মোঃ উজ্জ্বল মিয়া, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি
০৮:৩৪ পি.এম
তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে সাংবাদিকতার ধরন। বাড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, পাশাপাশি ছড়িয়ে পড়ছে গুজব ও অপতথ্য। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নেত্রকোনায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘মাল্টিমিডিয়া, এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা।
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ—পিআইবির উদ্যোগে শুক্রবার (৩ অক্টোবর) শুরু হওয়া এ প্রশিক্ষণ চলবে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান। সাংবাদিকদের সমাজের ‘তৃতীয় চোখ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রশাসনের নজরের বাইরে থাকা নানা অসঙ্গতি সাংবাদিকরা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও তথ্য যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
পিআইবির প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারী জিলহাস উদ্দিন নিপুন বলেন, আগামী দিনের সাংবাদিকতায় এআইয়ের ব্যবহার আরও বাড়বে। তাই প্রযুক্তির সঙ্গে সাংবাদিকদের নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ফ্যাক্ট-চেকিংয়ে দক্ষতা অর্জন জরুরি।
অনুষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী, জেলা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি জাহিদ হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক ম. কিবরিয়া চৌধুরী বক্তব্য দেন।
প্রশিক্ষণে মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট তৈরি, এআইয়ের ব্যবহার এবং ভুল তথ্য শনাক্ত ও যাচাইয়ের বিভিন্ন কৌশল শেখানো হচ্ছে। আয়োজকদের আশা, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নেত্রকোনার সাংবাদিকরা প্রযুক্তিনির্ভর ও আরও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় দক্ষ হয়ে উঠবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩ অক্টোবর, ২০২৬ : ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের সময়সীমা রোববার শেষ হচ্ছে।
আজ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।
এদিকে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে পোস্টাল ভোট দেওয়ার জন্য মোট ২৮৪ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন বলে ইসির কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে ২৯ জন প্রবাসী ভোটার এবং দেশের অভ্যন্তরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ২৫৫ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন।
ইসির নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৬ অক্টোবর আপিলের নিষ্পত্তি করা হবে। এছাড়া ৭ অক্টোবর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ৮ অক্টোবর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।
ভোটগ্রহণ আগামী ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা অনুষ্ঠিত হবে।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বৈধ মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
বৈধ ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ওবায়দুল্লাহ মাসুদ ও মির্জা ফয়সল আমীন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দেলওয়ার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ৭ হাজার ২০৩ জন। তবে সম্প্রতি নতুন ভোটার যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে এ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ১৫ হাজার ৫২৫ জনে।
উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমানে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দলীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকার কারণে ১৬টি বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের ২৯ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করা হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) তারিখে বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানজীম রুবাইয়াত আফিফ এবং সদস্য সচিব মোস্তাফিজুল কবীরের সই করা পৃথক নোটিশে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট নেতারা নিজ নিজ কলেজ ছাত্রদলের দায়িত্বশীল পদে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কর্মসূচিতে তাদের অনুপস্থিতি সংগঠনের জন্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, এসব কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকার কারণ জানিয়ে এবং তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—এ বিষয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের কাছে লিখিত জবাব দিতে হবে।
শোকজপ্রাপ্তদের মধ্যে উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক; বসুন্ধরা আদ্-দীন মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব; বাংলাদেশ ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব; সিটি ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
এছাড়া, ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক; গ্রীন লাইফ মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক; ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক; সাফেনা উইমেন্স ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক; আশিয়ান মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও শোকজের তালিকায় রয়েছেন।
শোকজপ্রাপ্ত অন্যান্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, পপুলার মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, এম এইচ শমরিতা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি এবং ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক।
এর আগে, গত আগস্টে দেশের ৭৮টি বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে তানজীম রুবাইয়াত আফিফ এবং সদস্য সচিব হিসেবে মোস্তাফিজুল কবীর দায়িত্ব পান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩ অক্টোবর, ২০২৬ : ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অন্য কোনো দেশের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল নয়।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ এবং নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে। একইভাবে প্রতিবেশী দেশগুলোরও একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ নীতির প্রতি সম্মান দেখানো উচিত।
ঢাকায় চলমান ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এর একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘ভারতের দিক থেকে আমরা মনে করি, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বাংলাদেশের অন্য দেশগুলোর সঙ্গে কী ধরনের সম্পর্ক রয়েছে তার ওপর নির্ভর করে না।
’
‘পাওয়ার অ্যান্ড প্রুডেন্স : ম্যানেজিং গ্রেট-পাওয়ার কম্পিটিশন উইদাউট কনফ্লিক্ট’ শীর্ষক অধিবেশনে তিনি বলেন, বাংলাদেশ তার নিরাপত্তাগত স্বার্থ সম্পর্কে অবগত এবং নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে।
ত্রিবেদী বলেন, ‘বাংলাদেশ সম্পূর্ণ স্বাধীন একটি দেশ এবং জনগণ গণতান্ত্রিকভাবে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেছে। তাই বাংলাদেশ যে সিদ্ধান্তই নিক, সেটি বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্ত।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘বাংলাদেশের কী করা উচিত, তা কাউকে বলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।’ একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, উভয় দেশেরই নিজ নিজ জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার অধিকার রয়েছে।
তিনি বলেন, দুর্যোগ বা নিরাপত্তাগত চ্যালেঞ্জের সময় প্রতিবেশীদের একে অপরকে সহযোগিতা করা উচিত। তবে এর পাশাপাশি একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ নীতির প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।
ত্রিবেদী বলেন, ‘একই সময়ে কোনো প্রতিবেশীরই একে অপরের নীতিতে হস্তক্ষেপ করার কোনো কারণ নেই।’
দ্বিপক্ষীয় অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে অব্যাহত সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি পানি, বাণিজ্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, যোগাযোগ ও পরিবহনসহ বিভিন্ন বিষয়ে উপযুক্ত ফোরামের মাধ্যমে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘বিষয়গুলো লুকিয়ে রাখার কোনো অর্থ নেই এবং বিষয়গুলো নিয়ে কথা না বলারও কোনো অর্থ নেই।’
হাইকমিশনার বলেন, দ্বিপক্ষীয় সংলাপ অব্যাহত রাখতে হবে। আলোচনার অগ্রগতি ধীর হতে পারে, তবে প্রক্রিয়া থেমে যায়নি।
তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিতে পারি, প্রক্রিয়া থেমে নেই। প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
ত্রিবেদী বলেন, ‘বিশ্বাস করুন, এর একটি সমাধান হতে হবে এবং একটি সমাধান হবেই।’
প্রতিবেশী দুই গণতান্ত্রিক দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব মতপার্থক্য নিরসনের প্রচেষ্টার ভিত্তি হতে হবে পারস্পরিক আস্থা।
তিনি বলেন, ‘বিষয়গুলোর সমাধান কেবল সংলাপ ও পরামর্শের মাধ্যমেই হতে পারে। আর সেই সংলাপের ভিত্তি হলো আস্থা।’
ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক শুধু লেনদেনভিত্তিক নয়; এর ভিত্তি গভীর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক বন্ধন।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা শুধু লেনদেনভিত্তিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাই না, এর পরিধি অনেক বিস্তৃত এবং এর মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্কও রয়েছে। এই সাংস্কৃতিক বন্ধনটি অত্যন্ত, অত্যন্ত দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।’
পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসার কথা উল্লেখ করে ত্রিবেদী দুই দেশের সম্পর্কের সাংস্কৃতিক ভিত্তির উদাহরণ হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অভিন্ন ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে শক্তিশালী যোগাযোগ ও সম্পর্ক ভবিষ্যতেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
তিনি বলেন, ‘এটি টিকে থাকবে-- এ বিষয়ে আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।’
আলোচনায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এএনএম মুনিরুজ্জামান, সাবেক ভারতীয় সেনা কমান্ডার অরুণ কুমার সাহনি, জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ক্যারল ক্রিস্টিন ফেয়ার এবং ইস্তাম্বুল মেট্রোপলিটন মিউনিসিপ্যালিটির পররাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা মুস্তাফা ওসমান তুরান অংশ নেন।
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাভিত্তিক ‘সিএনএসএলটিজি-বিএসএনএসএস-ডিভিএলপিএমএনটি’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারিস হাদ্রোভিচ অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন।
বাংলাদেশে তুরস্কের সাবেক রাষ্ট্রদূত তুরান বলেন, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের অর্থ শুধু মাঝামাঝি অবস্থানে বসে থাকা নয়।
অধিবেশনটিতে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা কীভাবে সামাল দেওয়া যায় এবং উত্তেজনা বাড়ার ঝুঁকি কীভাবে কমানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিঙ্গাপুর সরকার রেকর্ড পরিমাণ কম জন্মহারের ফলে জনসংখ্যা সংকটের মোকাবিলায় সরকারি কর্মীদের জন্য একটি ডেটিং অ্যাপ চালু করেছে।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং তাদের সন্তান জন্মদানে উৎসাহিত করা।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি মাসে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া ‘ফার্স্ট ডেট’ নামের অ্যাপটি বর্তমানে শুধুমাত্র সিঙ্গাপুরের সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য উন্মুক্ত। ২১ থেকে ৩৫ বছর বয়সি সরকারি কর্মীরা এতে নিবন্ধন করার সুযোগ পাবেন।
অ্যাপটিতে ব্যবহারকারীদের পছন্দ, মূল্যবোধ ও ব্যক্তিগত অগ্রাধিকার সম্পর্কে বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। এরপর একটি নোবেলজয়ী অ্যালগরিদম সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে একবারে একটি সম্ভাব্য জুটি বা ম্যাচ তৈরি করবে।
এতে প্রচলিত ডেটিং অ্যাপের মতো একের পর এক প্রোফাইল সোয়াইপ করার সুযোগ নেই। বরং ‘সোয়াইপ ফ্যাটিগ’ এড়ানোর পাশাপাশি অর্থপূর্ণ সম্পর্ক তৈরিতে সহায়তা করাই অ্যাপটির মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অ্যাপটির ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, জুটি তৈরিতে ‘গেইল-শ্যাপলে স্টেবল ম্যারিজ’ অ্যালগরিদম ব্যবহৃত হচ্ছে। কোনো জুটি ম্যাচ হওয়ার পর তাদের সাক্ষাৎ বা ডেট করার জন্য তিন দিন সময় দেওয়া হয়। সম্পর্কের শুরুতে অস্বস্তি কাটাতে ‘ডেট কোয়েস্ট’ নামে বিভিন্ন কার্যক্রমের ধারণাও অ্যাপটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সিঙ্গাপুরের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২৯ বছর বয়সি কর্মী এলিজাবেথ জানিয়েছেন, অন্য ডেটিং অ্যাপগুলোর তুলনায় এখানে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা খুব একটা আলাদা নয়। তবে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা কম থাকায় তিনি স্বস্তি বোধ করছেন। কারণ, অ্যাপটির ব্যবহারকারীরা সবাই সরকারি চাকরিজীবী এবং জীবনসঙ্গী খুঁজছেন।
সিঙ্গাপুরে জনসংখ্যা সংকট মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগে ঘটকালির এটি প্রথম প্রচেষ্টা নয়। এর আগে ১৯৮৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকদের মধ্যে জুটি গঠনে উৎসাহ দিতে ‘সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ইউনিট’ নামে একটি ম্যাচমেকিং এজেন্সি চালু করেছিল দেশটির সরকার।
তবে কয়েক দশক পরও দেশটির জন্মহার কমার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালে সিঙ্গাপুরে ৩০ হাজারের কম শিশু জন্ম নিয়েছে, যা গত ৬০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ওই বছরে নারীপ্রতি মোট জন্মহার বা টিএফআর কমে দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ৮৭-তে। জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে সাধারণত যে ২ দশমিক ১ টিএফআর প্রয়োজন, বর্তমান হার তার তুলনায় অনেক কম।
অন্যদিকে, দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। ২০২৫ সালে প্রায় ২৬ হাজার ৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ফলে কম জন্মহার ও বাড়তে থাকা মৃত্যুহারের সমন্বয়ে জনসংখ্যাগত চাপ আরও তীব্র হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সম্পর্ক ও পরিবার গঠনে উৎসাহ দিতে সরকারি পর্যায়ে নতুন উদ্যোগ হিসেবে ডেটিং অ্যাপটি চালু করেছে সিঙ্গাপুর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ