ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

সীমান্ত পেরিয়ে ইয়াবার চালান, নেপথ্যে আন্তর্জাতিক চক্র


সীমান্ত পেরিয়ে ইয়াবার চালান, নেপথ্যে আন্তর্জাতিক চক্র

বাংলাদেশে প্রবেশের আগে ভেস্তে গেল আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের একটি বড় চালান। কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের দুই মিয়ানমার নাগরিককে আটক করেছে র‌্যাব। এই সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৫ লাখ ইয়াবা।

আটক ব্যক্তিরা হলেন মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের মন্ডু থানার ভুসিডং এলাকার বাসিন্দা মোঃ সাজেদ (৩২) ও এনামুল হাসান (৩৩)।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা স্বীকার করেছে যে, তারা মিয়ানমার থেকে সাঁতার কেটে অবৈধভাবে ইয়াবার এই বিশাল চালান বাংলাদেশে নিয়ে এসেছিল। র‌্যাব জানিয়েছে, সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানের প্রতি তাদের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের কার্যক্রম রয়েছে।

আরও পড়ুন: শ্রেষ্ঠ যুব উদ্যোক্তা আলেম আমিনুল, শিক্ষকতার সঙ্গে হাঁসের খামার চালাচ্ছেন

সীমান্তের নাফ নদী, মিয়ানমার থেকে সাঁতার কেটে প্রায় ৭ জনের মতো মাদক পাচারকারী টেকনাফে অনুপ্রবেশ করছে এমন খবর পায় র‌্যাব। এই অবস্থায় বৃহস্পতিবার ভোরে টেকনাফ সাবরাং এলাকার মন্ডলপাড়ায় তারা অবস্থান নিয়েছিল।

র‌্যাব জানিয়েছে, সাঁতার কেটে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করা মিয়ানমারের নাগরিকরা। তারা র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এসময় র‌্যাব সদস্যরা ধাওয়া দিয়ে দুই জন মিয়ানমার নাগরিককে আটক করতে সক্ষম হয়। পাশাপাশি আরো ৫ জন অজ্ঞাত মাদক পাচারকারী দৌড়ে পালিয়ে যায়। আটক মাদক কারবারিদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে যে, তারা অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার এই বড় চালান নিয়ে এসেছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ৫ লাখ ইয়াবা।

কক্সবাজারস্থ র‌্যাব-১৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, টেকনাফের সাবরাংখালের দক্ষিণ পাশে মন্ডলপাড়া এলাকায় মোহাম্মদ কবির হোসেনের জমিতে ইয়াবার একটি বড় চালান দেশে প্রবেশের সময় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারিরা পালানোর চেষ্টা শুরু করে। তবে র‌্যাব সদস্যরা আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত দুই মিয়ানমার নাগরিককে আটক করতে সক্ষম হন।

তিনি আরো বলেন, আটক হওয়া দুজনের বাইরে আরও চার থেকে পাঁচজন মাদক কারবারি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা সবাই মিয়ানমারের নাগরিক। তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে তথ্য সংগ্রহ ও তদন্ত কার্যক্রম চলছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, তারা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার এই বড় চালান বাংলাদেশে নিয়ে আসে। অভিযানে মোট ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: দেশে আনা স্বর্ণের ডিম আবুধাবিতে ফেরত নেওয়ার পথে আটক

রামুতে বৃহস্পতিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, সীমান্তপথে আসা মাদকের বড় চালান স্থানীয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে, যা যুব সমাজকে অপরাধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে মাদকের বিস্তার রোধে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযানের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

কক্সবাজারস্থ র‌্যাব-১৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, র‌্যাবের প্রতিটি অভিযান নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য ও দীর্ঘ সময়ের নজরদারির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং চক্রগুলোকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, তাই এই ধরনের বড় চালান জব্দ এবং সংশ্লিষ্টদের আটক করা সম্ভব হচ্ছে। গোপন তথ্য এবং গোয়েন্দা নজরদারি ছাড়া এ ধরনের অভিযান সফল করা কঠিন।

র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক আরও বলেন, মাদকের চালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি উখিয়ার পালংখালী এলাকায় পরিচালিত অভিযানে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চলতি বছরে র‌্যাব-১৫ প্রায় ৩৫০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের অধিকাংশই মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত। তাদের মধ্যে অনেকেই পাঁচ, সাত, কিংবা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব হচ্ছে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং র‌্যাব সেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। অনেকে বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে; গ্রেপ্তারের পর তারা জামিনে মুক্ত হলেও র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন: আবুধাবি থেকে আনা স্বর্ণের ডিম ফেরত নেওয়ার পথে জব্দ

মাদক প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি এবং বলেন, “মাদকের ভয়াবহতা থেকে কেউই নিরাপদ নয়। আমি নিজে মাদক গ্রহণ না করলেও, যদি এটি সমাজে সহজলভ্য থাকে, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। তাই মাদকবিরোধী সংগ্রামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে।”

শুধু চলতি বছরেই মাদকের সঙ্গে জড়িত প্রায় ৩৫০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। আর তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে ১৮ লাখের বেশি ইয়াবা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপের আগে মেসির বার্তা ভক্তদের উদ্দেশে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩১ পি.এম


বিশ্বকাপের আগে মেসির বার্তা ভক্তদের উদ্দেশে

যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করার সঠিক পূর্ব মুহূর্তে, শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলের বড় জয় নিয়ে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামল। এই ম্যাচে দুর্দান্ত একটি গোল করার পর অধিনায়ক লিওনেল মেসি আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে একটি আবেগঘন ও অনুপ্রেরণামূলক বার্তা দিয়েছেন।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে যাওয়ার পর, যেভাবে মেসি দলের সতীর্থদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়েছিলেন, এবার অবশ্য টুর্নামেন্ট শুরুর আগে সমর্থকদের সাথে সরাসরি কথা বলেছেন।

আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে গণমাধ্যমের সামনে ৩৮ বছর বয়সী এই মহাতারকা বলেন, "আমরা সবাই ভীষণভাবে রোমাঞ্চিত এবং উন্মুখ হয়ে আছি। কাতার বিশ্বকাপের সেই কঠিন সময়ে আমি সমর্থকদের বলেছিলাম— এই দলটা আপনাদের হতাশ করবে না। আমরা মাঠের লড়াইয়ে সেটি প্রমাণ করে দেখিয়েছি; প্রতিপক্ষ কে বা কোন টুর্নামেন্টে খেলছি, তা বিবেচনা না করে আমরা সবসময় সর্বোচ্চ লড়াই করেছি। এখনও আমরা ঠিক একই রোমাঞ্চ এবং জেদ নিয়ে প্রতি ম্যাচে লড়াই করার মানসিকতা ধরে রেখেছি।"

নিজেদের লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করে এলএমটেন আরও যোগ করেন, "বরাবরের মতোই আমরা এবারও ধাপে ধাপে এগোবো। তবে আমাদের ভেতর রয়েছে প্রচণ্ড তাড়না, উত্তেজনা এবং নিজেদের সামर्थ্যের ওপর অগাধ বিশ্বাস।"

মেসি তার বক্তব্যের শেষাংশে সমর্থকদের আশ্বস্ত করেন এবং প্রতিপক্ষকে সতর্কবার্তা দেন।

"আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিতে যাচ্ছি। মানুষের মনে যেন বিন্দুমাত্র সন্দেহ না থাকে যে, গত কয়েক বছর ধরে আমরা যেভাবে মাঠে নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি, এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। ফুটবল মাঠে কখনো ভাগ্য সহায় হয়, কখনো হয় না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা একের পর এক ইতিবাচক ফলাফল পেয়েছি, যা ধরে রাখা সত্যিই ভীষণ কঠিন। তবে আমরা নিজেরা যেমন এই জয়ের অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি, তেমনি সমর্থকদেরও অভ্যস্ত করে ফেলেছি। আর এবারও আমরা সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করার চেষ্টাই করব।"

ফুটবলের অনিশ্চয়তার কথা মাথায় রেখে মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিয়ে আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক আরও যোগ করেছেন, "দিনশেষে লক্ষ্য পূরণ হবে কি হবে না, সেটা পরের বিষয়; কারণ এটাই ফুটবল। তবে এটুকু নিশ্চিত থাকুন— যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই আমাদের হারানো এবার অসম্ভব কঠিন হবে, কারণ আমরা অত্যন্ত লড়াকু এবং প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ একটি দল।"

আইসল্যান্ডের বিপক্ষে এই দাপুটে জয়ের পর অধিনায়কের এমন আত্মবিশ্বাসী বার্তা নিশ্চিতভাবেই বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি ভক্তের মনে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো বৈধকরণ জনস্বাস্থ্যেকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে : বাটা ও বিএটিটিপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩২ পি.এম


পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো বৈধকরণ জনস্বাস্থ্যেকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে : বাটা ও বিএটিটিপি

প্রস্তাবিত বাজেটের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্যের দাম কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে বৃদ্ধি করা হয়নি। বরং দুটি নতুন ধরনের তামাক পণ্যকে করের আওতায় এনে বৈধতা প্রদান করা হয়েছে।

নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো, যা ই-সিগারেট এবং ভেপ ইত্যাদিকে অন্তর্ভুক্ত করে, বৈধকরণের ফলস্বরূপ এবং তামাকজাত দ্রব্যের সামান্য মূল্য বৃদ্ধির কারণে জনস্বাস্থ্য মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেই মনে করছে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা) এবং তামাক কর বিষয়ক নলেজ হাব বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি)।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক তাৎক্ষণিক বাজেট প্রতিক্রিয়ায় এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রথমে আইন থেকে নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো পণ্য নিষিদ্ধের বিধান বাদ দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যাশিতভাবে, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ এবং পরামর্শকে এক মুহূর্তও উপেক্ষা করে করের আওতায় এনে এসব পণ্যকে বৈধতা প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে সরকারের এই সিদ্ধান্ত জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহভাবে অবনতি ঘটাবে এবং দেশের কোটি কিশোর-তরুণ নতুন একটি নেশার ফাঁদে আটকে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাজস্ব আয়কে বিবেচনায় নিয়ে এমন ক্ষতিকর নেশাকে বৈধতা প্রদান করায় মানুষ হতাশা প্রকাশ করেছে।

প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, জনস্বাস্থ্যের দিকে লক্ষ্য রেখে তামাকজাত দ্রব্যে অ্যাডভেলরেমের পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট করারোপের দাবি জানিয়েছিলেন দেশের জনস্বাস্থ্য এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞরা।

কিন্তু সরকার কেবল সিগারেটের সামান্য মূল্য বৃদ্ধি করেছে। সিগারেটের ১০ শলাকার মূল্য নিম্ন স্তরের জন্য ৬০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৬২ টাকা, তরুণদের জন্য মধ্যম স্তরের সিগারেট ৮০ টাকা থেকে ৯২ টাকা, উচ্চ স্তরের সিগারেট ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা এবং অতিউচ্চ স্তরের জন্য ১৮৫ টাকা থেকে ২১০ টাকা করা হয়েছে।

বাজারে সিগারেটের প্রায় ৭৫ শতাংশ বিক্রি হয় নিম্ন স্তরের সিগারেট। এই স্তরের মূল্য মাত্র ২ টাকা অথবা ৩.৩ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে গড় মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে। ফলে সামান্য মূল্য বৃদ্ধি নিম্ন স্তরের সিগারেটকে সহজলভ্য করে তুলবে।

আরো বলা হয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনা এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার প্রতি বছর তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য ও কর হার বৃদ্ধি করে।

কিন্তু নিম্ন স্তরের সিগারেটের নামমাত্র মূল্য বৃদ্ধির ফলে ধূমপানের হার বৃদ্ধি পাবে এবং একই সাথে অন্যান্য স্তরের সিগারেটের ভোক্তারা নিম্ন স্তরের সিগারেট সেবন শুরু করবে। এর ফলে ধূমপানের প্রবণতা বাড়ার মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাবে।

বহুল ব্যবহৃত সিগারেটের সামান্য মূল্য বৃদ্ধি সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যকেও পূরণ করবে না। বরং সুনির্দিষ্ট কর আরোপ না করায় তামাক কোম্পানির মুনাফা অযাচিতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এভাবে বাজেট প্রস্তাবনা থেকে ‘ও তদুর্ধ্ব’ শব্দটি বাতিল না করায় মূল্য কারসাজির সুযোগ পেয়ে যাবে এবং তামাক কোম্পানির রাজস্ব ফাঁকি ও মুনাফা বৃদ্ধির পথ প্রশস্ত হবে।

প্রতিক্রিয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, নিম্ন স্তরের সিগারেটের নামমাত্র মূল্য বৃদ্ধি, ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচকে বৈধতা প্রদান, বিড়ি, জর্দা ও গুলের মূল্য বৃদ্ধি না করা জনস্বাস্থ্যে প্রশ্নের উদাহরণ হয়ে থাকবে।

এসব সিদ্ধান্ত অত্যন্ত হতাশাজনক এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রশ্নে নেতিবাচক বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সিগারেটের ট্যাক্স স্ট্যাম্পে কিউআর কোড ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল ট্র্যাক ও ট্রেস ব্যবস্থার প্রচলন, সিগারেট এবং বিড়ির কাগজের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ কিছু প্রস্তাবের প্রশংসা করে তারা বলছেন, এইসব পদক্ষেপ সিগারেটের অবৈধ বানিজ্য প্রতিরোধের মাধ্যমে কর ফাঁকি প্রতিরোধ এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে কার্যকর অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেরপুরে ব্রাজিল সমর্থকদের আনন্দ শোভাযাত্রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩৩ পি.এম


শেরপুরে ব্রাজিল সমর্থকদের আনন্দ শোভাযাত্রা

ফুটবল বিশ্বকাপ–২০২৬-কে নিয়ে সারা দেশের সঙ্গে সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরেও ফুটবল উন্মাদনার ঢেউ উঠেছে। শহরগুলো থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামের বিভিন্ন স্থানে প্রিয় দলের প্রতি সমর্থকদের উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরের সময় শেরপুর সরকারি কলেজ মাঠে ব্রাজিল সমর্থকদের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ব্রাজিলের জার্সি পরে, হাতে জাতীয় পতাকা ও বাঁশি নিয়ে সমর্থকেরা আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন। এরপর একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কলেজ মাঠে এসে শেষ হয়। শেরপুর সরকারি কলেজের ব্রাজিল ফ্যানদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই শোভাযাত্রায় কলেজের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ জেলার বিভিন্ন শ্রেণির তিন শতাধিক ব্রাজিল সমর্থক অংশগ্রহণ করেন।

শোভাযাত্রায় ঢাক-ঢোল, স্লোগান ও করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো কলেজ ক্যাম্পাস এবং আশপাশের এলাকা। সমর্থকদের উজ্জ্বল উপস্থিতি ও উৎসাহে তৈরি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ।

শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও ব্রাজিলের একজন সমর্থক নাঈম হাসান উজ্জ্বল বলেন, "ব্রাজিল সবসময়ই শৈল্পিক ফুটবলের জন্য পরিচিত। আমরা আশা করছি, দলটি এবারের বিশ্বকাপেও দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দেবে এবং কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করবে।"

শেরপুর সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী দিশা জানান, "ব্রাজিল মানেই নান্দনিক ফুটবল। এবারের দলটিও অত্যন্ত শক্তিশালী। আমরা বিশ্বাস করি, ব্রাজিল ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ জিতে ‘হেক্সা’ পূরণ করবে।"

অনুষ্ঠানের আয়োজকদের মধ্যে মেহের জাকির হোসেন, খান অপু ও আব্দুল আলিম জানিয়েছেন যে, ব্রাজিলের সম্ভাব্য ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নকে সামনে রেখেই এই আয়োজন করা হয়েছে। তারা বললেন, "এ ধরনের আয়োজন শুধু ফুটবলপ্রেমীদের মিলনমেলাই নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে।"

বিশ্বকাপকে ঘিরে শেরপুরে ফুটবলপ্রেমীদের এই প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
নলতায় ওয়ার্ড সভায়

মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন ৬নং নলতার ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান পাড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মামুন বিল্লাহ (কালিগঞ্জ)সাতক্ষীরা

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩৪ পি.এম


মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন ৬নং নলতার ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান পাড়

সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে ১১ জুন সোমবার বিকাল ৪টায় ৬নং ইন্দ্রনগর ওয়ার্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সভায় ৬নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃআঃগফুর গাজীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আজিজুর রহমান পাড়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, ইউপি সদস্য মোঃ হাবিবুর রহমান, মোঃ শামিম হোসেন, আব্দুল কাদের, আব্দুল মজিদ,ডাঃমহিব্বুল্লাহ,রমজান আলী শেখ, মাসুদুল হক,শওকাদ আলী, প্রভাষক মামুন বিল্লাহ, ইউনুস আলী শেখ, হায় বাত আলী শেখ, । সভায় সাংবাদিক বৃন্দ, বিভিন্ন পর্যায়ের সুধীবৃন্দ ও ৬নং ওয়ার্ডের জনগন উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান পাড় জনসাধারণের প্রশ্নের জবাবের এক পর্যায় বলেন- মাদক একটি সমাজিক ব্যাধি,মাদকের ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়কেই কঠোর হস্তে দমন করবে ইনশাল্লাহ।
আমি আজ থেকে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলাম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%