ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সিদ্ধিরগঞ্জে ১১ মাদকসেবীর কারাদণ্ড


সিদ্ধিরগঞ্জে ১১ মাদকসেবীর কারাদণ্ড

‎নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে ১১ জন মাদকসেবীকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
‎
‎মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে আটক করে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত মোস্তারীর আদালতে হাজির করা হলে তিনি এ সাজা প্রদান করেন।
‎
‎সাজাপ্রাপ্তরা হলেন—উত্তর আজিবপুরের মো. আব্দুল কাদের হোসেন ফালান (৪০), আজিবপুর রেললাইনের মো. আনোয়ার হোসেন কুট্টি (৪০), কদমতলীর জামাল (২৮), আটি অবদা কলোনির উৎস (১৯) ও অনন্ত রায় (১৯), গ্যাস লাইনের মো. নাজমুল (১৯) ও রাজা মিয়া (২৬), সোনামিয়া মার্কেটের রিপন (২৬), জালকুড়ির সবুজ মাঝি (২৮), মিজমিজির মো. হাসান (২৮) এবং মিজমিজি দক্ষিণপাড়ার মেহেদী হাসান (২০)।
‎
‎সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হক ১১ জনকে কারাদণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদকসেবন ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাগমারায় নারী এমপির ডিও লেটার প্রত্যাখ্যান, সংবাদ সম্মেলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:২৩ পি.এম


বাগমারায় নারী এমপির ডিও লেটার প্রত্যাখ্যান, সংবাদ সম্মেলন

 

রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার সাঁকোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির জন্য সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য কর্তৃক প্রদত্ত ডিও লেটার প্রত্যাখ্যান করে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকে। বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিকদার বাজারে সাঁকোয়া শিকদারী এলাকার সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় জনগণ জানায়, সম্প্রতি রাজশাহী অঞ্চলের সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা সাঁকোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে শিকদারী এলাকার বাসিন্দা ইকবাল হোসেনকে মনোনয়নের জন্য একটি ডিও লেটার প্রদান করেন। বক্তারা এসময় দাবি করেন, ইকবাল হোসেন বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি আব্দুস সোবাহান চৌধুরীর ভাতিজা। এছাড়া, তিনি ঝিকরা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ ফৌজদারের শ্যালক। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয় বিভিন্ন নির্বাচনে তাদের পক্ষে কাজ করেছেন।

স্থানীয় জনগণের অভিযোগ হলো, শিকদারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করলেও চাকরির কারণে ইকবাল হোসেন দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে নওগাঁর রানীনগরে বসবাস করছেন। তিনি সেখানে তার পরিবার-পরিজন নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন এবং বর্তমানে রানীনগরে শিক্ষকতা করছেন। এই পরিস্থিতিতে, দীর্ঘকাল ধরে এলাকায় বসবাস না করা একজন ব্যক্তিকে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনয়নের জন্য ডিও লেটার দেওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, "বিদ্যালয়ের স্বার্থে স্থানীয় ও এলাকার হিতৈষী ব্যক্তিদের মধ্য থেকে একজনকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হোক।" তারা আরও বলেন, "দীর্ঘ ২৬ বছর এলাকায় বসবাস করেন না—এমন একজন ব্যক্তিকে কীভাবে ডিও লেটার দেওয়া হলো, তা আমাদের বোধগম্য নয়।" বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, "বিএনপির বর্তমান সময়ে আওয়ামী লীগ পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করা একজন ব্যক্তিকে কেন সভাপতি পদে মনোনয়নের জন্য ডিও লেটার দেওয়া হলো।" সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তারা ওই ডিও লেটার কার্যকর না করার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে সাঁকোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, "ইকবাল হোসেন ডিও লেটারটি প্রতিষ্ঠানে জমা দিয়েছেন। তবে তাকেই সভাপতি করতে হবে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।" অভিযোগের বিষয়ে ইকবাল হোসেন জানান, "আমার স্থানীয় এলাকা শিকদারী। চাকরির কারণে আমি রানীনগর এলাকায় থাকি। আমি বাগমারার ভোটার এবং বর্তমানে রানীনগরে শিক্ষকতা করছি। প্রায় ২৬ বছর ধরে চাকরির সুবাদে সেখানে অবস্থান করছি। দূরে থাকলেও এতে কোনো সমস্যা নেই। আমাকে ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে, আমি সেটি প্রতিষ্ঠানে জমা দিয়েছি।" সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দুলাল উদ্দিন মেম্বার, রেজাউল হক, নজরুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, দুলাল প্রামানিক, সাইদ আলী, আব্দুর রশিদ, রফিকুল ইসলাম, টুকু, জিয়াউর রহমান, শাহাজান আলী, ফজেল ইসলাম, আব্দুস সাত্তারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:২৩ পি.এম


বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন

মার্কিন সরকারের মূল্যস্ফীতিসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের আগমুহূর্তে বিশ্ববাজারে বড় পতন ঘটেছে বৈশ্বিক সোনার দামে। আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত ঘিরে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা লেনদেনে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করছেন, যার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে এ মূলবান ধাতুর দরপতন ঘটেছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টা ২৭ মিনিটে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে সোনার দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬১৬ দশমিক ৬২ ডলারে নেমে আসে। একই সঙ্গে ফিউচার মার্কেটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬৭২ দশমিক ১০ ডলারে।

বৈশ্বিক পুঁজিবাজারের হালচাল তুলে ধরে ট্রাডু ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক নিকোস জাবুরাস রয়টার্সকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের মতো গুরুত্বপূর্ণ খবরের অপেক্ষায় থেকে বিনিয়োগকারীরা এখন দেখে-শুনে পা ফেলছেন। ফলে সাময়িকভাবে সোনার লেনদেনের গতি কিছুটা শ্লথ রয়েছে।

অন্যদিকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান স্টোনএক্সের বিশ্লেষণ প্রধান রোনা ও’কনেল মন্তব্য করেন, সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা কিংবা কমানোর সংকেত এলে মার্কিন ডলারের দর সাময়িক নামতে পারে, যা পরবর্তীতে সোনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আবারও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

বিশ্ববাজারে সোনার পাশাপাশি অন্য মূল্যবান ধাতুর দামেও অস্থিরতা দেখা গেছে। প্রতি আউন্স রুপার দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৬৮ দশমিক ৪৬ ডলার এবং প্ল্যাটিনাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮৫২ দশমিক ০৬ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম কিছুটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৩৫ দশমিক ০৯ ডলারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘খেলাকে কেন্দ্র করে ভিলেজ পলিটিক্সের শিকার হয়েছি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:২৪ পি.এম


‘খেলাকে কেন্দ্র করে ভিলেজ পলিটিক্সের শিকার হয়েছি’

 

নাটোরের লালপুরে উপজেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক মারুফ আলী সংবাদ সম্মেলন করেছেন দলীয় কার্যালয়ে। তিনি সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, "খেলাকে কেন্দ্র করে আমি ভিলেজ পলিটিক্সের শিকার হয়েছি।”

স্থানীয় দলের নেতাকর্মীদের বাধার সম্মুখীন হয়ে তাকে স্থান ত্যাগ করতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই দলের স্থানীয় নেতারা। বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার গোপালপুর রেলগেট এলাকায় দলীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

মারুফ আলী লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, গত ২১ আগস্ট কেশবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘মিথ্যা ও ভুয়া’ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি আরও জানান, এর আগে ১৯ আগস্ট কেশবপুর গ্রামের গোরস্থানের জন্য সরকারি বরাদ্দের ৩৫টি গাছ ও পাঁচ বস্তা সারের হিসাব জানতে চাইলে গ্রামের প্রধান গোকুলের সঙ্গে তার বিরোধ দেখা দেয়।

মারুফ আলী অভিযোগ করেন, হিসাব জানতে চাইলে গোকুল তাকে বলেন, ‘তুমি কে, এসব হিসাব দেব’ এবং হুমকি দেন। তিনি দাবি করেন, পাঁচ বস্তা সারের মধ্যে এক বস্তা গোরস্থানে ব্যবহৃত হয়েছে, কিন্তু বাকি চার বস্তা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগের সমর্থনে কোনো নথি বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ করে মারুফ আলী বলেন, তাকে প্রধান বা বিশেষ অতিথি করার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও সত্য নয়।

তিনি বলেন, “যেখানে আমন্ত্রণপত্রে কোনো প্রধান অতিথি বা বিশেষ অতিথির নামই নেই, সেখানে আমি কীভাবে প্রধান অতিথি বা বিশেষ অতিথি হওয়ার দাবি করব? মূলত খেলাকে কেন্দ্র করে আমি ভিলেজ পলিটিক্সের শিকার হয়েছি।”

সংবাদ সম্মেলনে মারুফ আলী আরও অভিযোগ করেন, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান হারুন রশিদ পাপ্পু বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি দাবি করেন, জেলা ছাত্রদলের ওপরও বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। নিজের বহিষ্কারের প্রসঙ্গে মারুফ আলী জানান, গত ১৪ আগস্ট বাউয়েটের একটি অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শরমীন পুতুলের ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুস সালামের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। ওই সময় তাকে রাজনীতি করার সুযোগ না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

মারুফ আলী নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরে জানান, ১৯৯৭ সালে বাবার কাঁধে চড়ে তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়। ছাত্রদলের রাজনীতি করতে গিয়ে তিনি জীবনের সোনালি সময়, অর্থ-বিত্ত ও বিভিন্ন সুযোগ হারিয়েছেন বলেও দাবি করেন। তার ভাষ্য, বিগত সরকারের সময়ে শুধু ছাত্রদলের রাজনীতি করার কারণে তার ১৩টি সরকারি চাকরি হয়নি। মারুফ আলী আরও দাবি করেন, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত সংবাদকে ব্যবহার করে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ ইসলাম সৃজনকে ফোন করে তাকে বহিষ্কারের জন্য প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শরমীন পুতুল নির্দেশ দিয়েছেন-এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এতে প্রতিমন্ত্রীরও মানহানি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ২০১৬ সালের ১১ আগস্ট ফজলুর রহমান পটলের মৃত্যুর পর রাজনৈতিকভাবে ফারজানা শরমীন পুতুলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তিনি দাবি করেন, প্রতিমন্ত্রী তাকে ছোট ভাইয়ের মতো দেখেন। বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আশাবাদ ব্যক্ত করে মারুফ আলী বলেন, তার বহিষ্কারের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিবেচনা করবেন বলে তিনি আশা করেন।

তবে মারুফ আলীর এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

কেশবপুর গ্রামের প্রধান গোকুল বলেন, “মারুফ আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।” সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুস সালাম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। তার সঙ্গে আমার কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক সম্পৃক্ততা নেই। তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য সংগঠন তাকে বহিষ্কার করেছে। এটি সঠিক সিদ্ধান্ত।”

এদিকে গোপালপুর পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম সুমন বলেন, দলীয় কার্যালয়টি সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনুপস্থিতির সুযোগে বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা মারুফ আলী সেখানে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে তাকে সংবাদ সম্মেলন বন্ধ করে স্থান ত্যাগ করতে বলেন। এসময় তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালাইয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের রাস্তা ও খাসজমি দখলের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:২৬ পি.এম


কালাইয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের রাস্তা ও খাসজমি দখলের অভিযোগ

 

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের তেলিহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের চলাচলের রাস্তা, পুকুরপাড় এবং অন্যান্য সরকারি খাস সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, সরকারি খাস খতিয়ানের জমিকে নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করে সেখানে ইটের স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে, চলাচলের রাস্তা সংকুচিত করা হচ্ছে, পুরোনো গাছ কেটে নেওয়া হচ্ছে এবং কবরস্থান ও পুরোনো উপাসনাস্থলের জায়গা দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর পৃথক লিখিত আবেদন করে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

উক্ত অভিযোগের মধ্যে তেলিহার গ্রামের মো. আশরাফ ফকির, সিরাজুল ইসলাম ফকির এবং মো. ওসমান মোল্লার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে, সংশ্লিষ্ট জমি তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি এবং এর পক্ষে তাঁদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে।

সরকারি নথিতে খাস সম্পত্তির উল্লেখ

আশ্রয়ণ প্রকল্পের পক্ষ থেকে ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর দেওয়া পৃথক আবেদনে সংশ্লিষ্ট জমিকে সরকারি খাস সম্পত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনে সংশ্লিষ্ট দাগ ও খতিয়ানের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে যে, ওই জমির অংশবিশেষ পুকুরপাড়, উপাসনাস্থল এবং জনসাধারণের ব্যবহারের জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের চলাচলের রাস্তা এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে যাতায়াতের পথেও বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। ফলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা, স্থানীয় দরিদ্র মানুষ এবং চিকিৎসাসেবা নিতে আসা ব্যক্তিরা দুর্ভোগে পড়ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আবেদনে সংশ্লিষ্ট জমির বিবরণে সিএস খতিয়ান নং ৪৭, এমআর খতিয়ান নং ০১ এবং সংশ্লিষ্ট দাগ নম্বরের উল্লেখ রয়েছে। সেখানে পুকুরপাড় ও উপাসনাস্থল হিসেবে ব্যবহৃত জমির পরিমাণও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে তেলিহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি মো. ফজলুর রহমান মোল্লা জানিয়েছেন, এখানে ২৬ বছর যাবত প্রায় ৪০টি ভূমিহীন পরিবার বসবাস করছে। ২০০০ সাল থেকে তাঁরা এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। তাঁদের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত প্রায় ১০ থেকে ১২ ফুট প্রশস্ত রাস্তা ছিল। হঠাৎ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এসব জায়গা নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করে দখল শুরু করেন। দখলের কারণে বর্তমানে রাস্তা অনেকটাই সংকুচিত হয়ে গেছে।

আশ্রয়ণের বাসিন্দা বন্যা জানিয়েছেন, রাস্তা সংকুচিত হওয়ায় ছোট-বড় যানবাহন ঢুকতে চায় না। এতে পুকুরের মাছ এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে এবং ক্লিনিকে রোগী যাতায়াতেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

মুঞ্জুয়ারা নামে আরেক বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন যে, রাস্তার ওপর স্থাপনা নির্মাণের সময় আশ্রয়ণ প্রকল্পের নারীরা বাধা দিয়েছিলেন। তখন তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। এমনকি একজন কোদাল দিয়ে তাঁকে আঘাত করার চেষ্টা করা হয়। আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা সহিদা বেগম জানিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের কয়েকজন সদস্যের কবর ওই স্থানে রয়েছে। তাঁরা কবরগুলো ঘিরে গাছ লাগিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে কবরের চিহ্ন নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। "আমার ভাসুর, ভাসুরের স্ত্রী এবং আমাদের দুই সন্তানের কবর এখানে রয়েছে। আমরা মারা গেলে কবর দেওয়ার জায়গা কোথায় হবে-এটাই আমাদের চিন্তা।" তেলিহার গ্রামের ৮৫-৮৬ বছর বয়সী হাফিজ উদ্দিন বলেছেন, "আমার স্মরণশক্তি হওয়ার পর থেকেই ওই জমিকে খাস জমি হিসেবে দেখে আসছি। সেখানে কবরস্থান ও হিন্দু সম্প্রদায়ের উপাসনার স্থানও ছিল।"

স্থানীয় বাসিন্দা লালচান রবিদাসের দাবি, ওই এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি পুরোনো উপাসনাস্থল রয়েছে। বিভিন্ন গ্রামের মানুষ সেখানে মানত ও পূজা করতে আসেন। বর্ষাকালে পূজা ও ভোগের সুবিধার জন্য স্থানীয়রা সেখানে টিনের ছাউনি তৈরি করেছিলেন। পরে ওই স্থাপনা ভেঙে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সরেজমিনে ওই এলাকায় একটি পুরোনো গাছের নিচে ধর্মীয় উপকরণ ও একটি শিবলিঙ্গসদৃশ স্থাপনা, কবরস্থান, একটি ক্লিনিক, ৪০টি ভূমিহীনদের আশ্রয় ঘর এবং ১০ বিঘার একটি পুকুর দেখা যায়। বর্তমানে আশ্রয়ণবাসীর প্রশস্ত রাস্তার ওপর ইটের স্থাপনা নির্মাণ করায় রাস্তার প্রস্থ এখন বড়জোর সাড়ে চার ফুটের মতো রয়েছে। ফলে মানুষ চলাচল, ক্লিনিকে রোগী আসা, পুকুরে মাছের খাবার নেওয়া কিংবা মাছ পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে।

সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সরকারি রেকর্ডে জমির প্রকৃত মালিকানা ও শ্রেণি যাচাই করে দখল হয়ে থাকলে তা দ্রুত উদ্ধার করা হোক। তাঁদের আরও দাবি, দীর্ঘ দিন ধরে যে জায়গা দিয়ে জনগণ চলাচল করেছে, তা নিজেদের জায়গা হলেও জোরপূর্বক সংকুচিত করা রাস্তা প্রশাসনকে আগের মতো প্রশস্ত করে চলাচলের উপযোগী করে দিতে হবে। একই সঙ্গে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের চলাচলের রাস্তা, কমিউনিটি ক্লিনিকে যাওয়ার পথ এবং জনসাধারণের ব্যবহার্য স্থানগুলো দখলমুক্ত করার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা। আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে মো. সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, "সেখানে কোনো মন্দির নেই। একটি পুরোনো গাছ আছে, যেখানে হিন্দু-মসলমান মানত করে। কবরস্থানের কথা বলা হলেও সেখানে কয়েকটি কবর আছে, সেগুলো আমাদের স্বজনদের। অন্য কোনো গ্রামবাসীর কবর নেই।"

আনীত আরও কয়েকজন অভিযুক্ত মো. আশরাফ ফকির ও মো. ওসমান মোল্লা দাবি করেছেন, যে পুরোনো গাছগুলো কাটা হয়েছে, সেগুলো তাঁদের নিজেদের। সরকারি কোনো গাছ কাটা হয়নি। জমির মালিকানার পক্ষে তাঁদের কাগজপত্র রয়েছে বলেও দাবি করেন। এ বিষয়ে কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়সাল আহমেদ বলেছেন, "বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে জমির রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। এরপর যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%