মামুন বিল্লাহ (কালিগঞ্জ)সাতক্ষীরা
০৯:৩৪ পি.এম
সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে ১১ জুন সোমবার বিকাল ৪টায় ৬নং ইন্দ্রনগর ওয়ার্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সভায় ৬নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃআঃগফুর গাজীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আজিজুর রহমান পাড়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, ইউপি সদস্য মোঃ হাবিবুর রহমান, মোঃ শামিম হোসেন, আব্দুল কাদের, আব্দুল মজিদ,ডাঃমহিব্বুল্লাহ,রমজান আলী শেখ, মাসুদুল হক,শওকাদ আলী, প্রভাষক মামুন বিল্লাহ, ইউনুস আলী শেখ, হায় বাত আলী শেখ, । সভায় সাংবাদিক বৃন্দ, বিভিন্ন পর্যায়ের সুধীবৃন্দ ও ৬নং ওয়ার্ডের জনগন উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান পাড় জনসাধারণের প্রশ্নের জবাবের এক পর্যায় বলেন- মাদক একটি সমাজিক ব্যাধি,মাদকের ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়কেই কঠোর হস্তে দমন করবে ইনশাল্লাহ।
আমি আজ থেকে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলাম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জানিয়েছেন, ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও মজবুত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, দুই দেশের মানুষের গণতন্ত্রের স্বপ্ন অভিন্ন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্মৃতিবিজড়িত নেতাজি ভবনে শ্রদ্ধা নিবেদন করার পরে, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথা জানান।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ কেবল ভৌগোলিক সীমান্তের মাধ্যমে সংযুক্ত নয়, ভোটারের আশা-আকাঙ্ক্ষাও একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তাঁর ভাষ্যমতে, গণতন্ত্রের যে স্বপ্ন ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের, একই স্বপ্ন বাংলাদেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষেরও।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ১৬০ কোটি মানুষের কল্যাণে যা প্রয়োজন, সেই লক্ষ্য অর্জনে একযোগে কাজ করা উচিত। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আদর্শ এবং দুই দেশের জনগণের সমর্থন ও আশীর্বাদ তাঁদের পথচলায় শক্তি যোগাবে।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আমরা শুধু সীমান্তের মাধ্যমে সংযুক্ত নই। বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্নের সঙ্গেও আমরা যুক্ত। আমাদের স্বপ্ন অভিন্ন, গণতন্ত্রের অভিন্ন স্বপ্ন। তাই শুধু ভারতের ১৪০ কোটি মানুষই নয়, আমি এর সঙ্গে বাংলাদেশের আরও ২০ কোটি মানুষকে যোগ করি। ১৬০ কোটি মানুষের জন্য যা ভালো, আমি নিশ্চিত নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, এই দেশের মানুষ এবং বাংলাদেশের মানুষ আমাকে আশীর্বাদ করবেন, যাতে আমরা একসঙ্গে থাকতে পারি এবং যা অর্জন করতে যাচ্ছি, তাতে সফল হতে পারি।’
এদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ঢাকায় আসার পরিকল্পনা রয়েছে ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর। হাইকমিশনারের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী মৃণাল ত্রিবেদীও ঢাকা সফরে আসবেন।
বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে গত এপ্রিলের শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের সাবেক রেলমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ঢাকায় ভারতের সাবেক হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৬-২৭ অর্থবছরে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জন্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২৫৮৬ কোটি ৬ লাখ টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন।
এবং উন্নয়ন খাতে ১৫৭৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেইসাথে পরিচালন খাতে ১০০৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকা খরচ করতে হবে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটের পরিমাণ ছিল ১৮০৩ কোটি ৯৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এবারে প্রস্তাবিত বাজেটটি গত বছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৭৮২ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা বেশি।
গত বছর প্রস্তাবিত বাজেট ছিল ২৪৩২ কোটি টাকা, যা পূর্ববর্তী বছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় সাতশো কোটি বেশি ছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত সংশোধিত বাজেটের পরিমাণ দুই হাজার কোটি টাকাকে অতিক্রম করেনি। এবার প্রস্তাবিত বাজেট ২৫৮৬ কোটি হলেও বছর শেষে সংশোধিত বাজেট কত দাঁড়ায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল (বিএনপি) নির্বাচনের ইশতেহারে ক্রীড়াকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিল। ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’- এই স্লোগান সরকার গঠনের পরপরই বাস্তবায়ন করেছে।
গত অর্থবছরে বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে হলেও এবার জাতীয় বাজেটের মধ্যে ক্রীড়া অর্ন্তভূক্ত হয়েছে। ৫০০ জন ক্রীড়াবিদ প্রতি মাসে এক লাখ করে ক্রীড়া ভাতা পাবেন। এতে বছরে ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এবারই প্রথম বাজেটে ক্রীড়াবিদরা আনুষ্ঠানিকভাবে ভুক্ত হয়েছেন।
যুব সমাজকে মাদক ও সন্ত্রাসের হাত থেকে দূরে রাখতে বর্তমান সরকার নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস কর্মসূচি চালু করেছে। ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিকস, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার ও মার্শাল আর্টসহ মোট ৮টি খেলা ইতোমধ্যেই চলছে।
সারা দেশ থেকে ১ লক্ষ ২১ হাজার ৪৯২ জন কিশোর ও ৪৭ হাজার ১৩০ জন কিশোরীসহ মোট ১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৬২২ জন খেলোয়াড় নিবন্ধন করেছেন। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেমন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, বিকেএসপি, ক্রীড়া পরিদপ্তর, ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ট্রাস্ট। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বাজেটের সিংহভাগ যুব খাতে ব্যয় হয়। ক্রীড়া ফেডারেশন, স্থাপনা, জেলা এবং বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অভিভাবক মূলত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।
এই সকল প্রতিষ্ঠান খুব শীঘ্রই তাদের বাজেট চূড়ান্ত করবে। এবার ফেডারেশনগুলোর জন্য অনুদান খানিকটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। ক্রীড়াবিদদের আতুড়ঘর হিসাবে পরিচিত বিকেএসপিতে বাজেট প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
থাইল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে ২০১৫ সালের ১৭ আগস্টে। ওই দিন ব্যাঙ্ককের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত জনপ্রিয় এরাওয়ান মন্দিরে ভয়াবহ বোমা হামলায় বিদেশি পর্যটকসহ অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে, প্রায় এক দশক পরে, দুই ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। যদিও এই রায় এবং তদন্ত নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গেছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনই চীনের মুসলিম উইঘুর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, তারা ২০১৫ সালের ১৭ আগস্ট ব্যাঙ্ককের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত জনপ্রিয় এরাওয়ান মন্দিরের কাছে ভয়াবহ বোমা হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
ওই হামলায় ২০ জন নিহত এবং ১২০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। নিহতদের মধ্যে বিদেশি পর্যটকও ছিল।
দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে চলা বিচারপ্রক্রিয়া এবং তদন্তের বিভিন্ন অসঙ্গতির কারণে মামলাটি নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গেছে। অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি পুরো বিচারকালেই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।
২০১৫ সালের ওই হামলায় একটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে রাজধানী ব্যাঙ্ককের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা রক্তাক্ত হয়ে ওঠে। বিস্ফোরণে মন্দিরে প্রার্থনায় অংশ নেওয়া মানুষজন ছাড়াও আশপাশের সড়কে অবস্থানরত মোটরসাইকেল আরোহীরা হতাহত হন। ঘটনাস্থলে দ্রুত উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছে আহতদের চিকিৎসা এবং নিহতদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেন।
হামলার পরপরই থাই কর্তৃপক্ষের তদন্ত নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। পর্যটন খাতের ক্ষতি কমাতে সরকার দ্রুত ঘটনাস্থল পরিষ্কার করার নির্দেশ দেয় এবং মাত্র দুই দিনের মধ্যেই মন্দিরটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়।
এতে গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন সমালোচকেরা।
তদন্তে দেখা যায়, আশপাশের অনেক নিরাপত্তা ক্যামেরা অকার্যকর ছিল। তবে কিছু ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দীর্ঘ চুল ও মোটা চশমা পরা এক ব্যক্তিকে একটি বেঞ্চের নিচে ব্যাকপ্যাক রেখে দ্রুত সরে যেতে এবং পরে অন্য একটি ভিডিওতে অন্য এক ব্যক্তিকে একটি দ্বিতীয় বোমা খালে ফেলে দিতে। যে বোমাটি পরে বিস্ফোরিত হলেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
হামলার দুই সপ্তাহের মধ্যেই পুলিশ দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে। বিলাল মোহাম্মদ নামে একজনকে ব্যাঙ্ককের পার্শ্ববর্তী এলাকার একটি বাড়ি থেকে আটক করা হয়। সেখানে বোমা তৈরির উপযোগী রাসায়নিক পদার্থ উদ্ধার করা হয়েছিল। তার কাছ থেকে আদেম কারাদাগ নামের একটি জাল তুর্কি পাসপোর্ট পাওয়া যায়।
অন্য অভিযুক্ত ইউসুফু মিয়েরালিকে কম্বোডিয়া থেকে আটক করে থাইল্যান্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্তের শুরুতে থাই পুলিশ বলেছিল, আটক দুই ব্যক্তি বোমা স্থাপনকারী ব্যক্তি নন। কিন্তু পরে বিলাল মোহাম্মদের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়, যদিও নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা ব্যক্তির সঙ্গে তার চেহারার উল্লেখযোগ্য মিল ছিল না বলে দাবি করে বিভিন্ন পর্যবেক্ষক।
হামলার ঘটনায় আরও ১৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল, যাদের কয়েকজন এরই মধ্যে দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন।
মানবাধিকার সংগঠন ও আইনি বিশ্লেষকদের মতে, মামলার রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হলেও তদন্তের বিভিন্ন অসঙ্গতি এবং অন্যান্য সন্দেহভাজনদের অনুপস্থিতির কারণে হামলার প্রকৃত নেপথ্য কাহিনি নিয়ে বিতর্ক পুরোপুরি শেষ হয়নি।
প্রত্যাশিতভাবেই অনেকেই এই বোমা হামলার সঙ্গে এর আগের মাসে থাইল্যান্ডের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের যোগসূত্র খুঁজতে শুরু করেন। ওই সিদ্ধান্তে ১০৯ জন উইঘুর পুরুষকে জোরপূর্বক চীনে ফেরত পাঠানো হয়েছিল, যা তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে উইঘুর সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভের জন্ম দেয়।
হামলার লক্ষ্যবস্তু ওই মন্দিরটি চীনা পর্যটকদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয় ছিল। ফলে ঘটনাটি প্রতিশোধমূলক হামলা বলেই মনে হচ্ছিল অনেকের কাছে।
তবে থাইল্যান্ডের সামরিক সরকার এই সম্ভাবনা মানতে অস্বীকৃতি জানায়। একপর্যায়ে তারা দাবি করে, গত বছর ক্ষমতা দখল করা সামরিক জান্তার অসন্তুষ্ট বিরোধীদের কাজের কারণেও এটি হতে পারে। পরে তারা জোর দিয়ে বলে, সরকারের মানবপাচারবিরোধী অভিযানে ক্ষুব্ধ মানবপাচারকারীরাই এ হামলার পেছনে রয়েছে।
এক অদ্ভুত মোড় নিতে অপরাধীদের ধরিয়ে দিতে তথ্যদাতার জন্য ৮০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে থাই পুলিশ। এ ঘটনার পরপরই দুই জনকে আটক করার পরও অনেক সন্দেহভাজন পলাতক রয়েছে বলে স্বীকার করে তারা। কিন্তু এরপরও ওই পুরস্কার নিজেদের নিজেরাই দিয়ে দেয় এবং ঘোষণা করে, মামলার তদন্ত শেষ।
দুই সন্দেহভাজনকেই সামরিক হেফাজতে রাখা হয়েছিল। তাদের অভিযোগ, স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। পরে সামরিক আদালতে বিচার শুরু হলে তারা সেই স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করে নেন।
তাদের মধ্যে বিলাল মোহাম্মদ চিৎকার করে অভিযোগ করেন যে, তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে। আদালতে তিনি সাক্ষ্য দেন, গ্রেপ্তারের সময় যে বাড়িতে তিনি ছিলেন সেখানে তিনি একজন মানবপাচারকারীর অপেক্ষায় ছিলেন, যিনি তাকে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। সেখান থেকে তিনি তুরস্কে যেতে চেয়েছিলেন। এটি উইঘুর আশ্রয়প্রার্থীদের ব্যবহৃত একটি সুপরিচিত রুট।
এরপর শুরু হয় দীর্ঘ বিলম্ব। সাধারণত থাই কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, তারা উইঘুর ভাষাভাষী কোনো দোভাষী খুঁজে পাচ্ছে না। অভিযুক্তরা চীনা দূতাবাসের প্রস্তাবিত দোভাষীদের গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। এভাবে বিলম্ব চলতেই থাকে—এক দশকেরও বেশি সময় ধরে।
আন্তর্জাতিক আইনবিদ কমিশনসহ (আইসিজে) কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন বিচারপ্রক্রিয়া এবং মামলার অস্বাভাবিক দীর্ঘসূত্রতার সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, বিচারপ্রক্রিয়ায় এত বেশি সমস্যা ছিল যে দুই সন্দেহভাজনকে মুক্তি দেওয়া উচিত ছিল।
এক বিবৃতিতে আইসিজে বলেছে, বিলাল মোহাম্মদ ও ইউসুফু মিয়েরাইলির তদন্ত, বিচারিক কার্যক্রম এবং বিচার মানবাধিকার লঙ্ঘন পরিপূর্ণ ছিল। এতে থাইল্যান্ডের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার কিছু কাঠামোগত দুর্বলতাও উন্মোচিত করেছে।
তবে বিচারকরা রায় দেন যে, তাদের দোষী সাব্যস্ত করার জন্য পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে। বিশেষ করে পুলিশের উপস্থাপিত ফোনকলের রেকর্ডে দেখা যায়, বোমা হামলার সময় দুই ব্যক্তি ঘটনাস্থলের কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন এবং একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন।
দুই আসামির আইনজীবী জানিয়েছেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিসিয়াল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের রাড়ইল গ্রামের কৃতি সন্তান, মাশরাফি চৌধুরী ফাইজা।
ফাইজার এই সাফল্যের খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার বাবা, কানাডাপ্রবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব মুস্তাক আহমেদ চৌধুরী। তিনি জানান, এটি তাদের পরিবারের জন্য একটি অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, দিরাইসহ পুরো বাংলাদেশের জন্যও এটি একটি আনন্দের সংবাদ।
ফাইজা বর্তমানে কানাডার ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির একজন শিক্ষার্থী এবং বিশ্বকাপ উপলক্ষে কানাডার টরন্টো শহরে আয়োজিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। এসব আয়োজনে তিনি বিশ্বকাপ-সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক অতিথি, ক্রীড়া কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন, যা তার অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ফাইজা কানাডায় বসবাসরত সুনামগঞ্জ সমিতির সহ-সভাপতি এবং টরন্টো দিরাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা মুস্তাক আহমেদ চৌধুরী ও সাবরিনা আক্তার জাহান চৌধুরীর মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই ফাইজা ছিলেন মেধাবী ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক ও আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন একজন আত্মবিশ্বাসী তরুণ নেতা হিসেবে।
উল্লেখ্য, ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই বিশ্বকাপের খেলা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, যেখানে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে ফাইজার মতো মেধাবীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ