০১:১৮ এম
মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার হাইকোর্টের রায়কে ঘনিষ্ঠভাবে কেন্দ্র করে ফেনীর সোনাগাজীতে নুসরাতের বাড়ি এবং পরিবারের নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। রবিবার থেকে বাড়ির নিরাপত্তা বৃদ্ধি করতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, সেই সঙ্গে আশপাশের এলাকায় নজরদারিও আরও বাড়ানো হয়েছে।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাসিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গিয়ে নুসরাতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়টি খোঁজ নেওয়া এবং বাড়ি ও আশপাশের এলাকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নুসরাতের বাড়িতে এর আগেও দুইজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে হাইকোর্টের রায়কে সামনে রেখে নতুন করে আরও সাতজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ফলে বাড়িটির নিরাপত্তার দায়িত্বে মোট নয়জন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন।
আরও পড়ুন: এবার একুশে বইমেলা শুরু ৭ জানুয়ারি
নুসরাতের বড় ভাই মো. নোমান বলেন, বাড়িতে তার মা এবং পারিবারিক অন্য সদস্যরা রয়েছেন। বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি তারা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। তারা হাইকোর্টে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. আবুল হাসিম বলেছেন, ২০১৯ সালে নুসরাত হত্যাকাণ্ডে মামলার বিচারিক আদালতের রায়ের পর থেকেই পরিবারের নিরাপত্তায় নিয়মিত পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এবার হাইকোর্টের রায়কে কেন্দ্র করে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নুসরাতকে যেভাবে হত্যা করা হয়, তা ঘটেছিল ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল। সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার ছাদে নুসরাতের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতরভাবে দগ্ধ অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ওই বছরের ২৮ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে ৬১ কার্যদিবসে ৮৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ এবং যুক্তিতর্ক শেষে মামলার বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে মাদক নিয়ে প্রতিবেদন করায় সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নুসরাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করে। এই রায়ে মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।
বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে প্রেরিত হয়েছে। একই সঙ্গে ডাণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আলাদাভাবে আপিল ও জেল আপিল করেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য গঠিত বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চে গত ২৮ জুলাই নুসরাত হত্যা মামলার শুনানি শুরু হয়। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে শুনানি শেষে ২৪ আগস্ট রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করা হয়।
এদিকে রায়কে কেন্দ্র করে নুসরাতের পরিবারের সদস্যদের সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাড়িতে এবং আশপাশের এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি সংকটিপূর্ণভাবে বাড়ানো হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী-সন্তানসহ ছয় স্বজন হারালেন নূর আলম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন