মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৩১ পি.এম
নব্বইয়ের দশকের হিন্দি গানের সোনালি সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় দুই কণ্ঠ, কুমার শানু এবং উদিত নারায়ণ। দীর্ঘ ২১ বছরের বিরতি ভেঙে আবারও সিনেমার গানে একসঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন এই দুই সংগীতশিল্পী। সানি দেওলের আসন্ন ক্রাইম থ্রিলার ‘সুরিয়া: অন্ত সে আরম্ভ তাক’ সিনেমার ‘সুনিয়ো জারা’ গানে শোনা যাবে তাদের কণ্ঠ।
সংবাদমাধ্যম ভ্যারাইটি ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বন্ধুত্বের আবহে তৈরি হয়েছে গানটি। পর্দায় এতে সানি দেওল ও রবি কিষানকে দেখা যাবে। শানু ও উদিতের সঙ্গে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন অনুপম আমোদ। জি মিউজিক কোম্পানির ব্যানারে আজ গানটি প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।
শানু ও উদিতকে সর্বশেষ একসঙ্গে প্লেব্যাকে শোনা গিয়েছিল ২০০৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘নো এন্ট্রি’ সিনেমার ‘কাহা হো তুম’ গানে। সেই হিসাবে দীর্ঘ ২১ বছর পর আবারও সিনেমার গানে এক হল তাদের কণ্ঠ। এর আগে এই জুটি শ্রোতাদের উপহার দিয়েছেন ‘তেরি মেরি দোস্তি’, ‘বেপারওয়া বহুত দিন ঘুমে’, ‘ছোটে ছোটে ভাইয়ো কে বড়ে ভাইয়া’ এবং ‘হাম সাথ-সাথ হ্যায়’-এর মতো জনপ্রিয় গান।
তবে ভক্তদের জন্য চমক সিনেমার গানেই সীমাবদ্ধ নয়। চলতি মাসে একটি অডিও গানেও একসঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন এই দুই শিল্পী। ‘তেরা মেরা ইয়ারানা’ শিরোনামের গানটিতে উঠে এসেছে তাদের বন্ধুত্বের গল্প। সঞ্জীব চতুর্বেদীর কথা ও সুরে গানটি গত ১৫ অক্টোবর ইউটিউবে প্রকাশিত হয়েছে।
এদিকে, যে সিনেমার গান দিয়ে প্লেব্যাকে ফিরেছেন শানু ও উদিত, সেই ‘সুরিয়া’ নিয়েও চলছে আলোচনা-সমালোচনা। সিনেমাটিতে চিকিৎসাব্যবস্থার অনিয়ম এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের দুর্নীতির বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এতে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা সূর্য প্রতাপ সিংয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন সানি দেওল। ভুল চিকিৎসায় মেয়েকে হারানোর বেদনা বয়ে বেড়ানো এই চরিত্রটি চিকিৎসাব্যবস্থার দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামে।
তবে পর্দায় চিকিৎসকদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর সহিংসতার দৃশ্য নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন। সেই আপত্তি ও বিতর্কের মধ্যেই আগামী ২০ নভেম্বর সিনেমাটি মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন নির্মাতারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে চলন্ত অবস্থায় আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল প্রায় আধা ঘণ্টা বন্ধ হয়ে যায়।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনটি গফরগাঁও স্টেশনে যাত্রাবিরতি করে ময়মনসিংহের দিকে যাওয়ার সময় উপজেলার মাইজহটি বটতলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে সোয়া ১১টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দেওয়ানগঞ্জগামী আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনটি গফরগাঁও স্টেশনে যাত্রাবিরতি করার পর মাইজহাটি বটতলা এলাকায় পৌঁছালে ট্রেনের ‘থ’ বগির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর প্রায় আধাঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ট্রেনে থাকা সংশ্লিষ্টরা বিচ্ছিন্ন হওয়া সংযোগ পুনরায় স্থাপন করতে সক্ষম হন, ফলে ট্রেনের চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ওসি আকতার হোসেন বলেন, ‘সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টি টের পেয়ে চালক ট্রেনটি থামিয়ে দেয় এবং পেছনে নিয়ে যায়। পরে ট্রেনের লোকোমাস্টার, পরিচালক ও রেল কর্মীদের প্রচেষ্টায় সোয়া ১১টার দিকে ট্রেনের বিচ্ছিন্ন দুই বগি পুনরায় সংযুক্ত করে ট্রেনটি ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ২০ লাখ ৪৯ হাজার টাকার মালামাল লুটের ঘটনায় দায়ের করা ডাকাতি মামলার তদন্তে প্রাপ্ত সন্দিগ্ধ আসামি মোঃ ইয়াসিন খানকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৮, সিপিএসসি, বরিশাল। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সরদার এবং তাঁর বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) রাতে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানাধীন বুদাইবাড়ী সেতু এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ইয়াসিন খান মঠবাড়িয়া উপজেলার তুষখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম মৃত হাফেজ খান ওরফে সোমেদ খান।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার তুষখালী ইউনিয়নের জানখালী বাজারে মোঃ শাহিন হাওলাদার (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মুদি দোকান ও বিকাশ-ফ্লেক্সিলোডের ব্যবসা রয়েছে। গত ১৬ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিট থেকে ৩টা ২০ মিনিটের মধ্যে ৮ থেকে ৯ জনের একটি অজ্ঞাতনামা সশস্ত্র দল তাঁর বসতবাড়ি এবং তাঁর ভাই মোঃ সোহেল হাওলাদারের টিনশেড ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, দলটির সদস্যরা পরিবারের লোকজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁদের হাত-পা ও চোখ বেঁধে ফেলেন। পরে লোহার রড দিয়ে মারধর করে আলমারি ও বক্স ভেঙে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা এবং স্মার্টফোনসহ মোট ২০ লাখ ৪৯ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ শাহিন হাওলাদার বাদী হয়ে মঠবাড়িয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে মামলাটি থানায় ১৪ নম্বর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
এসআরবি-৮ সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পলাতক সন্দিগ্ধ আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য এসআরবি-৮, বরিশালের অধিনায়ক বরাবর অধিযাচনপত্র পাঠান। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-৮, সিপিএসসি, বরিশালের একটি আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে ইয়াসিন খানকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আইনি অবস্থান: গ্রেপ্তার হওয়া মানেই কোনো ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হওয়া নয়। অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বড়গাং নদীতে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। নদীর তীর ঘেঁষে অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলনের ফলে পার্শ্ববর্তী রূপচেং ও গুয়াবাড়ি গ্রামের ফসলি জমি এবং বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘ দিন ধরে বড়গাং নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করে আসছে। এমনকি নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও তীরের নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করে পার কেটে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদী ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি আশপাশের কৃষিজমি ও বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। নদী থেকে বালু পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত প্রতিটি নৌকা থেকে ২ হাজার টাকা হারে অর্থ আদায় করছে ঐ সিন্ডিকেট। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় বালু উত্তোলন ও অর্থ আদায়ের কার্যক্রম চলায় সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতেও ভয় পাচ্ছেন। আরও অভিযোগ উঠেছে, বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা স্থানীয়দের কাছে প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেই এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে দাবি করছেন। এব্যাপারে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুনন্দা রায় এর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন কারা প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করছে তাদের তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন কেউ লিখিত ভাবে অভিযোগ দিলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রূপচেং ও গুয়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দারা জানান, নদীর তীরের কাছা কাছি থেকে এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। নদী ভাঙনে তাদের আবাদি জমির পাশাপাশি বসতভিটাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় বড়গাং নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীর পার রক্ষা এবং কথিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ তদন্তে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে বালু উত্তোলনের সঙ্গে কারা জড়িত, কী ভাবে নৌকা প্রতি অর্থ আদায় করা হচ্ছে এবং প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করার যে দাবি করা হচ্ছে এসব বিষয় নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা। রূপচেং ও গুয়াবাড়ি গ্রাম সংলগ্ন বড়গাং নদীর পারে রুপা মিয়া নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে প্রতিদিন বালুর নৌকা থেকে কমপক্ষে ২/৩ লক্ষ টাকা আদায় করা হচ্ছে। রূপচেং গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জলিল এ ঘটনায় জৈন্তাপুর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করলে ২৬ অক্টোবর সোমবার বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়।
এব্যাপারে জৈন্তাপুর মডেল থানার এসআই শওকত মাসুদ ভূইয়া বলেন আমরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর চাঁদাবাজরা পালিয়ে যায়। নদীর পার কেটে বালু উত্তোলনের বিষয়টি সঠিক বলে তিনি আরও বলেন, এখানে কেউ বলছে জায়গাগুলো মালিকানা আবার কেউ বলছে সরকারি। ফলে এবিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি। অভিযোগকারী আব্দুল জলিল ও আলমের সাথে আলাপকালে তারা জানায়, নদীর পার কেটে যে জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করা হয় সেই জায়গার মূল মালিক আমাদের দাদা কালা রাজা মজুমদার। উত্তরাধিকার সূত্রে রুপা মিয়া ইতোপূর্বে বালু ব্যবসায়ীদের কাছে একটি অংশ ৫৩ লক্ষ টাকা দিয়ে সাব লিজ দিয়েছেন এবং বাকি অংশ থেকে তিনি ও তার বাহিনী নৌকা প্রতি ২ হাজার টাকা হারে আদায় করছেন। এখানে থেকে বালু বিক্রি যদি বৈধ হয় তবে আমরা কালা রাজা মজুমদার এর উত্তরাধিকার হিসেবে কেনো হিস্যা বঞ্চিত। আর যদি বালু উত্তোলন অবৈধ হয় তবে প্রশাসন কেনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ধামরাই: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ধামরাই উপজেলার রোয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বিএনপির প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আলিমকে ঘিরে। তবে নির্বাচনী প্রস্তুতির পাশাপাশি তাঁর ও তাঁর ছেলেদের বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা একাধিক অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভূমি দখলসংক্রান্ত অভিযোগ, চাঁদা দাবির অভিযোগ, মারধর, ভাঙচুর, মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এবং এক পীরের বাড়িতে হামলা ও গবাদিপশু নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ—সব মিলিয়ে তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে উঠছে নানা প্রশ্ন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে কেন্দ্র করে কিছু বিরোধের ক্ষেত্রে তাঁরা ন্যায়বিচার ও কার্যকর প্রতিকার পাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা, সংশ্লিষ্ট ঘটনায় আইনগত অগ্রগতি এবং আবদুল আলিমের বর্তমান নির্বাচনী অবস্থান স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্যও জানা জরুরি।
অতীতের অভিযোগ, বর্তমানের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা
স্থানীয় সরকারে জনপ্রতিনিধি হওয়ার আকাঙ্ক্ষা একজন রাজনৈতিক নেতার গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগগুলোর স্বচ্ছ ব্যাখ্যা থাকা জনস্বার্থের বিষয়। কারণ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বের সঙ্গে সাধারণ মানুষের অধিকার, জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধ, সামাজিক নিরাপত্তা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন জড়িত।
আবদুল আলিমের বিরুদ্ধে ভূমি দখল ও চাঁদা দাবিসহ বিভিন্ন অভিযোগের কথা স্থানীয় পর্যায়ে আলোচিত হলেও এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট মামলা, সরকারি নথি, ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই করে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা প্রয়োজন। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী ঘোষণা করা যায় না; তবে অভিযোগগুলো গুরুতর হলে সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
ছেলেদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও সংঘর্ষের অভিযোগ
এর আগে সাভার পৌরসভার জ্বালেশ্বর এলাকায় খ্রিষ্টান কলেজসংলগ্ন প্রয়াত দুলালের বাড়িতে সাব্বির মাহমুদ, আবদুল বারেক তুষারসহ কয়েকজনের ইয়াবা সেবনের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, তাঁরা কয়েকজনকে আটক করে সাভার মডেল থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে গণমাধ্যমকর্মীরাও ঘটনাস্থলে যান।
অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশ পৌঁছানোর আগেই সাব্বিরের বাবা আবদুল আলিম লোকজন নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। এরপর স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটে এবং আটক ব্যক্তিদের সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। ওই সংঘর্ষে আবদুল আলিমের কান কেটে যাওয়ার এবং পরে সেলাই দেওয়ার তথ্যও স্থানীয় সূত্রে উঠে এসেছে।
তবে মাদক সেবনের অভিযোগ, সংঘর্ষের প্রকৃত পরিস্থিতি এবং কারা প্রথম হামলা চালিয়েছিলেন—এসব বিষয়ে পুলিশের নথি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
পীরের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও খাসি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ
এ ঘটনার পরদিন ধামরাইয়ের রোয়াইল ইউনিয়নের চরসঙ্গুর গ্রামে পীর শাহ শামসুদ্দিনের বাড়িতে হামলা, সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর, কেয়ারটেকারকে মারধর এবং দুটি খাসি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে আবদুল আলিমের দুই ছেলে সাব্বির মাহমুদ ও আবদুল বারেক তুষারের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী শাহ শামসুদ্দিনের অভিযোগ, অভিযুক্তরা বাড়ির দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং তাঁর বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরা ভাঙচুর করেন। এ সময় কেয়ারটেকার মাসুদকে মারধর করে আহত করা হয়। পাশাপাশি আনুমানিক ৩০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি খাসি নিয়ে যাওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেন।
শাহ শামসুদ্দিন আরও জানান, গত ৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখ সকাল ১১টার দিকে তিনি এ ঘটনায় ধামরাই থানায় অভিযোগ দিতে যান। তাঁর দাবি, অভিযোগ দেওয়ার পরও মামলা গ্রহণ করা হয়নি। তবে অভিযোগটি থানায় কীভাবে নথিভুক্ত হয়েছে, তদন্ত হয়েছে কি না এবং মামলা গ্রহণ না করার কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ রয়েছে কি না—তা সংশ্লিষ্ট পুলিশের বক্তব্য ছাড়া নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ
আবদুল আলিমের বিরুদ্ধে ইসহাক আলী নামের এক ব্যক্তির কাছে দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধরের অভিযোগও রয়েছে। তবে এ বিষয়ে অভিযোগের কপি, ঘটনার তারিখ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং পুলিশের পদক্ষেপ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব তথ্য যাচাই হলে অভিযোগটির প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হবে।
বিচার ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু ঘটনার পর তাঁরা প্রত্যাশিত প্রতিকার পাননি। এ ধরনের অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয় নয়; বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নাগরিক অধিকার এবং স্থানীয় পর্যায়ে জবাবদিহির প্রশ্নও সামনে আনে।
তবে কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে বিচারব্যবস্থা বা পুলিশকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে অভিযোগের নথি, তদন্তের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ যথাযথভাবে গ্রহণ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
চেয়ারম্যান প্রার্থী হলে প্রশ্নগুলোর জবাব দেবেন কে?
রোয়াইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে আবদুল আলিম প্রার্থী হতে চাইলে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগগুলোর বিষয়ে জনসমক্ষে স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়া এবং প্রাসঙ্গিক নথি দিয়ে অভিযোগগুলোর ব্যাখ্যা করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভূমি দখল, চাঁদা দাবি, তাঁর ছেলেদের বিরুদ্ধে ওঠা হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ এবং থানায় অভিযোগের পরবর্তী অগ্রগতি—এসব প্রশ্নের উত্তর জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
রাজনৈতিক পরিচয় কাউকে অপরাধী প্রমাণ করে না, আবার রাজনৈতিক পরিচয় কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত থেকেও অব্যাহতি দেওয়ার কারণ হতে পারে না। জনপ্রতিনিধি হওয়ার প্রত্যাশী প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং জবাবদিহি সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ