মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৪০ পি.এম
কাতার এনার্জি ইউরোপের কিছু দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে ‘ফোর্স মেজর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতির ঘোষণা আরও বৃদ্ধি করেছে। ব্লুমবার্গ ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা অব্যাহত থাকায় প্রতিষ্ঠানটি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে পারছে না।
‘ফোর্স মেজর’ হল একটি চুক্তিগত ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি বা অন্য কোনো অনিবার্য ও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে কোনো পক্ষ সাময়িকভাবে চুক্তির বাধ্যবাধকতা পালন থেকে অব্যাহতি পেতে পারে। ব্লুমবার্গের শুক্রবারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কাতারএনার্জি চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের ক্রেতাদের জানিয়েছে, এলএনজি সরবরাহের কিছু চালান বাতিলের ঘটনা অক্টোবর পর্যন্ত চলতে পারে। বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্যও ‘ফোর্স মেজর’-এর মেয়াদ সেপ্টেম্বরের পর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ইউরোপের অন্যান্য ক্রেতাদেরও একই ধরনের নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এডিসন, ইতালির জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, শুক্রবার কাতারএনার্জির সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, কাতারএনার্জি ইতালিতে তাদের এলএনজি সরবরাহ স্থগিত রাখার সময় নভেম্বরের শুরুর দিকে পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এডিসন একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কাতারএনার্জি তাদের জানিয়েছে, ইতালির অ্যাড্রিয়াটিক এলএনজি টার্মিনালে নির্ধারিত আরও পাঁচটি এলএনজি জাহাজের চালান তারা দিতে পারবে না। এর ফলে এডিসনের ক্ষেত্রে এপ্রিলের শুরু থেকে চলমান ‘ফোর্স মেজর’ এর মেয়াদ নভেম্বরের শুরুর দিকে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
এডিসনের হিসাব অনুযায়ী, কাতারএনার্জির সরবরাহ দিতে না পারা এলএনজি জাহাজের সংখ্যা বর্তমানে বেড়ে ২৯টিতে দাঁড়িয়েছে। তবে সরবরাহের ঘাটতি পূরণে এডিসন বিকল্প উৎস থেকে গ্যাসের ব্যবস্থা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এর মাধ্যমে তারা গ্রাহকদের কাছে নিজেদের সরবরাহের প্রতিশ্রুতি পূরণ করার চেষ্টা করছে।
কাতার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ। দেশটির এলএনজি রপ্তানির একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিভিন্ন দেশে যায়।
কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে কাতারের এলএনজি রপ্তানিতে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৪ মার্চ প্রথমবার এলএনজি সরবরাহ কার্যক্রম স্থগিত করে কাতারএনার্জি। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করে। ‘ফোর্স মেজর’ বলতে এমন পরিস্থিতিকে বোঝায়, যেখানে কোনো প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা বিশেষ ঘটনা বা পরিস্থিতির কারণে চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ বা অন্য কোনো দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হয় না।
হরমুজ প্রণালির সমস্যার পাশাপাশি কাতারের এলএনজি অবকাঠামোও হামলার শিকার হয়েছে। মার্চে কাতার এনার্জির রাস লাফান শিল্প এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। এতে এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং দেশটির জ্বালানি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবি জানান, রাস লাফানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে কাতারের এলএনজি রপ্তানির সক্ষমতা ১৭ শতাংশ কমে গেছে। এর ফলে আগে থেকেই চাপের মধ্যে থাকা কাতারের এলএনজি সরবরাহ পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
জুলাইয়ে কাতারের এলএনজি বহনকারী জাহাজ ‘আল রেকাইয়াত’ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হয়। কাতার এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে। হামলায় জাহাজটির বাম পাশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে জাহাজটির সব নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। জাহাজে হামলার ঘটনা হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করে। কাতার এনার্জির সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে এশিয়া ও ইউরোপের এলএনজি ক্রেতাদের বিকল্প উৎসের দিকে যেতে হচ্ছে।
পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং ইউরোপের কিছু দেশ কাতারের এলএনজির ওপর নির্ভরশীল। কাতারএনার্জি সরবরাহে ব্যর্থ হওয়ায় এসব দেশের আমদানিকারকদের অন্য উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহ করতে হচ্ছে। বিশেষ করে শীতের আগে ইউরোপে গ্যাসের চাহিদা বাড়তে শুরু করলে সরবরাহ পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কাতারএনার্জির নতুন করে ‘ফোর্স মেজর’ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যাচ্ছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং কাতারের এলএনজি অবকাঠামোর ওপর হামলার প্রভাব এখনও কাটেনি। ফলে এশিয়া ও ইউরোপের ক্রেতাদের জন্য কাতারের এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে।
উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে তীব্র বাধার মুখে গত ৪ মার্চ প্রথম এলএনজি কার্যক্রম স্থগিত করে ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করেছিল কাতার এনার্জি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পদ ছাড়লেন টিম কুক, সোমবার ১৫ বছর ধরে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর। একই দিনে নতুন সিইও হিসেবে জন টার্নাসের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন তিনি।
বিদায়ের দিনে অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসকে স্মরণ করেন কুক। তিনি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের প্রশংসা করে তাদের ‘অসাধারণ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
কুক এখন অ্যাপলের নির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যদিকে ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিষ্ঠানের সিইও হিসেবে কাজ শুরু করবেন টার্নাস।
অ্যাপলে কুকের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৮ সালে। সেই সময়ে প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস তাকে অ্যাপলে নিয়োগ দেন। কুক প্রথমে অ্যাপলের সরবরাহব্যবস্থা দেখার দায়িত্বে ছিলেন। ২০০৫ সালে তাকে প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এ দায়িত্বে থেকে তিনি অ্যাপলের পণ্য তৈরি ও সরবরাহের পুরো ব্যবস্থাকে আরো দক্ষ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই কুক অ্যাপলে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে ওঠেন।
২০১১ সালে তিনি অ্যাপলের সিইও হন। ওই সময় স্টিভ জবস দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। কুক দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারে মারা যান জবস।
জবসের পর অ্যাপলের নেতৃত্ব ধরে রাখার বড় দায়িত্ব কুকের ওপর পড়ে। কুকের নেতৃত্বে গত প্রায় ১৫ বছরে অ্যাপল বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সোমবার প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য ৪ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। এর মাধ্যমে কুকের নেতৃত্বে অ্যাপলের ব্যবসার ব্যাপক বিস্তারের বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়েছে। চাকরির শেষ দিনে কর্মীদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় কুক স্টিভ জবসের কথা স্মরণ করেন। তিনি লেখেন, ‘স্টিভ যেভাবে একবার বলেছিলেন, আমরা মহাবিশ্বে আমাদের ছাপ রেখে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পেরেছি।’
কর্মীদের প্রশংসা করে কুক বলেন, অ্যাপলের সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান তাদের। তিনি বলেন, তার সাফল্য নিয়ে যা-ই বলা হোক না কেন, তিনি জানেন এর সবকিছুই কর্মীদের কারণে সম্ভব হয়েছে। এত অসাধারণ মানুষের সঙ্গে এর আগে তিনি কখনো কাজ করেননি বলেও উল্লেখ করেন কুক। অ্যাপলের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১ লাখ ৬৬ হাজার কর্মী রয়েছে। বিদায়ী বার্তায় কুক আরো বলেন, তিনি অ্যাপল এবং প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের ভালোবাসেন। তাদের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করাকে তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মানের বিষয় বলে উল্লেখ করেন।
কুকের পর অ্যাপলের সিইও হচ্ছেন জন টার্নাস। ১ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই দায়িত্ব পালন করবেন। স্টিভ জবসের পর টার্নাস হবেন অ্যাপলের নেতৃত্ব দেওয়া দ্বিতীয় সিইও। টার্নাস ২০০১ সালে অ্যাপলের নকশা দলে যোগ দেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি অ্যাপলের হার্ডওয়্যার প্রকৌশল বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট হন। আইফোন, আইপ্যাডসহ অ্যাপলের বিভিন্ন হার্ডওয়্যার পণ্য তৈরির কাজে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর টার্নাস খুব বেশি সময় পাবেন না নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার জন্য।
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের বার্ষিক আইফোন অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রথম ভাঁজ করা ফোন উন্মোচন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে নতুন সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বড় একটি পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দিতে হবে টার্নাসকে। অ্যাপলের নেতৃত্বে এই পরিবর্তন এমন এক সময়ে হলো, যখন প্রতিষ্ঠানটি বেশ কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। উন্নত কম্পিউটিং চিপের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এতে চিপ সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
অ্যাপলের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্য সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতাও বেড়েছে। গুগল, মাইক্রোসফটসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এআই প্রযুক্তিতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এই প্রতিযোগিতায় অ্যাপলকে আরো শক্ত অবস্থান তৈরি করতে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনেও অ্যাপলকে নানা রাজনৈতিক ও নীতিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উত্তর আমেরিকার মাটিতে বিশ্বকাপের খেতাব ধরে রাখার যে মিশন ছিল, সেটি লিওনেল মেসির জন্য সফলভাবে সম্পন্ন হয়নি। ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে আলবিসেলেস্তেদের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়ে যায়।
এই পরাজয়ের ম্যাচটি মেসির জাতীয় দলের পোশাকে শেষ উপস্থিতি হিসেবে চিহ্নিত হলো। বিশ্বকাপের কয়েক সপ্তাহ পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নেন, যিনি ছিলেন বিশ্বজয়ী অধিনায়ক।
জাতীয় দল থেকে মেসির বিদায়ের ঘটনা এটি প্রথম নয়। ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা ফাইনালে চিলির কাছে টাইব্রেকারে হেরে আবেগঘনভাবে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন ২৯ বছর বয়সী মেসি।
পেড্রাগালে টাইব্রেকারে শট মিস করার সেই হৃদয়ভাঙা রাতে মেসির এমন সিদ্ধান্ত পুরো ফুটবলবিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। সেই সময়, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির পাশে দাঁড়িয়ে এক ঐতিহাসিক বার্তা দিয়েছিলেন পর্তুগিজ যুবরাজ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
তৎকালীন স্প্যানিশ পত্রিকা ‘মুন্দো দেপোর্তিভো’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসির কঠিন সিদ্ধান্তের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে রোনালদো বলেছিলেন, ‘মেসি খুব কঠিন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সবার উচিত ওর মানসিক অবস্থাটা বোঝা। ও হারতে বা ব্যর্থ হতে অভ্যস্ত নয়, এমনকি দ্বিতীয় হওয়াটাও ওর সঙ্গে যায় না।
কেবল একটা পেনাল্টি মিস করলেই কেউ খারাপ ফুটবলার হয়ে যায় না।’
রোনালদো তখন ভাবতে পারেননি যে মেসি পরবর্তীতে ফিরে এসে ২০২১ ও ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয় করবেন—যে বিশ্বকাপ ট্রফিটি পর্তুগিজ মহাতারকার জন্য এখনো অধরা। তবুও, প্রতিদ্বন্দ্বীর কষ্টে সমব্যাথী হয়ে সেদিন রোনালদো প্রকাশ করেছিলেন নিজের অনুভূতি, ‘মেসিকে এভাবে চোখের জলে ভেঙে পড়তে দেখাটা সত্যিই বেদনার। আমি আশা করি ও নিজের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে জাতীয় দলে ফিরবে, কারণ আর্জেন্টিনার ওকে ভীষণ প্রয়োজন।’
রোনালদোর সেই আশাবাণী সত্য প্রমাণ করে সেবার অবসর ভেঙে ফিরে এসে দেশকে এনে দিয়েছিলেন পরম কাঙ্ক্ষিত সব সোনালী ট্রফি।
তবে এবার ৩৯ বছর বয়সী মেসির পক্ষে আর ফেরা সম্ভব কি না, তা নিয়ে রয়েছে গভীর সংশয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ী শহরের বড় বাজারের কাপড় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানার বিরোধের প্রেক্ষিতে মারধরের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন—আব্দুল্লাহ আল সিয়াম খান (১৯), মো. রুবেল হোসেন (১৯) এবং মো. হেলাল উদ্দিন (৩৮)।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার (৩১ আগস্ট) দিবাগত রাতে জাকিয়া সুলতানা বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, জাকিয়ার প্রতিষ্ঠান ‘আস্থা পোশাক শিল্প গার্মেন্টে’-এর একজন কর্মচারী চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর বেতন ও মালামালের হিসাব নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, গত ২৩ আগস্ট ওই কর্মচারী কয়েকজন লোক নিয়ে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বেতন দাবি ও হুমকি দেন।
এই ঘটনার পর শনিবার (২৯ আগস্ট) বড় বাজারে জাকিয়া ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে, একজন নারী পুলিশ সদস্যের সঙ্গে থাকা জাকিয়াকে কয়েকজন যুবক লাথি ও ঘুষি মারেন।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
ওসি উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ‘এ ঘটনায় তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিরোনাম পড়ে নিশ্চয়ই অবাক হচ্ছেন! অবাক হওয়ারই কথা। মাঠের বাউন্ডারি লাইনই তো ১০০ মিটার হয় না।
এখন প্রশ্ন উঠছে, একজন বোলার কীভাবে ১০০ কিলোমিটার রান-আপ নিয়ে একটি বল করতে পারেন? এমনটাই ভাবছেন সবাই।
এক কাঠি সরেস হয়ে হয়তো এমনটাও ভাবছেন সাংবাদিক ভুল করে লেখেননি তো। ভুল নয়, সত্যিই এমন লেখা হয়েছে। তবে এটি পেশাদার কোনো ম্যাচ নয়, বরং একটি বলের চ্যারিটি ম্যাচ। সেই ম্যাচে অংশগ্রহণ করেছেন বাবা ও ছেলে।
ছেলে স্যাম বোদোয়ানোর বোলিংয়ের বিপরীতে ব্যাট করেছেন তার বাবা। ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের প্রয়াত স্ত্রীর স্মৃতিতে গঠিত রুথ স্ট্রাউস ফাউন্ডেশনের (Ruth Strauss Foundation) জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এই পাগলাটে রান-আপ নিয়েছেন বোদোয়ানো। দাতব্য কাজের মাধ্যমে তিনি ৬ হাজার পাউন্ড অর্থ সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন।
বোদোয়ানো রান-আপের শুরুটা করেন ক্রিকেটের তীর্থভূমি হিসেবে পরিচিত লর্ডস থেকে।
গন্তব্য ছিল ওয়াকিংয়ের ভ্যালি এন্ড ক্রিকেট ক্লাব। ইংল্যান্ড-পাকিস্তানের লর্ডস টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়ার পর শনিবার সন্ধ্যায় বল হাতে দৌড় শুরু করেন তিনি। প্রায় ১০০ কিলোমিটার দৌড়ে স্ট্রাইক প্রান্তে ব্যাট হাতে থাকা বাবার দিকে বল ছুঁড়েন তিনি। অফ স্টাম্পের বেশ বাইরে করা বলটি ব্যাটে লাগান তার বাবা। এরপর উপস্থিত সবাই আনন্দিত হয়ে করতালি দিতে থাকেন।
টেস্ট ক্রিকেটের পোশাক পরিহিত বোদোয়ানো নির্ধারিত সময়ের আগেই বোলিং প্রান্তে অবস্থান নেন। রবিবার দুপুর ২টায় বল করার কথা থাকলেও ভ্যালি এন্ড ক্রিকেট ক্লাবে আগেই হাজির হন তিনি। আগের রেকর্ডটি ছিল অন্য একজনের ২৪ কিলোমিটারের। এমন দৌড় আগেও দিয়েছেন বোদোয়ানো। সেবার ক্রিকেট প্যাড পরে ও হাতে ব্যাট নিয়ে ৫ কিলোমিটার দৌড়ে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। সময় নিয়েছিলেন ২০ মিনিটের কম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ