ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাঁধ মেরামত ও নদীতীর সংরক্ষণে জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী


বাঁধ মেরামত ও নদীতীর সংরক্ষণে জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

বাঁধ মেরামত, নদী তীর সংরক্ষণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার জোরালো ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

তিনি জানিয়েছেন, জরুরি নদী তীর রক্ষা এবং বাঁধ সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ৭ লাখের বেশি জিওব্যাগ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া, মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব মজুদে আরও ৬ লাখ জিওব্যাগ প্রস্তুত রয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা-সম্পর্কিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজনের প্রাণহানি

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জানান, এবার দেশের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ১ হাজার ৫০০টিরও বেশি জরুরি কাজের প্যাকেজ গ্রহণ করা হয়েছে। এসব প্যাকেজ স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৫০০টি প্যাকেজের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রায় ১ হাজার প্যাকেজের কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী দিনগুলোতে যদি ভারী বৃষ্টিপাত বা নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তাহলে এসব জিওব্যাগ এবং অন্যান্য জরুরি সরঞ্জাম ব্যবহার করে দ্রুত নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং বাঁধ রক্ষার কাজ করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু তাৎক্ষণিক দুর্যোগ মোকাবিলা নয়, দীর্ঘমেয়াদি টেকসই সমাধানের দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসন, নদী ব্যবস্থাপনা, বাঁধ শক্তিশালীকরণ, সুইস গেট আধুনিকায়ন এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগের ফলে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিভাগে গত এক সপ্তাহে অস্বাভাবিক মাত্রার বৃষ্টিপাতের ফলেই ভয়াবহ বন্যা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে বাবা-মেয়ের মৃত্যুর পর পুলিশের গাড়িতে হামলা ও বাসে আগুন

তিনি জানান, দেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত প্রায় ২ হাজার ২০০ মিলিমিটার হলেও গত ৬ থেকে ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে শুধুমাত্র চট্টগ্রাম বিভাগেই রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই অতিবৃষ্টির কারণেই চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত এক সপ্তাহে চট্টগ্রামে প্রায় ১ হাজার ৪৫৪ মিলিমিটার, বান্দরবানে ১ হাজার ১০২ মিলিমিটার, এবং কক্সবাজারে ৮৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দেশের একটি বিশেষ বিভাগে এত স্বল্প সময়ে এত বিপুল পরিমাণ বৃষ্টিপাত হওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। ফলে পাহাড়ি ঢল, জলাবদ্ধতা এবং পরে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি জানান, গত ১২ জুলাই তিনি নিজে, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক (ডিজি) চট্টগ্রামে গিয়ে সরেজমিনে বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। এই সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা হয়।

ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, পরিদর্শনের সময় বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হয়েছে, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের চলমান কোনো প্রকল্পের কারণে কোথাও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে কি না।

আরও পড়ুন: পুরাতন রমনা থানার সামনের সড়কে ককটেল বিস্ফোরণ

তিনি জানান, চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়ে গেছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রকল্পটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রকল্পটির কাজ শেষ হলে চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, এবারের বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কক্সবাজার জেলার কয়েকটি এলাকা। বিশেষ করে জেলার চারটি স্থানে বাঁধ এবং পোল্ডারে ক্ষতি হয়েছে। কক্সবাজারের মাতারবাড়ী-সংলগ্ন নতুন উপজেলা এলাকায় পুরাতনখালী এবং পূর্বপাড়ায় পানি প্রবাহের তীব্র চাপে বাঁধে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, কক্সবাজারের পূর্ব মেহেরনামা এলাকাতেও বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বাঁধের ভেতরে অতিরিক্ত পানি জমে যাওয়ার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা পানি নিষ্কাশনের জন্য কয়েকটি স্থানে নিজেরাই বাঁধ কেটে দিয়েছেন। শিলখালী এলাকাতেও একই কারণে বাঁধ কেটে পানি বের করে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ছুটির দিনে সড়কে ঝরল ১২ জনের প্রাণ

ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, এসব ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দ্রুত পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি সুইস গেটগুলো সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে পানি নিষ্কাশন আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়, সে উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত দেশের কয়েকটি নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) এবং মারকুলি (সুনামগঞ্জ) স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমা নদীর ছাতক স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ৬ সেন্টিমিটার এবং নেত্রকোণার কমলাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তানদীর পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে।

তবে আশার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৃষ্টিপাত কমে আসায় দেশের অধিকাংশ নদীর পানি ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলোর পানিও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব স্থানে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেখানে দ্রুত মেরামত এবং পুনর্নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গে জরুরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুরে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ১৯ বছরের যুবক মিঠু মিয়াকে সামুরাইসহ গ্রেপ্তার

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রতি বছরেই বন্যা মৌসুম শুরু হওয়ার আগে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করে থাকে। তবে চলতি বছর সম্ভাব্য অতিবৃষ্টির বিষয়ে বিবেচনা নিয়ে আগের তুলনায় আরো বিস্তৃত প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আবহাওয়ার উন্নতি অব্যাহত থাকলে দেশের বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে। একই সঙ্গে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় দেশের সব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রাখবে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্ত্রীকে বেঁধে রাতভর নির্যাতন, চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগে আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫১ পি.এম


স্ত্রীকে বেঁধে রাতভর নির্যাতন, চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগে আটক

 

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে ঘটনার একটি প্রকৃত চিত্র দেখা গেছে, যেখানে ঘরে তালা দিয়ে স্ত্রীর হাত-পা বেঁধে মাথার চুল কেটে রাতভর নির্যাতন করেছে স্বামী। খবর পেয়ে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে ওই গৃহবধূ এবং তার দুই শিশুসন্তানকে উদ্ধার করে পুলিশ।

পরে অভিযুক্ত নাজমুলকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এই ঘটনা ঘটেছে গত ১৩ জুলাই রাতে, বিশেষ করে মুকসুদপুর উপজেলার গোহালা ইউনিয়নের গয়লাকান্দি গ্রামে। অভিযুক্ত নাজমুল ওই গ্রামের নওয়াব আলী শেখের ছেলে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর নাম সোনিয়া (২৫)।

সোনিয়া মুন্সীগঞ্জের চরমুসুরিয়া এলাকার লোকমান সরকারের মেয়ে।

স্থানীয়দের মতে, নাজমুল প্রায়শই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় স্ত্রী সোনিয়াকে মারধর করতেন। এ বিষয়ে সোমবার রাতে মাদকের টাকা চাওয়ার সমস্যাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নাজমুল ঘরে তালা দিয়ে স্ত্রী সোনিয়ার হাত-পা বেঁধে মাথার চুল কেটে দেন।

দুই শিশুসন্তান আবু রায়হান (৮) এবং আবু মুছার (৪) এই নির্যাতনের সাক্ষী হয় এবং তাদের সামনে রাতভর এই ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার সকালে গৃহবধূর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে পুলিশের কাছে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘরের তালা ভেঙে সোনিয়া ও তার দুই সন্তানকে উদ্ধার করে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত নাজমুলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। আহত সোনিয়াকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ সোনিয়া জানান, স্বামী নেশা করে বাড়িতে এসে অল্প বিষয়ে তাকে মারধর করতেন। সোমবার রাতে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে দুই শিশুসন্তানের সামনে তার হাত-পা বেঁধে চুল কেটে রাতভর নির্যাতন করা হয়। তিনি বলেন, "আমি এর বিচার চাই।"

অফিসে আটক নাজমুল পুলিশকে এমন কথা জানান যে, স্ত্রী পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তার হাত-পা বেঁধে চুল কেটে দেন, যাতে তিনি চলে যেতে না পারেন।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মাতুব্বর জানান, নাজমুল একজন মাদকসেবী। তিনি প্রায়ই মাদক সেবন করে স্ত্রীকে মারধর করেন।

সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোন্দকার আরঙ্গজেব বলেন, "খবর পেয়ে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ ও তার দুই সন্তানকে উদ্ধার করি এবং অভিযুক্ত নাজমুলকে আটক করে মুকসুদপুর থানায় পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী মামলা করলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এসএসসি জানুয়ারিতে, এইচএসসি জুনে নেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫৭ পি.এম


এসএসসি জানুয়ারিতে, এইচএসসি জুনে নেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে জানুয়ারিতে এসএসসি এবং জুন মাসে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে এ পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী।

সংসদে এমপি লুৎফুর রহমান জানতে চান, আগামী শিক্ষাবর্ষের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণের সময় বর্তমান সময় থেকে পরিবর্তন করা হবে কিনা। যদি পরিবর্তন হয় তাহলে কখন হবে? এই প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার পাবলিক পরীক্ষাসমূহের সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা জানুয়ারি মাসে এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষাও জুন মাসে গ্রহণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

জনাব ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানালেন, পর্যায়ক্রমে ভবিষ্যতে পাবলিক পরীক্ষা আরো আগাম সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসন, ত্রাণ ও স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে: ত্রাণমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫৭ পি.এম


সরকার বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসন, ত্রাণ ও স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে: ত্রাণমন্ত্রী

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন, ত্রাণ ও স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে সরকার।

আজ, সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

তাঁর মতে, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, কিন্তু বর্তমানে অনেক এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সংঘটিত সভায় স্বাস্থ্য, কৃষি ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সভায় বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন, কৃষিখাতের ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন, স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা ও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত পুনর্নির্মাণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দ্রুত পুনর্বাসন নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, দেশে সাতটি জেলা ও সিলেটসহ মোট আটটি জেলার ৫৯টি উপজেলা, ৩৬৮টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসেবে জানা গেছে প্রায় ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১টি পরিবার ক্ষতির মুখে রয়েছে।

এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, যাদের অধিকাংশই পাহাড়ধসে প্রাণ হারিয়েছেন।

মন্ত্রী জানালেন, দুর্গত এলাকায় জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যেই ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ও ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত জেলায় অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে রান্না করা খাবার ও শুকনা খাবার সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রমে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও কোস্টগার্ডকে নিয়োজিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে স্পিডবোট ও রাবার বোট পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে দেওয়া হয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর মহাসড়ক ও সড়ক মেরামত করবে। স্থানীয়政府 বিভাগের আওতায় অবকাঠামো দ্রুত সংস্কার করা হবে।

তিনি জানান, গ্রামীণ কাঁচা সড়ক সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দুর্গত এলাকায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু রাখা হবে।

এ সময় ত্রাণমন্ত্রী আরও বলেন, বন্যা-পরবর্তী সময়ে পানিবাহিত রোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে। কৃষিখাতের ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করে কৃষকদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মন্ত্রী যোগ করেন, চলতি বছরের এই বন্যা চট্টগ্রাম অঞ্চলের অন্যতম ভয়াবহ দুর্যোগ। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

আসাদুল হাবিব দুলু জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিনি বুধবার থেকে বন্যাকবলিত এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন শুরু করবেন। এদিন তিনি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিক্ষুব্ধ এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের যে আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০০ পি.এম


বিক্ষুব্ধ এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের যে আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, "শিক্ষার্থীদের অনুরোধ যার যার পড়ার টেবিলে ফিরে যাক"। আইনের সঠিকভাবে পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে আমরা তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। শিক্ষামন্ত্রী আশ্বাস দিচ্ছেন, যেসব কেন্দ্রে ভুল-ত্রুটি ঘটেছে সেখানে পুনরায় পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এদিন শফিকুল ইসলাম মাসুদ শিক্ষামন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন, গতকাল যেসব এইচএসসি পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের বিশেষ মূল্যায়ন সহায়তা ব্যবস্থা এবং যেসব কেন্দ্র এখনো পানির নিচে, সেসব বিষয়ে বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কি না, একই সঙ্গে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফেরাতে সরকারের কী পরিকল্পনা রয়েছে?

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, বর্ষা মৌসুমে পরীক্ষা নিয়ে আমরা সকলেই উদ্বিগ্ন। আমরা সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ে ছিলাম এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পরীক্ষার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। যেসব কেন্দ্রের পানি উঠেছে, তাৎক্ষণিকভাবে আমরা সেসব কেন্দ্র সরিয়ে দিয়েছি। স্থানীয় প্রশাসনকে ঐ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এ যাবৎ শুধুমাত্র কুমিল্লা সরকারি কলেজের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাছাড়া অন্যান্য যেসব গুটি কয়েক কেন্দ্রে সমস্যা হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্র পাল্টানো হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, "আমরা মনে করি, যেসব শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের শুধরে দেয়া বিরাট কোন কাজ নয়। কারণ আমরা অনেক জায়গায় পরীক্ষা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি, আবার তাদের পরীক্ষা নিতে হবে।"

মিন্টো আরও জানান, আমরা পর্যলোচনা করছি এবং যদি কোথাও প্রশাসনের দুর্বলতার কারণে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ওঠার ফলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে না পারে, সেক্ষেত্রে আমরা পুনরায় পরীক্ষা নিতে পারি।

এসময় শিক্ষামন্ত্রী যে তথ্য দিয়েছেন, তাতে বর্ষা মৌসুম এড়াতে পরীক্ষা কীভাবে এগিয়ে নেয়া যায়, সে সম্পর্কে সরকার কাজ করছে। ২০২৭ সালে এসএসসি থেকে বেজ নিয়ে ধীরে ধীরে পরীক্ষার সিলেবাস পাশাপাশি এগিয়ে আনার পরিকল্পনা করছেন। এ বছরও পরীক্ষার সময় এক মাস এগিয়ে নেয়া হয়েছে এবং ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে শিক্ষাবর্ষ আনার প্রচেষ্টা চলছে। সিলেবাস কীভাবে শেষ করবে সেই বিষয়টিও আমাদের মাথায় রাখতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%