০৯:৩০ পি.এম
বাংলাদেশে প্রবেশের আগে ভেস্তে গেল আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের একটি বড় চালান। কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের দুই মিয়ানমার নাগরিককে আটক করেছে র্যাব। এই সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৫ লাখ ইয়াবা।
আটক ব্যক্তিরা হলেন মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের মন্ডু থানার ভুসিডং এলাকার বাসিন্দা মোঃ সাজেদ (৩২) ও এনামুল হাসান (৩৩)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা স্বীকার করেছে যে, তারা মিয়ানমার থেকে সাঁতার কেটে অবৈধভাবে ইয়াবার এই বিশাল চালান বাংলাদেশে নিয়ে এসেছিল। র্যাব জানিয়েছে, সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানের প্রতি তাদের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের কার্যক্রম রয়েছে।
আরও পড়ুন: শ্রেষ্ঠ যুব উদ্যোক্তা আলেম আমিনুল, শিক্ষকতার সঙ্গে হাঁসের খামার চালাচ্ছেন
সীমান্তের নাফ নদী, মিয়ানমার থেকে সাঁতার কেটে প্রায় ৭ জনের মতো মাদক পাচারকারী টেকনাফে অনুপ্রবেশ করছে এমন খবর পায় র্যাব। এই অবস্থায় বৃহস্পতিবার ভোরে টেকনাফ সাবরাং এলাকার মন্ডলপাড়ায় তারা অবস্থান নিয়েছিল।
র্যাব জানিয়েছে, সাঁতার কেটে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করা মিয়ানমারের নাগরিকরা। তারা র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এসময় র্যাব সদস্যরা ধাওয়া দিয়ে দুই জন মিয়ানমার নাগরিককে আটক করতে সক্ষম হয়। পাশাপাশি আরো ৫ জন অজ্ঞাত মাদক পাচারকারী দৌড়ে পালিয়ে যায়। আটক মাদক কারবারিদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে যে, তারা অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার এই বড় চালান নিয়ে এসেছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ৫ লাখ ইয়াবা।
কক্সবাজারস্থ র্যাব-১৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, টেকনাফের সাবরাংখালের দক্ষিণ পাশে মন্ডলপাড়া এলাকায় মোহাম্মদ কবির হোসেনের জমিতে ইয়াবার একটি বড় চালান দেশে প্রবেশের সময় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারিরা পালানোর চেষ্টা শুরু করে। তবে র্যাব সদস্যরা আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত দুই মিয়ানমার নাগরিককে আটক করতে সক্ষম হন।
তিনি আরো বলেন, আটক হওয়া দুজনের বাইরে আরও চার থেকে পাঁচজন মাদক কারবারি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা সবাই মিয়ানমারের নাগরিক। তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে তথ্য সংগ্রহ ও তদন্ত কার্যক্রম চলছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, তারা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার এই বড় চালান বাংলাদেশে নিয়ে আসে। অভিযানে মোট ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: দেশে আনা স্বর্ণের ডিম আবুধাবিতে ফেরত নেওয়ার পথে আটক
রামুতে বৃহস্পতিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়, সীমান্তপথে আসা মাদকের বড় চালান স্থানীয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে, যা যুব সমাজকে অপরাধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে মাদকের বিস্তার রোধে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযানের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
কক্সবাজারস্থ র্যাব-১৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, র্যাবের প্রতিটি অভিযান নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য ও দীর্ঘ সময়ের নজরদারির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং চক্রগুলোকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, তাই এই ধরনের বড় চালান জব্দ এবং সংশ্লিষ্টদের আটক করা সম্ভব হচ্ছে। গোপন তথ্য এবং গোয়েন্দা নজরদারি ছাড়া এ ধরনের অভিযান সফল করা কঠিন।
র্যাব-১৫ এর অধিনায়ক আরও বলেন, মাদকের চালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি উখিয়ার পালংখালী এলাকায় পরিচালিত অভিযানে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চলতি বছরে র্যাব-১৫ প্রায় ৩৫০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের অধিকাংশই মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত। তাদের মধ্যে অনেকেই পাঁচ, সাত, কিংবা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব হচ্ছে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং র্যাব সেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। অনেকে বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে; গ্রেপ্তারের পর তারা জামিনে মুক্ত হলেও র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুন: আবুধাবি থেকে আনা স্বর্ণের ডিম ফেরত নেওয়ার পথে জব্দ
মাদক প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি এবং বলেন, “মাদকের ভয়াবহতা থেকে কেউই নিরাপদ নয়। আমি নিজে মাদক গ্রহণ না করলেও, যদি এটি সমাজে সহজলভ্য থাকে, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। তাই মাদকবিরোধী সংগ্রামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে।”
শুধু চলতি বছরেই মাদকের সঙ্গে জড়িত প্রায় ৩৫০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। আর তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে ১৮ লাখের বেশি ইয়াবা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন