ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রাণনাশের হুমকির মুখে নেতানিয়াহুর বড় ছেলে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ইসরায়েলে


প্রাণনাশের হুমকির মুখে নেতানিয়াহুর বড় ছেলে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ইসরায়েলে

প্রাণনাশের হুমকির মুখে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বড় ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমানে করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা ‘শিন বেট’ এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

তারা জানায়, ইয়াইর ওপর হামলার উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি ছিল। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তাকে এবং তার নিরাপত্তা দলকে জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নিয়ে ইসরায়েলে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সংস্থাটি হুমকির উৎস সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানায়নি।

এর আগে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রচারমাধ্যম ‘নিউজম্যাক্স’ জানিয়েছিল, গত ডিসেম্বরে ফ্লোরিডায় অবস্থানকালে ইয়াইর নেতানিয়াহু ইরানের একটি কথিত গুপ্তহত্যা পরিকল্পনার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিলেন। নিউজম্যাক্স যুক্তরাষ্ট্রের একজন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, কথিত এই ষড়যন্ত্রের বিষয়টি জানার পর ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মার্কিন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অবহিত করেছিল।

আরও পড়ুন: মালদ্বীপের স্পিকারের সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ, আলোচনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলের ‘চ্যানেল ১৪’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ইরান আমার এক ছেলেকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। তারা আমার এক ছেলেকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল। এমন মন্তব্যের পরই এই প্রতিবেদনটি সামনে আসে।

নিউজম্যাক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি নিরাপত্তা দলের সার্বক্ষণিক পাহারায় থাকা  ইয়াইর নেতানিয়াহুকে অবিলম্বে ওই এলাকা ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তিনি নিজের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ছাড়াই সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন এবং সরাসরি ইসরায়েলে ফিরে যান।

নেতানিয়াহুর বড় ছেলে বেশ কয়েক বছর ধরে ফ্লোরিডায় বসবাস করছেন। ‘দ্য টাইমস অফ ইসরায়েল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং রাষ্ট্রীয় খরচে পাওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইসরায়েলে বারবার জনদৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলার পরও তার যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান অনেক ইসরায়েলি নাগরিকের সমালোচনার জন্ম দেয়।

ইসরায়েলি সংবাদপত্রটির তথ্যমতে, লাখ লাখ ইসরায়েলি রিজার্ভ সেনাকে যখন তলব করা হয়েছিল, তখন নেতানিয়াহুর ছেলের বিদেশে অবস্থান নিয়ে অনেকেই ‘দ্বিমুখী আচরণের’ প্রশ্ন তুলেছিলেন। ডানপন্থী কর্মী ও পডকাস্টার হিসেবে পরিচিত ইয়াইর নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয়।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ ঢাকা সেনানিবাসে সফলভাবে সম্পন্ন

তিনি প্রায়ই ইসরায়েলি রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করেন এবং তার বাবার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, সরকারের সমালোচক ও সাংবাদিকদের তীব্র আক্রমণ করে কথা বলেন।

সূত্র: আলজাজিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক দিনে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ আক্রান্ত, মৃত্যু ৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০০ পি.এম


এক দিনে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ আক্রান্ত, মৃত্যু ৩

দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৭ জন, যা এ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ আক্রান্ত। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।  

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু আগস্ট মাসেই মারা গেছেন ৩৯ জন। এ ছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে জানানো হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০৯৭ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৬৮৩ জনে। 

এতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন ৭৯৩ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩২ হাজার ১৮৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ৪৫৯ জন। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ২৪৩ জন, বরিশালে ১২৩, চট্টগ্রামে ১১৬, ময়মনসিংহে ৮১ এবং রাজশাহীতে ৭৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাধ্যমিকের প্রধান শিক্ষকদের জরুরি নির্দেশনা দিল মাউশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০২ পি.এম


মাধ্যমিকের প্রধান শিক্ষকদের জরুরি নির্দেশনা দিল মাউশি

মাধ্যমিকের প্রধান শিক্ষকদের মাউশির জরুরি নির্দেশনা

 

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশনা দিয়েছে যে, পিডিএসে (ব্যক্তিগত তথ্য বিবরণী) হোয়াটসঅ্যাপ সুবিধাসম্পন্ন মোবাইল নম্বর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সম্প্রতি, মাউশির মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইংয়ের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

 

রবিবার (৩০ আগস্ট) এই নির্দেশনা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।

মাউশির মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইংয়ের উপ-পরিচালক মো. ফিরোজুল ইসলামের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ‘ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম’ (ডিএমএস) অ্যাপের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে লাইভ মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বেশিরভাগ প্রধান শিক্ষকের পিডিএসে সংরক্ষিত মোবাইল নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ সক্রিয় নেই, যার ফলে মাঠপর্যায়ের লাইভ মনিটরিং কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এ অবস্থায়, যেসব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পিডিএসে উল্লেখিত মোবাইল নম্বরটি হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে উপযোগী নয়, তাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে যে, আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ সুবিধাযুক্ত নম্বর দ্বারা পিডিএসে আপডেট করতে হবে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষিকা মায়ের কফিন ছুঁয়ে মেয়ের প্রশ্ন, ‘এখন কাকে মা ডাকবো?’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০৪ পি.এম


শিক্ষিকা মায়ের কফিন ছুঁয়ে মেয়ের প্রশ্ন, ‘এখন কাকে মা ডাকবো?’

চোখের চিকিৎসা করাতে স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় গিয়েছিলেন রনজিলা পারভীন রুলি। পরিকল্পনা ছিল, চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে শনিবার রাতেই বগুড়ার বাসায় ফিরে আসবেন। বাড়িতে অপেক্ষা করছিলেন তার একমাত্র মেয়ে রাইসা আক্তার। তবে মেয়ের সঙ্গে আর কথা বলা হলো না পারভীনের।

শনিবার (২৯ আগস্ট) ভোরে ঢাকায় নেমে গাবতলী থেকে রিকশায় ফার্মগেটের খামারবাড়ির ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যাওয়ার পথে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে পেছন থেকে মোটরসাইকেলে আসা এক ছিনতাইকারী তার ব্যাগ ধরে টান দেয়। 

এ সময় পড়ে গিয়ে তার মাথা ফেটে যায়। পরে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রাতে বগুড়া শহরের রহমাননগর এলাকার ভাড়া বাসায় যখন রুলির মরদেহ পৌঁছায়, তখন কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। নবম শ্রেণির ছাত্রী রাইসা বারবার মায়ের মরদেহের কাছে গিয়ে বিলাপ করতে থাকেন। তার মুখে একটাই কথা, ‘এখন কাকে মা ডাকব?’

মেয়ের এই আর্তনাদে স্বজনদের কান্না যেন আরও বেড়ে যায়। তাকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে নিজেরাই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি অনেকে। কিছুক্ষণ পরপর মাকে ডেকে আহাজারি করতে করতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলছিলেন রাইসা।

রনজিলা পারভীন রুলি ছিলেন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে স্বামী আবদুল মতিনের সঙ্গে ঢাকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

শুক্রবার রাতে বগুড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন তারা। শনিবার সকালে ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনালে পৌঁছান। সেখান থেকে রিকশায় করে ফার্মগেট এলাকার ইস্পাহানী ইসলামিয়া আই ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে যাওয়ার কথা ছিল তাদের।

চিকিৎসা শেষে সেদিন রাতেই বগুড়ায় ফেরার পরিকল্পনা ছিল রুলির। কারণ, পরদিন রবিবার তাকে স্কুলে যেতে হবে। ছুটি না নিয়েই তিনি ঢাকায় গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না।

চোখের চিকিৎসা করাতে ঢাকায় যাওয়া একজন শিক্ষিকার জন্য কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরিণতিটা এমন হবে, তা হয়তো কেউ কল্পনাও করেননি।

বগুড়ার রহমাননগরের বাসায় মায়ের ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন রাইসা। মায়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল গভীর। রাইসার ভাষায়, তারা কেউ কাউকে ছাড়া থাকতে পারতেন না।

রাইসা বলেন, তিনিও মায়ের সঙ্গে ঢাকায় যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মা তাকে বুঝিয়েছিলেন, চিকিৎসককে দেখিয়েই শনিবার রাতে তারা ফিরে আসবেন। তাই তাকে চিন্তা না করতে বলেছিলেন রুলি।

মায়ের সেই আশ্বাসই এখন মেয়েটির কাছে সবচেয়ে বড় কষ্টের স্মৃতি। রাইসা বলেন, মা এখন আর ফিরে আসবে না। এখন কাকে মা বলে ডাকব? এই প্রশ্নের কোনও উত্তর নেই স্বজনদের কাছেও।

রনজিলা পারভীন রুলি ছিলেন তিন বোনের মধ্যে মেজ। তার মা জোবেদা খাতুন বলেন, রুলি তাকে খুব ভালোবাসতেন। স্কুল ছুটি পেলেই মাকে দেখতে যেতেন।

রুলির স্বামী আবদুল মতিনের জন্যও এই ঘটনা যেন এক মুহূর্তে সবকিছু বদলে দিয়েছে। চোখের চিকিৎসার জন্য যে স্ত্রীকে নিয়ে তিনি ঢাকায় এসেছিলেন, সেই স্ত্রীকেই হারিয়ে ফিরতে হয়েছে তাকে।

আবদুল মতিন বলেন, যারা তার মেয়েকে মা-হারা এবং তাকে স্ত্রীহারা করেছে, তাদের ফাঁসি চান তিনি। তার আকুতি, তার মতো আর কোনও বাবা ও স্বামী যেন এমন নির্মম ঘটনার শিকার না হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুষ্টিয়ায় নেই নিজস্ব ডুবুরি, উদ্ধারকাজে ভরসা ১৫০ কিমি দূরের খুলনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০৫ পি.এম


কুষ্টিয়ায় নেই নিজস্ব ডুবুরি, উদ্ধারকাজে ভরসা ১৫০ কিমি দূরের খুলনা

ছোট-বড় মিলিয়ে কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে অন্তত আটটি নদ-নদী। এসব নদীর সঙ্গে মানুষের জীবন-জীবিকা ও চলাচল ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আবার এই নদীতে হরহামেশাই ঘটছে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা। অথচ এমন একটি জেলায় ফায়ার সার্ভিসের নিজস্ব কোনো প্রশিক্ষিত ডুবুরিদল নেই।

ফলে নদীতে কেউ নিখোঁজ হলে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের খুলনা থেকে ডুবুরিদল আসার জন্য স্বজনদের অপেক্ষা করতে হয়। ফোন বা বার্তা পেয়ে দলটি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পেরিয়ে যায় গুরুত্বপূর্ণ সময়। এতে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা কমে যাওয়ার পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারে দীর্ঘ সময় লেগে যায়।

আগস্ট মাসেই কুষ্টিয়ার বিভিন্ন নদীতে ডুবে অন্তত ৪ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। অধিকাংশ ঘটনায় স্বজনদের ও ফায়ার সার্ভিসকে ডুবুরি দলের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। সর্বশেষ তেমনই একটি ঘটনা ঘটে গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার ভাগজোত ঘাটে।

এদিন পদ্মা নদীতে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় মাদ্রাসাছাত্র মোস্তাকিম হোসেন (১২)। স্থানীয়রা এ সময় এক শিক্ষার্থীকে জীবিত উদ্ধার করে। তবে মোস্তাকিমকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। কুষ্টিয়ায় নিজস্ব কোনো ডুবুরি দল না থাকায় ওই দিন উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়।

মোস্তাকিমের মা শিউলি খাতুন বলেন, ‘আমার ছেলে ছুটির দিনে বন্ধুদের সঙ্গে নদীর পাড়ে খেলতে গিয়ে ডুবে গেল। এখনো ছাওয়ালটার খোঁজ পেলাম না। খুলনা থেকে লোক আসবে, তারপর উদ্ধার হবে এই অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।’ পরে খুলনা থেকে ডুবুরি দল পৌঁছালে শনিবার সকালে পদ্মা নদী থেকে মোস্তাকিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সামাজিক সংগঠন ‘মানুষ মানুষের জন্য’-এর প্রতিষ্ঠাতা সাহাব উদ্দীন মিলন বলেন, ‘যে জেলায় পদ্মা ও গড়াইয়ের মতো প্রমত্ত নদী রয়েছে, সেখানে স্থায়ী ডুবুরি দল না থাকা হতাশাজনক। অবিলম্বে কুষ্টিয়া জেলায় স্থায়ী ডুবুরি দল নিয়োগ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর ফায়ার স্টেশনে প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জাম নিশ্চিত করা দরকার।’

পদ্মাপাড়ের বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘নদীতে কেউ নিখোঁজ হলে স্বজনেরা একদিকে প্রিয়জনকে হারানোর শঙ্কায় থাকেন, অন্যদিকে কখন উদ্ধারকারী দল আসবে, সেই অপেক্ষাও করতে হয়। স্থানীয়রা নৌকা, জাল ও দেশীয় সরঞ্জাম নিয়ে চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রশিক্ষিত ডুবুরি ও আধুনিক সরঞ্জামের বিকল্প তারা হতে পারেন না।’

কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ওয়াদুদ হোসেন বলেন, ‘কুষ্টিয়ায় নৌ-দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক বেশি। জেলা পর্যায়ে আলাদা ডুবুরি দল না থাকায় বিভাগীয় শহর খুলনার ওপর নির্ভর করতে হয়। খবর পাঠালে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে তাদের কুষ্টিয়া এসে পৌঁছাতে ৬-৮ ঘণ্টা সময় লাগে। প্রতিটি দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে খুলনার ডুবুরি দলের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে আমাদেরকে জনগণের তোপের মুখে পড়তে হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘জেলার ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ডুবুরি দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি পাঠিয়েছি। কিন্তু এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%