০৪:০২ এম
সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ও কর্মমুখর হয়ে উঠছে, যা টানা কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ ও সংঘর্ষের ঘটনার পর ঘটছে। গতকাল শুক্রবার, সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও জরুরি প্রয়োজনে ৮৮টি পোশাক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। সকাল থেকেই শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দেন এবং কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার সকাল থেকে সাভারের হেমায়েতপুর, আশুলিয়ার নরসিংহপুর, জামগড়া, জিরাবসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কারখানাগুলোতে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বিরাজ করছে। শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শিল্প পুলিশের সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তবে শ্রমিক অসন্তোষ বা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির খবর পাওয়া যায়নি।
শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, স্বাভাবিক সময়েও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে জরুরি শিপমেন্টসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে কিছু পোশাক কারখানা খোলা রাখা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার শিল্পাঞ্চলের ৮৮টি কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চালু রয়েছে। এসব কারখানায় শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের নিন্দা জানালেন এমপি নূরুন্নিসা
শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শোয়েব আহম্মেদ বলেন, শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সাধারণত শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কারখানা বন্ধ থাকে। তবে জরুরি শিপমেন্ট থাকায় কিছু কারখানা চালু রাখা হয়। ৮৮টি কারখানা চালু রয়েছে এবং পুরো এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু জানান, স্বাভাবিক সময়েও জরুরি প্রয়োজনে ছুটির দিনে কিছু কারখানা চালু থাকে। শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে এবং পুরোদমে কাজ শুরু হলেও এ পরিবেশ বজায় থাকবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। শ্রমিকদের মজুরির দাবি ও অসন্তোষ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আপাতত শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে উৎপাদন সচল রাখা প্রয়োজন। তবে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হলে কাজে ফেরা কঠিন হবে। তাই শ্রমিকদের বাড়িতে গিয়ে পুলিশি তল্লাশি বা হয়রানির অভিযোগের মতো পরিস্থিতি বন্ধ করে তাঁদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, শুক্রবার সকাল থেকে পুরো শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক রয়েছে। জরুরি প্রয়োজন থাকায় ৮৮টি পোশাক কারখানা চালু রয়েছে। এসব কারখানায় শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন এবং পুলিশ সদস্যরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। শ্রমিকদের নিরাপত্তায় শিল্প পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন