বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৯:২১ পি.এম
রাজশাহীতে চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং শিরোইল কলোনী বড় জামে মসজিদের সাবেক খাদেম মোঃ মুরাদ কাদেরী।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, তিনি পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন সূরা তেলাওয়াত করে স্থানীয় মানুষের অনুরোধে তেলপড়া ও পানিপড়া দেন। এই জন্য কেউ স্বেচ্ছায় ২০ থেকে ৫০ টাকা দিলে তিনি তা গ্রহণ করে থাকেন। তার অভিযোগ, গত ২১ জুলাই রাত ৮টার সময় স্থানীয় লাইক নামে এক ব্যক্তি নাজমুল, আলফাজসহ কিছু লোককে সঙ্গে নিয়ে তার বাড়িতে যান। সেখানে গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয় এবং সেটি দেখিয়ে তাকে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দাবির বিরুদ্ধে টাকা না দিলে তাকে ভণ্ড কবিরাজ আখ্যা দিয়ে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ইউটিউবে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
মুরাদ কাদেরী আরও বলেন, পরদিন সন্ধ্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা এলাকায় এসে গেলে স্থানীয় মানুষ তাদের ধাওয়া দেয়। এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে তার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং চন্দ্রিমা থানায় তার বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তাকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করা হয়েছে, যা তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, মিথ্যা জিডির মাধ্যমে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা হচ্ছে। এ ছাড়া চাঁদা দাবির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মিথ্যা জিডি প্রত্যাহারের জন্য রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন জায়গায় কয়েক ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে হয়রানি করছেন। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
তবে অভিযুক্ত তানজিমুল ইসলাম লাইক এর মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমি মুরাদ কাদেরীর কাছ থেকে কোন টাকা চাইনি। লাইকের ওপর হামলার থানায় অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লাইক বলেন, আমি ৩/৪ জনের সঙ্গে চা পান করছিলাম। হঠাৎ করে আমাকে বাঁশের লাঠি হাতে বেশ কয়েকজন তাড়া করে। আমি দৌড়ে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পাই। পরে মোঃ মুরাদ কাদেরীকে বিবাদী করে চন্দ্রিমা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময়, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আটক করতে আসা পুলিশ ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে সহপাঠীকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা এক তরুণীর দৃশ্য ব্যাপকভাবে আলোচনার সৃষ্টি করেছিল। এর প্রেক্ষিতে, প্রায় দুই বছর পর ভারতের মুম্বাইয়ে একই ধরনের একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে সেই স্মৃতিকে ফিরিয়ে এনেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি থেকে জানা যায়, বুধবার (২২ জুলাই) মুম্বাইয়ের দাদারের শিবাজী পার্ক এলাকায় রিয়া আহির নামের এক তরুণী চলন্ত একটি পুলিশ ভ্যানের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সেটির গতিরোধ করার চেষ্টা করেন। পুলিশ সদস্যরা তাকে সরে যেতে বললেও, তিনি তার স্থান থেকে সরেননি।
এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রবল বৃষ্টির মধ্যে হুডি ও ক্যাপ পরা রিয়া তার দুই হাত সামনে বাড়িয়ে পুলিশ ভ্যানের অগ্রযাত্রা থামানোর চেষ্টা করেছেন।
তার এই পদক্ষেপে আশেপাশের আন্দোলনকারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে করতালি এবং স্লোগান দিয়ে সমর্থন জানানো হয়। স্থানীয় বেশ কয়েকটি প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, পরে ওই পুলিশ ভ্যান থেকে আটক হওয়া কয়েকজন আন্দোলনকারীকে মুক্তি দেওয়া হয়।
রিয়া আহিরের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি একজন অভিনেত্রী, মডেল এবং উদ্যোক্তা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় এক লাখ। তিনি বেশ কয়েকটি মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেছেন, যার মধ্যে সম্প্রতি প্রকাশিত 'দিলবারা' নামক একটি মিউজিক ভিডিও রয়েছে।
অভিনয়ের পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবেও কাজ করছেন রিয়া। তার হস্তশিল্প ও পোশাক নিয়ে একটি ব্যবসা আছে এবং তিনি 'রিয়াসত' নামে একটি নিজস্ব ফ্যাশন ব্র্যান্ড পরিচালনা করেন।
রিয়ার পুলিশ ভ্যানের সামনে প্রতিবাদের এই দৃশ্য ইতোমধ্যে ভারতজুড়ে চলমান ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম আলোচিত প্রতীক হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ব্যবহারকারী ঘটনাটিকে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের স্মরণীয় মুহূর্তের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঋণের চাপ কমানোর জন্য বেঙ্গল গ্রুপ রাজধানীর হাতিরঝিল-সংলগ্ন তেজগাঁওয়ে অবস্থিত ‘সুইস টাওয়ার’ বিক্রি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই ভবনটি বেঙ্গল গ্রুপের মালিকানাধীন এবং এটি ২৭ তলা নির্মাণাধীন ভবন। বেসরকারি খাতের পূবালী ব্যাংক এই ভবনটি কিনে নিচ্ছে। ভবনটিতে আন্তর্জাতিক তারকা চেইন হোটেল সুইসটেল হওয়ার কথা ছিল।
বুধবার (২২ জুলাই) অনুষ্ঠিত ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় ভবন কেনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে দেশের দুটি স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের খবর বিনিয়োগকারীদের জানানো হয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে পূবালী ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৮০০ কোটি টাকায় সুইস টাওয়ার কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। তবে, ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। ভবনটি বর্তমানে ৫৮ কাঠা জমির ওপর নির্মাণাধীন এবং এর ৩ তলা বেজমেন্ট রয়েছে, যেটি মাটির নিচে। যদি এই ভবনটি কিনে নেওয়া হয়, তাহলে পূবালী ব্যাংক তাদের প্রধান কার্যালয় এখানে স্থানান্তর করবে। বর্তমানে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় মতিঝিলে অবস্থিত।
জানা গেছে, বেঙ্গল গ্রুপ ভবনটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংকঋণ পরিশোধের লক্ষ্যে। এই ভবন নির্মাণে গ্রুপটি ৩০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ পেয়েছে বিশ্বব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) এবং দেশি প্রতিষ্ঠান ইডকল থেকে। এর বাইরেও গ্রুপটির অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উপর বড় অঙ্কের ঋণ রয়েছে। এই ভবনটি বিক্রি করে সেই ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে বেঙ্গল গ্রুপের।
এ বিষয়ে বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসিমউদ্দিন জানিয়েছেন, ‘এই ভবনে সুইসটেল হোটেল করার কথা ছিল। ভবনের মূল কাঠামো এরই মধ্যে নির্মিত হয়ে গেছে। ৩৭০টি হোটেলকক্ষ হওয়ার পরিকল্পনা ছিল ভবনটিতে। বর্তমানে আমরা একটি আর্থিক সংকটে পড়েছি। তাই ভবনটি বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবনটি বিক্রি করলে আমরা বড় অঙ্কের ব্যাংকঋণ পরিশোধ করতে পারব। পূবালী ব্যাংকের সঙ্গে ভবনটি বিক্রি করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হেজবুত তওহীদ নিষিদ্ধের দাবিতে নোয়াখালীতে ঐতিহাসিক ইসলামী মহা-সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে সাংবাদিক এবং ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে মতবিনিময় সভা আয়োজন করেছে মহা-সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটি।
এই সভাটি বৃহস্পতিবার দুপুরে নোয়াখালী সুপার মার্কেটের ফুড-পেস্তা রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হয়। সভার আয়োজন করা হয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর তত্ত্বাবধানে, যেখানে ‘জমইয়্যাতুল মাদারিসিল ক্বাওমিয়্যাহ’ এবং ইসলামবিরোধী কার্যক্রম প্রতিরোধ কমিটির যৌথ উদ্যোগ রয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন নোয়াখালী সুপার মার্কেট পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. ইকরাম উল্লাহ ডিপটি। মাওলানা ছিদ্দিকুর রহমান, ‘জমইয়্যাতুল মাদারিসিল ক্বাওমিয়্যাহ’ নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের সভাপতি, প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। অন্যান্য বক্তব্য প্রদান করেন বিভিন্ন আলেম-ওলামা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে হেজবুত তওহীদকে ঈমান বিধ্বংসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তারা ১ আগস্ট নোয়াখালী জেলা স্কুল মাঠে আয়োজিত ইসলামী মহা-সমাবেশ সফল করতে সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় সাংবাদিক এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিগণ মহা-সমাবেশ সফল করতে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিহারের পশ্চিম চম্পারণ জেলায় ১০ ফুট লম্বা একটি বিষধর শঙ্খচূড় (কিং কোবরা) উদ্ধারকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ‘স্নেক লেডি’ নামে পরিচিত প্রশিক্ষিত সাপ উদ্ধারকারী জানকী দেবী, সাপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করার পর গলায় মাফলারের মতো জড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও এখন ভাইরাল হয়ে গেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি পশ্চিম চম্পারণের বাল্মিকীনগরে মুন্নি লাল নামে এক বাসিন্দার বাড়িতে ঢুকে পড়ে প্রায় ১০ ফুট লম্বা একটি শঙ্খচূড়। সাপটি দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে এসে প্রতিবেশীদের সতর্ক করেন। খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং বাড়ির সামনে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে ওঠে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান জানকী দেবী। তিনি দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিষধর সাপটিকে উদ্ধার করেন। এরপর সাপটিকে নিকটবর্তী একটি জঙ্গলে নিরাপদে অবমুক্ত করা হয়। জঙ্গলে নিয়ে যাওয়ার সময় সাপটিকে গলার চারপাশে জড়িয়ে হাঁটার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ভিডিওটি ‘গাঁওয়ালা’ নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা এবং এটি ঠিক কবে ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় বন কর্মকর্তা সত্যম কুমার জানান, বর্ষাকাল ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের সময় সাপ প্রায়ই শুকনো ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসে। বিশেষ করে বাল্মিকী ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্রের আশপাশের এলাকায় এ ধরনের ঘটনা তুলনামূলক বেশি ঘটে। তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, আতঙ্কিত না হয়ে সাপ ধরার চেষ্টা থেকে বিরত থাকুন এবং প্রয়োজনে প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারীদের খবর দিন।
স্থানীয়দের কাছে জানকী দেবী একজন সুপরিচিত বন্যপ্রাণী উদ্ধারকর্মী। বন বিভাগের তথ্যমতে, গত কয়েক বছরে তিনি হাজার হাজার বিষধর সাপকে নিরাপদে উদ্ধার করেছেন। মাত্র ১২ বছর বয়সে সাপ উদ্ধারের কাজ শুরু করেছিলেন জানকী এবং উদ্ধার অভিযানের সময় তিনি একাধিকবার সাপের কামড়েও শিকার হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ