জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি
০২:৫৫ পি.এম
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ৩৪৫ পিস ইয়াবা ও ১০ গ্রাম হেরোইনসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে তুষার মণ্ডলের বসতবাড়ি থেকে ৩৪৫ পিস ইয়াবা ও ১০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। এ সময় তুষার মণ্ডল (২৩) ও নুর মোহাম্মদ শেখ (৩৭) নামে দুইজনকে আটক করা হয়।
আটক তুষার মণ্ডল গোবিন্দপুর গ্রামের জহেদ আলী মণ্ডলের ছেলে এবং নুর মোহাম্মদ শেখ বালিয়াকান্দি উপজেলার রায়পুর গ্রামের সিরাজ শেখের ছেলে।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তুষার মণ্ডলের বিরুদ্ধে বালিয়াকান্দি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ীর পাংশায় পাওনা টাকা আনতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে কাতার প্রবাসী আবদুর রহিম মোল্লা (৩০) হত্যার ঘটনায় সাদ্দাম হোসেন মিয়া (৩৬) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার অপর তিনজনকে বেকসুর খালাস করা হয়েছে।
নিহত আবদুর রহিম পাংশা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল মান্নান মোল্লার ছেলে। দণ্ডপ্রাপ্ত সাদ্দাম হোসেন মিয়া পাংশা পৌরসভার নারায়নপুর গ্রামের শহিদ মিয়ার সন্তান। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ মো. আনিসুর রহমান এ রায় প্রদান করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আবদুর রহিমের ভাই আব্দুর রহমানকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন সাদ্দাম মিয়া, পলাশ মন্ডল, রাশেদ মন্ডল ও শরীফ মুন্সী। ২০১৬ সালের ৫ নভেম্বর টাকা ফেরতের জন্য পাংশা সরকারি কলেজ এলাকার চাচার ক্যান্টিনে রহিমকে ডেকে নেন তাঁরা। বিকেল ৫টার দিকে ক্যান্টিনের সামনে পৌঁছালে ছুরি দিয়ে রহিমের পেট ও ঊরুতে আঘাত করা হয়।
চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় রহিমকে প্রথমে পাংশা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর ভোরে তিনি মারা যান। নিহত আবদুর রহিমের স্ত্রী ময়না বেগম বাদী হয়ে পাংশা মডেল থানায় চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাড. আশরাফুল আলম আশা জানান, বিচারক রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন। একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও তিনজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট।
রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাড. আব্দুর রাজ্জাক (২) বলেন, সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আসামি সাদ্দাম হোসেন মিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অপর তিন আসামি পলাশ মন্ডল, রাশেদ মন্ডল ও শরীফ মুন্সীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। এ রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’-এর প্রাথমিক বাছাইপর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা ব্যাপক উৎসাহ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজনে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী তিন হাজারের বেশি ক্ষুদে ক্রীড়াবিদ ১০টি পৃথক ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে নিজেদের প্রতিভা ও ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছে।
বাছাইপর্বে অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীরা ক্রিকেট, ফুটবল, দাবা, কাবাডি, অ্যাথলেটিকস, কারাতে, সাঁতার, ব্যাডমিন্টন, ভলিবল ও টেবিল টেনিস—এই ১০টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা করে। বিপুলসংখ্যক শিশু-কিশোরের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিভিন্ন ইউনিয়নের ক্রীড়াপ্রাঙ্গণে প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’—এই মূলমন্ত্র সামনে রেখে আয়োজিত উদ্যোগটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো শিশু-কিশোরদের সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভার বিকাশ, তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের অন্বেষণ এবং খেলাধুলাকে ভবিষ্যৎ পেশা হিসেবে গ্রহণের পথ তৈরি করা।
আয়োজকদের মতে, যথাযথ প্রশিক্ষণ, সুষ্ঠু পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ পেলে তরুণ ক্রীড়াবিদরা আগামী দিনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবে।
বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি মাদক, কিশোর অপরাধ ও বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ক্রীড়াচর্চা তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, অধ্যবসায়, নেতৃত্ব, দলগত মানসিকতা ও প্রতিকূলতা মোকাবিলার শক্তি গড়ে তোলে। এই কারণে তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া সুযোগের প্রসারণকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন ক্রীড়ামোদিরা।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় তিন হাজারের অধিক শিশু-কিশোরের সরাসরি অংশগ্রহণ স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ ও সম্ভাবনার একটি ইতিবাচক প্রতিফলন। এ ধরনের নিয়মিত আয়োজনের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের চিহ্নিত করে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ তৈরি হলে তরুণদের কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরশীলতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে তরুণ ক্রীড়াবিদদের সাফল্য তাদের পরিবারকেও অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সাহায্য করবে। সেই বিবেচনায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’ কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং সুস্থ, দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলার একটি সম্ভাবনাময় প্রয়াস।
তৃণমূল থেকে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণের এই ধারা অব্যাহত থাকলে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ক্রীড়াঙ্গন আরও গতিশীল হবে এবং দেশের ভবিষ্যৎ ক্রীড়া অঙ্গনে নতুন নতুন তারকা উঠে আসার পথ সুগম হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের হিমালয় অঞ্চলে ভারী তুষারপাত এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আটজন ট্রেকার নিখোঁজ হয়ে গেছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তুষারপাত এবং দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আনাদোলু এজেন্সির একটি প্রতিবেদনে এই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
হিন্দি দৈনিক জাগরণের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উত্তরকাশী জেলার কেদারতালের কাছে প্রায় চার হাজার মিটার উচ্চতায় বরফের নিচে চাপা পড়া একটি তাঁবু উদ্ধারকারীরা খুঁজে পেয়েছেন। এ ছাড়া, আশপাশে পোশাক, স্যান্ডেল এবং খাদ্যসামগ্রীও পাওয়া গেছে।
দুই থেকে তিন কিলোমিটার ব্যাসার্ধজুড়ে অনুসন্ধান চালানো হলেও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান মেলেনি। পরবর্তীতে অব্যাহত তুষারপাতের কারণে দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যে নেমে আসায় উদ্ধার অভিযান স্থগিত করতে বাধ্য হন সংশ্লিষ্টরা।
প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ১০ সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল হেলিকপ্টারে করে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নিখোঁজদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা পাঁচজন ট্রেকার, উত্তর প্রদেশের দুই নারী এবং একজন স্থানীয় গাইড রয়েছেন।
তারা ২৭ অক্টোবর গঙ্গোত্রী থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন এবং ২৯ অক্টোবর তাঁদের ফিরে আসার কথা ছিল। এর আগে বরফধসে পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে শনিবার চারজনকে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে তিনজন পোর্টার এবং একজন বাবুর্চি ছিলেন।
উত্তরাখণ্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রেকিং রুটে একাধিক বরফধসের কারণে স্থলপথে অনুসন্ধান এবং হেলিকপ্টার পরিচালনা—দুই কাজই জটিল হয়ে পড়েছে।
অতিরিক্ত তুষারপাতের কারণে চার হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার সব হাই-অল্টিটিউড ট্রেকিং রুট বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। আবহাওয়ার উন্নতি হলে উদ্ধার অভিযান আবার শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গার্মেন্টস সেক্টরে শ্রমিকদের অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নৈরাজ্য ও সহিংসতার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে জেলা যুবদল।
মঙ্গলবার সকাল থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের পঞ্চবটি মোড়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের চাষাঢ়া, জেলা পরিষদ, শিবু মার্কেট, জালকুড়ি, ভূইগড় ও সাইনবোর্ড এলাকায় যুবদলের নেতাকর্মীরা সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেন।
যুবদলের নেতাকর্মীরা জানান, সকাল ৮টা থেকেই তারা বিভিন্ন সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নেন। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনকে কোনো কুচক্রী মহল যাতে উসকে দিয়ে সহিংসতা বা নৈরাজ্যের দিকে রূপ দিতে না পারে, সেই উদ্দেশ্যে তারা মাঠে রয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিসিক শিল্পাঞ্চলকে কেন্দ্র করে পঞ্চবটি ও মাসদাইর এলাকায় জেলা যুবদলের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন। এছাড়া জেলা পরিষদের সামনের সড়ক, শিবু মার্কেট, জালকুড়ি, ভূইগড় ও সাইনবোর্ড এলাকায়ও তাদের শক্তিশালী উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি বলেন, শ্রমিকদের বেতন পুনর্নির্ধারণের যে দাবি রয়েছে, সরকার মজুরি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে তা সমাধানের চেষ্টা করছে। কিন্তু কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শ্রমিকদের আন্দোলনকে সহিংস রূপ দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা যুবদলের নেতাকর্মীরা শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সংবেদনশীল। তবে কোনো পক্ষ যেন শ্রমিকদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না পারে, সেই জন্য আমরা মাঠে অবস্থান নিয়েছি। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ও সহিংসতার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ