ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

কেরানীগঞ্জে দুই খাল খননে অনিয়ম, কোটি টাকার মাটি বিক্রির অভিযোগ


কেরানীগঞ্জে দুই খাল খননে অনিয়ম, কোটি টাকার মাটি বিক্রির অভিযোগ

ঢাকার কেরানীগঞ্জে সরকারি কর্মসূচির আওতায় দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। দীঘিরপাড় এবং রুহিতপুর ইউনিয়নের খারাকান্দি খাল খনন প্রকল্পে বরাদ্দের অর্থ ব্যয়, কাজের পরিমাণ ও ব্যাংক থেকে বিল উত্তোলনের হিসাব নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযোগ করেছেন যে, নির্ধারিত অংশ খনন না করেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে এবং দুই তীরের মাটি বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দুটি খাল খননে মোট বরাদ্দ ৩ কোটি ৩৫ লাখ ৭ হাজার ৩৬৬ টাকা। এর মধ্যে খারাকান্দি খাল খননে বরাদ্দ ১ কোটি ১৮ লাখ ৭০ হাজার ৩৪৭ টাকা এবং দীঘিরপাড় খালের জন্য ২ কোটি ১৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৯ টাকা। তবে খাল খননের শুরুতেই গত ৩০ জুলাই ১ কোটি ৬৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৯৭ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত জমা দেওয়া হয়েছে। খাল খননের জন্য অবশিষ্ট থাকে ১ কোটি ৬৮ লাখ ৬০ হাজার ৬৬৯ টাকা।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় পুলিশের অভিযানে চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার, ৪ গ্রেফতার

কিন্তু খননকাজ শেষ হওয়ার আগেই গত ২৩ এপ্রিল থেকে ৭ মে পর্যন্ত ১৩টি ভাউচারের মাধ্যমে ১ কোটি ৫৫ লাখ ৭৪ হাজার ৪৫৭ টাকা উত্তোলন করা হয়। সোনালী ব্যাংকের কেরানীগঞ্জ উপজেলা শাখা থেকে রিনভী এন্টারপ্রাইজের নামে এসব টাকা তোলা হয়েছে বলে প্রাপ্ত নথিতে দেখা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, খারাকান্দি খাল খনন কমিটির সভাপতি আউয়াল শিকদার ৫৯ লাখ টাকা পেয়েছেন। অন্যদিকে দীঘিরপাড় খালে ভেকু, এক্সকাভেটর ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি ভাড়াবাবদ এন জাহান ট্রেডের মালিক জাহিদ হোসেন ৪৮ লাখ টাকা পেয়েছেন। অর্থাৎ এই দুই খাতে ব্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে ১ কোটি ৭ লাখ টাকার। অথচ ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা হয়েছে ১ কোটি ৫৫ লাখ ৭৪ হাজার ৪৫৭ টাকা। ফলে অবশিষ্ট ৪৮ লাখ ৭৪ হাজার ৪৫৭ টাকা কোথায় ব্যয় হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

খারাকান্দি খালটি কেরানীগঞ্জ মডেল থানার রুহিতপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। গুয়াডুরি-আকছাইল-নিলটেক-খারাকান্দি-বেলনা-ইস্পাহানি কলেজ হয়ে গোয়ালখালী পর্যন্ত খালটির খননকাজের উদ্বোধন হয় গত ১৬ মার্চ। সরকারি হিসাবে খালটির ৪.৬৩ কিলোমিটার খনন সম্পন্ন দেখানো হয়েছে।

কিন্তু সরেজমিন অনুসন্ধানে খালের বিভিন্ন অংশে প্রত্যাশিত খননকাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। রামের কান্দা কালভার্টের দক্ষিণ দিকে রুহিতপুরকাঁচা পর্যন্ত ৫ হাজার ট্রাক মাটি বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতি ১০০ ঘনফুট ধারণক্ষমতার মাহিন্দ্র ট্রাকের মাটির দাম ১,২০০ টাকা হিসাবে এখান থেকে ৬০ লাখ টাকার মাটি বিক্রি করা হয়েছে। যেখানে মাটি নেই, সেখানে খননকাজে হাত দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন: অক্টোবর মাসে সিলেটের সড়কে প্রাণ গেল ২৭ জনের

খালের সীমানায় ইস্পাহানি কলেজের পশ্চিম পাশে সাততলা ভবন এবং মোহাম্মদ আলীর একতলা ভবনের মার্কেট উচ্ছেদ করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, টাকার বিনিময়ে ভবন দুটি এখনো খালের সীমানায় দাঁড়িয়ে আছে।

স্থানীয়দের দাবি, খাল খননের পরিবর্তে বিভিন্ন স্থানে দুই তীরের মাটি কেটে বিক্রি করা হয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, খারাকান্দি খালের মাটি বিক্রি করে ৬০ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে।

খারাকান্দি খাল খনন কমিটির সভাপতি ও কলাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আউয়াল শিকদার দাবি করেন, তিনি খননকাজ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কাজের পরিমাণ ছিল চার কিলোমিটার, কিন্তু তিনি পাঁচ কিলোমিটার খনন করেছেন। তিনি ৫৯ লাখ টাকা বিল নিয়েছেন।

দুটি খালের খনন প্রকল্পে দেড় কোটি টাকার বেশি উত্তোলন করা হয়েছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে আউয়াল শিকদার বলেন, বিলের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তার নিজের কোনো কোম্পানি নেই। পাঁচ সদস্যের কমিটিতে তিনি শুধু সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারি কার্যাদেশ, কার্যসম্পাদন সনদ, ঠিকাদারি চুক্তি, মাপবই এবং বিল পরিশোধের নথি—কোনো কিছুই তার কাছে নেই।

আরও পড়ুন: শ্রীমঙ্গলে ডিবি পুলিশের অভিযানে ১০৮ পিস ইয়াবাসহ শিপন মিয়া গ্রেফতার

অন্যদিকে, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের দীঘিরপাড় খালের নির্ধারিত দৈর্ঘ্য ৭.৫০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৬.৪০ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হয়েছে বলে দাবি করছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। তবে এই খাল থেকেও ২০ লাখ টাকার মাটি বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে খেজুরবাগ কবরস্থান কমিটির কয়েকজন সদস্য জানান, কবরস্থান উঁচু করার জন্য তারা দীঘিরপাড় খালের মাটি কিনেছেন। প্রতি ১০০ ঘনফুট ধারণক্ষমতার মাহিন্দ্র ট্রাকের মাটির দাম দিয়েছেন ১,২০০ টাকা। একটি সূত্রের দাবি, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি লিয়াকত হোসেন রিপন প্রায় ১৪ লাখ টাকার মাটি কিনেছেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দুটি খাল খননের সরকারি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল রিনভী এন্টারপ্রাইজকে। এর মালিক নাজিমুদ্দিন ভাসানী সানি জানান, তার প্রতিষ্ঠানের নামে খাল খনন ও মাটি বিক্রির দরপত্র করা হয়েছে। কিন্তু তাকে খননকাজ দেওয়া হয়নি। প্রকৃতপক্ষে কাজ করেছেন এন জাহান ট্রেডার্সের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহিদ হাসান, কলাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আউয়াল শিকদার এবং অনিক নামের এক ভেকুচালক।

তিনি অভিযোগ করেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাশেদ খান তার কাছ থেকে বিভিন্ন তারিখে ১৩টি ভাউচারের মাধ্যমে মোট ১ কোটি ৫৫ লাখ ৭৪ হাজার ৪৫৭ টাকার বিল-সংক্রান্ত ভাউচার নিয়ে খাল খননের টাকা উত্তোলন করেছেন।

আরও পড়ুন: চুনারুঘাটে পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সাদ্দাম গ্রেপ্তার

মাটি বিক্রিতেও অনিয়মের অভিযোগ

মাটি বিক্রির দরপত্র নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গত ৬ আগস্ট ইউএনও স্বাক্ষরিত দরপত্রে খাল দুটির অতিরিক্ত মাটি অপসারণের জন্য কোটেশন আহ্বান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পিআইও রাশেদ খান এন জাহান ট্রেড ও রিনভী এন্টারপ্রাইজের কাছ থেকে গোপনে তিনটি করে কোটেশন সংগ্রহ করেন। পরে খারাকান্দি খালের অতিরিক্ত মাটি অপসারণের কাজ ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকায় এবং দীঘিরপাড় খালের কাজ ৩ লাখ টাকায় বরাদ্দ দেখানো হয়। ভ্যাট ও আয়করসহ এ বাবদ যথাক্রমে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৭৫০ ও ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার পে-অর্ডার জমা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে রিনভী এন্টারপ্রাইজের মালিক নাজিমুদ্দিন ভাসানী জানান, তার প্রতিষ্ঠানের নামে খারাকান্দি খাল খনন ও মাটি বিক্রির দরপত্র আহ্বান করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। ২ লাখ টাকার দরপত্র দেখিয়ে ৬০ থেকে ৮০ লাখ টাকার মাটি বিক্রি করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার দাবি, ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি এবং তাকেও কোনো টাকা দেওয়া হয়নি।

এন জাহান ট্রেডের মালিক জাহিদ হোসেন জানান, তিনি দীঘিরপাড় খাল খননে এক্সকাভেটর, ভেকু ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি ভাড়াবাবদ ৪৮ লাখ টাকার বিল পেয়েছেন। তার নামে মাটি বিক্রির দরপত্রের ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তার নামে দরপত্র কিনে শিডিউল জমা দিয়েছেন। কত টাকার মাটি বিক্রি হয়েছে, তা তার জানা নেই।

আরও পড়ুন: রোজি পেরিউইঙ্কল (নয়নতারা)Ñছাদবাগানের সৌন্দর্য

এ ব্যাপারে কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রাশেদ খান আমার দেশকে বলেন, ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা টাকা থেকে ভ্যাট ও আয়কর বাদ দিলে ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা থাকে। এছাড়া তিনি ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার মাটি বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, সরকারি দরপত্র অনুযায়ী মাটি বিক্রি হয়েছে এবং মাটি বিক্রির টাকা খাল খননের ব্যয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উমর ফারুক জানান, খাল খননে অনিয়মের বিষয়ে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তি তার কাছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তিনি বিষয়টি ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমকে জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে ৮৮ কারখানা কর্মমুখর হয়ে উঠছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০২ এম


সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে ৮৮ কারখানা কর্মমুখর হয়ে উঠছে

সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ও কর্মমুখর হয়ে উঠছে, যা টানা কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ ও সংঘর্ষের ঘটনার পর ঘটছে। গতকাল শুক্রবার, সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও জরুরি প্রয়োজনে ৮৮টি পোশাক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। সকাল থেকেই শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দেন এবং কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার সকাল থেকে সাভারের হেমায়েতপুর, আশুলিয়ার নরসিংহপুর, জামগড়া, জিরাবসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কারখানাগুলোতে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বিরাজ করছে। শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শিল্প পুলিশের সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তবে শ্রমিক অসন্তোষ বা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির খবর পাওয়া যায়নি।

শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, স্বাভাবিক সময়েও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে জরুরি শিপমেন্টসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে কিছু পোশাক কারখানা খোলা রাখা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার শিল্পাঞ্চলের ৮৮টি কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চালু রয়েছে। এসব কারখানায় শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন।

শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শোয়েব আহম্মেদ বলেন, শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সাধারণত শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কারখানা বন্ধ থাকে। তবে জরুরি শিপমেন্ট থাকায় কিছু কারখানা চালু রাখা হয়। ৮৮টি কারখানা চালু রয়েছে এবং পুরো এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু জানান, স্বাভাবিক সময়েও জরুরি প্রয়োজনে ছুটির দিনে কিছু কারখানা চালু থাকে। শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে এবং পুরোদমে কাজ শুরু হলেও এ পরিবেশ বজায় থাকবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। শ্রমিকদের মজুরির দাবি ও অসন্তোষ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আপাতত শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে উৎপাদন সচল রাখা প্রয়োজন। তবে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হলে কাজে ফেরা কঠিন হবে। তাই শ্রমিকদের বাড়িতে গিয়ে পুলিশি তল্লাশি বা হয়রানির অভিযোগের মতো পরিস্থিতি বন্ধ করে তাঁদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, শুক্রবার সকাল থেকে পুরো শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক রয়েছে। জরুরি প্রয়োজন থাকায় ৮৮টি পোশাক কারখানা চালু রয়েছে। এসব কারখানায় শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন এবং পুলিশ সদস্যরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। শ্রমিকদের নিরাপত্তায় শিল্প পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নলডাঙ্গায় দাঁড়িয়েও মিলছে না সার, ক্ষুব্ধ কৃষকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০২ এম


নলডাঙ্গায় দাঁড়িয়েও মিলছে না সার, ক্ষুব্ধ কৃষকরা

নাটোরের নলডাঙ্গায় স্থানীয় কৃষকরা চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সার না পাওয়া, টোকেন বিতরণে অনিয়ম এবং বিতরণ ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিবাদ এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নলডাঙ্গা উপজেলায় চলতি বোরো ও রবি মৌসুমে জমিতে সারের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিলারের দোকানে সার সংগ্রহ করতে গিয়ে কৃষকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ভোররাত থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত সার না পাওয়ায় অনেক কৃষক খালি হাতে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সার পাওয়া যাচ্ছে না। তবে একটি অসাধু চক্র বিভিন্ন উপায়ে টোকেন সংগ্রহ করে লাইনের আগে গিয়ে সার তুলে নিচ্ছে। এর ফলে প্রকৃত কৃষকরা টোকেন হাতে নিয়েও কাঙ্ক্ষিত সার না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এমনকি জমি না থাকা সত্ত্বেও অনেকে ভ্যানভর্তি করে সার নিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

কৃষকদের মতে, জমিতে সার প্রয়োগের উপযুক্ত সময়ে সার না পাওয়ায় চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। সময়মতো সার দিতে না পারলে ফসলের কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন ও ফলন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেবে।

সার বিতরণ নিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে উপজেলা কৃষি অফিস ও নলডাঙ্গা থানা থেকে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে সুশৃঙ্খলভাবে সার বিতরণের চেষ্টা করা হয়। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

কৃষকদের দাবি, সার বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। টোকেন বাণিজ্যের অনিয়ম বন্ধ করে জমির পরিমাণ ও প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী সারের সংস্থান করতে হবে। সঠিক তদারকির মাধ্যমে বিতরণ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানান তারা।

এ বিষয়ে নলডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সবুজ আলী জানান, এলাকায় সারের কোনো সংকট নেই। কৃত্রিম সংকট যাতে তৈরি না হয় এবং ডিলাররা নিয়ম মেনে সার বিতরণ করেন, সেই বিষয়ে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। কৃষকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত সার সরবরাহ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রতিদিন একই খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরে যেসব প্রভাব ফেলতে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৩ এম


প্রতিদিন একই খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরে যেসব প্রভাব ফেলতে পারে

ব্যস্ত জীবনের কারণে অনেক মানুষ প্রতিদিন একই ধরনের খাবার খেতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। সকালে ডিম-রুটি, দুপুরে ভাত-ডাল এবং রাতে পরিচিত কিছু খাবার—এভাবে অনেকের খাদ্যাভ্যাস গড়ে ওঠে। এতে খাবার নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করতে হয় না এবং সময়ও সাশ্রয় হয়। তবে দীর্ঘকাল একই খাবারের ওপর নির্ভরশীল থাকা শরীরের জন্য কতটা উপকারী, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

পুষ্টিবিদদের মতে, সুস্থ থাকার জন্য কেবল পর্যাপ্ত খাবার খাওয়া যথেষ্ট নয়, খাদ্যতালিকায় পুষ্টির ভারসাম্য এবং বৈচিত্র্য থাকা অপরিহার্য। কারণ নির্দিষ্ট কিছু খাবার থেকে শরীরের প্রয়োজনীয় সব ধরনের পুষ্টি উপাদান পাওয়া সম্ভব নয়। ফলে দীর্ঘদিন একই ধরনের খাবার খেলে শরীরে কিছু পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

১. পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে

শরীর সুস্থ রাখতে প্রোটিন, শর্করা, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন এবং খনিজ উপাদানের প্রয়োজন রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের খাবার এই পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়তা করে। কিন্তু প্রতিদিন একই খাবার খাওয়ার ফলে খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি হতে পারে।

বিশেষ করে যদি খাবারে মাছ, ডিম, ডাল, শাকসবজি এবং ফলের পরিমাণ কম থাকে, তাহলে শরীর পর্যাপ্ত প্রোটিন, ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান পেতে পারে না। দীর্ঘকাল এমন খাদ্যাভ্যাস চলতে থাকলে পুষ্টির ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

২. হজমের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে

হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত আঁশ বা ফাইবার থাকা প্রয়োজন। ফল, শাকসবজি, ডাল এবং পূর্ণশস্য আঁশের ভালো উৎস। এসব খাবার অন্ত্রের কার্যক্রম সচল রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সহায়তা করে।

প্রতিদিন একই ধরনের খাবার খাওয়ার ফলে খাদ্যতালিকায় এসব উপাদানের বৈচিত্র্য কমে গেলে হজমজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে আঁশের ঘাটতি হলে কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

৩. অন্ত্রের উপকারী অণুজীবের বৈচিত্র্য কমতে পারে

মানুষের অন্ত্রে অসংখ্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া এবং অন্যান্য অণুজীব বসবাস করে। খাবার হজম, পুষ্টি শোষণ এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা সচল রাখতে এদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

বিভিন্ন ধরনের ফল, শাকসবজি, ডাল এবং আঁশযুক্ত খাবার অন্ত্রের এসব উপকারী অণুজীবের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে। তাই দীর্ঘদিন একই ধরনের খাবার খেলে অন্ত্রের অণুজীবের বৈচিত্র্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর ফলে অন্ত্রের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

৪. ভিটামিন এবং খনিজের ঘাটতি দেখা দিতে পারে

একই ধরনের খাবার নিয়মিত খাওয়ার ফলে শরীরে নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিন এবং খনিজের অভাব তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি১২ এবং ভিটামিন ডির ঘাটতির ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, খাদ্যতালিকায় আয়রনসমৃদ্ধ খাবার পর্যাপ্ত না থাকলে আয়রনের অভাব দেখা দিতে পারে। একইভাবে দুধ, মাছ কিংবা অন্যান্য ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার কম খেলে শরীরের ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

৫. খাবারের প্রতি অনীহা তৈরি হতে পারে

প্রতিদিন একই খাবার খেতে খেতে স্বাভাবিকভাবেই একসময় একঘেয়েমি চলে আসে। ফলে খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে। এমনকি প্রয়োজনীয় পুষ্টি রয়েছে এমন খাবারও অনেক সময় খেতে ইচ্ছা করে না।

এর ফলে কেউ কেউ খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দেন বা প্রয়োজনীয় কিছু খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলেন। এতে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনতে যা খাবেন

সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের খাবারে বিভিন্ন খাদ্যগোষ্ঠীর উপাদান অন্তর্ভুক্ত করা ভালো। একই ধরনের খাবারের ওপর নির্ভর না করে খাবারের ধরন পরিবর্তন করলে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়ার সুযোগ বাড়ে।

খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন—

একই খাবার কি সব সময় ক্ষতিকর?

প্রতিদিন একই খাবার খেলেই যে শরীরের ক্ষতি হবে, বিষয়টি এমন নয়। মূল বিবেচ্য হলো খাবারের পুষ্টিমান, পরিমাণ এবং খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি উপাদানের উপস্থিতি। একই ধরনের খাবারেও যদি শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি সঠিক পরিমাণে থাকে, তাহলে তা স্বাস্থ্যকর হতে পারে।

তবে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিদিনের খাবারে বিভিন্ন ধরনের ফল, শাকসবজি, প্রোটিন এবং পূর্ণশস্য যুক্ত করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা সহজ হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়ক প্রশস্তকরণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৪ এম


ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়ক প্রশস্তকরণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ

সুনামগঞ্জের ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের শুরুতেই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকার প্রায় পৌনে ২০০ কোটি টাকা গচ্চা যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে যদি বিষয়টি গুরুত্ব না দেওয়া হয়। এতে দুর্নীতিবাজরা লাভবান হবে এবং এই অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষ ভুক্তভোগী হয়ে থাকবে।

জানা গেছে, দেশের শীর্ষ স্থানীয় নির্মাণাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেড কর্তৃক সুনামগঞ্জের ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়ক প্রশস্তকরণ ও আধুনিকায়নের কাজ প্রায় এক মাস আগে শুরু হয়েছে। গোবিন্দগঞ্জ থেকে ছাতক সুরমা সেতুর চত্বর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কে দুই লেন এবং সেখান থেকে ছাতকবাজার পর্যন্ত চার লেনের কাজ চলছে। দুই অংশে কাজের জন্য ব্যয় হচ্ছে ১৭৪ কোটি টাকা। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ব্যবহারের জন্য মাধবপুর লালপুল এলাকায় প্রায় আড়াই লাখ ব্লক তৈরির টার্গেট নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। ইতোমধ্যে শারফিনটিলার মরা লাল পাথরের সঙ্গে বিল্ডিং ভাঙার কংক্রিট, নিম্নমানের বালু ও সিমেন্ট দিয়ে ২০ হাজার ব্লক তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এই কারণে কাজের মান নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এছাড়া সড়ক সম্প্রসারণে কাদাযুক্ত মাটি দিয়ে ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সাইট ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে নদী থেকে মাটি উত্তোলন করে সড়কে সাপ্লাই দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, সড়কের পাশে ময়লার ওপর ভিটমাটি দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি কিংবা পানির সামান্য ধাক্কায় সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এসব কাজের তদারকি কিংবা কোনো সাইনবোর্ড নেই। সচেতন মহলের অভিযোগ, শুকনো মাটির পরিবর্তে কাদামাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে সড়কের প্রশস্তকরণ কাজ, যা টেকসই রাস্তার জন্য মোটেও উপযোগী নয়। ব্লক তৈরির কাজে জড়িত শ্রমিকরা বলছেন, ঠিকাদারের নির্দেশনা মতোই তারা কাজ করছেন।

এদিকে, অবৈধভাবে কৃষিজমি ও সরকারি জমি থেকেই কাদামাটি আনা হচ্ছে। অন্যদিকে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে সুরমা নদী থেকে ভিটবালু উত্তোলন করে রাখা হচ্ছে সিলেট সুনামগঞ্জ সড়কের কাজীবাড়ী এলাকায়। এসব ভিটমাটি সড়ক প্রশস্তকরণ কাজে সরবরাহ করে অবৈধ ফায়দা হাসিলের অভিযোগ উঠেছে। সিলেট সদর উপজেলার বাসিন্দা চমক আলীর বিরুদ্ধে সিলেট, ছাতক কোম্পানিগঞ্জ, জালালাবাদ অংশ থেকে অবৈধভাবে ভিটমাটি উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালে ছাতকের লালপুল এলাকা থেকে তার একটি ড্রেজারসহ ড্রেজারের মালিক হাবিবকে আটক করেছিলেন ছাতক উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম। পরে তাকে তদবীর করে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়। সম্প্রতি কাজীবাড়ী এলাকায় ভিটমাটিতে অভিযান করেন বিশ্বনাথের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিহাব বিন আমিন। শেষ পর্যন্ত সেটাও ধামাচাপার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বিশ্বনাথের ভূমি কর্মকর্তা জানান, উপস্থিত কাগজপত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি, অন্য কোথা থেকে ভিটমাটি এনে এখানে রাখা হচ্ছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে চমক আলী বিভিন্ন বৈধ-অবৈধ ওয়ার্ক অর্ডার জাল জালিয়াতির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে এসব ভিটমাটির ব্যবসা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গোবিন্দগঞ্জ-ছাতক সড়কের সুরমা সেতুর চত্বর পর্যন্ত দুই লেনের মাটি ভরাট কাজ ও ভিটমাটিও তিনি সাপ্লাই দিচ্ছেন। তার মাধ্যমে কৃষিজমি থেকে কাদাযুক্ত মাটি সরবরাহ করছেন অনেকেই। অভিযোগ উঠেছে, এই কাজকে ঘিরে চমক আলীর নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে চমক আলী তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ছাতক সুরমা সেতুর চত্বর থেকে গোবিন্দগঞ্জ পর্যন্ত শুধু মাটি ভরাটের কাজ তিনি করছেন। ভিজা মাটির কারণ দেখিয়ে গত সোমবার রাত থেকে কর্তৃপক্ষ তার মাটিভরাট কাজ কয়েকদিনের জন্য স্থগিত করেছেন। অগ্রহায়ণ মাসের পর আবার মাটিভরাট কাজ শুরু করবেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওটিবিএলের ডিপিএম, গোবিন্দগঞ্জ-ছাতক সুরমা সেতুর চত্বর পর্যন্ত দুই লেন কাজের সাইট ইঞ্জিনিয়ার সজল হাওলাদার বলেন, সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে ব্লক তৈরির বিষয়ে বলেন, যে সিঙ্গেল ধরা আছে, সে সিঙ্গেল দিয়ে কাজ চলছে।

ছাতক সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সাদাৎ হোসেন নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে ব্লক তৈরির বিষয়ে তিনি বলেন, ভোলাগঞ্জের কোয়ারী বন্ধ। এছাড়া সুনামগঞ্জে সাদাপাথর না পাওয়ায়, শারফিনের পাথর দিয়ে ব্লক তৈরি হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%