০৬:৫৬ পি.এম
গাজীপুরের কালীগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ১১ বছর বয়সী এক কিশোরীকে গোপনে বিয়ে দেওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ পর পিতার উদ্যোগে প্রকাশ্যে অনুষ্ঠান আয়োজন ঘটে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে কিশোরীর পিতাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে।
শুক্রবার কালীগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুনশুরপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরওয়ার লিমা।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি মুনশুরপুর এলাকায় মৃত আব্দুল মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ রাকিব (৩৪)। বাল্যবিয়ের শিকার কিশোরী তার নিজের মেয়ে, যিনি স্থানীয় মসলিন কটন মিল উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি
মোবাইল কোর্ট ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাকিবের বাড়িতে কিশোরী মেয়ের বিয়ের আয়োজন চলছিল। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পাওয়ার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করেন এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই-বাছাই করেন।
জন্মসনদ যাচাই করলে দেখা যায়, কনের প্রকৃত বয়স ১১ বছর ৯ মাস ১২ দিন। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো মেয়ের বিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
এছাড়া জানা যায়, প্রকৃত বয়সের তথ্য গোপন করে নরসিংদী জেলা আদালতের একজন (নোটারি পাবলিক) আইনজীবীর মাধ্যমে গত ৯ জুলাই বিবাহের ঘোষণাপত্র তৈরি করা হয়। এতে পার্শ্ববর্তী রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের আফিজ উদ্দিনের ছেলে আরিফ মিয়ার সঙ্গে কিশোরীর বিয়ে সম্পন্ন হয়। ওই ঘোষণাপত্রে কনের জন্ম তারিখ উল্লেখ ছিল ২০০৭ সালের ১২ অক্টোবর- অর্থাৎ প্রকৃত বয়সের চেয়ে প্রায় সাত বছর বাড়িয়ে দেখানো হয়েছিল।
নথিপত্র যাচাই শেষে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর ৮ ধারা অনুযায়ী কিশোরীর বাবা রাকিবকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরওয়ার লিমা।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন