০৩:১১ পি.এম
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সাংস্কৃতিক সংগঠন অংকুরের ২০২৬-২৭ মেয়াদের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক কর্মীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অংকুর নিজেদের অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে দাবি করে, কিন্তু এই অন্তর্ভুক্তি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি করে। সমালোচনার পর সংগঠনটি কমিটিটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। একই সাথে, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ভুল হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে অংকুর।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) অংকুরের ২০২৬-২৭ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রান্ত সাহা প্রহরকে। তিনি ২০১৯ সালে ছাত্রলীগের বাকৃবি শাখার কমিটিতে উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
কমিটি ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, অংকুর যেখানে নিজেদের অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে দাবি করে, সেখানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন কীভাবে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হলেন। এছাড়া, তার রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের অজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
আরও পড়ুন: এনসিপির আহ্বায়ক হলেন নাহিদ, সদস্যসচিব আখতার
এরপর বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) অংকুরের পক্ষ থেকে কমিটিটি স্থগিত করা হয়। পরদিন শুক্রবার (২ অক্টোবর) সংগঠনটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ভুল হয়েছে।
স্থগিত কমিটির সভাপতি, প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও এগ্রোফরেস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী কামরুল ইসলাম জানান, অংকুরের সঙ্গে তার আগে কোনো সম্পর্ক ছিল না। সংগঠনটির কয়েকজন সদস্য তার কাছে এসে অংকুরের কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার জন্য সহযোগিতা চান। তিনি তাদের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।
অধ্যাপক কাজী কামরুল ইসলাম বলেন, "আমি আসলে এ ব্যাপারে কিছুই জানতাম না। আমি ছাত্রজীবন থেকে এখন পর্যন্ত কখনো অংকুরের সঙ্গে জড়িতও ছিলাম না।" তিনি জানান, সংগঠনের সদস্যরা তার কাছে একদিন তার জুনিয়র শিক্ষক অনিরুদ্ধকে নিয়ে আসেন এবং বলেন, "ফ্যাসিবাদের সময়ের পর থেকে অংকুরের কার্যক্রম একদম হারিয়ে গেছে, আমরা এই সংগঠনটিকে বাঁচাতে চাই।" তিনি তাদের সাহায্য করতে রাজি হন এবং বলেন, "তাদের যেকোনো সহযোগিতা আমি করব।"
তিনি আরও বলেন, "আমি তাদের বলেছিলাম, বিতর্কিত কাউকে কমিটিতে নেওয়া যাবে না। সম্ভবত যে শিক্ষকরা কমিটিটি করেছেন, তারা ওই ছেলের ব্যাপারে কিছু জানতেন না। সে ছেলেও নিজের সেই পরিচয় গোপন করেছে। আসলে এখানে তাদের একটু ভুল হয়ে গেছে।"
আরও পড়ুন: জাতীয় নাগরিক পার্টির ১৯৫ সদস্যের পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা
কমিটি স্থগিতের বিষয়ে তিনি বলেন, "আমি গতকাল ঐ ছেলের বিষয়টি দেখা মাত্রই কল দিয়ে বললাম, এই কমিটি এখানেই স্থগিত করো এবং ওই ছেলেকে এক্ষুনি বের করো।" তিনি সঙ্গে সঙ্গে একটি বিবৃতি দিতে বলেন এবং পরবর্তীতে কমিটি করার সময় একদম ফ্রেশ ক্যান্ডিডেট নিয়ে কমিটি করার জন্য নির্দেশ দেন। সর্বোপরি, এটি তাদের একটি ভুল হয়ে গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন