ঢাকা শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মেইনটেন্যান্স ফান্ড বাড়ানোর সিদ্ধান্ত


যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মেইনটেন্যান্স ফান্ড বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান গন্তব্য। তবে, যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য একটি দুঃসংবাদ এসেছে। দেশটির সরকার স্টুডেন্ট ভিসায় ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ বা ‘মেইনটেন্যান্স ফান্ড’ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

‘স্টাডি নাউ’-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘স্টেটমেন্ট অব চেঞ্জেস টু দ্য ইমিগ্রেশন রুলস (এইচসি ৫৮৪)’ দ্বারা এই নতুন পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যুক্তরাজ্যের হোম অফিস। শিক্ষার্থী ভিসায় আবেদন করার সময়, পড়াশোনাকালীন নিজ খরচে চলার সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে এই ফান্ড দেখাতে হয়।

যুক্তরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের কোর্সের জন্য প্রতি মাসের তহবিল প্রদর্শন করতে হয়, যা সর্বোচ্চ ৯ মাস পর্যন্ত হিসাব করা হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, লন্ডনের ভেতরে ৯ মাস বা তার বেশি সময়ের কোর্সের জন্য মেইনটেন্যান্স ফান্ড ১৩,৭৬১ পাউন্ড থেকে ৩৬৯ পাউন্ড বাড়িয়ে নতুন সীমা ১৪,১৩০ পাউন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: উত্তরাখণ্ডে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, পাইলটসহ ৬ যাত্রী onboard

লন্ডনের বাইরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মেইনটেন্যান্স ফান্ড ১০,৫৩৯ পাউন্ড থেকে ২৮৮ পাউন্ড বাড়িয়ে ১০,৮২৭ পাউন্ড করা হয়েছে।

যদি কোনো শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসনের জন্য অর্থ প্রদান করে থাকে, তবে তার ভরণপোষণের অর্থ থেকে সর্বোচ্চ ছাড়ের পরিমাণ ১,৫২৯ পাউন্ড থেকে বাড়িয়ে ১,৫৭০ পাউন্ড করা হয়েছে।

এই নতুন নিয়ম কোর্স শুরুর তারিখের পরিবর্তে ভিসা আবেদনের তারিখের ওপর ভিত্তি করে কার্যকর হবে। ৩০ নভেম্বর ২০২৬-এর আগে জমা দেওয়া আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে বর্তমান নিয়ম বলবৎ থাকবে। তবে, ৩০ নভেম্বর বা এর পর জমাকৃত সব আবেদনের জন্য বর্ধিত ফান্ডের নতুন শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক।

যুক্তরাজ্যের হোম অফিস জানিয়েছে, দেশটির স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত মেইনটেন্যান্স ঋণের হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি বছর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এই পরিসংখ্যান হালনাগাদ করা হয়। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ঋণ তহবিলের হিসাব অনুযায়ীই এবার তা বাড়ানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: যুক্তরাজ্য ফিলিস্তিনপন্থি সুইডিশ শিক্ষাবিদ আন্দ্রেয়াস মালমের ভিসা বাতিল করেছে

তবে, অন্যান্য মূল নিয়মে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আগের মতোই সর্বোচ্চ ৯ মাসের মেইনটেন্যান্স ফান্ডের পাশাপাশি প্রথম বছরের বকেয়া টিউশন ফি দেখাতে হবে। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা রাখার সময়সীমা সংক্রান্ত নিয়মও অপরিবর্তিত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্যামাভিঙ্গাকে আঘাতকারী বার্সা সমর্থক শনাক্ত, তদন্ত চলছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২৬ পি.এম


ক্যামাভিঙ্গাকে আঘাতকারী বার্সা সমর্থক শনাক্ত, তদন্ত চলছে

কাতালান পুলিশ এল ক্লাসিকোয় রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের উদ্‌যাপনের সময় এদুয়ার্দো ক্যামাভিঙ্গাকে পতাকার দণ্ড দিয়ে আঘাতকারী বার্সেলোনা সমর্থককে শনাক্ত করেছে। মোসোস দ'এসকোয়াদ্রা ওই সমর্থকের বিরুদ্ধে স্পেনের ক্রীড়া আইনে প্রশাসনিক অভিযোগ দায়ের করেছে। লা লিগা জানিয়েছে, ঘটনার তদন্তে বার্সেলোনার নিরাপত্তা বিভাগ পুলিশকে সহযোগিতা করেছে এবং অভিযুক্ত সমর্থককে ক্লাবের শৃঙ্খলা কমিটির কাছে পাঠানো হবে।

এই ঘটনাটি ঘটে ২৫ অক্টোবর ক্যাম্প ন্যুতে রিয়াল মাদ্রিদের ২-১ গোলের জয়ের ম্যাচে। কিলিয়ান এমবাপ্পের দ্বিতীয় গোলের পর রিয়ালের খেলোয়াড়েরা গ্যালারির কাছাকাছি গিয়ে উদ্‌যাপন করার সময় কয়েকজন বার্সা সমর্থক পতাকার দণ্ড দিয়ে তাদের দিকে হামলার চেষ্টা করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, ক্যামাভিঙ্গা নিজের মুখ রক্ষার চেষ্টা করছেন। একই সময়ে গ্যালারি থেকে বোতল, ক্যান, লাইটার ও ভেপ মাঠে ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। লা লিগার হিসাবে, ম্যাচটি সাময়িকভাবে থামিয়ে প্রায় ১ মিনিট ২০ সেকেন্ড পর পুনরায় শুরু করতে হয়।

পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত সমর্থক বার্সেলোনার গ্রাদা ১৯৫৭-এর একটি সমর্থকগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত। ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর ফলে ৩ হাজার থেকে ৬০ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা এবং ছয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত ক্রীড়া ভেন্যুতে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা হতে পারে। অপরাধটি যদি ‘অত্যন্ত গুরুতর’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হয়, তাহলে জরিমানা ৬০ হাজার ১ ইউরো থেকে ৬ লাখ ৫০ হাজার ইউরো এবং নিষেধাজ্ঞা দুই থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত শাস্তি ঘোষণা হয়নি।

ঘটনার পর ক্যাম্প ন্যুর নিরাপত্তা ও ম্যাচ ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে খেলোয়াড়দের উদ্‌যাপনের জায়গা থেকে দর্শকদের দূরত্ব, পতাকার দণ্ডের মতো বস্তু গ্যালারিতে প্রবেশের নিয়ন্ত্রণ এবং একসঙ্গে একাধিক সমর্থকের মাঠের দিকে বস্তু ছোড়ার ঘটনা—সবকিছুই নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। লা লিগার প্রতিবেদনে এল ক্লাসিকো ঘিরে মোট ১৭টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

বিশেষ করে ক্যামাভিঙ্গার ঘটনা ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতা সামনে এনেছে। খেলোয়াড়েরা যখন গোল উদ্‌যাপন করতে গ্যালারির খুব কাছে চলে যান, তখন মাঠ ও দর্শকের মধ্যকার নিরাপত্তা ব্যবধান কতটা কার্যকর ছিল, সেটি এখন আলোচনায়। একই ম্যাচে গ্যালারি থেকে একাধিক বস্তু মাঠে যাওয়ার ঘটনাও দেখিয়েছে যে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে দর্শক নিয়ন্ত্রণ ও নিষিদ্ধ বস্তু শনাক্তকরণ আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন। তবে পুলিশকে অভিযুক্ত শনাক্ত করতে বার্সেলোনার নিরাপত্তা বিভাগের সহযোগিতা করার বিষয়টিও লা লিগা উল্লেখ করেছে।

এল ক্লাসিকোর নিরাপত্তা বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে রিয়াল সমর্থক ফ্রান্তিশেক ভাভরেক ও তাঁর ১৮ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে আরেক ঘটনায়। ভাভরেকের দাবি, এমবাপ্পের গোল উদ্‌যাপন করার পর তাদের গ্যালারি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত ট্যাক্সিতে বসে মোবাইলে ম্যাচের বাকি অংশ দেখতে হয়। তিনি দাবি করেছেন, চারটি প্রথম শ্রেণির টিকিটের জন্য মোট ৫,৬০০ ইউরো খরচ করেছিলেন। স্টেডিয়ামে ঢোকার সময় নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি নিয়ে আপত্তি জানান এবং জার্সিগুলো ডাস্টবিনে ফেলে দিতে বলার মত গুরুতর অভিযোগও করেছেন তিনি।

দুই ঘটনাই ক্যাম্প ন্যুর ম্যাচ-ডে ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভিন্ন ধরনের প্রশ্ন সামনে এনেছে। একদিকে প্রতিপক্ষের সমর্থকদের নিরাপত্তা ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে খেলোয়াড়দের কাছে দর্শকদের পৌঁছানোর সুযোগ। ফলে ক্যামাভিঙ্গাকে আঘাতের ঘটনায় ব্যক্তিগত শাস্তির পাশাপাশি বড় ম্যাচে নিরাপত্তা পরিকল্পনা, দর্শক তল্লাশি এবং গ্যালারি নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নিয়েও বার্সেলোনার জন্য নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাটকের আদর্শ স্বামী আবু বকর বাস্তব জীবনে ভেঙেছেন বাগদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২৬ পি.এম


নাটকের আদর্শ স্বামী আবু বকর বাস্তব জীবনে ভেঙেছেন বাগদান

পাকিস্তানি ধারাবাহিক ‘দার-এ-নিজাত’-এর আবু বকর চরিত্রটি নিয়ে বর্তমানে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। স্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল, ধৈর্যশীল এবং কোমল আচরণের জন্য অনেক নারী দর্শকের কাছে চরিত্রটি স্বপ্নের স্বামী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে, পর্দার এই আদর্শ পুরুষের চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেতা শেহেরিয়ার মুনাওয়ারের বাস্তব জীবনের গল্প কিছুটা ভিন্ন রকম।

নাটকে আবু বকরের চরিত্রে অভিনয় করেছেন পাকিস্তানি অভিনেতা শেহেরিয়ার মুনাওয়ার সিদ্দিকী। চরিত্রটির মানবিক গুণাবলি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা। কিছু দর্শক তাকে আদর্শ স্বামী হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, একজন ভালো স্বামী হওয়ার জন্য শুধুমাত্র স্ত্রীর সঙ্গে ভালো আচরণ করাই কি যথেষ্ট?

এদিকে, শেহেরিয়ারের ব্যক্তিগত জীবনেও রয়েছে সম্পর্ক ভাঙার অভিজ্ঞতা। ২০১৯ সালে চিকিৎসক হালা সোমরুর সঙ্গে তার বাগদান হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্ক বিয়েতে রূপান্তরিত হয়নি। বাগদান ভেঙে যাওয়ার পর এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা জানিয়েছিলেন, তিনি এবার কাকে বিয়ে করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে চান। পরে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অভিনেত্রী মাহিন সিদ্দিকীকে বিয়ে করেন তিনি।

সম্প্রতি বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্কে হারুন রশিদের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে আবু বকর চরিত্রটির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন শেহেরিয়ার। তার মতে, চরিত্রটি যতটা আদর্শ বলে মনে হয়, তাতে কিছু দুর্বলতা রয়েছে। বিশেষ করে, সবাইকে খুশি রাখার চেষ্টা এবং কাউকে ‘না’ বলতে না পারার প্রবণতা তাকে মানসিক চাপের মধ্যে রাখে।

অভিনেতা আরও জানান, আবু বকরের মধ্যে অন্যদের উদ্ধার করার প্রবণতা রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই মায়ের কাছ থেকে এমন শিক্ষা পেয়েছে, যার কারণে সব সময় অন্যের জন্য ভালো কিছু করার তাগিদ অনুভব করে। ফলে, নিজের ইচ্ছা ও বিবেকের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয় তার।

আবু বকর ও জারিয়াবের সম্পর্ক নিয়েও চমকপ্রদ তথ্য দিয়েছেন শেহেরিয়ার। তার ব্যাখ্যায়, নাটকে যতটা প্রকাশ পেয়েছে, তারও আগে থেকে জারিয়াবের প্রতি আবু বকরের ভালো লাগা ছিল। এমনকি, জারিয়াবের পছন্দের খাবার পাস্তার কথাও সে মনে রেখেছিল। এসব ছোট ছোট ইঙ্গিতের মাধ্যমে চরিত্রটির মনের কথা দর্শকদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন অভিনেতা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝুঁকিপূর্ণ খেকুয়ানী ব্রিজ অপসারণের দাবি, দুর্ভোগে অর্ধ-লক্ষ মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২৭ পি.এম


ঝুঁকিপূর্ণ খেকুয়ানী ব্রিজ অপসারণের দাবি, দুর্ভোগে অর্ধ-লক্ষ মানুষ

বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের খেকুয়ানী এলাকার দীর্ঘদিনের ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি অপসারণ করে দ্রুত নতুন ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজটি চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ভাড়ি যানবাহন, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স চলাচল করতে না পারায় জরুরি সেবা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি সংস্কারের পরিবর্তে সম্পূর্ণ অপসারণ করে সেখানে নতুন ও টেকসই ব্রিজ নির্মাণের দাবি এখন এলাকাবাসীর প্রধান দাবি।

স্থানীয়রা জানান, খেকুয়ানী ব্রিজটি গুলিশাখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান অবলম্বন। প্রতিদিন এ ব্রিজ দিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। স্থানীয় বাজারের সঙ্গে আশপাশের এলাকার যোগাযোগ এবং কৃষিপণ্য পরিবহনেও ব্রিজটির গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে পণ্যবাহী বড় যানবাহন চলাচল করতে না পারায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনে বাড়তি ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।

ব্রিজটির বর্তমান অবস্থার কারণে সাধারণ মানুষের যাতায়াত বিঘ্নিত হচ্ছে না, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রেও বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। কোনো এলাকায় অগ্নিকাণ্ড, দুর্ঘটনা কিংবা গুরুতর অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলে সময়মতো প্রয়োজনীয় যানবাহন পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজটির কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পর্যন্ত চলাচল করতে পারে না। অ্যাম্বুলেন্স পারাপারেও রয়েছে প্রতিবন্ধকতা। ফলে সংকটময় মুহূর্তে মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সম্প্রতি খেকুয়ানী বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১২টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার ঘটনাটি ব্রিজটির সীমাবদ্ধতার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে। এলাকাবাসীর দাবি, আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে সমস্যা হয় এবং ব্যবসায়ীরা চোখের সামনে তাঁদের দোকানপাট পুড়ে যেতে দেখেন। তাঁদের মতে, বাজার ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তার স্বার্থেও ব্রিজটি দ্রুত অপসারণ করে নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা জরুরি। ভবিষ্যতে এমন কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে যেন জরুরি সেবার গাড়ি নির্বিঘ্নে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারে, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার চেষ্টা করা হলেও এখনো তাঁদের প্রত্যাশা অনুযায়ী কার্যকর সমাধান মেলেনি। সাময়িক মেরামত কিংবা সীমিত সংস্কার দিয়ে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না বলে মনে করছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, প্রকৌশলগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে পুরোনো ব্রিজটি অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে নতুন ব্রিজ নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। ব্রিজ নির্মাণের সময় যাতে স্থানীয় মানুষের যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন না হয়, সে জন্য বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থাও রাখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

নতুন ব্রিজ নির্মাণ হলে শুধু যাতায়াতের দুর্ভোগই কমবে না, এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত পণ্য সহজে বাজারে নিতে পারবেন, ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে মালামাল পরিবহন করতে পারবেন এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াত আরও নিরাপদ হবে। পাশাপাশি জরুরি রোগী পরিবহন, অগ্নিনির্বাপণ ও অন্যান্য সেবা নিশ্চিত করাও সহজ হবে। স্থানীয়দের মতে, প্রায় ৫০ হাজার মানুষের যোগাযোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ব্রিজটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি অপসারণ করে নতুন ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় ব্রিজের পশ্চিম পাশে খেকুয়ানী বাজারসংলগ্ন এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে পাঁচ শতাধিক এলাকাবাসী অংশ নেন। তাঁরা দ্রুত নতুন ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, গুলিশাখালী ইউনিয়নের বিশিষ্ট সমাজসেবক গোলাম মোস্তফা, ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন মুন্সী এবং বরগুনা জেলা যুবদলের সম্পাদক আসাদুজ্জামান মোমেন আকন। এ সময় গুলিশাখালী ইউনিয়নের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, খেকুয়ানী ব্রিজটি প্রায় ৫০ হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বড় কোনো যানবাহন এ ব্রিজ দিয়ে চলাচল করতে পারে না। এতে ব্যবসায়ী, কৃষক, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাঁরা বলেন, সম্প্রতি খেকুয়ানী বাজারে অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১২টি দোকান পুড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অথচ ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সেখানে পৌঁছাতে পারেনি। এমনকি জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স চলাচলেও বাধা তৈরি হচ্ছে। এভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের যোগাযোগব্যবস্থা অচল থাকতে পারে না।

বক্তারা আরও বলেন, ব্রিজটি সংস্কারের নামে সময়ক্ষেপণ না করে ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো অবকাঠামোটি অপসারণ করতে হবে। একই স্থানে দ্রুত নতুন ব্রিজ নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। মানুষের জীবন, সম্পদ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নিরাপদ যোগাযোগের স্বার্থে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। তাঁরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

মানববন্ধন থেকে এলাকাবাসী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, খেকুয়ানী ব্রিজের স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের দাবি অব্যাহত থাকবে। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্রিজটির অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি অপসারণ এবং নতুন ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেবে। পাঁচ শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে খেকুয়ানীর মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ ও নতুন ব্রিজ নির্মাণের দাবি আবারও সামনে এসেছে। এখন এলাকাবাসীর অপেক্ষা, দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিলেটে শনিবার বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২৭ পি.এম


সিলেটে শনিবার বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

সিলেটের লাক্কাতুরা ও আম্বরখানা উপকেন্দ্রের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত এবং বিদ্যুৎ লাইনের আশপাশের গাছের শাখা-প্রশাখা কর্তনের কাজের জন্য আগামীকাল শনিবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

লাক্কাতুরা উপকেন্দ্রের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকবে, আর আম্বরখানা উপকেন্দ্রের আওতাধীন এলাকায় পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

শুক্রবার বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) সিলেট বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলীর স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শনিবার সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত লাক্কাতুরা ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের আওতাধীন ১১ কেভি কাকুয়ারপাড়, এয়ারপোর্ট থানা, বাইশটিলা, ওসমানী বিমানবন্দর এক্সপ্রেস, ধোপাগুল, বনশ্রী, বাদামবাগিচা (আংশিক), পাহাড়িকা, বড় বাজার ও লাক্কাতুরা স্টেডিয়াম ফিডারের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে লাক্কাতুরা বাজার, মুসলিমপাড়া, মালনীছড়া, বাঁশবাড়ী গলির মুখ, বাদামবাগিচা, আঙ্গুরমিয়ার গলির মুখ, রূপসা আবাসিক এলাকা, খাসদবীর প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইসরাইল মিয়া গলি, দারুস সালাম মাদরাসা রোড, বড় বাজার, আবাদানি, বড়শালা বাজার মসজিদসংলগ্ন আংশিক এলাকা, পর্যটন, ফরিদাবাদ, সিলভার সিটি, কেওয়াছড়া, হিলুয়াছড়া চা-বাগান, ধোপাগুল, মহালদিক, উমদারপাড়া, আলাইবহর, লিলাপাড়া, দাপনাটিলা, সাহেবের বাজার, কালাগুল, লালবাগ, পীরেরগাঁও, ছালিয়া, রঙ্গিটিলা ও সালুটিকর ঘাটসহ আশপাশের এলাকা।

অন্যদিকে, সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আম্বরখানা ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের ১১ কেভি আইজিডি ওভারহেড ফিডারের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এই এলাকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে আম্বরখানা মসজিদ, দত্তপাড়া, আম্বরখানা সরকারি কলোনি, মজুমদারী, কমলাবাগান, প্রভাতী, পূর্ব পীরমহল্লা, সম্পূর্ণ হাউজিং এস্টেট, ফরিদাবাদ আবাসিক এলাকা ও আশপাশের অঞ্চল।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সাময়িক এ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে গ্রাহকদের যে অসুবিধা হবে, সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগে রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতকাজ শেষ হলে আগেই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হতে পারে।

Ñএমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২১
ইশা ০৬:৩৩
সূর্যোদয় : ০৬:০৩ সূর্যাস্ত : ০৫:২১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%