১০:১৭ পি.এম
শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দি ফাঁড়িতে চুরির অভিযোগের ভিত্তিতে ফাড়ির ইনচার্জ এর নির্দেশে সাব ইন্সপেক্টর মোঃ মাহমুদুল হাসানের কার্যক্রমের ফলে শৌলপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান থেকে চোরচক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে শরীয়তপুর সদর উপজেলার শৌলপাড়া ইউনিয়নের গয়ঘর এলাকার খলিফা কান্দিতে মৃত নূর হোসেন শেখের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, নূর হোসেন শেখের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী জয়গুন নেসা একা বাড়িতে বসবাস করেন, কারণ তার পুত্র সন্তানেরা জীবিকার কারণে ঢাকায় অবস্থান করছেন। গত ২২ আগস্ট, জয়গুন নেসা (৬০) বাড়িতে না থাকার সুযোগে চোরচক্রের পাঁচ সদস্য শিবলু খান (৫০), সাগর (৩০), সুমন (৩২), আতাহার (৪৫) এবং রুবেল (৪২) গভীর রাতে বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা ঘরের আলমারি ভেঙে গলার হার, চেইন, কানের দুল এবং আংটি সহ আট ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ৯০ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। চুরির ঘটনা জানার পর, ২৩ আগস্ট জয়গুন নেসা তার পুত্রদের সাথে আলোচনা করে চিকন্দি ফাঁড়িতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে, চিকন্দি ফাঁড়ির সাব ইন্সপেক্টর মোঃ মাহমুদুল হাসান তার দলের সাথে অভিযান চালিয়ে শৌলপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান থেকে চোরচক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। গ্রেফতারকৃত চোরের সদস্যরা শৌলপাড়া ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা।
চিকন্দি ফাড়ির সাব ইন্সপেক্টর মোঃ মাহমুদুল হাসান গণমাধ্যমকে জানান, "জয়গুন নেসা নামে এক নারী আমাদের চিকন্দি পুলিশ ফাঁড়িতে এসে চুরির একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করার জন্য সরজমিনে যাই।" তিনি আরও বলেন, "জয়গুন নেসার পুত্র মিজান শেখের তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে একটি সূত্র ধরে আমাদের কৌশল অবলম্বন করে চোরের মূল হোতা সহ ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই।" আতাহারের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন যে, চুরি করা টাকা ভাগ বাটোয়ারা করা হয়েছে এবং আড়াই ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের হার শিবলু খানের কাছে এক লক্ষ ৭৮ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, "আইনে বলা আছে চুরি যাওয়া মালামাল যে ক্রয় করবে, বাংলাদেশ পেনাল কোড ৪৪১ ধারায় সাত বছর কারাদণ্ড হতে পারে।" এই কারণে শিবলু খানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত চোরের পাঁচ সদস্যকে চিকন্দি ফাঁড়ি থেকে পালং মডেল থানায় পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শোলপাড়া ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা শিবলু খান দীর্ঘদিন ধরে চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত রয়েছেন। এছাড়াও, শিবলু খানের একটি রাতের অন্ধকারের বাহিনী রয়েছে, যারা তাদের চুরি করা মালামাল অল্প দামে শিবলু খানের কাছে বিক্রি করে।
আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি
পালং মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ আলম বলেন, "চুরির অভিযোগের ভিত্তিতে চিকন্দি ফাঁড়ির পুলিশ চুরির ঘটনার সাথে যারা প্রকৃত জড়িত ছিল তাদেরকেই গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।" তিনি জানান, "চলমান নিয়মিত আইনে মামলা হয়েছে। আসামিদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন