০৭:০৪ পি.এম
চোখের চিকিৎসা করাতে স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় গিয়েছিলেন রনজিলা পারভীন রুলি। পরিকল্পনা ছিল, চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে শনিবার রাতেই বগুড়ার বাসায় ফিরে আসবেন। বাড়িতে অপেক্ষা করছিলেন তার একমাত্র মেয়ে রাইসা আক্তার। তবে মেয়ের সঙ্গে আর কথা বলা হলো না পারভীনের।
শনিবার (২৯ আগস্ট) ভোরে ঢাকায় নেমে গাবতলী থেকে রিকশায় ফার্মগেটের খামারবাড়ির ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যাওয়ার পথে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে পেছন থেকে মোটরসাইকেলে আসা এক ছিনতাইকারী তার ব্যাগ ধরে টান দেয়।
এ সময় পড়ে গিয়ে তার মাথা ফেটে যায়। পরে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: ভাণ্ডারিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত
রাতে বগুড়া শহরের রহমাননগর এলাকার ভাড়া বাসায় যখন রুলির মরদেহ পৌঁছায়, তখন কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। নবম শ্রেণির ছাত্রী রাইসা বারবার মায়ের মরদেহের কাছে গিয়ে বিলাপ করতে থাকেন। তার মুখে একটাই কথা, ‘এখন কাকে মা ডাকব?’
মেয়ের এই আর্তনাদে স্বজনদের কান্না যেন আরও বেড়ে যায়। তাকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে নিজেরাই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি অনেকে। কিছুক্ষণ পরপর মাকে ডেকে আহাজারি করতে করতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলছিলেন রাইসা।
রনজিলা পারভীন রুলি ছিলেন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে স্বামী আবদুল মতিনের সঙ্গে ঢাকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
শুক্রবার রাতে বগুড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন তারা। শনিবার সকালে ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনালে পৌঁছান। সেখান থেকে রিকশায় করে ফার্মগেট এলাকার ইস্পাহানী ইসলামিয়া আই ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে যাওয়ার কথা ছিল তাদের।
আরও পড়ুন: ভাণ্ডারিয়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, র্যালি ও সমাবেশ
চিকিৎসা শেষে সেদিন রাতেই বগুড়ায় ফেরার পরিকল্পনা ছিল রুলির। কারণ, পরদিন রবিবার তাকে স্কুলে যেতে হবে। ছুটি না নিয়েই তিনি ঢাকায় গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না।
চোখের চিকিৎসা করাতে ঢাকায় যাওয়া একজন শিক্ষিকার জন্য কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরিণতিটা এমন হবে, তা হয়তো কেউ কল্পনাও করেননি।
বগুড়ার রহমাননগরের বাসায় মায়ের ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন রাইসা। মায়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল গভীর। রাইসার ভাষায়, তারা কেউ কাউকে ছাড়া থাকতে পারতেন না।
রাইসা বলেন, তিনিও মায়ের সঙ্গে ঢাকায় যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মা তাকে বুঝিয়েছিলেন, চিকিৎসককে দেখিয়েই শনিবার রাতে তারা ফিরে আসবেন। তাই তাকে চিন্তা না করতে বলেছিলেন রুলি।
আরও পড়ুন: নাটোরের বড়াইগ্রামে প্রাচীন রামাগাড়ী কাচারীঘরের জমি অবৈধ দখলের অভিযোগ, বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্য
মায়ের সেই আশ্বাসই এখন মেয়েটির কাছে সবচেয়ে বড় কষ্টের স্মৃতি। রাইসা বলেন, মা এখন আর ফিরে আসবে না। এখন কাকে মা বলে ডাকব? এই প্রশ্নের কোনও উত্তর নেই স্বজনদের কাছেও।
রনজিলা পারভীন রুলি ছিলেন তিন বোনের মধ্যে মেজ। তার মা জোবেদা খাতুন বলেন, রুলি তাকে খুব ভালোবাসতেন। স্কুল ছুটি পেলেই মাকে দেখতে যেতেন।
রুলির স্বামী আবদুল মতিনের জন্যও এই ঘটনা যেন এক মুহূর্তে সবকিছু বদলে দিয়েছে। চোখের চিকিৎসার জন্য যে স্ত্রীকে নিয়ে তিনি ঢাকায় এসেছিলেন, সেই স্ত্রীকেই হারিয়ে ফিরতে হয়েছে তাকে।
আবদুল মতিন বলেন, যারা তার মেয়েকে মা-হারা এবং তাকে স্ত্রীহারা করেছে, তাদের ফাঁসি চান তিনি। তার আকুতি, তার মতো আর কোনও বাবা ও স্বামী যেন এমন নির্মম ঘটনার শিকার না হন।
আরও পড়ুন: ত্রিশালে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসে র্যালি ও দোয়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন