ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে পাকিস্তানের প্রতি ঢাকার চাপ, আলোচনা হতে পারে


বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে পাকিস্তানের প্রতি ঢাকার চাপ, আলোচনা হতে পারে

বাংলাদেশ ঢাকার পক্ষ থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে দেশের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য দেশটির বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। এই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ পাকিস্তানের কাছে শুল্ক এবং শুল্কবহির্ভূত বিভিন্ন বাণিজ্য বাধা দূর করার প্রস্তাব দেবে। আগামী ১ ও ২ ডিসেম্বর ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য দুই দেশের বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ কর্মদলের (জেডব্লিউজিটি) প্রথম বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। বিশেষভাবে ওষুধ ও খাদ্যপণ্যের বাজার প্রবেশাধিকার, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এবং শুল্কায়ন ও কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়গুলোতে ঢাকা গুরুত্ব দেবে। এ তথ্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য বাধাগুলো তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে ওষুধ ও খাদ্যপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে পণ্যের মান, কারিগরি বিধিবিধান এবং স্বাস্থ্য ও উদ্ভিদ স্বাস্থ্যসংক্রান্ত শর্ত (এসপিএস) নিয়ে বিদ্যমান জটিলতা দূর করার বিষয়ে আলোচনা হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব বাধা দূর হলে পাকিস্তানের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বৈঠকে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য পাকিস্তানের বাজারে আরো বেশি প্রবেশাধিকার চাওয়া হবে। পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর উপায় নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন: নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা, ভরি কত?

জানা গেছে, পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে প্রধানত তুলা, বস্ত্রের কাঁচামাল, রাসায়নিক পণ্য, সিমেন্ট ক্লিংকার ও বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আমদানি হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে পাট ও পাটজাত পণ্য, ওষুধ, চা, হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড এবং তৈরি পোশাক রপ্তানি করা হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, পাকিস্তানের বাজারে বিদ্যমান নিয়ন্ত্রক জটিলতা দূর করা এবং কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজ করা গেলে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এতে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি বাণিজ্য সম্পর্ক আরো ভারসাম্যপূর্ণ করা সম্ভব হবে।

এদিকে পাকিস্তান সরকারের আমন্ত্রণে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের দেশটি সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে ঢাকাকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীকে আতিথ্য দিতে আগ্রহী।

এ সফরের সময় বাংলাদেশের ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এবং পাকিস্তানের ট্রেডিং করপোরেশন অব পাকিস্তানের (টিসিপি) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের আগ্রহ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এ চুক্তি সইয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: পুঁজিবাজারে আইপিও খরা কাটানোর লক্ষ্যে ছয় কোম্পানির আবেদন

প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে দুই দেশের রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য সংস্থার মধ্যে সহযোগিতার কাঠামো তৈরি হতে পারে। এর আওতায় নিত্যপণ্য আমদানি-রপ্তানি ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যৌথ কর্মদল বৈঠকের পাশাপাশি মন্ত্রী পর্যায়ের এ সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে পাকিস্তান বাংলাদেশে প্রায় ৬৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল সুতা-কাপড় ও প্রস্তুত চামড়া ছিল প্রায় ৭৯ শতাংশ। বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে যে পরিমাণ পণ্য রপ্তানি হয়েছে, তার মূল্য ছিল ৬ কোটি ডলারের সামান্য বেশি। বাংলাদেশ মূলত কাঁচা পাট, ওষুধ, হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড, চা ও তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছিল। অন্যদিকে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাকিস্তান বাংলাদেশে ৭১ কোটি ৫৬ লাখ ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে তাদের আমদানির পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ৭২ লাখ ডলার।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আমার দেশকে বলেন, যেকোনো দেশের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ও দর-কষাকষি হতে হবে অর্থনৈতিক স্বার্থ ও বাস্তবতার ভিত্তিতে। অর্থনৈতিক ভিত্তি বিবেচনায় না নিয়ে কোনো চুক্তি করা হলে তা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয় না। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে তুলনামূলক সুবিধা (কমপারেটিভ অ্যাডভান্টেজ) বিবেচনায় নিয়ে আমদানি-রপ্তানির কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ট্রেডের (জেডব্লিউজিটি) বৈঠকে বাংলাদেশ যেসব পণ্য তুলনামূলক সহজে ও সাশ্রয়ীভাবে আমদানি করতে পারে, সেসব বিষয়ে দর-কষাকষিতে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। একইভাবে যেসব পণ্যের রপ্তানিতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা রয়েছে, সেগুলোর বাজার সম্প্রসারণেও জোর দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে দুই দেশকেই নিজ নিজ স্বার্থ বিবেচনায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিতে হবে।

আরও পড়ুন: বাইন্যান্সে ৬৩০ কোটি ডলার ক্রিপ্টো চুরি, বীমা কোম্পানির নজরদারি বৃদ্ধি

অধ্যাপক হেলাল আরো বলেন, বাণিজ্য আলোচনায় সব সময় সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়টিকে প্রধান বিবেচনায় রাখা ঠিক হবে না। কোনো দেশে বাংলাদেশের রপ্তানির বাজার ভালো থাকলে সেখানে আমদানি বাড়ানোর চিন্তা না করে রপ্তানি সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। আবার যে দেশ থেকে পণ্য আমদানিতে তুলনামূলক সুবিধা পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে আমদানির বিষয়ে কার্যকর দর-কষাকষি করতে হবে। অর্থাৎ প্রতিটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক নির্ধারণ করতে হবে পণ্যভিত্তিক সুবিধা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের আলোকে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাণিজ্য চুক্তি ও শুল্কনীতির ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বাস্তবতার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করতে পারেননি। এর রাজনৈতিক মূল্যও তাকে দিতে হচ্ছে, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সানচেজ: ওয়াশিংটন বা তেল আবিব নয়, স্পেন পরিচালিত হবে মাদ্রিদ থেকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫৫ এম


সানচেজ: ওয়াশিংটন বা তেল আবিব নয়, স্পেন পরিচালিত হবে মাদ্রিদ থেকে

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, আগামী ২৯ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণ হবে যে স্পেন পরিচালিত হয় দেশের অভ্যন্তর থেকেই, ওয়াশিংটন, তেল আবিব, বুয়েনস আয়ার্স কিংবা মস্কো থেকে নয়। তিনি তার সরকারের দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখার অঙ্গীকার করেছেন আন্তর্জাতিক উগ্র ডানপন্থি শক্তির প্রভাব মোকাবিলায়।

শনিবার তারাগোনায় অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে সানচেজ তার সরকারের পররাষ্ট্রনীতি এবং সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির বিরোধিতার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘২৯ নভেম্বর আমরা ভোটের মাধ্যমে তাদের জানিয়ে দেব, স্পেন শাসিত হবে স্পেন থেকেই। ওয়াশিংটন থেকে নয়, তেল আবিব থেকে নয়, বুয়েনস আয়ার্স থেকে নয়, মস্কো থেকেও নয়—স্পেন থেকেই।’

সানচেজ আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশকে আন্তর্জাতিক উগ্র ডানপন্থিদের কোনো ঘাঁটি কিংবা পশ্চাৎভূমিতে পরিণত হতে দেব না।’

ইরান যুদ্ধ এবং গাজায় গণহত্যার বিরুদ্ধে তার সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

আন্তর্জাতিক উগ্র ডানপন্থিদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করে সানচেজ বলেন, স্পেন এমন একটি ‘আলোকবর্তিকা’ হয়ে থাকবে, যা বিশ্বকে অনুপ্রাণিত করবে।

সূত্র: আনাদোলু

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের বকেয়া বিদেশি ঋণ ১৪ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫৬ এম


বাংলাদেশের বকেয়া বিদেশি ঋণ ১৪ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে

এক দশক ধরে বৈদেশিক ঋণের বকেয়া বৃদ্ধি পেয়ে ১৪ লাখ কোটি টাকার বেশি হয়ে গেছে। এই বকেয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় তিন গুণ বেড়ে গেছে। ২০১৫ সালে দেশের মোট বিদেশি ঋণের স্থিতি ছিল ৩,৮৭৭ কোটি ডলার, যা ২০২৫ সালের শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৩৪৩ কোটি ডলারে। বর্তমান বিনিময়মূল্য অনুযায়ী (প্রতি ডলার ১২৫ টাকা) দেশের মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৪ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। ঋণের এই ক্রমবর্ধমান বোঝার পাশাপাশি কিস্তি ও সুদ পরিশোধের চাপও বাড়ছে। আগামী দিনে বড় কয়েকটি অবকাঠামো প্রকল্পের ঋণ পরিশোধ শুরু হলে সরকারের ওপর দায় আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ডেট রিপোর্ট-২০২৬’-এ বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে দেশের মোট ঋণের স্থিতি বেড়েছে ৮.৬ শতাংশ। গত ৫ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় থেকে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের বড় অংশ এসেছে বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে দেশের মোট বকেয়া রয়েছে ৫,১১৪ কোটি ডলার। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের কাছে ২,২৬৩ কোটি এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছে ১,৭৫১ কোটি ডলার পাওনা রয়েছে।

অন্যদিকে, জাপান, চীন, ভারত ও রাশিয়ার মতো দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতা দেশগুলোর কাছে বাংলাদেশের ঋণ ৩,২৬৪ কোটি ডলার। এর মধ্যে জাপানের কাছে ১,২৭২ কোটি এবং রাশিয়ার কাছে ৯০২ কোটি ডলার বকেয়া রয়েছে। সরকারি ঋণের বাইরে, বেসরকারি খাতের বিদেশি ঋণ প্রায় ১,০০০ কোটি ডলার। এছাড়া স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১,৫০০ কোটি ডলার।

বিদেশি ঋণের স্থিতি বাড়লেও তা পরিশোধের সক্ষমতার কয়েকটি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এখনো তুলনামূলকভাবে সহনীয় বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুসারে, দেশের মোট জাতীয় আয়ের (জিএনআই) তুলনায় বিদেশি ঋণের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ২৪ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে এই হার বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ।

তবে রপ্তানি আয়ের বিপরীতে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের অনুপাত কমে ১৬ শতাংশে নেমেছে। আগের বছরের তুলনায় এই হার ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কম। অর্থাৎ, রপ্তানি থেকে অর্জিত প্রতি ১০০ ডলারের মধ্যে ১৬ ডলার ব্যয় হচ্ছে বিদেশি ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে। এই অনুপাত কমে আসাকে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ঋণের স্থিতির পাশাপাশি আসল ও সুদ পরিশোধের পরিমাণও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধে ব্যয় হয়েছিল ১১০ কোটি ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে ২০১ কোটি এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই ব্যয় বেড়ে হয়েছে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার। অর্থাৎ, ১৪ বছরে পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে চার গুণের বেশি।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ ১৩৫ কোটি ১২ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১২৭ কোটি ৯৯ লাখ ডলার। সে হিসাবে ব্যয় বেড়েছে ৫.৬ শতাংশ।

সামনে এই চাপ আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধ শিগগির শুরু হবে। অন্যদিকে, মেট্রোরেল ও কর্ণফুলী টানেলের ঋণ পরিশোধ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এতে সরকারের বাজেট ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরগুনায় নিখোঁজের দুই দিন পর ৮ বছরের শিশুর লাশ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫৮ এম


বরগুনায় নিখোঁজের দুই দিন পর ৮ বছরের শিশুর লাশ উদ্ধার

বরগুনার বিষখালী নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর ইহান (৮) নামের একটি শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার সকালে বরগুনার নলটোনা এলাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা শিশুটির লাশ উদ্ধার করেন।

পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ইহান বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের খেজুরতলা এলাকার মো. নজির হোসেনের ছেলে। শুক্রবার দুপুরে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বড়ইতলা ফেরিঘাটসংলগ্ন বিষখালী নদীর তীরে ঘুরতে বের হয়। ঘোরাঘুরির এক পর্যায়ে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নদীতে গোসল করতে নামলে সে তীব্র স্রোতে ডুবে যায়। পরে, পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করে ব্যর্থ হলে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন, এবং তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

বরগুনা সদর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মো. ইমদাদুল হক এ বিষয়ে জানান, ঘটনার দিন পটুয়াখালী থেকে ডুবুরি ইউনিট এনে বিকেল চারটা থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছিল। টানা দুদিনের প্রচেষ্টার পর, রোববার সকালে নলটোনা ইউনিয়নের বিষখালী নদী থেকে ইহানের লাশ উদ্ধার করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মজিবুর রহমান মঞ্জুর আহ্বান: অর্থনৈতিক সাম্য ও শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা জরুরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫৮ এম


মজিবুর রহমান মঞ্জুর আহ্বান: অর্থনৈতিক সাম্য ও শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা জরুরি

আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু মন্তব্য করেছেন যে, দেশে চাঁদাবাজি, ঘুষ এবং দুর্নীতি বন্ধ হলে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, গার্মেন্টস শ্রমিকদের মাসিক ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা বেতন দেওয়ার সক্ষমতা মালিকদের রয়েছে। তবে রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে অনিয়ম, চাঁদাবাজি এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের কারণে শ্রমিকেরা তাঁদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, "আমরা এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে কেউ না খেয়ে থাকবে না, কাউকে ফুটপাতে রাত কাটাতে হবে না।" তিনি উল্লেখ করেছেন যে, একদিকে মানুষ বাসস্থানের অভাবে রাস্তায় ঘুমায়, অন্যদিকে অনেক বাড়ি ও ফ্ল্যাট খালি পড়ে থাকে। সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই বৈষম্য দূর করা সম্ভব।

শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে কক্সবাজারে শ্রজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার নিশ্চয়তা থাকতে হবে। পাশাপাশি কাজের অধিকার, জীবনের নিরাপত্তা এবং বিনোদনের সুযোগও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ দেশে লাখ লাখ শিক্ষিত বেকার কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না। বিপুলসংখ্যক মানুষ নিয়মিত খাবার জোগাড় করতে পারছেন না। কেউ একবেলা খেয়ে আরেক বেলার খাবারের নিশ্চয়তা পান না। অথচ বিয়ে অনুষ্ঠান, রেস্তোরাঁ এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ খাবার নষ্ট হচ্ছে। সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা থাকলে এমন পরিস্থিতি থাকার কথা নয়।

তিনি বলেন, "একদিকে মানুষ ফুটপাতে ঘুমায়, অসুস্থ হলে চিকিৎসা পায় না, অন্যদিকে বহু বাড়ি ও ফ্ল্যাট খালি পড়ে থাকে।" ফুটপাতে ঘুমানো মানুষটিরও জ্বর আসে, পেটে ব্যথা হয়, অসুস্থ হলে তারও চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। কিন্তু তার পাশে দাঁড়ানোর কেউ থাকে না। রাষ্ট্রকে এমনভাবে পরিচালনা করতে হবে, যাতে অসহায় মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ হয়।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে হলে মানুষকে একটি বাস্তবসম্মত স্বপ্ন ও আশার জায়গা দিতে হবে। যদি মানুষ বিশ্বাস করে যে একটি রাজনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে তার জীবনমানের উন্নতি হবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং তার অধিকার নিশ্চিত হবে, তাহলে লাখ লাখ মানুষ সেই উদ্যোগে সাড়া দেবে। এবি পার্টি এমন একটি পরিকল্পিত, ভারসাম্যপূর্ণ এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়তে চায়।

শ্রমিকদের মজুরি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের একজন গার্মেন্টস মালিক শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা বেতন দেওয়ার সক্ষমতার কথা বলেছেন। কিন্তু চাঁদাবাজি এবং নানা ধরনের অনিয়মের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। দেশে চাঁদাবাজি, ঘুষ এবং দুর্নীতি বন্ধ করা গেলে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি বাড়ানো সম্ভব। ভালো উদ্যোক্তারা শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতে চান, কিন্তু রাষ্ট্রীয় এবং সামাজিক অনিয়ম তাঁদেরও বাধাগ্রস্ত করছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের সমস্যাগুলো সমাধান করা অসম্ভব নয়। বেকারত্ব, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং ন্যায্য মজুরির সংকট দূর করতে প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা। মালিক-শ্রমিকসহ সমাজের সবাই ঐক্যবদ্ধ হলে চাঁদাবাজি এবং শোষণের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে মঞ্জু বলেন, "জুলাইয়ে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল বলেই কোনো শক্তি তাদের দমাতে পারেনি।" রাষ্ট্র সংস্কার এবং নতুন বাংলাদেশ গড়তেও একইভাবে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। শুধু স্লোগান কিংবা প্রতিশ্রুতি নয়, মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে তিনি শ্রমজীবী মানুষের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে শ্রমজীবী মানুষের সমস্যা সমাধানে সমবায়ভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন।

কক্সবাজার শহরের হোটেল আল হেরা মিলনায়তনে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন এবি শ্রমিক পার্টির সভাপতি মোহাম্মদ হাসান।

এতে আরো বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক এড, আব্দুল্লাহ আল রানা, কেন্দ্রীয় শরণার্থী বিষয়ক সম্পাদক শামসুল হক শারেক, নব গঠিত আহবায়ক কমিটির আহ্বায়ক এড. গোলাম ফারুক খান কায়সার, সদস্য সচিব সরওয়ার সাঈদ, এড. আমিন উদ্দিন চৌধুরী, সৈয়দ হোসাইন চৌধুরী, যুব পার্টি নেতা মোহাম্মদ নাছিরসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%