কি লাভ সেটা যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।" তিনি আরও জানান, জোটে সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে যোগদানের জন্য এখনও কোন আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ আসেনি। তবে তিনি বলেন, "এটা উন্মুক্ত আছে, দেখা যাক।"
এর আগে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকের সময় আইপিইউ বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পুনর্যাত্রাকে স্বাগত জানায়।
এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশে আবারও সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরেছে।" তিনি উল্লেখ করেন, আইপিইউ মহাসচিবের সফর গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, তরুণ সংসদের উপস্থিতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে সংস্থাটি।
বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সার্জিও গোরের মন্তব্য আগের চুক্তিকে কেন্দ্র করে হতে পারে বলেও তিনি জানান।
এছাড়া, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান এবং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সংসদীয় ফোরামগুলোর সমর্থন আদায়ের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নতুন তথ্য উদ্ঘাটিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষ প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা, যিনি এই তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি হত্যাকাণ্ডের স্থান পরিদর্শন শেষে জানান, এবার অনেক অমীমাংসিত রহস্যের সমাধান হবে। মোজাফফরের ফোন এই ঘটনার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে গত ১৫ জুলাই রাতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যার সাথে জড়িত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন।
ঐতিহাসিক বর্ণনাগুলোর ভিত্তিতে জানা যায়, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমান হত্যার সময় মোজাফফর সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পর ওই কক্ষে নথিপত্র তল্লাশি এবং মরদেহ সরানোর কাজে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তার গ্রেপ্তারের পর অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর খোঁজার কাজ শুরু হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল, তা জানার জন্য অনুসন্ধান চলছে। ডিজিটাল এভিডেন্সের খোঁজও চলছে। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসসহ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে নতুন তথ্য পাওয়ার দাবি করেছেন বিশেষ প্রসিকিউটর।
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তের দায়িত্বে থাকা বিশেষ প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন, "জিয়াউর রহমানের মৃত্যুটা নিয়ে কিন্তু এখনো অনেক রহস্য রয়েছে। সে রহস্য উন্মোচনের ক্ষেত্রে মোজাফফর আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। কারণ, তার সঙ্গে দেশের ভেতর এবং দেশের বাইরের বেশ কিছু লোকের যোগাযোগ আমরা পেয়েছি। তারা আসলে কেউ রাষ্ট্রীয় কোনো ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, কেনইবা এতদিন পর মোজাফফরের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেছেন এবং কীভাবে মোজাফফর বাংলাদেশে প্রবেশ করল, কোন কারণে তিনি প্রবেশ করেছেন, কার পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি থেকেছেন, কার ছত্রচ্ছায়ায় তিনি ব্যাংকে বিভিন্ন লেনদেন করেছেন সবকিছুই আমরা তদন্তের আওতায় আনছি।"
জিয়াউর রহমান খুন হওয়ার পর সেনানিবাসে ফিরে আসা কর্মকর্তাদের মধ্যে দৃশ্যমান উচ্ছ্বাস ছিল। সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ছিলেন মেজর জেনারেল মঞ্জুর। গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে পুলিশ হেফাজত থেকে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কে দিয়েছিল, সেই প্রশ্নেরও উত্তর খোঁজা হচ্ছে।
বিশেষ প্রসিকিউটর বলেন, "কেন তৎকালীন প্রশাসক তাকে সেনা হেফাজতে নিয়েছিলেন, কোন আইনের বলে যেহেতু এটা একটি সিভিল হত্যাকাণ্ড, সিভিল এলাকায় মৃত্যু সংঘটিত হয়েছে পুলিশের হেফাজতে থাকা একজন সেনা কর্মকর্তাকে কারা নিয়ে গেল এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যুর খবর সেখানে কীভাবে নিশ্চিত করা হলো, তার পোস্টমর্টেম কে করেছিলেন এবং সেখানে যে গুলি করা হয়েছিল, সেই তথ্য থাকলেও কমিশন তা নির্ণয় করতে পারেনি। আসলে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে কে গুলি করেছিল এবং মঞ্জুর কীভাবে নিহত হয়েছিলেন, সে বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত।"
তিনি আরও বলেন, "তবে আশা করি, সেই সময়কার জীবিত যেসব সেনা কর্মকর্তা রয়েছেন অথবা তার ইমিডিয়েট জুনিয়ররা যারা রয়েছেন, সেই সঙ্গে গোয়েন্দা ও অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে রিপোর্টগুলো রয়েছে সবকিছুর সমন্বয়ে আমরা হয়তো এই মৃত্যুর কারণ কী ছিল, তা বের করতে পারব। এই ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তারা কী চেয়েছিল, সেটিও তদন্ত করা হবে।"
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রেসিডেন্টের পক্ষে একটি সিক্রেট পেপার তারা খোঁজার চেষ্টা করেছিল, এ মর্মে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সেই সিক্রেট পেপারটি আসলে কী এবং তাকে হত্যা করার পর সে বিষয়টি নিয়ে কেন তাদের এত আগ্রহ ছিল, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে লেফটেন্যান্ট মোসলেহ উদ্দিন, মেজর ফজলুল হক, ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ মো. মুনির এবং ক্যাপ্টেন মো. ইলিয়াসের সম্পৃক্ততাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রংপুর নগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনা পুলিশ দ্বারা সুপরিকল্পিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামির কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে তাদের মধ্যে ৮০ বার ফোনালাপ হয়েছে। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের আগের ১২ ঘণ্টায় ৩০ বার ফোনে কথা হয়েছে তাদের।
সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ডিবি কর্মকর্তা জানান, গত ২২ আগস্ট রাত ৮টা থেকে পূর্ববর্তী ৮০ ঘণ্টার সিডিআর বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের মধ্যে মোট ৮০ বার ফোনালাপ হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের আগের ১২ ঘণ্টায় সিদ্ধার্থ তার দুটি নম্বর থেকে মুগ্ধর একটি নম্বরে ৩০ বার কল করেছেন।
পুলিশের তথ্যমতে, এসব কলের সবগুলোই সিদ্ধার্থের দিক থেকে করা হয়েছিল এবং অধিকাংশ কল ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত। কিছু কলের স্থায়িত্ব ছিল ১৩, ১৫ ও ১৭ সেকেন্ড। সর্বাধিক একটি কলের স্থায়িত্ব ছিল ৯৬ সেকেন্ড।
কলের ধরন, সময় ও পুনরাবৃত্তি বিশ্লেষণ করে পুলিশ মনে করছে যে, ঘটনাটি আকস্মিক নয় এবং এর পেছনে পূর্বপরিকল্পনা থাকতে পারে। তবে তদন্তের স্বার্থে আসামিদের সঙ্গে বাইরের অন্য কোনো ব্যক্তির ফোনালাপের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হয়নি পুলিশ। এখন পর্যন্ত ঘটনার সঙ্গে কেবল সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
চার খুনের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানিয়েছিল, ইয়াবা সেবনের উদ্দেশ্যে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে উঠেছিলেন আসামিরা। গৃহকর্তা তাদের দেখে বাধা দিলে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ আরও জানিয়েছিল, ঘটনার আগে ও পরে আসামিরা মোট নয়টি ইয়াবা সেবন করেছিলেন।
তবে আদালতের নির্দেশে রোববার (৩০ আগস্ট) রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধর প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করা পরীক্ষায় তাদের শরীরে কোনো মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে জানান ডিবি কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্রাব পরীক্ষায় সাধারণত ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব। আসামিদের গ্রেপ্তারের নয় দিন পর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করায় মাদকের উপস্থিতি ধরা না পড়তে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।
এদিকে, চার খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল পুলিশ। তবে আসামিরা ইতোমধ্যে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ায় এবং নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করে আদালত তিন দিনের পরিবর্তে দুই দিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে। রংপুরের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পর নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে নগরীর কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। পরে মামলাটি কোতোয়ালি থানা থেকে মহানগর ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছেন ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী।
সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তারের পর তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে কল রেকর্ড ও মাদক পরীক্ষার নতুন তথ্য সামনে আসায় চার হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পেছনে আরও কোনো পরিকল্পনা বা সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্তে নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের সহজ শর্তের ঋণ অনুমোদন করেছে, যা পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়াতে ব্যবহৃত হবে।
এই প্রকল্পের আওতায় খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের ২৬টি দুর্গম উপজেলায় বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করা হবে। এতে অন্তত ৮৮ হাজার নতুন পরিবার বিদ্যুতের আওতায় আসবে, যার মধ্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৩৫ হাজার পরিবার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ‘সাসটেইনেবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কমিউনিটি এমপাওয়ারমেন্ট ইন দ্য চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস’ প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সুবিধা সম্প্রসারণের পাশাপাশি মানুষের জীবিকা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, জরুরি সেবার উন্নয়ন এবং দেশের অন্যতম দুর্গম এ অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন জোরদার করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় ৮০ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার সক্ষমতার ছয়টি ৩৩/১১ কিলোভোল্ট উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। কম বিদ্যুৎ অপচয়কারী কন্ডাক্টর ব্যবহার করে ৫ হাজার ৩২ কিলোমিটার নতুন বিতরণ লাইন নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে পুরোনো ১ হাজার ৮৭৪ কিলোমিটার বিতরণ লাইন, চারটি উপকেন্দ্র, একটি সুইচিং স্টেশন ও একটি আঞ্চলিক মেরামত কর্মশালা আধুনিকায়ন করা হবে।
এডিবি’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এসব উন্নয়নের ফলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় কারিগরি ক্ষতি ও পরিচালন ব্যয় কমবে এবং গ্রিডের দক্ষতা বাড়বে। প্রতিবছর অন্তত ১৯ হাজার ৩০০ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন এড়ানো সম্ভব হবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় বিদ্যুৎব্যবস্থার সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।
বাংলাদেশে এডিবি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেং ঝ্যাং মন্তব্য করেছেন, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ কর্মসংস্থান, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কমিউনিটির দুর্যোগ সহনশীলতা বৃদ্ধির জন্য একটি শক্তিশালী চালিকাশক্তি।
তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকার মানুষ আরও নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সুবিধা পাবে। একই সঙ্গে জীবিকার সুযোগ বৃদ্ধি, নারীর অংশগ্রহণ সম্প্রসারিত হবে এবং আরও দুর্যোগ সহনশীল ও কম কার্বননির্ভর ভবিষ্যতের দিকে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রায় ১৮ লাখ ৪০ হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে, যার অর্ধেকের বেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। দেশে বিদ্যুতায়নের হার ৯৯ শতাংশ হলেও এ অঞ্চলে গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুতের আওতা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। বর্তমানে খাগড়াছড়িতে গ্রিড বিদ্যুতের আওতায় রয়েছে ৪৯ শতাংশ মানুষ, রাঙামাটিতে ৪৩ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৪১ শতাংশ।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ২০৩২ সালের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুতের আওতা ৬৮ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভবিষ্যতে সৌরবিদ্যুৎ ও ক্ষুদ্র জলবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের জন্য গ্রিডকে প্রস্তুত করা হবে। সামাজিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে প্রকল্পের আওতায় অন্তত ৩০টি সৌরবিদ্যুৎ চালিত নিরাপদ পানির ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। কমিউনিটি সংগঠনগুলোর মাধ্যমে এসব ব্যবস্থা পরিচালিত হবে এবং নেতৃত্বের পদে অন্তত ৩০ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের ব্যবহৃত অন্তত ২০টি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্কুল, হাসপাতাল, মন্দির ও ক্লিনিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আয়ের সুযোগ বাড়াতে প্রকল্পের আওতায় অন্তত এক হাজার মানুষকে জীবিকা উন্নয়নবিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ২০০ জনের বেশি উদ্যোক্তাকে ব্যবসা বিকাশে সহায়তা করা হবে।
এ ছাড়া ৩০০ শিক্ষার্থীকে জ্বালানি খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ ও দুর্যোগ সহনশীল জ্বালানি ব্যবস্থা বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।
সেবার মানোন্নয়নে তিনটি গ্রাহক অভিযোগ কেন্দ্র ও ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাসহ তিনটি শিশুযত্নকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। গ্রাহকসেবা, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, সুরক্ষাব্যবস্থা এবং দুর্যোগ সহনশীল প্রযুক্তি বিষয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
এডিবি’র ঋণের পাশাপাশি প্রকল্পটির জন্য জাপান সরকারের অর্থায়নে এডিবি’র মাধ্যমে পরিচালিত ‘জাপান ফান্ড ফর প্রসপারাস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক’ থেকে ২৭ লাখ ২০ হাজার ডলারের অনুদান দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সরকার প্রকল্পে ৩ কোটি ৬৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার দেবে। প্রকল্পের নির্বাহী ও বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ৪ কোটি ৫৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার দেবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।
সোমবার (১সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা ও পৌর বিএনপি'র উদ্যোগে এক বিশাল র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য মো. শরীফুল আলমের নেতৃত্বে উপজেলা ও পৌর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামের সামনে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত র্যালিতে জেলা বিএনপি'র সাবেক সহ-সভাপতি এডভোকেট মশিউর রহমান, উপজেলা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান, পৌর বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. শাহাদাৎ হোসেন শাহ্ আলম, উপজেলা বিএনপি'র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মুহাম্মদ শাহ্ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফারুকুল ইসলাম ফারুক, মো রফিকুল ইসলাম আলী, পৌর বিএনপি'র সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল লতিফ মিয়া, হায়দার এ আলম, উপজেলা বিএনপি'র প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মো. কামরুল ইসলাম মুছা, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আজাহার উদ্দিন লিটন, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ রানা, সদস্য সচিব মো. মোখলেসুর রহমান মঞ্জু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক এম.এ সালাম সুমন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শামীম রেজা সহ উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন থেকে আগত শতশত নেতাকর্মীরা দলীয় পতাকা, ব্যানার ও শ্লোগানসহ মিছিলে অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ