০৯:৩৩ পি.এম
কক্সবাজার শহরে এখন অনিয়ন্ত্রিত এবং অনibন্ধিত মিশুক ও ইজিবাইক চলাচল শুধু যানজটের সৃষ্টি করছে না, বরং জননিরাপত্তার জন্যও এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই যানগুলোর মধ্যে একটি বড় অংশ চালাচ্ছেন রোহিঙ্গা ও অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুরা। এমনকি কিছু যানকে ব্যবহার করে সংঘটিত হচ্ছে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।
বুধবার (১০ জুন) বিকালে শহরের কলাতলী মোড় ও ঘুনগাছ তলায় ঘণ্টাব্যাপী অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের ফলস্বরূপ শতাধিক অনিবন্ধিত ইজিবাইক ও মিশুক জব্দ করা হয়। পাশাপাশি বেশ কয়েকজন চালককেও আটক করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কক্সবাজারে অনিবন্ধিত যানবাহনের বেড়ে যাওয়া একটি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সকল যানবাহনের চালকদের মধ্যে অনেকেই বৈধ কাগজপত্রহীন। অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, কিছু ক্ষেত্রে এসব যানবাহন মাদক পরিবহন, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে পর্যটন নগরীর নিরাপত্তা ও সড়কে শৃঙ্খলাবিষয়ক উদ্বেগ বাড়ছে। লাইসেন্সধারী যানবাহনের তুলনায় অবৈধ যানগুলো অনেক বেশি হয়ে যাওয়ায় বাইরের এলাকা থেকেও অনেক যান শহরে প্রবেশ করছে, যা পরিস্থিতি আরো জটিল করছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
পর্যটন ব্যবসায়ী রুমান মন্তব্য করছেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারে বিপুল পরিমাণে অনিবন্ধিত মিশুক ও ইজিবাইক চলাচল করছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সি অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুরাও এসব যানবাহন চালাচ্ছে, যা আইন ও নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পর্যটন নগরীর ভাবমূর্তি রক্ষায় এসব অবৈধ যানের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত অভিযান প্রয়োজন।’
শহরের বাসিন্দা আল আমিন অভিযোগ করেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত অনেক অপরাধের ঘটনার মধ্যে রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে। তদন্তে প্রায়ই দেখা যায় তারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
কক্সবাজার গ্যারেজ মালিক সমিতি কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুল জলিল ডালিম জানিয়েছেন, একসময় শহরে প্রায় তিন হাজার লাইসেন্সধারী মিশুক ও টমটম চলাচল করত। পরবর্তীতে লাইসেন্সের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজারে পৌঁছালেও বাস্তবে শহরে মিশুক ও টমটম মিলিয়ে প্রায় ১১ হাজার যানবাহন চলাচল করছে।
তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারের বাইরের এলাকা যেমন ঈদগাঁও, চকরিয়া, হারবাং ও খুরুশকুল থেকে বিপুল সংখ্যক যানবাহন শহরে প্রবেশ করে। মালিকরা অনেক সময়ে গাড়ি ভাড়ায় চালানোর জন্য রোহিঙ্গা ও বাইরের লোকজনের হাতে গাড়ি তুলে দিচ্ছেন। এতে নিয়ন্ত্রণহীনতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং পর্যটকদের ব্যাগ ছিনতাইসহ নানা অপরাধের ঝুঁকি বাড়ছে।’ তিনি যানবাহন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
এমন অবস্থায় কক্সবাজার শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে নেমেছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে তল্লাশি করে কাগজপত্রবিহীন শতাধিক মিশুক ও ইজিবাইক জব্দ করা হয়। এ সময় শতাধিক অপ্রাপ্তবয়স্ক ও রোহিঙ্গা চালককে আটক করা হয়েছে।
কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আশরাফুল হুদা সিদ্দিকী জামশেদ জানিয়েছেন, ‘শহরে চুরি ও ছিনতাইয়ের পাশাপাশি অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় জেলা পুলিশ সুপার ও সদর মডেল থানার কর্মকর্তারা পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। সেখানে ইজিবাইক ও টমটম চালকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোহিঙ্গা থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। তাদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশের এই অভিযান অত্যন্ত সময়োপযোগী।’
কক্সবাজার সদর মডেল থানার পরিদর্শক শেখ মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, ‘দেশ-বিদেশ থেকে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। আমরা যাচাই করছি চালকদের পরিচয় রোহিঙ্গা কি না অথবা তারা অন্য অঞ্চল থেকে এসেছে কি না। বিশেষত অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুরা কীভাবে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণে আসছে এবং তারা কোন অপরাধে জড়িত কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।’
তিনি আরও জানিয়েছেন, যারা বয়স ও পরিচয় যাচাই ছাড়াই শিশুদের হাতে যানবাহন দিয়েছেন, সেই মালিকদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পর্যটন নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন