বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৯:৩০ এম
রুটিন ট্রেইনিংয়ের একটি সাধারণ দিন যে কারো জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে ওঠে, তা প্রমাণ করলেন নিউ ইয়র্ক সিটির ফায়ার ডিপার্টমেন্টের (এফডিএনওয়াই) এক শিক্ষানবিশ ফায়ারফাইটার। সহকর্মীদের সহযোগিতায় এক উদ্ধার অভিযানের মহড়াকেই তিনি সিনেমার মতো এক রোমান্টিক বিয়ের প্রস্তাবে পরিণত করেছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্টের বরাতে সম্প্রতি এই চমৎকার খবরটি প্রকাশ করেছে এনডিটিভি।
এই ঘটনার প্রকৃতি ছিল র্যান্ডালস আইল্যান্ড ফায়ার একাডেমিতে এফডিএনওয়াই-এর বার্ষিক ‘ফ্যামিলি ডে’ অনুষ্ঠানে। এই বিশেষ দিনে শিক্ষানবিশ ফায়ারফাইটাররা তাদের পরিবার ও বন্ধুদের আমন্ত্রিত করেন, যাতে তারা তাদের গ্র্যাজুয়েশনের আগে জীবন বাঁচানোর কঠিন প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা সশরীরে দেখতে পারেন।
জেসন রালফ নামে ওই শিক্ষানবিশ ফায়ারফাইটার এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে তার প্রেমিকা ডেজিয়া মুরকে চমকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এখন ধরা যাক, ডেজিয়াকে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। তিনি বিশ্বাস করেছিলেন তিনি শুধু একটি উদ্ধার অভিযানের মহড়ার জন্য সাধারণ একজন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডেজিয়াকে একটি ভবনের জানালার কার্নিশে বসিয়ে রাখা হয়েছিল, যাতে তাকে একটি নকল আগুন থেকে ‘উদ্ধার’ করা যায়। ডেজিয়া যখন জানালার পাশে গ্রহণযোগে অপেক্ষা করছিলেন, তখন জেসন পুরো ফায়ারফাইটিং গিয়ার ও ভারী পোশাক পরে নিরাপত্তার জন্য ভবনের ছাদ থেকে দড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসেন।
প্রেমিকাকে নকল আগুন থেকে সুরক্ষিতভাবে ‘উদ্ধার’ করার পর জেসন আসল চমকটি দেন। উদ্ধার কাজ শেষ করে তিনি সবার সামনে এক হাঁটু গেঁড়ে বসেন এবং পকেট থেকে আংটি বের করেন। ঠিক সেই সময়ে পাশে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অন্যান্য ফায়ারফাইটাররা বড় বড় অক্ষরে লেখা প্ল্যাকার্ড তুলে ধরেন, যাতে লেখা ছিল— ‘Marry me’ (আমাকে বিয়ে করবে?)।
প্রেমিকের এমন অভিনব ও সাহসী প্রস্তাব দেখে ডেজিয়া আর ‘না’ করতে পারেননি। তিনি সানন্দে জেসনের প্রস্তাবে ‘হ্যাঁ’ বলে সম্মতি জানান।
এই মিষ্টি মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ শেয়ার করেছে ফায়ার ডিপার্টমেন্ট। তারা ক্যাপশনে লেখে, ‘শিক্ষানবিশ ফায়ারফাইটার জেসন রালফ গত শনিবার ফ্যামিলি ডে-তে এক হাঁটু গেঁড়ে বসে ছিলেন। এর জন্য ফায়ার ডিপার্টমেন্টের সবাই একযোগে কাজ করেছিল। তার বর্তমান বাগদত্তা ডেজিয়া মুর ‘হ্যাঁ’ বলেছেন! অভিনন্দন, প্রোপি (শিক্ষানবিশ)!’
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ইন্টারনেটে শুভেচ্ছার বন্যা শুরু হয়েছে। নেটিজেনদের একজন মন্তব্য করেছেন, ‘যখন ভালোবাসার ‘স্ফুলিঙ্গ’ উড়ে! অভিনন্দন আপনাদের!’ অন্য একজন লিখেছেন, ‘শিক্ষানবিশদের কি একটুও মজা করার অধিকার নেই? দারুণ মিষ্টি একটা মুহূর্ত!’
পেশাদার জীবনের কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রশিক্ষণের মাঝেও ভালোবাসার এমন প্রকাশ ফায়ার একাডেমির ‘ফ্যামিলি ডে’-কে উপস্থিত সবার কাছে এক অবিস্মরণীয় দিন হিসেবে স্মরণীয় করে রেখেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর তেজগাঁও বিভাগের বিভিন্ন থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৬১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. মিন্টু পাটোয়ারী (৪৫), মো. হৃদয় (৩০), মো. মতিন (৩৫), মো. মিন্টু মিয়া (৩৮), মো. ইসমাইল হোসেন তারেক (২৫), মো. ওয়াহেদ আলী (৩৩), মো. শাহজালাল (১৯), মো. সম্রাট আহম্মেদ (২৬), মো. কাশেম (২০), বাবলু (২৪), মো. আলামিন রতন (২৩), মো. সোহাগ (৩৫), মো. নাসির উদ্দিন (৩০), মো. শরিফ (৩৪), মো. আল আমিন (২২), মো. জয়নাল হোসেন (২৬), মো. শাওন সরকার (২২), প্লাবন দাস (২৩), ইউসুফ আলী (৪০), আরিফুল ইসলাম (৪০), হামীম (২২), বেলাল হোসেন (২৪), মো. মনিরুল ইসলাম (৩৬), বেলাল হোসাইন (৩১), মো. আলতাফ হোসেন (২৮), মো. সেলিম (২৮), মো. জলিল, মো. ইমরান ওরফে কালা ইমরান, মো. মোশারফ হোসেন (৩০), মো. মামুন (২৪), মো. মুশফিকুর রহমান সুমন (৩০), মো. রুবেল মিয়া (১৯), মো. নূর আলম (২০), মো. সৌরভ হোসেন (১৯), মো. নাদিম (২৭), মো. জসিম (৫৮), মো. জুয়েল (৫২), মো. ঝন্টু (২৭), মো. হোসেন (২৬), মো. ইরফান (৩০), মো. রিংকু খান (২৮), মো. রুবেল (২৯), মো. সাগর (২৩), মো. সোহেল (২১), মো. রিয়াজুল ইসলাম, মো. কাউছার সিকদার (২৮), মো. কাউছার (৫০), মো. নাঈম (১৯), মো. সুলতান (১৮), মো. শান্ত (১৮), মো. আরিফ (২০), মো. বাচ্চু মিয়া, মো. নাহিদ (২২), মো. সালমান (৩০), মো. শুক্কুর মিয়া (৩০), রাশেদুল (১৮), মো. নাঈম (১৯), মো. ফরতাজ (৪৪), মো. দীন ইসলাম (৩২), মোছা. নীলা আলম (৪৫) এবং মো. জাহাঙ্গীর মিয়া (৩৬)।
বুধবার (১ জুলাই) রাতে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তেজগাঁও বিভাগের বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তেজগাঁও থানা থেকে ৯ জন, শেরেবাংলা নগর থানা থেকে ১৬ জন, মোহাম্মদপুর থানা থেকে ১৬ জন, আদাবর থানা থেকে ১০ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা থেকে ৪ জন এবং হাতিরঝিল থানা থেকে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী আজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার অংশগ্রহণে সারাদেশে শুরু হলো। এবার সিসিটিভি নজরদারির পাশাপাশি পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও রেকর্ড রাখার জন্য পুলিশের বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে।
পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের সময় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা থেকে বিরত থাকা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) পরীক্ষার প্রথম দিনে রাজধানীর উত্তরা রাজউক মডেল কলেজ কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের শরীরে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করতে দেখা গেছে। একইসঙ্গে কেন্দ্রের বাইরে মাইকে পরীক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন নির্দেশনা ও নিয়মকানুন জানানো হচ্ছিল।
নির্ধারিত নিয়ম মেনে পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। যানজটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবার সকাল সাড়ে ৮টাতেই পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে জাতীয় মনিটরিং ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের অভিজ্ঞতা ইতিবাচক ছিল। এ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের মধ্যে সতর্কতা ও ভীতি তৈরি হয়। একই কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রেও এই প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে পুলিশের ধারণা।
শিক্ষা উপদেষ্টা আ ন ম এহছানুল হক মিলনও এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পুলিশের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এর মাধ্যমে কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে দায়িত্ব পালনকারী সবার মধ্যে আরও বেশি সতর্কতা তৈরি হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত এসএসসি পরীক্ষায় কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করার পর নকলের ঘটনা প্রায় ৭৮ শতাংশ কমে আসে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবার সিসিটিভি নজরদারির পাশাপাশি বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা যুক্ত করা হয়েছে, যাতে পরীক্ষা আরও সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন করা যায়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯ হাজার ৪৩৯টি এবং মোট পরীক্ষাকেন্দ্র ২ হাজার ৬৯৭টি। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন শিক্ষার্থী ১ হাজার ৬২৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি কেন্দ্রে অংশ নেবে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে অংশ নেবে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জান্তা বাহিনী ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সাগাইং অঞ্চলে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর নিজেদের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী কোন্দলে প্রাণ হারিয়েছেন বেশ কয়েকজন। চার মাসের মধ্যে প্রায় ৭ লাখ নাগরিক মিয়ানমার ছেড়ে থাইল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছেন এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বুথিডং উপজেলায় আবারো বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে জান্তা বাহিনী। যুদ্ধবিমান থেকে শহরের আশপাশের গ্রামগুলোতে সেনারা মুহুর্মুহু বোমা ফেলেছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত ১০টি শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান।
এদিকে, জান্তাবিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে রক্তাক্ত হয়েছে সাগাইং অঞ্চলের মোনিওয়া শহর। সমান্তরাল জাতীয় ঐক্য সরকার বা এনইউজির অনুগত পিপলস ডিফেন্স ফোর্স পিডিএফ এবং পিপলস সিকিউরিটি ফোর্স পিএসএফ-এর মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ফলে কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। পিডিএফের আকস্মিক অভিযান শেষে স্থানীয় পিএসএফ ক্যাম্পগুলোতে এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে।
এমন চতুর্মুখী সহিংসতা ও জান্তা সরকারের বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ আইন থেকে বাঁচতে মিয়ানমারের নাগরিকরা দলে দলে দেশ ছাড়ছেন। জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা আইওএম-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই প্রায় ৬ লাখ ৮৭ হাজার মিয়ানমার নাগরিক প্রতিবেশী থাইল্যান্ডে প্রবেশ করেছেন।
মূলত, জোরপূর্বক সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্তি এড়ানো, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণেই এই ব্যাপক দেশত্যাগ ঘটে। মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে এ পর্যন্ত সংঘাতে এক লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডি জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি এশিয়ার অন্যতম প্রাণঘাতী সংঘাত হতে পারে, যেখানে প্রকৃত প্রাণহানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, এই সহিংসতার ফলে ৩৭ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং প্রতি পাঁচজনের একজন তীব্র খাদ্যসংকটে ভুগছেন, যা প্রতিবেশী দেশগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জার্মানির নর্ড স্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইনে ২০২২ সালে বাল্টিক সাগরের তলদেশে বিস্ফোরণের ঘটনায় একটি ইউক্রেনীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন জার্মানির রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। এই বহুল আলোচিত নাশকতার ঘটনায় এটিই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপ বলে মনে হচ্ছে।
অভিযোগে অভিযুক্তের পুরো নাম প্রকাশ করা হয়নি, কারণ এটি জার্মানির ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন মেনে চলতে হয়। অভিযোগপত্রে তাকে 'সেরহি কে.' নামে উল্লেখ করা হয়েছে। জার্মান গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অভিযুক্তের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল রাশিয়া থেকে জার্মানিতে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহকারী নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনে হামলা পরিকল্পনা, নেতৃত্ব এবং সমন্বয়ে। তবে অভিযুক্ত সেরহি কে. এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অভিযুক্তের আইনজীবী প্রতিষ্ঠান 'মেনাকার বার্লিন' জানিয়েছে, বুধবার তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। যদিও অভিযোগের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে জার্মানির রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরাও বার্তা সংস্থা এএফপিকে নিশ্চিত করেছেন যে, নর্ড স্ট্রিম বিস্ফোরণের ঘটনায় একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। জার্মানির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ডিডাব্লিউ দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এই অভিযুক্ত ব্যক্তি চারটি নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনের মধ্যে তিনটিতে বিস্ফোরণ ঘটানোর অভিযানে সাত সদস্যের একটি দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা, বিস্ফোরণ ঘটানো এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংসের অভিযোগ আনা হয়েছে। জার্মান গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত গ্রীষ্মে ইতালিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং পরে গত নভেম্বরে তাকে জার্মানির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর বাল্টিক সাগরের নিচে থাকা নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে, ফলে চারটি পাইপলাইনের মধ্যে তিনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই বিস্ফোরণের কারণে বিপুল পরিমাণ মিথেন গ্যাস বাল্টিক সাগরে ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত নর্ড স্ট্রিম অবকাঠামো কার্যত অচল হয়ে যায়। নর্ড স্ট্রিম–২ পাইপলাইন কখনো চালু না হলেও নর্ড স্ট্রিম–১-এর দুটি পাইপলাইন দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়া থেকে জার্মানিতে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করত। এই পাইপলাইনটি প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ছিল যা বাল্টিক সাগরের নিচ দিয়ে রাশিয়ার উপকূল থেকে জার্মানির উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর আগে নর্ড স্ট্রিম–২ প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত করে জার্মানি। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস কোম্পানি 'গ্যাজপ্রম' ছিল এই পাইপলাইনের শতভাগ মালিক। এর কয়েক মাস পর প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে রাশিয়া নর্ড স্ট্রিম–১-এর মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। পরে সেপ্টেম্বরে একাধিক পাইপলাইনে বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে।
এখন পর্যন্ত এই নাশকতার জন্য কেউ দায় স্বীকার করেনি। ইউক্রেন সরকারও অভিযোগ করেছে তারা এই হামলায় সম্পৃক্ত নয়। তবে এই মামলার বিচার জার্মানি এবং ইউক্রেনের সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে কারণ ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি ইউক্রেনকে সবচেয়ে বেশি সামরিক সহায়তা প্রদান করে। বিস্ফোরণের ঘটনায় পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার দিকে আঙুল তোলে, অন্যদিকে মস্কো যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যকে দায়ী করে। তবে তদন্তে সরাসরি জড়িত থাকা রাষ্ট্রের প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইউক্রেনের অনেক মানুষের মধ্যে নর্ড স্ট্রিম ধ্বংসের ঘটনাকে ইতিবাচকভাবে দেখার প্রবণতা রয়েছে। তাদের মতানুসারে, এর ফলে রাশিয়ার অতি গুরুত্বপূর্ণ আয়ের একটি উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই জার্মানির এই মামলার বিচার নিয়ে ইউক্রেনে আলোচনা সমালোচনা চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ