ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কক্সবাজারে অবৈধ ইজিবাইক ও মিশুকের প্রভাব


কক্সবাজারে অবৈধ ইজিবাইক ও মিশুকের প্রভাব

কক্সবাজার শহরে এখন অনিয়ন্ত্রিত এবং অনibন্ধিত মিশুক ও ইজিবাইক চলাচল শুধু যানজটের সৃষ্টি করছে না, বরং জননিরাপত্তার জন্যও এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই যানগুলোর মধ্যে একটি বড় অংশ চালাচ্ছেন রোহিঙ্গা ও অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুরা। এমনকি কিছু যানকে ব্যবহার করে সংঘটিত হচ্ছে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।

বুধবার (১০ জুন) বিকালে শহরের কলাতলী মোড় ও ঘুনগাছ তলায় ঘণ্টাব্যাপী অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের ফলস্বরূপ শতাধিক অনিবন্ধিত ইজিবাইক ও মিশুক জব্দ করা হয়। পাশাপাশি বেশ কয়েকজন চালককেও আটক করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কক্সবাজারে অনিবন্ধিত যানবাহনের বেড়ে যাওয়া একটি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সকল যানবাহনের চালকদের মধ্যে অনেকেই বৈধ কাগজপত্রহীন। অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, কিছু ক্ষেত্রে এসব যানবাহন মাদক পরিবহন, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে পর্যটন নগরীর নিরাপত্তা ও সড়কে শৃঙ্খলাবিষয়ক উদ্বেগ বাড়ছে। লাইসেন্সধারী যানবাহনের তুলনায় অবৈধ যানগুলো অনেক বেশি হয়ে যাওয়ায় বাইরের এলাকা থেকেও অনেক যান শহরে প্রবেশ করছে, যা পরিস্থিতি আরো জটিল করছে।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪

পর্যটন ব্যবসায়ী রুমান মন্তব্য করছেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারে বিপুল পরিমাণে অনিবন্ধিত মিশুক ও ইজিবাইক চলাচল করছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সি অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুরাও এসব যানবাহন চালাচ্ছে, যা আইন ও নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পর্যটন নগরীর ভাবমূর্তি রক্ষায় এসব অবৈধ যানের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত অভিযান প্রয়োজন।’

শহরের বাসিন্দা আল আমিন অভিযোগ করেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত অনেক অপরাধের ঘটনার মধ্যে রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে। তদন্তে প্রায়ই দেখা যায় তারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

কক্সবাজার গ্যারেজ মালিক সমিতি কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুল জলিল ডালিম জানিয়েছেন, একসময় শহরে প্রায় তিন হাজার লাইসেন্সধারী মিশুক ও টমটম চলাচল করত। পরবর্তীতে লাইসেন্সের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজারে পৌঁছালেও বাস্তবে শহরে মিশুক ও টমটম মিলিয়ে প্রায় ১১ হাজার যানবাহন চলাচল করছে।

তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারের বাইরের এলাকা যেমন ঈদগাঁও, চকরিয়া, হারবাং ও খুরুশকুল থেকে বিপুল সংখ্যক যানবাহন শহরে প্রবেশ করে। মালিকরা অনেক সময়ে গাড়ি ভাড়ায় চালানোর জন্য রোহিঙ্গা ও বাইরের লোকজনের হাতে গাড়ি তুলে দিচ্ছেন। এতে নিয়ন্ত্রণহীনতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং পর্যটকদের ব্যাগ ছিনতাইসহ নানা অপরাধের ঝুঁকি বাড়ছে।’ তিনি যানবাহন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে

এমন অবস্থায় কক্সবাজার শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে নেমেছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে তল্লাশি করে কাগজপত্রবিহীন শতাধিক মিশুক ও ইজিবাইক জব্দ করা হয়। এ সময় শতাধিক অপ্রাপ্তবয়স্ক ও রোহিঙ্গা চালককে আটক করা হয়েছে।

কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আশরাফুল হুদা সিদ্দিকী জামশেদ জানিয়েছেন, ‘শহরে চুরি ও ছিনতাইয়ের পাশাপাশি অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় জেলা পুলিশ সুপার ও সদর মডেল থানার কর্মকর্তারা পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। সেখানে ইজিবাইক ও টমটম চালকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোহিঙ্গা থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। তাদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশের এই অভিযান অত্যন্ত সময়োপযোগী।’

কক্সবাজার সদর মডেল থানার পরিদর্শক শেখ মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, ‘দেশ-বিদেশ থেকে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। আমরা যাচাই করছি চালকদের পরিচয় রোহিঙ্গা কি না অথবা তারা অন্য অঞ্চল থেকে এসেছে কি না। বিশেষত অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুরা কীভাবে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণে আসছে এবং তারা কোন অপরাধে জড়িত কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।’

তিনি আরও জানিয়েছেন, যারা বয়স ও পরিচয় যাচাই ছাড়াই শিশুদের হাতে যানবাহন দিয়েছেন, সেই মালিকদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পর্যটন নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে স্পিলবার্গের নতুন সিনেমা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩৫ পি.এম


দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে স্পিলবার্গের নতুন সিনেমা

সিনেমা নির্মাণে অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় তিনি উৎসর্গ করেছেন, এটি আমেরিকান পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ সম্পর্কে বলা হচ্ছে। তার পরিচালিত চলচ্চিত্রগুলোর দ্বারা মোট বক্স অফিস আয় ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এটি এখনো একটি অপরাজেয় রেকর্ড হিসেবে রয়ে গেছে। এবার পর্দায় আসছে স্টিভেন স্পিলবার্গের নতুন সিনেমা ‘ডিসক্লোজার ডে’। এটি আগামী ১২ জুন বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। একই দিনে বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সেও কাঙ্খিত এই সিনেমাটি মুক্তি পাবে।

তিনবার অস্কার পুরস্কার ঘরে তুলেছেন স্টিভেন স্পিলবার্গ। এ ধরনের একজন পরিচালক যখন নতুন সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা দেন, তখন দর্শকদের উম্মাদনার পারদ স্বাভাবিকভাবেই উপরে উঠতে থাকে। সিনেমা মুক্তির দিন যত ঘনিয়ে আসে, ততই উত্তেজনা বেড়ে যায়।

দীর্ঘ সময় ধরে স্পিলবার্গ তুলনামূলকভাবে ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল গল্পে মনোযোগ দিয়েছেন। দ্য ফ্যাবেলম্যানস-এ তিনি নিজের বেড়ে ওঠার গল্প বলেছেন এবং ‘ওয়েস্ট সাইড স্টোরি’তে ক্ল্যাসিক মিউজিককে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন। এবার তিনি ফিরে আসছেন সেই পুরোনো পরিচিত ময়দানে যেখানে রহস্য, প্রযুক্তি, বিস্ময় এবং অজানার আকর্ষণ একসঙ্গে কাজ করে।

‘ডিসক্লোজার ডে’-এর কাহিনী পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি। তবে জানা গেছে, এটি ভিনগ্রহের প্রাণী, তাদের পৃথিবীতে আগমন এবং সেই সত্যটি আড়াল করার এক বিশাল সরকারি ষড়যন্ত্রকে কেন্দ্র করে নির্মিত। এ ধরনের কাহিনী স্পিলবার্গের জন্য নতুন নয়। বরং তার চলচ্চিত্রজীবনের অন্যতম শক্তিশালী অধ্যায় গড়ে উঠেছে এই ধারার ওপর। ‘ই.টি. দ্য এক্সট্রা টেরেস্ট্রিয়াল’, ‘ক্লোজ এনকাউন্টারস অব থার্ড কাইন্ড’ অথবা ‘ওয়ার অব দ্য ওয়ার্ল্ডস’-এ তিনি অজানা জগৎকে মানুষের আবেগের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

এ সিনেমাটিতে এমিলি ব্লান্ট অভিনয় করেছেন এক আবহাওয়া সংবাদকর্মীর ভূমিকায়, যার সঙ্গে ভিনগ্রহের আগন্তুকদের রহস্যজনক যোগাযোগ রয়েছে। জশ ও’কনরকে দেখা যাবে এমন এক চরিত্রে, যিনি প্রমাণ হাতে পেয়েছেন যে মানুষের সঙ্গে অন্য জগতের যোগাযোগ ইতিমধ্যেই ঘটেছে। অন্যদিকে কলিন ফার্থ অভিনয় করেছেন ক্ষমতাধর এক প্রশাসনিক ব্যক্তির ভূমিকায়, যিনি এই সত্য গোপন রাখতে যেকোনো পর্যায়ে যেতে প্রস্তুত। সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখেছেন ডেভিড কোয়েপ, যিনি আগে স্পিলবার্গের সঙ্গে ‘জুরাসিক পার্ক’-এ কাজ করেছেন।

সিনেমার উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে চলচ্চিত্র সাংবাদিকরা মুগ্ধ হয়েছেন। প্রথম প্রতিক্রিয়ায় অনেকেই এটিকে ‘গত ২০ বছরে স্পিলবার্গের সেরা সিনেমা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তারা জানান যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, রহস্য ও প্রেমের এ টান টান মিশ্রণটি স্পিলবার্গের চিরচেনা জাদুতে ভরপুর। পাশাপাশি, মূল তারকা এমিলি ব্লান্ট তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অভিনয় প্রদর্শন করেছেন বলে প্রশংসা পেয়েছেন।

স্পিলবার্গ মনে করেন যে, এই সিনেমাটি দর্শকদের মধ্যে মহাবিশ্ব সম্পর্কে নতুন অনেক প্রশ্নের জন্ম দিবে। ছোটবেলা থেকেই মহাকাশ নিয়ে কৌতূহলী স্পিলবার্গের কথায়, ‘আমি বিশ্বাস করি, এই মুভিটি যেমন অনেক উত্তর দেবে, তেমনি মানুষকে অনেক অজানাকে নিয়ে প্রশ্ন করতেও বাধ্য করবে।’ সবমিলিয়ে সিনেমাটি নিয়ে প্রত্যাশা আকাশচুম্বী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে অংশীদারিত্ব জোরদারে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩৬ পি.এম


বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে অংশীদারিত্ব জোরদারে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত

আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সাথে ইউরোপীয় কমিশনের ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স, রিটার্নস অ্যান্ড ভিসা বিষয়ক পরিচালক হেনরিক নিলসেনের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) অভিবাসন, বাণিজ্য, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

পূর্বে উল্লিখিত সাক্ষাৎকালে এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের জন্য নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারও উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাথে বাংলাদেশের বহুমুখী অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং দেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় এই জোটের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য প্রশংসা জানান।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ও ইইউ’র মধ্যে সাম্প্রতিক উচ্চ-পর্যায়ের সফরের কথা স্মরণ করে তিনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বর্ধমান গতিশীলতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

আলোচনায় অভিবাসন ও মোবিলিটি সহযোগিতা বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।

শামা ওবায়েদ মানব পাচার এবং সব ধরনের অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

এছাড়া তিনি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকারের ওপর জোর দেন।

তিনি ইইউ’র ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

এছাড়াও, তিনি ইইউভুক্ত দেশগুলোকে বৈধ উপায়ে অভিবাসনের নতুন পথ তৈরি করার পাশাপাশি দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী ও পেশাজীবীদের জন্য সুযোগ সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

উভয় পক্ষ ইইউ’র আসন্ন অ্যাসাইলাম ও রিটার্ন বর্ডার প্রসিডিউর (আশ্রয় ও প্রত্যাবাসন সীমান্ত প্রক্রিয়া) বিষয়েও মতবিনিময় করে।

তাছাড়া, অভিবাসন এবং প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত বিষয়ে নিবিড় সমন্বয়, নিয়মিত সংলাপ এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

তারা অভিবাসনের ঝুঁকি এবং তার পরিণতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য চলমান প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন।

আরো আলোচনায় রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ, শিক্ষা, ক্রীড়া এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতাসহ দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক ইস্যুসমূহ উত্থাপন করা হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশের স্থানীয় জনগণের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের অব্যাহত সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান।

তিনি রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক মনোনিবেশ বজায় রাখার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।

পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ককে আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

বৈঠকটি বর্ধমান অংশীদারিত্বের প্রতি উভয় পক্ষের সন্তোষ প্রকাশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘আর্জেন্টিনা রঙে’ সাজানো হলো পুরো বাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩৮ পি.এম


‘আর্জেন্টিনা রঙে’ সাজানো হলো পুরো বাস

ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে সমর্থকদের নানা ধরনের আয়োজন। প্রিয় দলের পতাকা টাঙানো, বাড়িঘর রঙ করা কিংবা ব্যানার-পোস্টারে সাজানোর দৃশ্য প্রায়ই দেখা যায়। তবে, শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে একজন পরিবহন ব্যবসায়ী তার ভালোবাসার দল আর্জেন্টিনাকে ভিন্নভাবে সম্মান জানিয়ে তৈরি করেছেন ব্যতিক্রমী একটি নজির।

উপজেলার পরিবহন উদ্যোক্তা ও মাকসিম ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী গোলাম কিবরিয়া মাকসিম নিজ প্রতিষ্ঠানের একটি যাত্রীবাহী বাসকে সাজিয়ে তুলেছেন আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের রং-বর্ণে। নীল-সাদা রঙে মোড়ানো বাসটির গায়ে ফুটে উঠেছে বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসির বড় আকৃতির প্রতিকৃতি, যা সহজে পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

বাসটির নকশায় আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ থাকা সত্ত্বেও দেশের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মাঝখানের অংশে স্থাপন করা হয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। পাশাপাশি বড় অক্ষরে লেখা হয়েছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, বাসটি সড়ক পথে চলাচল শুরু হবার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। যাত্রী, সাধারণ মানুষ, অনেকেই বাসটির ছবি তুলছেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করছেন। ফলে বিষয়টি দ্রুতই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

জানা গেছে, মাকসিম ট্রাভেলসের বাসটি প্রতিদিন দুপুর ১২টায় নালিতাবাড়ী থেকে ঢাকার মহাখালীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। আবার রাত ৮টায় মহাখালী থেকে নালিতাবাড়ীর পথে যাত্রা শুরু করে। ফুটবল দলের থিমে পুরো একটা যাত্রীবাহী বাস সাজানোর এমন উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রথম হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যেও বাড়তি আগ্রহ দেখা দিয়েছে।

আর্জেন্টিনা সমর্থক বাবু চক্রবর্তী বলেন, ‘বিশ্বকাপ এলেই নানা ধরনের সাজসজ্জা চোখে পড়ে। কিন্তু একটি যাত্রীবাহী বাসকে এভাবে পুরোপুরি আর্জেন্টিনার পরিচয়ে সাজানো সত্যিই ব্যতিক্রমী। বাসটি দেখেই ফুটবল উৎসবের আবহ অনুভব করা যায়।’

আরেক সমর্থক তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘মেসির ছবি ও আর্জেন্টিনার রঙে সাজানো বাসটি প্রথম দেখেই ভালো লেগেছে। এটি শুধু সমর্থনের প্রকাশ নয়, ফুটবল প্রেমীদের জন্যও একটি আকর্ষণীয় উদ্যোগ। এমন আয়োজন এলাকার মানুষের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ তৈরি করেছে।’

সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল মান্নান সোহেল বলেন, ‘বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বিভিন্ন ধরনের আয়োজন দেখা গেলেও এই বাসটি বিশেষভাবে মানুষের নজর কাড়ছে। এটি এখন শুধু একটি যানবাহন নয়, বরং ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ ও আবেগের প্রতীক হয়ে উঠেছে।’

উদ্যোক্তা গোলাম কিবরিয়া মাকসিম জানান, ‘ছোটবেলা থেকেই তিনি আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক। বিশ্বকাপের সময় ফুটবল ঘিরে মানুষের যে আনন্দ-উচ্ছাশ তৈরি হয়, সেই আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতেই তিনি বাসটিকে নতুন রূপ দিয়েছেন। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের পাশাপাশি আমি চেয়েছি যাত্রী ও সাধারণ মানুষের মাঝে উৎসবের অনুভূতি ছড়িয়ে দিতে। বাসটি সড়কে নামার পর মানুষের ইতিবাচক সাড়া আমাকে আরও অনুপ্রাণিত করেছে।’

তিনি আরও বলেছেন, খেলাধুলা মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও আনন্দের বার্তা পৌঁছে দেয়। আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক হলেও দেশের পরিচয়ই সবার আগে। সে কারণেই বাসে বাংলাদেশের পতাকা এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বার্তাটি বিশেষভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে সমর্থকদের নানা আয়োজন। প্রিয় দলের পতাকা টাঙানো, বাড়িঘর রঙ করা কিংবা ব্যানার-পোস্টারে সাজানোর দৃশ্য প্রায়ই দেখা যায়। তবে, শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে এক পরিবহন ব্যবসায়ী নিজের ভালোবাসার দল আর্জেন্টিনাকে ভিন্নভাবে সম্মান জানিয়ে তৈরি করেছেন ব্যতিক্রমী নজির।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরাইলের বিরুদ্ধে পশ্চিম তীরে ‘জাতিগত নির্মূল’ অভিযানের অভিযোগ অ্যামনেস্টির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩৯ পি.এম


ইসরাইলের বিরুদ্ধে পশ্চিম তীরে ‘জাতিগত নির্মূল’ অভিযানের অভিযোগ অ্যামনেস্টির

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে বেদুইন এবং পশুপালন নির্ভর সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ইসরাইল ‘জাতিগত নির্মূল’ অভিযান চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

রামাল্লা থেকে এএফপি জানায়, বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংগঠনটি দাবি করে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি ভূমির দখল বা অন্তর্ভুক্তিকরণ (অ্যানেক্সেশন) ত্বরান্বিত করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই গ্রামীণ ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠী বসতি স্থাপনকারী ইসরাইলিদের সহিংসতা এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির প্রধান শিকার হচ্ছে।

অ্যামনেস্টি জানায়, তাদের গবেষণায় দেখা গেছে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পশ্চিম তীরের ‘এরিয়া সি’-তে অন্তত ২৭টি বেদুইন ও পশুপালক সম্প্রদায়—যাদের মধ্যে শত শত ফিলিস্তিনি রয়েছে—জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছে অথবা বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এই এলাকা পশ্চিম তীরের প্রায় ৬০ শতাংশ জুড়ে বিস্তৃত এবং ১৯৯০-এর দশকের অসলো চুক্তি অনুযায়ী এটি সম্পূর্ণ ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণে।

‘ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ বেদুইন ও পশুপালন সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে রাষ্ট্রনেতৃত্বাধীন একটি জাতিগত নির্মূল অভিযানের মাধ্যমে দখলদারিত্ব দ্রুততর করছে,’ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরাইলের বর্তমান সরকার—যা দেশটির ইতিহাসে অন্যতম ডানপন্থী—বসতি স্থাপনকারীদের ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী এজেন্ডাকে সহায়তা করছে।

অ্যামনেস্টির মতে, সরকার বসতি সম্প্রসারণ বাড়িয়েছে, বসতি এলাকায় আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা বৃদ্ধি করেছে এবং বসতি স্থাপনকারীদের অস্ত্রধারণের সুযোগ দিয়েছে, যার ফলে রাষ্ট্রসমর্থিত সহিংসতা বেড়েছে।

প্রতিবেদনটি আরও দাবি করে, কিছু ইসরাইলি কর্মকর্তার প্রকাশ্য আহ্বান এবং ফিলিস্তিনিদের উপস্থিতি কমানোর নীতিগত পদক্ষেপগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি করছে।

সংগঠনটি বলেছে, এই ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান дәүләт-নেতৃত্বাধীন এবং রাষ্ট্র-সমর্থিত; এটি কেবল কিছু উগ্র বসতি স্থাপনকারীর কাজ নয়।’

‘অবৈধ বহিষ্কার’

ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ পশ্চিম তীর দখলের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। এই কারণে মঙ্গলবার তাকে ফ্রান্সে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরও ২০২৬ সালের মে মাসে গাজা ও পশ্চিম তীরে ‘জাতিগত নির্মূলের ইঙ্গিত’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।

অ্যামনেস্টি ইসরাইলের দখলদার শক্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে বলেছে, তারা গুরুতর লঙ্ঘনের মধ্যে রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব লঙ্ঘনের মধ্যে রয়েছে ‘অবৈধ বহিষ্কার ও জনসংখ্যা স্থানান্তর’ যা যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

বেদুইন ও পশুপালন নির্ভর সম্প্রদায়গুলো, যারা প্রায়ই বিচ্ছিন্ন এলাকায় বসবাস করে এবং নিরাপত্তা সুরক্ষার বাইরে থাকে, তারা বিশেষভাবে সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকিতে রয়েছে।

অ্যামনেস্টির মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বার্লিনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে বলেন, জার্মানি এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ ইসরাইলের নীতিকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে।

তিনি বলেন, ব্যক্তিবিশেষের ওপর নিষেধাজ্ঞা ‘প্রতীকীভাবে গুরুত্বপূর্ণ’ হলেও তা বসতি সম্প্রসারণ বা সহিংসতা থামাতে কার্যকর প্রভাব ফেলছে না।

তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ইসরাইলের সঙ্গে চুক্তি স্থগিতের আহ্বান জানান।

জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা ওসিএইচএ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৬ সালে প্রতিদিন গড়ে ছয়টি কারণে পৌঁছেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%