বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:০২ পি.এম
চীনের ইনার মঙ্গোলিয়ার উলাঙ্কাব অঞ্চলটি পূর্বে দেশের "আলুর রাজধানী" হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে বর্তমানে বিস্তৃত আলু ক্ষেতের পাশেই দাঁড়িয়ে যাচ্ছে বিশালাকার রেক্ট্যাঙ্গুলার ভবনগুলো, যা চীনকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিশ্বে শীর্ষে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রধান জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে।
উলাঙ্কাবের বিস্তীর্ণ প্রান্তরজুড়ে কর্মচাঞ্চল্যের এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। শত শত নির্মাণ শ্রমিক ভারী যন্ত্রপাতি বহন করছেন, আর আকাশে উড়ছে বিশাল সব ক্রেন। কাজের গতি দেখে এক প্রকৌশলী হাসতে হাসতে মন্তব্য করেন, "এটাই চীনের গতি (China Speed)। আমরা তো অবকাঠামো তৈরির পাগল!" চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ৯৯ শতাংশ শিল্প ও দৈনন্দিন জীবনে এআই প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার যে বিশাল পরিকল্পনা করেছে, এই ডেটা সেন্টারগুলো তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
যুক্তরাষ্ট্র-চীন সংঘাত ও প্রযুক্তির লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে উলাঙ্কাব, নিংশিয়া, গ্যানসু এবং গুইঝৌ-এর মতো অপেক্ষাকৃত শীতল ও কম জনবহুল অঞ্চলগুলোতে হুয়াওয়ে, বাইটড্যান্স এবং ডিপসিকের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের জন্য শত শত ডেটা সেন্টার গড়ে তোলা হচ্ছে। এই অবকাঠামোগত বিপ্লব ঘটছে ঠিক তখন, যখন ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এআই নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা নিয়ে বৈঠকে বসছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে যে, চীন যেভাবে এআই ক্ষেত্রে অগ্রসর হচ্ছে, তা তাদের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের এই আশঙ্কাকে "স্নায়ুযুদ্ধের পুরোনো মানসিকতা" হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। বেইজিং এখন শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের পেছনে দৌড়াচ্ছে না, বরং একটি ভিন্ন মডেল দাঁড় করাচ্ছে—ওপেন-সোর্স এআই, যা কম খরচে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন দেশ নিজেদের মতো ব্যবহার করতে পারে। এর ফলে মার্কিন চিপ নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও চীন দ্রুত উদ্ভাবন নিশ্চিত করতে সক্ষম হচ্ছে।
মেধার প্রত্যাবর্তন ও সবুজ শক্তির ব্যবহারও এই প্রক্রিয়ার অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি ও রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে অনেক তরুণ চীনা গবেষক ও প্রকৌশলী আমেরিকা ছেড়ে নিজ দেশে ফিরে আসছেন। ইয়েল ও কেমব্রিজে পড়াশোনা করা চীনা গবেষক জ্যাক ঝাং বলেন, "বিদেশে কাজের সম্পদ বা সরকারের সরাসরি সহায়তা পাওয়া কঠিন। চীনে সেই সুযোগ অনেক বেশি।" চীন প্রতি বছর প্রায় ৫০ লাখ সায়েন্স ও টেকনোলজি গ্র্যাজুয়েট তৈরি করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ।
এছাড়া এসব ডেটা সেন্টারের বিশাল বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে বাতাস ও সৌরশক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এখনও অনেক জায়গায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা রয়েছে এবং পানির সংকট নিয়ে কিছু পরিবেশগত উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
প্রযুক্তির এই জোয়ারে যেমন স্বপ্ন আছে, তেমনি রয়েছে একশ্রেণীর মানুষের সংশয়। ডেটা সেন্টারের জন্য অনেককে বসতভিটা ছাড়তে হলেও স্থানীয়রা সরাসরি কোনো সুবিধা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ অনেকের।
আলু ক্ষেতে কর্মরত ঝাং নামের এক প্রবীণ কৃষক গর্ব করে বলেন, "চীন এখন বিশ্বের শীর্ষে। আমার সন্তানরা এখানে কাজ পেয়েছে।" কিন্তু ভেড়া চড়াতে যাওয়া অন্য এক বয়স্ক কৃষক ক্ষোভের সাথে বলেন, "বিগ ডেটা বা এআই—এসব সাধারণ মানুষের কোনো কাজে আসে না। আমার ভাঙা ফোনে ইন্টারনেটের দাম দেওয়া ছাড়া কোনো পরিবর্তন আসেনি।"
সব মিলিয়ে, চীনের অর্থনীতি বর্তমানে কিছুটা ধীরগতির হলেও এবং সাধারণ জনগণের এক অংশের মাঝে হতাশা থাকলেও, শি জিনপিংয়ের বিশ্বজয়ের এই প্রযুক্তি-সংগ্রাম দমানো কঠিন। উলাঙ্কাবের এই বিশাল ডেটা সেন্টারগুলোই বলে দিচ্ছে—ভবিষ্যতের এআই দুনিয়ায় চীন তার আধিপত্য ধরে রাখতে পুরোপুরি প্রস্তুত। সূত্র: বিবিসি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে সিগারেটের ফিল্টার তৈরির অন্যতম প্রধান কাঁচামাল সেলুলোজ অ্যাসিটেট টো অবৈধভাবে আমদানি করে বিক্রি বা হস্তান্তরের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির সম্ভাবনা উদঘাটন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি)।
সিআইসির ঝুঁকিভিত্তিক যাচাই ও হস্তক্ষেপের মাধ্যমে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের একটি চালানের খালাস স্থগিত করে ১৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে, ওই চালানের অ্যাসিটেট টো যদি স্থানীয়ভাবে সিগারেট উৎপাদনে ব্যবহার করা হতো, তাহলে প্রায় ৩২৪ কোটি টাকা রাজস্ব সংশ্লিষ্ট হতে পারত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আজ এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সিগারেটের ফিল্টার তৈরিতে ব্যবহৃত সেলুলোজ অ্যাসিটেট টো সম্পূর্ণরূপে আমদানিনির্ভর কাঁচামাল। সম্প্রতি বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের মাধ্যমে এ পণ্যের আমদানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এর প্রকৃত ব্যবহার, আমদানির পরবর্তী সরবরাহ এবং ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তথ্য বিশ্লেষণ শুরু করে সিআইসি।
তথ্য বিশ্লেষণে ইউনিক ট্রেডার্স (বিআইএন: ০০৭৫২২৮০১-০২০২) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অ্যাসিটেট টো আমদানির বিষয়টি সিআইসির নজরে আসে। প্রতিষ্ঠানটির আমদানিকৃত পণ্য কোথায় সরবরাহ করা হচ্ছে তা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট ভ্যাট বিভাগে তথ্য চাওয়া হয়।
ভ্যাট বিভাগ জানায়, প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধিত ঠিকানায় কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে না এবং নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন ও সংশ্লিষ্ট দলিলাদি দাখিল করছে না। ফলে প্রতিষ্ঠানটিকে অস্তিত্বহীন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
সিআইসির যাচাইয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের মাধ্যমে বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-১২০৪৭১০, তারিখ ১৮ আগস্ট ২০২৬-এর মাধ্যমে দুই কনটেইনারে মোট ৪৮ হাজার ১৪৩ কেজি অ্যাসিটেট টো আমদানি করেছে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব না থাকার তথ্য পাওয়ার পর সরকারের রাজস্ব সুরক্ষার স্বার্থে চালানটির খালাস স্থগিত করা হয়। পরে চালানটিতে আমদানি পর্যায়ের ১৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা হয়।
সিআইসি জানায়, আমদানি পর্যায়ের রাজস্ব ছাড়াও এ পণ্যের স্থানীয় ব্যবহারের সঙ্গে আরও বড় অঙ্কের রাজস্ব সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।
সিগারেট উৎপাদনকারী দুটি প্রতিষ্ঠানের মূসক-৪.৩-এ উল্লেখিত উপকরণ-উৎপাদ সহগ বিশ্লেষণ করে সিআইসি দেখতে পায়, প্রতি এক কেজি অ্যাসিটেট টো থেকে প্রায় ৮ হাজার ৯৩৭ শলাকা সিগারেট উৎপাদন করা সম্ভব। সে হিসাবে ৪৮ হাজার ১৪৩ কেজি অ্যাসিটেট টো দিয়ে প্রায় ৪৩ কোটি ২ লাখ ৫৪ হাজার শলাকা সিগারেট উৎপাদন করা সম্ভব। ১০ শলাকার প্রতি প্যাকেট হিসেবে এ পরিমাণ কাঁচামাল দিয়ে প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ ২৫ হাজার প্যাকেট সিগারেট উৎপাদন করা যেত।
মাঝারি শ্রেণির সিগারেটের প্রতি প্যাকেটের খুচরা মূল্য ৯২ টাকা এবং স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে মূসক ও সম্পূরক শুল্কসহ প্রযোজ্য রাজস্বের হার প্রায় ৮২ শতাংশ বিবেচনায় নিলে এসব সিগারেটের সঙ্গে প্রায় ৩২৪ কোটি টাকা রাজস্ব সংশ্লিষ্ট হতে পারে বলে প্রাথমিক হিসাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া, উচ্চ শ্রেণির সিগারেটের ক্ষেত্রে একই হিসাব অনুযায়ী সম্ভাব্য রাজস্ব সংশ্লিষ্টতার পরিমাণ প্রায় ৫৬৪ কোটি টাকা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
সিআইসির তথ্য বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইউনিক ট্রেডার্স আলোচ্য চালানসহ মোট ৩ লাখ ৬২ হাজার ৮৩৭ কেজি অ্যাসিটেট টো আমদানি করেছে।
এনবিআর জানায়, অ্যাসিটেট টো আমদানির তথ্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আরও চারটি প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পাওয়া গেছে, যাদের নিবন্ধিত ঠিকানায় বাস্তব ব্যবসায়িক কার্যক্রম না থাকার তথ্য সংশ্লিষ্ট ভ্যাট বিভাগ থেকে পাওয়া গেছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে সিআইসির কাছে প্রতীয়মান হয়েছে, কিছু প্রতিষ্ঠান নামমাত্র নিবন্ধন নিয়ে উচ্চ রাজস্ব সংশ্লিষ্ট অ্যাসিটেট টো আমদানি করে পরবর্তীতে তা অবৈধভাবে বিক্রি বা হস্তান্তর করে থাকতে পারে।
বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানের আমদানিকৃত অ্যাসিটেট টোর প্রকৃত ব্যবহারকারী, সরবরাহের গন্তব্য, বিক্রয়, আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে।
এনবিআর সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেটগুলোকে অ্যাসিটেট টোর সরবরাহ চেইন যাচাই করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে।
সিআইসির এ উদ্যোগের ফলে একটি চালান থেকে ১৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা আমদানি পর্যায়ের রাজস্ব আদায় নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রায় ৩২৪ কোটি টাকার রাজস্ব ঝুঁকি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোর সীমান্তে অভিযান পরিচালনা করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৩৫টি শাড়ি, থ্রি-পিস, কম্বল, ফুচকা, জিরা, কিসমিস, চকলেট ও কসমেটিকসসহ প্রায় ৩ লাখ ৮১ হাজার ৩০০ টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক করেছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) অধীনে বেনাপোল আইসিপির টহলদল সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে এসব পণ্য আটক করে।
বিজিবি জানায়, অভিযানের সময় ৩৫টি শাড়ি, দুটি থ্রি-পিস, দুটি কম্বল, ৯ প্যাকেট ফুচকা, ৫০০ গ্রাম জিরা, ১ দশমিক ৫ কেজি কিসমিস, ২৪০টি চকলেট ও ৭০টি কসমেটিকস সামগ্রী আটক করা হয়েছে। আটককৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ৮১ হাজার ৩০০ টাকা।
যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি জানান, মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি পণ্যসহ পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে সীমান্ত এলাকায় বিশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাদক ও বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হচ্ছে। সীমান্তে বিজিবির এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোরে পৃথক অভিযানে পুলিশ যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের তিন নেতাকে আটক করেছে। মঙ্গলবার রাত এবং বুধবার দুপুরে জেলার বিভিন্ন স্থানে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করার পর বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন যশোর সদর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুজ্জামান, শহরের ষষ্ঠীতলা এলাকার আশিকুজ্জামান এবং চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলী ইউনিয়নের গরীবপুর গ্রামের আব্দুস সামাদ বিশ্বাস (৬০)।
কোতোয়ালি থানার এসআই জিএম ইমরান হোসাইন রাজু জানিয়েছেন, শহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে যুবলীগের বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। গত ২৮ আগস্ট সন্ধ্যায় শহরের কাঠালতলা এলাকায় যুবলীগের নেতাকর্মীদের মিছিলের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। শহিদুজ্জামান বালিয়া-ভেকুটিয়া গ্রামের মৃত শাহাদত হোসেনের ছেলে এবং তার বিরুদ্ধে আগে আরও চারটি মামলা রয়েছে।
অন্যদিকে, কোতোয়ালি থানার এসআই রেজাউল করিম জানিয়েছেন, ষষ্ঠীতলা এলাকার নুরুজ্জামানের ছেলে আশিকুজ্জামান নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট যশোর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে আটক দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, বুধবার দুপুরে চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলী ইউনিয়নের গরীবপুর এলাকা থেকে আব্দুস সামাদ বিশ্বাসকে আটক করে পুলিশ। তিনি গরীবপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হালিম বিশ্বাসের ছেলে এবং সিংহঝুলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।
পুলিশ জানায়, আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর দায়ের করা ওই মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯ (সংশোধনী-২০১৩)-এর বিভিন্ন ধারায় তাকে আসামি করা হয়েছে। আটকের পর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যার মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি অবকাঠামো, টেলিযোগাযোগ, সেমিকন্ডাক্টর, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন এবং হালাল শিল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই সঙ্গে, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের জন্য দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে ক্ল্যাং চাইনিজ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (কেসিসিআই) কর্তৃক আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বিজনেস ফোরাম: ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ বিষয়গুলো আলোচিত হয়।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) মালয়েশিয়া সফরকারী বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সৌজন্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে এসএমই করপোরেশন মালয়েশিয়ার চেয়ারম্যান ট্যাং চ্যাং খিম উপস্থিত ছিলেন।
ক্ল্যাং চাইনিজ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি জেফরি তান স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ক্ল্যাংয়ে মালয়েশিয়ার অন্যতম বৃহৎ সমুদ্রবন্দর রয়েছে এবং উন্নত লজিস্টিক সুবিধা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা মালয়েশিয়া, বিশেষ করে ক্ল্যাংয়ে বিনিয়োগের সুযোগ বিবেচনা করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়া বর্তমানে শ্রমঘন শিল্প থেকে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা সেখানে বিনিয়োগে আগ্রহী হতে পারেন।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। তবে, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে দুদেশের বেসরকারি খাতকে একযোগে কাজ করতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ। এছাড়াও, সেবা ও উৎপাদনমুখী অন্যান্য খাতও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্ভাবনাময়।
তাসকীন আহমেদ মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশের জ্বালানি অবকাঠামো, ডিজিটাল অর্থনৈতিক সেবা, টেলিযোগাযোগ, সেমিকন্ডাক্টর, হালাল খাদ্যপণ্য, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আশিয়ান অঞ্চলের অন্যান্য দেশে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়াতেও মালয়েশিয়ার সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রতিবছর বাংলাদেশিরা চিকিৎসাসেবা নিতে বিদেশে প্রায় ৪ থেকে ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করেন। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে, মালয়েশিয়ার চিকিৎসা খাতের উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বিশ্বমানের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারেন।
ডিসিসিআই সভাপতি বাংলাদেশে বিশ্বমানের পর্যটন ও হালাল শিল্পের উন্নয়নে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চান।
বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মানজুরুল করিম খান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ শুধুমাত্র জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রেই নয়, বিনিয়োগের জন্যও সম্ভাবনাময় গন্তব্য।
তিনি উল্লেখ করেন, দুদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে একটি প্রধান প্রতিবন্ধকতা হলো কোনো বাণিজ্য চুক্তি না থাকা। এ বিষয়ে দুদেশের সরকারের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
হাইকমিশনার আশা প্রকাশ করেন যে, ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, এ চুক্তি হলে দুদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশের এভিয়েশন, মেডিকেল, তথ্যপ্রযুক্তি ও অ্যাগ্রো-প্রসেসিংসহ বিভিন্ন খাতে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি, বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হালাল পণ্যের বড় বাজার রয়েছে উল্লেখ করে, দেশটির দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে কার্যকর হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সহযোগিতা চান।
হাইকমিশনার সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার জন্যও মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি এসএমই করপোরেশন মালয়েশিয়ার চেয়ারম্যান ট্যাং চ্যাং খিম বলেন, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১৩ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) রয়েছে। তিনি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার এসএমই উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, ব্যবসায়িক সহযোগিতা জোরদার এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে ঢাকা চেম্বার ও ক্ল্যাং চেম্বারকে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তারা বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে দক্ষতার সঙ্গে অংশ নিচ্ছেন এবং দেশটির অর্থনীতিতে, বিশেষ করে অবকাঠামো খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন ঢাকা চেম্বারের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী। তিনি দ্রুত এফটিএ স্বাক্ষর, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার মধ্যে হালাল অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বাড়ানো এবং বাংলাদেশের এসএমই উদ্যোক্তাদের রপ্তানি সম্প্রসারণে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বৈশ্বিক উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এদিকে, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়াতে ঢাকা চেম্বার ও ক্ল্যাং চেম্বারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এতে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ ও ক্ল্যাং চেম্বারের সভাপতি জেফরি তান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন। এছাড়াও, দুই চেম্বারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ৪০টি বিজনেস-টু-বিজনেস (বিটুবি) ম্যাচমেকিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
পরে, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ মালয়েশিয়ার পর্যটন, শিল্প ও সংস্কৃতিমন্ত্রী টিয়োং কিং সিংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতে টিয়োং কিং সিং বলেন, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় ভ্রমণকারী পর্যটকের সংখ্যা প্রতিবছর বাড়ছে। মুসলিম পর্যটন শিল্পের প্রসারে মালয়েশিয়া গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশ থেকে ভবিষ্যতে আরও বেশি পর্যটক মালয়েশিয়ায় যাবেন। একই সঙ্গে, বাংলাদেশে মুসলিম পর্যটন ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে দক্ষ জনবল তৈরি ও ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এ সময়, বাংলাদেশে বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে উন্নত হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকার বিবেচনা করছে বলেও জানান টিয়োং কিং সিং। তিনি দুদেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে ইসলামিক ট্যুরিজম সেন্টার (আইটিসি) মালয়েশিয়া এবং ঢাকা চেম্বারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তাবও দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ