১২:৫৭ পি.এম
মক্কা নগরীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত পবিত্র কাবা শরিফ। কাবাকে কেন্দ্র করে বিস্তৃত হয়েছে মসজিদুল হারাম, যেখানে প্রতিদিন বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে লাখো মুসল্লি নামাজ, তাওয়াফ ও অন্যান্য ইবাদতে অংশগ্রহণ করেন।
এই বিশাল মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য রয়েছে অনেক দরজা ও প্রবেশপথ। মক্কায় প্রথমবার গেলে এসব গেটের নাম ও অবস্থান জানা থাকলে চলাফেরা অনেক সহজ হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: সউদী সরকার নিরলসভাবে সারা পৃথিবীতে কুরআনের খেদমত করে যাচ্ছে: রাষ্ট্রদূত
তবে একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন—কাবা শরিফের নিজস্ব দরজা এবং মসজিদুল হারামের প্রবেশদ্বার এক নয়। কাবা শরিফের দরজা একটি, আর মসজিদুল হারামের বিভিন্ন দিকের প্রবেশপথগুলো আলাদা।
পবিত্র কাবা শরিফের একমাত্র দরজা পূর্ব দেয়ালে অবস্থিত।
বর্তমান দরজাটি সৌদি আমলে নির্মিত হয়েছে এবং এতে স্বর্ণের অলংকরণ রয়েছে। কাবার দরজার নিচের অংশ শাযরাওয়ানের ওপর থেকে প্রায় ২২২ সেন্টিমিটার উঁচু। দরজাটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩১৮ সেন্টিমিটার এবং প্রস্থ ১৭১ সেন্টিমিটার। এই দরজা সাধারণ মুসল্লিদের জন্য নিয়মিত খোলা থাকে না।
আরও পড়ুন: চন্দ্রপাড়া দরবারে অসচ্ছলদের সহায়তা ও ওরসের তারিখ ঘোষণা
মসজিদুল হারামের গুরুত্বপূর্ণ গেট
১. কিং আবদুল আজিজ গেট: মসজিদুল হারামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ। এটি হারামের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত। সৌদি আরবের প্রথম বৃহৎ সম্প্রসারণের সময় এই গেট বিশেষ গুরুত্ব লাভ করে। হজ ও ওমরাহর সময় এই এলাকার আশপাশে বিপুল মুসল্লির সমাগম ঘটে। তাই গেটটির নাম জানা থাকলে হারামের দক্ষিণ অংশে অবস্থানকারী মুসল্লিদের জন্য পথনির্দেশনা পাওয়া সহজ হয়।
আরও পড়ুন: মসজিদুল হারামে এক ইমামের পেছনে জামাতের ১০০ বছর পূর্ণ
২. কিং ফাহদ গেট: এটি মসজিদুল হারামের অন্যতম পরিচিত প্রবেশপথ। এটি হারামের পশ্চিমাংশের সম্প্রসারণ এলাকায় অবস্থিত এবং দ্বিতীয় সৌদি সম্প্রসারণের অন্যতম প্রধান স্থাপত্য উপাদান। এটি মসজিদুল হারামের বড় গেটগুলোর একটি। দ্বিতীয় সৌদি সম্প্রসারণে গেটটির সঙ্গে একাধিক প্রবেশপথ ও চলাচলের ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়।
৩. ওমরাহ গেট: ওমরাহ গেট মসজিদুল হারামের ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ দরজাগুলোর একটি। এটি হারামের পশ্চিম দিকে অবস্থিত। সৌদি সম্প্রসারণের ইতিহাসেও এ গেটের বিশেষ উল্লেখ রয়েছে। নাম থেকেই বোঝা যায়, ওমরাহ পালনকারীদের কাছে গেটটির পরিচিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
৪. সালাম গেট: বাব সালাম বা শান্তির দরজা মসজিদুল হারামের অন্যতম ঐতিহাসিক গেট। এটি দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত। প্রথম সৌদি সম্প্রসারণের সময় গুরুত্বপূর্ণ গেটগুলোর তালিকায় এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
৫. সাফা গেট: এটি মসজিদুল হারামের পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোর একটি। সাফা পাহাড়ের কাছাকাছি হওয়ায় সাঈ সম্পাদনকারী মুসল্লিদের জন্য এ এলাকার অবস্থান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। মসজিদুল হারামের মিনারগুলোর ঐতিহাসিক বণ্টনের ক্ষেত্রেও বাব আস-সাফার উল্লেখ পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
মসজিদুল হারামের বিস্তৃত প্রাঙ্গণকে বোঝার জন্য কয়েকটি সাধারণ দিক মনে রাখা যেতে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী হারামের আশপাশের প্রাঙ্গণগুলো বিভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত; এর মধ্যে উত্তরের সম্প্রসারণ এলাকা, পশ্চিমের শুবাইকা ও দারুত তাওহিদের দিক, বাদশাহ ফাহদ গেটের এলাকা এবং পূর্বদিকে বাব আলি থেকে মারওয়া পর্যন্ত অঞ্চল রয়েছে। অর্থাৎ, সাফা-মারওয়া, কাবা, প্রধান গেট এবং বিভিন্ন সম্প্রসারণ এলাকা—এসবের অবস্থান মাথায় রাখলে হারামে চলাচল অনেক সহজ হয়।
মসজিদুল হারামের প্রতিটি গেট, প্রতিটি প্রাঙ্গণ ও প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান মুসলমানদের হৃদয়ের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। কোথাও রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস, কোথাও নবী-রাসুল ও সাহাবিদের স্মৃতি, আবার কোথাও হজ ও উমরাহর গুরুত্বপূর্ণ আমলের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক।
সুতরাং, মক্কায় যাওয়ার আগে শুধু তাওয়াফ ও সাঈর নিয়ম জানাই যথেষ্ট নয়; মসজিদুল হারামের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও প্রবেশপথগুলোর একটি ধারণা থাকলে ইবাদত আরও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন: নিজের যা নেই, তা থাকার ভান করা নিন্দনীয়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন