বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:৩৮ পি.এম
ব্যালন ডি’অর বিজয়ীদের নাম ঘোষণার জন্য আর এক সপ্তাহও বাকি রয়েছে। ফলে ফুটবল বিশ্বে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা, এবার এই সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারটি কার হাতে উঠবে তা নিয়ে।
হ্যারি কেইন, লিওনেল মেসি এবং কিশোর প্রতিভা লামিনে ইয়ামালের মতো তারকারা আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেও, ব্যালন ডি’অর বরাবরই চমকপ্রদ ফলাফলের জন্য পরিচিত।
আয়োজকদের মতে, পুরস্কার নির্ধারণের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়:
১. খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, ম্যাচে প্রভাব তৈরির ক্ষমতা ও ব্যক্তিত্ব
২. দলীয় সাফল্য ও জেতা শিরোপা
৩. খেলোয়াড়সুলভ আচরণ ও ফেয়ার প্লে
২০২৫ সালের ৩ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত, অর্থাৎ বিশ্বকাপ ফাইনালের দিন পর্যন্ত সময়ের পারফরম্যান্স এবারের ব্যালন ডি’অরের জন্য বিবেচনা করা হয়েছে।
৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় তিন সাবেক বিজয়ী রয়েছেন: আটবারের জয়ী লিওনেল মেসি, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন উসমান দেম্বেলে এবং ২০২৪ সালের বিজয়ী রদ্রি।
নিচে দেওয়া হলো ১৯৫৬ সালে পুরুষদের ব্যালন ডি’অর চালুর পর থেকে সবচেয়ে বেশি পুরস্কারজয়ী দেশগুলোর তালিকা:
আর্জেন্টিনা — ৮
লিওনেল মেসি একাই আর্জেন্টিনার সবকটি ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। বিশ্বকাপে দলকে রানার্সআপ হিসেবে নিয়ে যাওয়ার পর এবং ইন্টার মায়ামির হয়ে মেজর লিগ সকার শিরোপা জয়ের পর তিনি গত আগস্টে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান।
৩৯ বছর বয়সী মেসি রেকর্ড আটবার এই পুরস্কার জিতেছেন: ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৫, ২০১৯, ২০২১ ও ২০২৩।
ফ্রান্স — ৮
গত বছরের বিজয়ী উসমান দেম্বেলে ফ্রান্সকে যৌথভাবে সর্বোচ্চ আট ব্যালন ডি’অরের কাতারে নিয়ে গেছেন। ছয়জন ফরাসি খেলোয়াড় মিলে এ অর্জন করেছেন।
এবারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা ফরাসি ফুটবলারদের মধ্যে কিলিয়ান এমবাপে, মাইকেল ওলিসে, উইলিয়াম সালিবা ও দিও উপামেকানো অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
ফ্রান্সের আগের বিজয়ীরা:
রেমন্ড কোপা (১৯৫৮)
মিশেল প্লাতিনি (১৯৮৩, ১৯৮৪, ১৯৮৫)
জ্যঁ-পিয়ের পাপাঁ (১৯৯১)
জিনেদিন জিদান (১৯৯৮)
করিম বেনজেমা (২০২২)
উসমান দেম্বেলে (২০২৫)
পর্তুগাল — ৭
পর্তুগালের সাতটি ব্যালন ডি’অর এসেছে মাত্র তিনজন খেলোয়াড়ের হাত ধরে:
ইউসেবিও (১৯৬৫)
লুইস ফিগো (২০০০)
ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (২০০৮, ২০১৩, ২০১৪, ২০১৬, ২০১৭) এই পুরস্কারটি পাঁচবার জিতেছেন। তবে তিনি টানা চতুর্থবারের মতো সংক্ষিপ্ত তালিকায় নেই। তবে ব্রুনো ফার্নান্দেস, নুনো মেন্দেস, জোয়াও নেভেস ও ভিতিনিয়া পর্তুগালকে অষ্টম শিরোপা এনে দিতে পারেন।
জার্মানি — ৭
জার্মানির সর্বশেষ বিজয়ী ম্যাথিয়াস সামার (১৯৯৬)। এবারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় কোনো জার্মান খেলোয়াড় স্থান পাননি।
বিজয়ীরা:
গার্ড মুলার (১৯৭০)
ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার (১৯৭২, ১৯৭৬)
কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগে (১৯৮০, ১৯৮১)
লোথার ম্যাথাউস (১৯৯০)
ম্যাথিয়াস সামার (১৯৯৬)
নেদারল্যান্ডস — ৭
নেদারল্যান্ডসের সাতটি পুরস্কার জিতেছেন তিনজন কিংবদন্তি:
ইয়োহান ক্রুইফ (১৯৭১, ১৯৭৩, ১৯৭৪)
রুড গুলিট (১৯৮৭)
মার্কো ফন বাস্তেন (১৯৮৮, ১৯৮৯, ১৯৯২)
এবার ডাচ কোনো খেলোয়াড় সংক্ষিপ্ত তালিকায় নেই।
ব্রাজিল — ৫
ব্রাজিলের প্রথম ব্যালন ডি’অর জেতেন রোনালদো (১৯৯৭)। এরপর দেশটি আরও চারবার এই পুরস্কার জিতেছে।
বিজয়ীরা:
রোনালদো (১৯৯৭, ২০০২)
রিভালদো (১৯৯৯)
রোনালদিনিয়ো (২০০৫)
কাকা (২০০৭)
এবার গ্যাব্রিয়েল, মারকিনিয়োস ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ব্রাজিলকে দুই দশক পর আবার শিরোপা এনে দেওয়ার আশা জাগাচ্ছেন।
ইংল্যান্ড — ৫
১৯৫৬ সালে স্ট্যানলি ম্যাথিউস প্রথম ব্যালন ডি’অর জয়ের পর ইংল্যান্ড আরও চারবার এই পুরস্কার পেয়েছে।
এবার ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইনের ওপর বড় আশা রয়েছে। ক্লাব ও দেশের হয়ে ৭৩ গোল করার পাশাপাশি তিনি বায়ার্ন মিউনিখকে বুন্দেসলিগা জিতিয়েছেন এবং ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থানে তুলেছেন।
ইংল্যান্ডের আগের বিজয়ীরা:
স্ট্যানলি ম্যাথিউস (১৯৫৬)
ববি চার্লটন (১৯৬৬)
কেভিন কিগ্যান (১৯৭৮, ১৯৭৯)
মাইকেল ওউেন (২০০১)
ইতালি — ৫
ইতালির পাঁচটি ব্যালন ডি’অর জিতেছেন পাঁচ ভিন্ন খেলোয়াড়:
ওমর সিভোরি (১৯৬১)
জিয়ান্নি রিভেরা (১৯৬৯)
পাওলো রোসি (১৯৮২)
রবার্তো বাজ্জিও (১৯৯৩)
ফাবিও কানাভারো (২০০৬)
স্পেন — ৪
বিশ্বকাপজয়ী স্পেন এবারও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। লামিনে ইয়ামাল, পাও কুবারসি, মার্ক কুকুরেয়া, রদ্রি, ফাবিয়ান রুইস ও ফেরান তোরেস সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন।
স্পেনের বিজয়ীরা:
আলফ্রেদো দি স্তেফানো (১৯৫৭, ১৯৫৯)
লুইস সুয়ারেজ (১৯৬০)
রদ্রি (২০২৪)
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী এবারের অনুষ্ঠানটি শুরু হবে সোমবার রাত ১টায়, লন্ডনের লন্ডন প্যালাডিয়াম থিয়েটারে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্যারিসের বাইরে বসছে এই আসর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে হামলার পেছনে ছিল একটি নিখুঁত পরিকল্পনা। মুম্বাই পুলিশের তদন্তে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত দশজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
‘ডেড লেটার বক্স’ একটি ব্যবস্থা, যেখানে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছানোর আগে কোনো জিনিস রেখে দেওয়া হয়। পরে অন্য একজন সেখানে গিয়ে সেই জিনিস সংগ্রহ করে নেয়। এখানে যিনি জিনিসটি রেখে যান এবং যিনি সংগ্রহ করেন, তাদের সরাসরি দেখা হওয়ার প্রয়োজন নেই। এই বুদ্ধি টাইগার শ্রফের কিলিং মিশনে প্রয়োগ করা হয়েছিল।
এতে যুক্ত অপরাধীদের অস্ত্র সরবরাহের নেটওয়ার্কের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ছিল। একটি পিস্তল ও ২০ রাউন্ড কার্তুজ সংগ্রহ করে বহনকারীরা। সেই অস্ত্র পৌঁছায় ‘ডেড লেটার বক্স’-এ। সেখান থেকে কিলাররা অস্ত্র সংগ্রহ করে। পুরো চক্রের যোগাযোগ এনক্রিপ্টেড চ্যাটের মাধ্যমে বজায় ছিল।
পুলিশের দাবি, এ মামলায় কুণাল ও সুমিত নামে দুই অভিযুক্ত অমৃতসরে গিয়ে একটি পিস্তল ও ২০ রাউন্ড কার্তুজ সংগ্রহ করেছিল। তাদের কাছে আগে থেকেই সংগ্রহস্থলের তথ্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। রাধা ও ববিতা নামে দুই নারীকে অস্ত্র বহন করার কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল।
তদন্তে আরও জানা গেছে, কুণাল ও অনিল পণ্ডিত নামে এক ব্যক্তির মধ্যে এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ চলছিল। অস্ত্র সংগ্রহ এবং তা মুম্বাইয়ে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা এই অ্যাপের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছিল। অস্ত্র পরিবহণের ব্যবস্থা করার জন্য কুণালকে ৭০-৮০ হাজার রুপি প্রদান করা হয়েছিল। সেই অর্থ থেকে দুই নারীকে প্রায় ১০-১২ হাজার রুপি দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গোটা ঘটনাটিকে একটি সংগঠিত অপরাধ চক্রের সম্ভাব্য অপারেশন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, রোববার (১৮ অক্টোবর) পুষ্প নার্সি পার্কের কাছে গুলিতে জখম হন অভিনেতা টাইগার শ্রফ। ফুটবল খেলা শেষে সেখান থেকে বেরিয়ে আসছিলেন তিনি। হামলাকারীরা তার গাড়ি লক্ষ্য করে সাত রাউন্ড গুলি চালায় এবং পরে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। দলটি দাবি করেছে যে, রাহুল গান্ধী বিদেশে গিয়ে কোনো নির্বাচন ছাড়াই ক্ষমতা পরিবর্তনের পাঠ নিচ্ছেন।
বুধবার বিজেপি জানায়, রাহুল গান্ধী বিদেশ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন এবং তিনি কোনো নির্বাচন ছাড়া ‘ক্ষমতা পরিবর্তনের’ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছেন।
বিজেপির মুখপাত্র সমবিত পাত্র অভিযোগ করেন, “দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চলছে, যার উদ্দেশ্য হলো রাহুল গান্ধীকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসা। তিনি এর আগেও বহুবার ব্যর্থ হয়েছেন।”
বিজেপি নেতার দাবি, রাহুল গান্ধী বিদেশে গিয়ে ধনকুবের বিনিয়োগকারী জর্জ সোরোস ও তার সহযোগীদের সঙ্গে দেখা করেছেন, যাতে ভারতকে অস্থিতিশীল করার এবং নির্বাচন ছাড়াই ‘ক্ষমতা পরিবর্তন’ করার বিষয়ে পরামর্শ নেওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, “নেহা বোরা, প্রশান্ত ভূষণ এবং সঞ্জয় রাউত—তারা নিজেরাই নিজেদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেছেন: ক্ষমতা পরিবর্তন। আর এই লক্ষ্য অর্জনে যদি সহিংসতার প্রয়োজন হয়, তবে কিছু মানুষ তার সমর্থনেও এগিয়ে এসেছেন।”
এর আগে বিজেপি দাবি করে যে, রাহুল গান্ধী আবারও বিদেশ সফরে গেছেন। একটি উড়োজাহাজের ভেতরের ভিডিও প্রকাশ করে দলটি জানায়, রাহুল গান্ধী ভিয়েতনামের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন। সূত্র: পিটিআই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজায় চলমান গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ফিলিস্তিনিদের শান্তি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। একই সঙ্গে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে নির্বিচার বোমা হামলার বিরোধিতা করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে এসব কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ফিলিস্তিনিদের শান্তি ও ন্যায়বিচারের দাবিতে মালয়েশিয়া অবিচল রয়েছে। গাজায় গণহত্যার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননে নির্বিচার বোমা হামলার বিরোধিতা করছে তার দেশ।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ক্রমবর্ধমান সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংকট যাতে আরো বিস্তৃত না হয়, সে জন্য দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি জানান, এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানিসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।
আনোয়ার ইব্রাহিমের ভাষ্য, আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে এসব আলোচনা চলমান সংকটের গুরুত্ব এবং সংঘাতের বিস্তার ঠেকানোর জরুরি প্রয়োজনীয়তাকেই তুলে ধরে।
মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান এবং ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে দেশটির সরকার বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন আনোয়ার ইব্রাহিম। তার বক্তব্যে ফিলিস্তিনিদের ন্যায়বিচারের দাবির পাশাপাশি লেবাননের বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর ও আনাদোলু এজেন্সি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ