বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:১৮ পি.এম
পাবনা-ঢাকা-পাবনা রুটে নতুন একটি জোড়া আন্ত নগর ট্রেন আগামী ১৯ নভেম্বর থেকে চালু হতে যাচ্ছে। গত ৪ নভেম্বর, বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবটি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাভ করেছে।
অনুমোদিত প্রস্তাবনার আওতায়, ৮০৮ নং ‘পাবনা প্রভাতী এক্সপ্রেস’ সকাল ৮টায় পাবনা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে এবং দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ঢাকা পৌঁছাবে। অপরদিকে, ৮০৭ নং ‘পাবনা গোধূলি এক্সপ্রেস’ দুপুর ৩টা ২৫ মিনিটে ঢাকা থেকে পাবনার দিকে রওনা হবে এবং রাত ৯টা ২০ মিনিটে পাবনা পৌঁছাবে।
প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে, উক্ত ট্রেনটি আপ ও ডাউন উভয় পথে ঈশ্বরদী, দাশুরিয়া, চাটমোহর, বড়ালব্রিজ, উল্লাপাড়া, শহীদ মনসুর আলী, টাঙ্গাইল, জয়দেবপুর ও ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে।
১৯ নভেম্বর অপরাহ্নে, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম পাবনা রেলওয়ে স্টেশনে উক্ত ট্রেন দুটি উদ্বোধন করবেন। এর মাধ্যমে ঢাকা-পাবনা-ঢাকা রুটে আন্ত নগর ট্রেনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতিহারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে, সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ রেলওয়ে এই ট্রেন চালু করতে যাচ্ছে। নতুন এই ট্রেনের উদ্বোধনের মাধ্যমে ঢাকা-পাবনা রুটে আন্ত নগর রেল যোগাযোগ সংযোজন হতে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুরে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীর সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ব্যবহার, ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া এবং পরবর্তীতে মিথ্যা মামলা ও মানববন্ধনের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
আজ ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার শ্রীবরদী শহরের কাচারী মোড় এলাকায় বেলা ১১টায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগী রেজাউল করিম বলেন, আমি হঠাৎ উচ্চ রক্তচাপে ভুগে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে সেবা নিতে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. বীথী ও ডা. মঞ্জুরুল আমার সাথে দুর্বব্যবহার করে এবং সেখানে দায়িত্বরত আনসারদের মাধ্যমে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়।
এ ছাড়া ওই মানববন্ধনে অংশ নেওয়া একাধিক ভুক্তভোগী হাসপাতালের ডাক্তার ও কর্তব্যরত আনসারদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেন।
চিকিৎসকদের এমন আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এবং সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে ভুক্তভোগী পরিবার ও শ্রীবরদী উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা।
এ বিষয়ে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু সাদাত মোহাম্মদ মফিদুল ইসলাম জানান, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলো মিথ্যা। উল্টো অভিযোগকারী রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে হুমকি প্রদান করার কথা বলেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা বিভাগে তিনজন, চট্টগ্রামে তিনজন এবং খুলনা বিভাগে একজনের মৃত্যু ঘটেছে। একই সময়ে ১ হাজার ৫৯৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়।
বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৪৫২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অক্টোবর মাসেই মারা গেছেন ১৮১ জন। এছাড়া সেপ্টেম্বরে সর্বাধিক ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের বুলেটিনে আরও উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৫৯৬ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৭৪ জনে পৌঁছেছে এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, যেখানে ৫৫০ জন ভর্তি হয়েছেন। চট্টগ্রামে ২৯৫, খুলনায় ২২১, বরিশালে ২১৩, রাজশাহীতে ১৪৮, ময়মনসিংহে ৮৩, রংপুরে ৬৭ এবং সিলেট বিভাগে ১৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাবা-মা ও ভাইহারা, নিজের সংসার গড়ার সুযোগ পাননি ৬৫ বছর বয়সী বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নাজমা আক্তার। বর্তমানে হৃদরোগ ও কিডনি সমস্যায় ভুগছেন তিনি। নিয়মিত ওষুধ কেনার সামর্থ্য নেই তার। একমাত্র ভরসা তার স্বল্প আয়ের ছোট বোন। এই অবস্থায় নাজমার চিকিৎসা ও জীবনযাপনের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের উদ্যোগে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে নাজমাকে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নাজমা আক্তারের হাতে দ্বিতীয়বারের মতো এ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন ফরিদা খানম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নাজমা আক্তারের আদি বাড়ি বিক্রমপুরের মজিদপুর গ্রামে অবস্থিত। বর্তমানে তিনি ছোট বোন আছমা আক্তারের সঙ্গে রাজধানীর মগবাজারে বসবাস করছেন। ছোটবেলা থেকেই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে তার বিয়ে হয়নি। বাবা-মা ও ভাই কেউ বেঁচে না থাকায় তার ছোট বোনই একমাত্র আশ্রয় ও দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু সীমিত আয়ের সংসারে নিজের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি বড় বোনের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে হিমশিম খেতে হয় আছমাকে। নাজমার ওষুধপত্র কিনতে প্রতি মাসে প্রয়োজন হয় তিন থেকে চার হাজার টাকা। ফলে তার চিকিৎসা ও পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল।
নাজমার ছোট বোন আছমা আক্তার বলেন, "আমি আজ আমার প্রতিবন্ধী বোনকে সঙ্গে নিয়ে এখানে এসেছি। আমি ছাড়া তার দেখাশোনা করার মতো আর কেউ নেই। একটি অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ম্যাডামের সঙ্গে আমাদের দেখা হয়েছিল। তিনি নিজেই আমার বোনকে দেখে আন্তরিকতার সঙ্গে খোঁজখবর নেন এবং তাকে সঙ্গে করে নিয়ে আসতে বলেন। তার কথামতো আসার পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পেয়েছি। আজও আমরা এই সহায়তা নিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসেছি।"
তিনি আরো বলেন, "এই টাকা দিয়ে বোনের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, প্রতি মাসের তিন থেকে চার হাজার টাকার ওষুধপত্র কেনা এবং তাকে ভালো খাবার, ফলমূল ও মাছ-মাংস কিনে দেওয়ার সুযোগ হয়েছে। সরকারের এমন মানবিক উদ্যোগ ও সহযোগিতার জন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের এই সহায়তায় আমি সত্যিই অত্যন্ত আনন্দিত ও সন্তুষ্ট।"
জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, "তিন-চার মাস আগে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে ‘মায়ার বাঁধন’ নামে প্রতিবন্ধী শিশুদের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে নাজমা আক্তারের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। সেখানে তার অসহায়ত্ব ও জীবনসংগ্রামের বিষয়টি জানতে পারি। তার বয়স ৬৫ বছর। ছোটবেলা থেকেই তিনি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। বাবা-মা ও ভাই কেউ বেঁচে নেই, বিয়েও হয়নি। বর্তমানে তার ছোট বোনই তাকে দেখাশোনা করছেন। কিন্তু বোনেরও সীমিত আয়। ফলে নাজমার চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো তার পক্ষে কঠিন।"
তিনি বলেন, "বিষয়টি জানার পর ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাজমার দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তার চিকিৎসা, ওষুধপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ, প্রতি মাসেই এ সহায়তা অব্যাহত থাকবে।"
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, "আমাদের আর্থিক সক্ষমতা সীমিত। তবে সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সমাজের অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরও এ ধরনের মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত। সবার সম্মিলিত মানবিক উদ্যোগ ও সহযোগিতা অসহায় মানুষের জীবনকে সহজ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ করে তুলতে পারে। আমরা চাই, সমাজের কোনো মানুষই যেন অসহায়ত্বের কারণে অবহেলিত না থাকেন।"
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, সমাজের অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। রাষ্ট্র ও প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে অসহায় মানুষের জীবনযাত্রা সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধের চর্চা বাড়াবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠতে পারে আরো মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন সমাজ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
॥ আব্দুর রাজ্জাক ॥
কুষ্টিয়া, ৫ নভেম্বর ২০২৬ : রাকিবের সংসার মহিষের খামার করে ভালোভাবেই চলছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে শরীরের বাম পাশ অবশ হয়ে যায়। এর ফলে দীর্ঘদিনের মহিষের খামার বন্ধ হয়ে যায়। অসুস্থ শরীর নিয়ে জীবিকা নির্বাহের চিন্তায় পড়েন তিনি।
তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কাছে হার মানেননি রাকিবুল ইসলাম। বিকল্প আয়ের পথ খুঁজতে শুরু করেন। এক সময় তিনি একটি জোড়া দুম্বা কিনে ছোট একটি খামার গড়ে তোলেন। বর্তমানে সেই খামার তাকে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ২ নম্বর বহলবাড়িয়া ইউনিয়নের সাহেব নগর গ্রামের বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম (৩৬)। চাকরি বা বিদেশে যাওয়ার পেছনে না ছুটে, তিনি প্রায় ১০ বছর আগে মহিষ পালন শুরু করেছিলেন। মহিষ পালন ভালোই চলছিল। কিন্তু ২০২৩ সালের মার্চে হঠাৎ মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে বাঁ পাশ অবশ হয়ে যায়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হলেও আগের মতো পরিশ্রম করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে মহিষ পালন বন্ধ হয়ে যায়।
এ অবস্থায় তুলনামূলক কম পরিশ্রমে আয় করার বিকল্প পথ খুঁজতে থাকেন। এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে নাটোরের একটি দুম্বার খামারের সন্ধান পান। সেখানে গিয়ে খামার ব্যবস্থাপনা ও দুম্বা পালনের পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নেন। এরপর তিনি একটি দুম্বা ও একটি দুম্বী কিনে বাড়িতে শুরু করেন নতুন যাত্রা। রাকিবুল ইসলাম বলেন, "অসুস্থ শরীর নিয়ে খুবই চিন্তায় ছিলাম। মহিষ বিক্রির টাকা দিয়ে বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলাম। সেই পুঁজি হারানোর ভয়ও ছিল। এক পরিচিত বড় ভাই নাটোরের একটি দুম্বার খামারের সন্ধান দেন। সেখানে গিয়ে খামারটি দেখি। কীভাবে পালন করতে হয়, সবকিছু বুঝে দুটি দুম্বা নিয়ে আসি। সেখান থেকেই শুরু।"
২০২৪ সালের শুরুতে দুটি দুম্বা দিয়ে যাত্রা শুরু করে, বর্তমানে তার খামারে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৫টি দুম্বা রয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি ছয়টি বড় দুম্বা বিক্রি করেছেন ১২ লাখ টাকায়। প্রতিটি বাচ্চা দুম্বার সম্ভাব্য বাজার মূল্য প্রায় এক লাখ টাকা। আর পূর্ণবয়স্ক দুম্বা বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে তিন লাখ টাকায়।
রাকিবুল জানান, দুম্বা পালনের খরচ তুলনামূলকভাবে কম। দেশি গবাদিপশুর মতো দুম্বাও কাঁচা ঘাস, খড়, ভুসি, ছোলাসহ সব ধরনের খাবার খায়। খাবারের জন্য আলাদা বড় আয়োজন করতে হয় না। পুষ্টির জন্য মাঝে মধ্যে ভিটামিন দেওয়া হয়। দুম্বা প্রতিবছর দুবার বাচ্চা দেয়। বাচ্চাগুলো ঘাস খাওয়ার উপযোগী হলেই প্রায় এক লাখ টাকায় বিক্রি করা যায়। বড় দুম্বার দাম দুই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। তিনি ইতোমধ্যেই ছয়টি বড় দুম্বা ১২ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। বর্তমানে খামারে থাকা ১৫টি দুম্বার মধ্যে তিনটি অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বাচ্চা দেবে। বাচ্চা দেওয়ার পরও মা দুম্বার দুধ সংগ্রহ করা যায়।
খামারের পরিচর্যাকারী সুজন হাসান বলেন, "দেশি ছাগল ও ভেড়া যে খাবার খায়, সেগুলোই দুম্বাকে দেওয়া হয়। খুব বেশি খাবার লাগে না। সকালে ঘরের খাবার দেওয়ার পর বাইরে ঘাস খেতে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিকেলে পানি ও সামান্য আনুষঙ্গিক খাবার দিলেই চলে। মাসে দুইবার গোসল করাতে হয়। পাশাপাশি খামারের ঘর পরিষ্কার রাখতে হয়।"
রাকিবের প্রতিবেশী মাওলানা ইমরান হাসান বলেন, "মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে গেলেও দমে যাননি রাকিবুল। দুম্বার খামার করে নিজের উপার্জনের পথ তৈরি করেছেন। তার এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, মনোবল ও ইচ্ছাশক্তি থাকলে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব।"
মিরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. মো. আবদুল্লাহিল কাফি বলেন, "স্বল্প পরিসরে ঘরোয়া পরিবেশে দুম্বা পালন করে লাভবান হওয়া সম্ভব। রাকিবুলের খামার তার একটি দৃষ্টান্ত। বেকার তরুণ ও উদ্যোক্তারা বিদেশে যাওয়ার পেছনে অর্থ ব্যয় না করে দেশে বিনিয়োগ করে এ ধরনের খামার গড়ে তুলতে পারেন। সঠিক পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনায় দুম্বা পালন লাভজনক হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ