০৮:২৩ পি.এম
রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার সাঁকোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির জন্য সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য কর্তৃক প্রদত্ত ডিও লেটার প্রত্যাখ্যান করে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকে। বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিকদার বাজারে সাঁকোয়া শিকদারী এলাকার সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় জনগণ জানায়, সম্প্রতি রাজশাহী অঞ্চলের সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা সাঁকোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে শিকদারী এলাকার বাসিন্দা ইকবাল হোসেনকে মনোনয়নের জন্য একটি ডিও লেটার প্রদান করেন। বক্তারা এসময় দাবি করেন, ইকবাল হোসেন বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি আব্দুস সোবাহান চৌধুরীর ভাতিজা। এছাড়া, তিনি ঝিকরা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ ফৌজদারের শ্যালক। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয় বিভিন্ন নির্বাচনে তাদের পক্ষে কাজ করেছেন।
স্থানীয় জনগণের অভিযোগ হলো, শিকদারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করলেও চাকরির কারণে ইকবাল হোসেন দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে নওগাঁর রানীনগরে বসবাস করছেন। তিনি সেখানে তার পরিবার-পরিজন নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন এবং বর্তমানে রানীনগরে শিক্ষকতা করছেন। এই পরিস্থিতিতে, দীর্ঘকাল ধরে এলাকায় বসবাস না করা একজন ব্যক্তিকে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনয়নের জন্য ডিও লেটার দেওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, "বিদ্যালয়ের স্বার্থে স্থানীয় ও এলাকার হিতৈষী ব্যক্তিদের মধ্য থেকে একজনকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হোক।" তারা আরও বলেন, "দীর্ঘ ২৬ বছর এলাকায় বসবাস করেন না—এমন একজন ব্যক্তিকে কীভাবে ডিও লেটার দেওয়া হলো, তা আমাদের বোধগম্য নয়।" বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, "বিএনপির বর্তমান সময়ে আওয়ামী লীগ পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করা একজন ব্যক্তিকে কেন সভাপতি পদে মনোনয়নের জন্য ডিও লেটার দেওয়া হলো।" সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তারা ওই ডিও লেটার কার্যকর না করার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে অপহরণ ও ডাকাতির মামলায় পুলিশ কনস্টেবলসহ গ্রেপ্তার ৪, উদ্ধার ৩ মোটরসাইকেল
এ বিষয়ে সাঁকোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, "ইকবাল হোসেন ডিও লেটারটি প্রতিষ্ঠানে জমা দিয়েছেন। তবে তাকেই সভাপতি করতে হবে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।" অভিযোগের বিষয়ে ইকবাল হোসেন জানান, "আমার স্থানীয় এলাকা শিকদারী। চাকরির কারণে আমি রানীনগর এলাকায় থাকি। আমি বাগমারার ভোটার এবং বর্তমানে রানীনগরে শিক্ষকতা করছি। প্রায় ২৬ বছর ধরে চাকরির সুবাদে সেখানে অবস্থান করছি। দূরে থাকলেও এতে কোনো সমস্যা নেই। আমাকে ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে, আমি সেটি প্রতিষ্ঠানে জমা দিয়েছি।" সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দুলাল উদ্দিন মেম্বার, রেজাউল হক, নজরুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, দুলাল প্রামানিক, সাইদ আলী, আব্দুর রশিদ, রফিকুল ইসলাম, টুকু, জিয়াউর রহমান, শাহাজান আলী, ফজেল ইসলাম, আব্দুস সাত্তারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন