ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চীনের ঝুঁকির মধ্যে ভারতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে জাপান


চীনের ঝুঁকির মধ্যে ভারতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে জাপান

জাপানের ব্যবসা ও বিনিয়োগের গতি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারতের বাজারে প্রবেশ করছে জাপানি বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি কোম্পানিগুলোও।

 

জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকিং, খুচরা ব্যবসা, গাড়ি, প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানির মতো বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াচ্ছে।

আরও পড়ুন: ফ্রান্সে দাঙ্গা ও লুটপাট, ম্যাক্রোঁর কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

এই প্রেক্ষাপটে, গত সপ্তাহে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল জাপান সফর করেন, যার লক্ষ্য দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করা। সফরের সময় তিনি ভারতের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। বর্তমানে এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে ভারতকে জাপানের ব্যবসায়ীদের কাছে একটি সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

জাপানের অভ্যন্তরীণ বাজারের আকার সংকুচিত হওয়ার ফলে দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য উৎসাহিত করছে।

ভারতের বড় শহরগুলোর বাজারে জাপানি পণ্যের উপস্থিতি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। মুম্বাই, দিল্লি এবং বেঙ্গালুরুর প্রধান সড়কে জাপানি ব্র্যান্ডের দোকানগুলো দেখা যাচ্ছে। পোশাকের ব্র্যান্ড ইউনিক্লো এবং মুজি, পাশাপাশি ক্রীড়া জুতার ব্র্যান্ড ওনিতসুকা টাইগার ইতিমধ্যে ভারতে ব্যবসা শুরু করেছে।

আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা

 

এই প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ভারতে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। শুধু বড় ব্র্যান্ডগুলোই নয়, জাপানের ছোট ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলোও ভারতের বাজারে প্রবেশ করছে।

জাপানের আসবাবপত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিতোরি সম্প্রতি ভারতে ব্যবসা শুরু করেছে। একইভাবে, জাপানের জনপ্রিয় সুবিধাজনক পণ্যের দোকানের চেইন লসনও ভারতে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। লসন ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে ১০ হাজার দোকান খোলার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে।

 

আরও পড়ুন: ধর্মীয় উৎসব শিশুদের নৈতিকতা ও আদর্শের শিক্ষা দেয়: ডেপুটি স্পিকার

মুম্বাই থেকে তাদের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ভারতে জাপানের আগ্রহ শুধু খুচরা ব্যবসায় সীমাবদ্ধ নয়। দেশটির ব্যাংকগুলোও ভারতের আর্থিক খাতে বড় বিনিয়োগ করছে। বিদেশি কিছু ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান যখন ভারতের ব্যাংকিং খাত থেকে বিনিয়োগ কমাচ্ছে, তখন জাপানের বড় ব্যাংকগুলো ভারতের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কিনতে প্রতিযোগিতা করছে।

জাপানের সবচেয়ে বড় ব্যাংক এমইউএফজি ব্যাংক গত বছর ভারতের ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান শ্রীরাম ফাইন্যান্সের ২০ শতাংশ শেয়ার কিনেছে। এই চুক্তির মূল্য ছিল ৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। ভারতের আর্থিক খাতে কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের এটিই ছিল সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। একই বছর জাপানের সুমিতোমো মিৎসুই ব্যাংকিং করপোরেশন ভারতের ইয়েস ব্যাংকের সবচেয়ে বড় শেয়ারধারী হয়ে ওঠে। ব্যাংকটির হাতে ইয়েস ব্যাংকের ২৪ দশমিক ২২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

ভারতে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতি পণ্য বিক্রি বা ব্যাংকিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গবেষণা, প্রযুক্তি এবং ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ কাজও এখন ভারত থেকে পরিচালনা করছে অনেক জাপানি প্রতিষ্ঠান। ডেলয়েটের সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতে ১০০টির বেশি জাপানি প্রতিষ্ঠান বৈশ্বিক সক্ষমতা কেন্দ্র পরিচালনা করছে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর এসব কেন্দ্র সাধারণত গবেষণা ও উন্নয়ন, ব্যবসার কৌশল, প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের দ্রুত বাড়তে থাকা বৈশ্বিক সক্ষমতা কেন্দ্রের খাতে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় ভূমিকা রয়েছে।

জাপানের প্রতিষ্ঠানগুলো ভারতে ব্যবসা বৃদ্ধির একটি প্রধান কারণ হলো দেশটির নিজস্ব বাজার। সুজুকি মোটর করপোরেশনের সহায়তায় পরিচালিত বিনিয়োগ তহবিল নেক্সট ভারত ভেঞ্চার্সের প্রতিষ্ঠাতা বিপুল নাথ জিন্দাল বিবিসিকে বলেন, "জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন প্রবৃদ্ধির জন্য ভারতের দিকে তাকাচ্ছে।" তার মতে, জাপানের জনসংখ্যা গত ১৬ থেকে ১৭ বছর ধরে কমছে। এর ফলে শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমছে না, দেশটির বাজারের আকারও ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে। এই কারণে জাপানি কোম্পানিগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসা বৃদ্ধির জন্য বিদেশি বাজারের ওপর বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: তালা ভেঙে বাসায় ঢুকে ৮ লাখ টাকা, ২ ভরি সোনা ও মূল্যবান সামগ্রী চুরি: ডেমরায় চাঞ্চল্য

সম্প্রতি সুজুকি মোটর করপোরেশন ভারতে ২০০ মিলিয়ন ডলারের একটি বিনিয়োগ তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চীন দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনে ব্যবসা করা আগের চেয়ে কঠিন হয়ে উঠেছে। জিন্দালের মতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের কারণে চীনে জাপানের বিনিয়োগ কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারও এখন আগের তুলনায় বেশি কঠিন। শুল্ক এবং স্থানীয় প্রতিযোগিতা সেখানে ব্যবসার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতি রয়েছে। কিন্তু এসব দেশের বাজার ভারতের তুলনায় ছোট।

এই পরিস্থিতিতে, বড় জনসংখ্যা ও দ্রুত বাড়তে থাকা অর্থনীতির কারণে ভারত জাপানি কোম্পানিগুলোর কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হয়ে উঠেছে। ভারত ও জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন নয়। প্রায় দেড় দশক আগে দুই দেশ বাণিজ্য উদারীকরণ নিয়ে একটি চুক্তি করে। এরপর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ককে ‘বিশেষ কৌশলগত ও বৈশ্বিক অংশীদারত্বে’ উন্নীত করা হয়। এরপর দুই দেশের সহযোগিতায় বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প শুরু হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো মুম্বাই-আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্প, যেখানে জাপানের শিনকানসেন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

তবে এবার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন পর্যায়ে সরকারি নয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। জুলাইয়ে দিল্লিতে ভারত ও জাপানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির প্রথম সরকারি দিল্লি সফরের সময় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ১২০টি চুক্তির মাধ্যমে ভারতে ১২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। সেমিকন্ডাক্টর, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি এবং অন্যান্য খাতে এসব বিনিয়োগ হওয়ার কথা রয়েছে। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল বলেছেন, ভারতে ১০ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, জাপান তা নির্ধারিত সময়ের আগেই পূরণ করতে পারে।

ভারতে শুধু জাপানের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ বৃদ্ধি পায়নি, বরং ছোট ও মাঝারি কোম্পানিগুলোও নতুন বাজার খুঁজছে। জাপানের হামামাতসু শহর এ ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ। সুজুকি, হোন্ডা ও ইয়ামাহার মতো বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই শহরের সম্পর্ক রয়েছে। উৎপাদন খাতের ছোট ও মাঝারি কোম্পানির সংখ্যা এখানে বেশি। ভারতের বাজারে এসব কোম্পানির প্রবেশ সহজ করতে সম্প্রতি হামামাতসু শহর ‘হামামাতসু ইন্ডিয়া কমিটি’ গঠন করেছে। এই কমিটির লক্ষ্য হলো শহরের ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে ভারতে ব্যবসা বৃদ্ধি করতে পারে, তা খুঁজে বের করা।

আরও পড়ুন: ঢামেকে ভুয়া চিকিৎসক মো. রাকিব আটক, থানায় হস্তান্তর

ভারতে জাপানের বিনিয়োগ বাড়ার সঙ্গে চীনে জাপানের নিট বিনিয়োগ কমে যাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর অর্থ এই নয় যে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো একসঙ্গে চীন ছেড়ে ভারতে চলে আসছে। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের তোশিরো নিশিজায়েওয়া লিখেছেন, এর পেছনে মূলত জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা ছড়িয়ে দেওয়ার কৌশল কাজ করছে। অর্থাৎ নতুন বাজারে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে ব্যবসার ঝুঁকি কমাতে। সিডনিভিত্তিক লোয়ি ইনস্টিটিউটের ভারতবিষয়ক চেয়ার শ্রুতি পান্ডালাই বলেন, সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার পর জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকি কমাতে চাইছে। তার মতে, চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রে ভারত একটি বিকল্প হিসেবে সামনে এসেছে। একই সঙ্গে জাপানের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার লক্ষ্য এবং ভারতের উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনাও একে অপরের সঙ্গে মিলছে।

জাপানে রাজনৈতিক নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্ব কমেনি। বরং দুই দেশের সহযোগিতা আরো বেড়েছে। পান্ডালাই বলেন, "জাপানে নতুন সরকার এলেও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের লক্ষ্য কমেনি, বরং বেড়েছে।" তার মতে, এর অর্থ হলো ভারত-জাপান সম্পর্ক এখন শুধু দুই দেশের নেতাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দুই দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী মহল এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যেও এই সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ভারতে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে চাপের মধ্যে জাপানের নতুন বিনিয়োগ দিল্লির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি দ্রুত বাড়ছে। ফলে চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভারতের জন্য জাপানের মতো দেশের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। শ্রুতি পান্ডালাইয়ের মতে, ভারত ও জাপানের সহযোগিতা দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তির মতো খাতে চীনের প্রভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে এই সম্পর্কের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো সহজ হবে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে এখনো বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে কর নিয়ে অনিশ্চয়তা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং জমি ও পরিবেশের অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় লাগার বিষয় রয়েছে। জাপানি বিনিয়োগকারীরাও এসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। ভারতের বুলেট ট্রেন প্রকল্পও এর একটি উদাহরণ। সম্প্রতি জাপানের সাবেক এক মন্ত্রী প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দেরির জন্য ভারতের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ভারত বারবার নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং কিছু প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাচ্ছে। ভারত সরকার অবশ্য ওই অভিযোগ দ্রুত প্রত্যাখ্যান করে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও এই বিরোধের বিষয়টি তুলে ধরে। ভারতের সঙ্গে করা চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমস্যার উদাহরণ হিসেবে তারা ঘটনাটি ব্যবহার করে।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করার তিন দাবি

ভারত ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু এই গতি ধরে রাখতে ভারতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। জাপানের প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ভারতকে চীনের বিকল্প বাজার এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সুযোগ হিসেবে দেখছে। জাপানের নিজস্ব বাজার সংকুচিত হওয়া, চীনে ব্যবসার ঝুঁকি বাড়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতা- সব মিলিয়ে ভারতের গুরুত্ব বাড়ছে। তবে জাপানের এই আগ্রহ ধরে রাখতে হলে ভারতে ব্যবসার পরিবেশ আরো সহজ করতে হবে। করব্যবস্থা, আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, জমি ও পরিবেশের অনুমোদন এবং বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরির মতো সমস্যাগুলো কমাতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরফ গলার ইঙ্গিত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারে উত্তর কোরিয়া?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৩৪ পি.এম


বরফ গলার ইঙ্গিত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারে উত্তর কোরিয়া?

উত্তর কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের (এনআইএস) কাছ থেকে একটি ব্রিফিং পাওয়ার পর দেশটির একজন আইনপ্রণেতা এ তথ্য জানিয়েছেন।

 

তবে পিয়ংইয়ং এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইউন কুন-ইয়ং সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বৈঠক যেকোনো সময় অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে গোয়েন্দা সংস্থাটি মনে করছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, তিনি চলতি বছরের শেষ দিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনা করছেন। যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক সামরিক মহড়া ব্যাপকভাবে কমানোর নির্দেশ দেওয়ার পর তিনি এই মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প এবং কিম এর আগে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে তিনবার বৈঠক করেছেন। এদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা মনে করছে, কিম জং উনের কন্যা জু এ-কে উত্তর কোরিয়ার পরবর্তী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।

আইনপ্রণেতা ইউন কুন-ইয়ং বলেন, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে জু এ-কে প্রায়ই দেখা যাচ্ছে। এনআইএস তাকে উত্তরসূরি হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া চলমান থাকার বিষয়টি হিসেবে বিবেচনা করছে।

 

অন্যদিকে, ইউক্রেনে রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করতে উত্তর কোরিয়া নতুন করে সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করছে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা। ইউন বলেন, বর্তমানে উত্তর কোরিয়া ইউক্রেনে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা ‘খুবই কম’।

এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছিলেন যে, রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করতে উত্তর কোরিয়া আরো ৫০ হাজার সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। তবে কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং এই দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে এনআইএসের কাছ থেকে ব্রিফিং পাওয়া আরেক আইনপ্রণেতা ইউ ইয়ং-হা জানান, দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা উত্তর কোরিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা এবং দেশটির ক্ষমতাসীন দলের একটি অভ্যন্তরীণ নথি পেয়েছে।

 

তবে তিনি এসব বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

একাদশে ভর্তির আবেদন শুরু কাল, ক্লাস ২৩ সেপ্টেম্বর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৩৭ পি.এম


একাদশে ভর্তির আবেদন শুরু কাল, ক্লাস ২৩ সেপ্টেম্বর

এ বছর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন ও ক্লাস শুরুর সময়কে এগিয়ে আনা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হবে এবং এটি ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।

ভর্তি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরু করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন গ্রহণের পরিকল্পনা ছিল এবং ভর্তি কার্যক্রম শেষে ১২ নভেম্বর ক্লাস শুরুর কথা ছিল।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হবে এবং শিক্ষার্থীদের ফলাফল, পছন্দক্রম ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনায় নিয়ে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হবে।

কয়েক বছর ধরে এসএসসি ও সমমানের ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নির্ধারিত ফি দিয়ে ভর্তীচ্ছু শিক্ষার্থীদের সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। পরে ফলাফল, পছন্দক্রম ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনায় একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হবে শিক্ষার্থীকে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্রীয়ভাবে একাদশ শ্রেণির অনলাইন ভর্তি প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে।

কারিগরি বোর্ড এবং ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের প্রায় সব কলেজ ও মাদরাসায় এই সমন্বিত পদ্ধতিতেই শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সূত্রে জানা গেছে, আবেদনের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভর্তীচ্ছু সবাইকে আবেদন করতে হবে। যারা ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছে, তাদেরও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

তবে পুনর্নিরীক্ষণের পর যাদের ফল পরিবর্তন হবে, তাদের পুনরায় আবেদনের সময় দেওয়া হবে। ১০ সেপ্টেম্বর পুনর্নিরীক্ষণে ফল প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।

শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রস্তাব

শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রস্তাব অনুযায়ী আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর যাদের পুনর্নিরীক্ষণে ফল পরিবর্তন হবে তারা আবেদন করতে পারবে। এভাবে যাচাই-বাছাই শেষে ২০, ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর ভর্তির কাজ সম্পন্ন হবে। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর ক্লাস শুরু হবে। তবে যারা এ সময়ে ও প্রক্রিয়ায় কোনো কলেজ-মাদরাসা পাবে না বা প্রত্যাশিত কলেজ পাবে না অথবা কোনো কারণে আবেদন করতে পারবে না, ২৩ সেপ্টেম্বরের পরপর তাদেরও ভর্তির জন্য আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে।

এ বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ৪ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী প্রায় ১৩ লাখ আবেদন করেছে। এর মধ্যে ১০ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি আবেদন পড়েছে লিখিত (তত্ত্বীয়) পরীক্ষার উত্তরপত্রের জন্য। আর ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতার জন্য আবেদন পড়েছে ২ লাখ ৩১ হাজারের বেশি।

ভর্তি ফি

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ফি ও সেশন চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি, অবস্থান এবং বাংলা বা ইংরেজি ভার্সনের ওপর ভিত্তি করে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর মধ্যে সর্বোচ্চ ফি প্রযোজ্য হবে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার নন-এমপিও বা আংশিক এমপিও কলেজগুলোর জন্য।

সোমবার (২৪ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকাশিত একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালায় এ তথ্য জানা যায়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে প্রকাশিত নীতিমালা অনুযায়ী, এ বছর আবেদন ফি বাবদ আগের বছরের ৩৩৫ টাকার বদলে ৫ টাকা বাড়িয়ে ৩৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে শিক্ষা বোর্ড।

এমপিওভুক্ত কলেজের ক্ষেত্রে ভর্তি ফি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে—ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভার্সনে ৫,০০০ টাকা, ঢাকা বাদে অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকায় ৩,০০০ টাকা, জেলা পর্যায়ে ২,০০০ টাকা এবং উপজেলা ও মফস্বল এলাকায় ১,৫০০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নন-এমপিওভুক্ত কলেজের ভর্তি ফি নির্ধারিত হয়েছে—জেলা সদরে বাংলা ভার্সনে ৩,০০০ টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে ৪,০০০ টাকা এবং উপজেলা ও মফস্বল এলাকায় বাংলা ভার্সনে ২,৫০০ টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে ৩,০০০ টাকা।

শিক্ষার্থীর ভর্তির প্রাথমিক নিশ্চায়নের সময় শিক্ষা বোর্ড রেজিস্ট্রেশন ফি (১৪২ টাকা), ক্রীড়া ফি (৫০ টাকা), রোভার/রেঞ্জার ফি (১৫ টাকা), রেড ক্রিসেন্ট ফি (১৬ টাকা), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফি (৭ টাকা), বিএনসিসি ফি (১০ টাকা, যা আগে ছিল ৫ টাকা) এবং শিক্ষককল্যাণ ও অবসরসুবিধা ভাতা ফি (১০০ টাকা)-সহ মোট ৩৪০ টাকা নেবে।

এ ছাড়া একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনে আবেদনের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২২০ টাকা এবং শিক্ষা বোর্ডে পাঠানোর জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে রেড ক্রিসেন্ট ফি বাবদ ২৪ টাকা ও বার্ষিক ক্রীড়া মঞ্জুরি ফি বাবদ ৪০০ টাকা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, দেশব্যাপী এসএসসি ও সমমানের ফলের ভিত্তিতে শুরু হচ্ছে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রস্তুতি।

সম্প্রতি একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রস্তাবিত খসড়া নীতিমালা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। এতে ৭ শতাংশ আসন কোটার জন্য রেখে বাকি ৯৩ শতাংশ আসন সবার জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত এই নীতিমালায় ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই শুধু এসএসসি ও সমমানের ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচিত হবে। কোটার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে খসড়া নীতিমালায়।

সূচি অনুযায়ী, আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ভর্তি কার্যক্রম শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে নিয়মিত ক্লাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ পরীক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গতবার এই পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এবার মোট জিপিএ ৫ পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। গতবার জিপিএ ৫ পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। এসএসসি ও সমমানে পাসের হার ও জিপিএ ৫ কমেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ-পাকিস্তান-ইতালিতে এলএনজি সরবরাহ বন্ধের মেয়াদ বাড়াল কাতার এনার্জি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪০ পি.এম


বাংলাদেশ-পাকিস্তান-ইতালিতে এলএনজি সরবরাহ বন্ধের মেয়াদ বাড়াল কাতার এনার্জি

কাতার এনার্জি ইউরোপের কিছু দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে ‘ফোর্স মেজর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতির ঘোষণা আরও বৃদ্ধি করেছে। ব্লুমবার্গ ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা অব্যাহত থাকায় প্রতিষ্ঠানটি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে পারছে না।

 

‘ফোর্স মেজর’ হল একটি চুক্তিগত ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি বা অন্য কোনো অনিবার্য ও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে কোনো পক্ষ সাময়িকভাবে চুক্তির বাধ্যবাধকতা পালন থেকে অব্যাহতি পেতে পারে। ব্লুমবার্গের শুক্রবারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কাতারএনার্জি চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের ক্রেতাদের জানিয়েছে, এলএনজি সরবরাহের কিছু চালান বাতিলের ঘটনা অক্টোবর পর্যন্ত চলতে পারে। বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্যও ‘ফোর্স মেজর’-এর মেয়াদ সেপ্টেম্বরের পর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ইউরোপের অন্যান্য ক্রেতাদেরও একই ধরনের নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

 

এডিসন, ইতালির জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, শুক্রবার কাতারএনার্জির সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, কাতারএনার্জি ইতালিতে তাদের এলএনজি সরবরাহ স্থগিত রাখার সময় নভেম্বরের শুরুর দিকে পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এডিসন একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কাতারএনার্জি তাদের জানিয়েছে, ইতালির অ্যাড্রিয়াটিক এলএনজি টার্মিনালে নির্ধারিত আরও পাঁচটি এলএনজি জাহাজের চালান তারা দিতে পারবে না। এর ফলে এডিসনের ক্ষেত্রে এপ্রিলের শুরু থেকে চলমান ‘ফোর্স মেজর’ এর মেয়াদ নভেম্বরের শুরুর দিকে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

 

এডিসনের হিসাব অনুযায়ী, কাতারএনার্জির সরবরাহ দিতে না পারা এলএনজি জাহাজের সংখ্যা বর্তমানে বেড়ে ২৯টিতে দাঁড়িয়েছে। তবে সরবরাহের ঘাটতি পূরণে এডিসন বিকল্প উৎস থেকে গ্যাসের ব্যবস্থা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এর মাধ্যমে তারা গ্রাহকদের কাছে নিজেদের সরবরাহের প্রতিশ্রুতি পূরণ করার চেষ্টা করছে।

কাতার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ। দেশটির এলএনজি রপ্তানির একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিভিন্ন দেশে যায়।

 

কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে কাতারের এলএনজি রপ্তানিতে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৪ মার্চ প্রথমবার এলএনজি সরবরাহ কার্যক্রম স্থগিত করে কাতারএনার্জি। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করে। ‘ফোর্স মেজর’ বলতে এমন পরিস্থিতিকে বোঝায়, যেখানে কোনো প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা বিশেষ ঘটনা বা পরিস্থিতির কারণে চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ বা অন্য কোনো দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হয় না।

হরমুজ প্রণালির সমস্যার পাশাপাশি কাতারের এলএনজি অবকাঠামোও হামলার শিকার হয়েছে। মার্চে কাতার এনার্জির রাস লাফান শিল্প এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। এতে এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং দেশটির জ্বালানি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবি জানান, রাস লাফানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে কাতারের এলএনজি রপ্তানির সক্ষমতা ১৭ শতাংশ কমে গেছে। এর ফলে আগে থেকেই চাপের মধ্যে থাকা কাতারের এলএনজি সরবরাহ পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

জুলাইয়ে কাতারের এলএনজি বহনকারী জাহাজ ‘আল রেকাইয়াত’ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হয়। কাতার এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে। হামলায় জাহাজটির বাম পাশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে জাহাজটির সব নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। জাহাজে হামলার ঘটনা হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করে। কাতার এনার্জির সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে এশিয়া ও ইউরোপের এলএনজি ক্রেতাদের বিকল্প উৎসের দিকে যেতে হচ্ছে।

পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং ইউরোপের কিছু দেশ কাতারের এলএনজির ওপর নির্ভরশীল। কাতারএনার্জি সরবরাহে ব্যর্থ হওয়ায় এসব দেশের আমদানিকারকদের অন্য উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহ করতে হচ্ছে। বিশেষ করে শীতের আগে ইউরোপে গ্যাসের চাহিদা বাড়তে শুরু করলে সরবরাহ পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কাতারএনার্জির নতুন করে ‘ফোর্স মেজর’ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যাচ্ছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং কাতারের এলএনজি অবকাঠামোর ওপর হামলার প্রভাব এখনও কাটেনি। ফলে এশিয়া ও ইউরোপের ক্রেতাদের জন্য কাতারের এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে।

উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে তীব্র বাধার মুখে গত ৪ মার্চ প্রথম এলএনজি কার্যক্রম স্থগিত করে ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করেছিল কাতার এনার্জি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অ্যাপলের সিইও পদ ছাড়লেন টিম কুক, দায়িত্বে জন টার্নাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৩ পি.এম


অ্যাপলের সিইও পদ ছাড়লেন টিম কুক, দায়িত্বে জন টার্নাস

পদ ছাড়লেন টিম কুক, সোমবার ১৫ বছর ধরে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর। একই দিনে নতুন সিইও হিসেবে জন টার্নাসের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন তিনি।

 

বিদায়ের দিনে অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসকে স্মরণ করেন কুক। তিনি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের প্রশংসা করে তাদের ‘অসাধারণ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

কুক এখন অ্যাপলের নির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যদিকে ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিষ্ঠানের সিইও হিসেবে কাজ শুরু করবেন টার্নাস।

 

অ্যাপলে কুকের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৮ সালে। সেই সময়ে প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস তাকে অ্যাপলে নিয়োগ দেন। কুক প্রথমে অ্যাপলের সরবরাহব্যবস্থা দেখার দায়িত্বে ছিলেন। ২০০৫ সালে তাকে প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

 

এ দায়িত্বে থেকে তিনি অ্যাপলের পণ্য তৈরি ও সরবরাহের পুরো ব্যবস্থাকে আরো দক্ষ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই কুক অ্যাপলে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে ওঠেন।

২০১১ সালে তিনি অ্যাপলের সিইও হন। ওই সময় স্টিভ জবস দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। কুক দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারে মারা যান জবস।

 

জবসের পর অ্যাপলের নেতৃত্ব ধরে রাখার বড় দায়িত্ব কুকের ওপর পড়ে। কুকের নেতৃত্বে গত প্রায় ১৫ বছরে অ্যাপল বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সোমবার প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য ৪ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। এর মাধ্যমে কুকের নেতৃত্বে অ্যাপলের ব্যবসার ব্যাপক বিস্তারের বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়েছে। চাকরির শেষ দিনে কর্মীদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় কুক স্টিভ জবসের কথা স্মরণ করেন। তিনি লেখেন, ‘স্টিভ যেভাবে একবার বলেছিলেন, আমরা মহাবিশ্বে আমাদের ছাপ রেখে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পেরেছি।’

কর্মীদের প্রশংসা করে কুক বলেন, অ্যাপলের সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান তাদের। তিনি বলেন, তার সাফল্য নিয়ে যা-ই বলা হোক না কেন, তিনি জানেন এর সবকিছুই কর্মীদের কারণে সম্ভব হয়েছে। এত অসাধারণ মানুষের সঙ্গে এর আগে তিনি কখনো কাজ করেননি বলেও উল্লেখ করেন কুক। অ্যাপলের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১ লাখ ৬৬ হাজার কর্মী রয়েছে। বিদায়ী বার্তায় কুক আরো বলেন, তিনি অ্যাপল এবং প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের ভালোবাসেন। তাদের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করাকে তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মানের বিষয় বলে উল্লেখ করেন।

কুকের পর অ্যাপলের সিইও হচ্ছেন জন টার্নাস। ১ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই দায়িত্ব পালন করবেন। স্টিভ জবসের পর টার্নাস হবেন অ্যাপলের নেতৃত্ব দেওয়া দ্বিতীয় সিইও। টার্নাস ২০০১ সালে অ্যাপলের নকশা দলে যোগ দেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি অ্যাপলের হার্ডওয়্যার প্রকৌশল বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট হন। আইফোন, আইপ্যাডসহ অ্যাপলের বিভিন্ন হার্ডওয়্যার পণ্য তৈরির কাজে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর টার্নাস খুব বেশি সময় পাবেন না নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার জন্য।

আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের বার্ষিক আইফোন অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রথম ভাঁজ করা ফোন উন্মোচন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে নতুন সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বড় একটি পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দিতে হবে টার্নাসকে। অ্যাপলের নেতৃত্বে এই পরিবর্তন এমন এক সময়ে হলো, যখন প্রতিষ্ঠানটি বেশ কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। উন্নত কম্পিউটিং চিপের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এতে চিপ সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

অ্যাপলের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্য সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতাও বেড়েছে। গুগল, মাইক্রোসফটসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এআই প্রযুক্তিতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এই প্রতিযোগিতায় অ্যাপলকে আরো শক্ত অবস্থান তৈরি করতে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনেও অ্যাপলকে নানা রাজনৈতিক ও নীতিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%