ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাগেরহাটের সেই ইকনের সংগ্রামের পেছনের গল্প


বাগেরহাটের সেই ইকনের সংগ্রামের পেছনের গল্প

 

বাগেরহাটের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকনের জীবন সংগ্রামের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু করেছে। বাবার দাফন করার পর রাতে এটিএম বুথে তার ডিউটি এবং পরদিন সকালে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ঘটনা অনেকের হৃদয়ে ছুঁয়েছে। তবে ভাইরাল হওয়ার পর তার জীবন সংগ্রাম সম্পর্কে উঠে এসেছে অন্যান্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

ইকনের বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে এবং মামার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইকন শহরের রেলরোড এলাকায় কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে খণ্ডকালীন দায়িত্ব পালন করেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বা সহকর্মীরা কখনোই পরীক্ষার আগের রাতে তাকে ডিউটি করতে বাধ্য করেননি। বরঞ্চ তিনি নিজের ইচ্ছায় দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বুথের শান্ত পরিবেশে বসে পরীক্ষার প্রস্তুতির কাজ চালিয়ে গেছেন।

আরও পড়ুন: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে খড়বোঝাই গাড়িতে অগ্নিকাণ্ড

জানা গেছে, পরিবারের চরম আর্থিক সংকটের কারণে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার বই পর্যন্ত কিনতে পারেননি ইকন। শুরুতে মোবাইল ফোনে পিডিএফ ডাউনলোড করে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। পরবর্তীতে এক সহপাঠীর কাছ থেকে বই ধার নিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়াদি প্রস্তুতি করছিলেন।

ইকনের বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া মোটরসাইকেল চালিয়ে পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করতেন। বড় ভাই একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন এবং সংসারের দায়িত্ব অনেকটাই এসে পড়ে ইকনের কাঁধে। পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন চাকরি করে তিনি পরিবারের ব্যয়ভার বহন করে আসছিলেন।

এরইমধ্যে বাবার মৃত্যু তার জীবনে নতুন সংকট তৈরি করেছে। কিন্তু এই তরুণ এত প্রতিকূলতার মধ্যেও ভেঙে পড়েননি। তিনি নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন আঁকড়ে ধরে পরীক্ষার প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছেন। পরিবার ও স্বজনরা জানান, ইকনের ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল একজন জজ অথবা ব্যারিস্টার হওয়ার। অর্থনৈতিক সংকট এবং পারিবারিক দুর্ভোগও তার সেই স্বপ্নকে ম্লান করতে পারেনি।

স্থানীয়দের মতে, ইকনের এই সংগ্রাম কেবল একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত গল্প নয়; এটি হাজারো সংগ্রামী শিক্ষার্থীর বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। তারা বলেন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদানকারী সংস্থাগুলো এগিয়ে এলে ইকনের মতো মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন: খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে একই স্থানে ২ দুর্ঘটনায় ৫ প্রাণহানি

স্থানীয়রা ইকনের উচ্চশিক্ষা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা এবং তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘প্যান অ্যাম’ বিমানের ধ্বংসাবশেষ ৭৪ বছর পর বিমান নিরাপত্তায় মোড় ঘোরালো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২২ এম


‘প্যান অ্যাম’ বিমানের ধ্বংসাবশেষ ৭৪ বছর পর বিমান নিরাপত্তায় মোড় ঘোরালো

৭৪ বছর পর আটলান্টিক মহাসাগরে বিধ্বস্ত প্যান আমেরিকান এয়ারওয়েজের একটি যাত্রীবাহী বিমানের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেয়েছেন গবেষকেরা।

এই দুর্ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক বিমানে উড্ডয়নের আগে যাত্রীদের জন্য নিরাপত্তা নির্দেশনা দেওয়ার নিয়ম চালু হয়।

তাহলে আবিষ্কারটি বিমান চলাচলের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গবেষকেরা জানান, সোনার প্রযুক্তি সমৃদ্ধ পানির নিচে চলাচলকারী ড্রোনের সাহায্যে পুয়ের্তো রিকোর উপকূলের কাছে সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রায় দুই হাজার ফুট বা ৬১০ মিটার নিচে ক্লিপার এনডেভার নামের বিমানের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। এটি প্যান আমেরিকান এয়ারওয়েজের ডগলাস ডিসি-৪ মডেলের বিমান, যা ১৯৫২ সালের ১১ এপ্রিল উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর একাধিক ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। পাইলট বাধ্য হয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করলে বিমানটি পানিতে আছড়ে পড়ার পর দ্রুত ডুবে যায়।

দুর্ঘটনার পর প্রথমে বিমানে থাকা সবার বেঁচে থাকার আশা ছিল। কিন্তু বিমানটি দ্রুত পানির নিচে তলিয়ে যেতে শুরু করলে যাত্রীরা লাইফ জ্যাকেট ও লাইফ ভেলা খুঁজে পেতে হিমশিম খেতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত বিমানে থাকা ৬৪ জন যাত্রী ও পাঁচজন ক্রু মিলিয়ে মোট ৬৯ জনের মধ্যে মাত্র ১৭ জন প্রাণে বাঁচেন।

অবশ্যই এই দুর্ঘটনার পরে বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়। এরপর থেকে প্রতিটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে উড্ডয়নের আগে যাত্রীদের নিরাপত্তা নির্দেশনা দেওয়া বাধ্যতামূলক করার নিয়ম চালু হয়। পাশাপাশি বিমানে উন্নতমানের ভাসমান নিরাপত্তা সরঞ্জাম রাখতে বলা হয় এবং যাত্রীদের তাদের ব্যবহার সম্পর্কে নির্দেশনা দেওয়াও অপরিহার্য হয়।

বর্তমানে পুরো বিশ্বের সকল বাণিজ্যিক ফ্লাইটেই কেবিন ক্রুরা উড্ডয়নের আগে যাত্রীদের জরুরি বের হওয়ার পথ, লাইফ জ্যাকেটের অবস্থান এবং তাদের ব্যবহার কীভাবে করতে হয়, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়।

ধ্বংসাবশেষের অনুসন্ধানের এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন এয়ার/সি হেরিটেজ ফাউন্ডেশন। তাদের সঙ্গে ছিল ডিসকভারি চ্যানেলের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান 'এক্সপেডিশন আননোন' এবং আরো কিছু প্রতিষ্ঠান। গত মাসে অনুসন্ধানকারী দল স্বয়ংক্রিয় সোনার ড্রোন ব্যবহার করে সমুদ্রের তলদেশে বিমানের মূল অংশ ও লেজ শনাক্ত করে। পরে সেগুলো বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া যায়, সেটি ক্লিপার এনডেভারের ধ্বংসাবশেষ।

এয়ার/সি হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের সভাপতি রাস ম্যাথিউস বলেন, "এই আবিষ্কার তাদের আনন্দিত করলেও, ৭৪ বছর আগে সেখানে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কথাও গভীরভাবে মনে পড়ে।" তিনি জানান, ২০১৯ সালে এই দুর্ঘটনা নিয়ে তার আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। তখন তিনি জানতে পারেন, দুর্ঘটনার পর বিমানের একটি লাগেজের ট্যাগ সাগরে ভেসে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা উপকূলে পৌঁছেছিল। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা মানুষের স্মৃতি থেকে প্রায় হারিয়ে গেছে দেখে তিনি বিস্মিত হন।

পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন সিভিল অ্যারোনটিক্স বোর্ডের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে কাজ শুরু করেন। গবেষকেরা পুয়ের্তো রিকোতে অনুষ্ঠিত একটি প্রকাশ্য শুনানির নথি খুঁজে পান। সেখানে দুর্ঘটনা প্রত্যক্ষকারী বিমানবাহিনীর পাইলটদের আঁকা একটি মানচিত্র ছিল, যা সন্ধানের এলাকা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গবেষকেরা ঐতিহাসিক নথি, দুর্ঘটনার সময়কার আবহাওয়ার তথ্য এবং অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশে ১০ বর্গ নটিক্যাল মাইলের একটি এলাকা চিহ্নিত করেন। তাদের ধারণা ছিল, ধ্বংসাবশেষ ওই এলাকাতেই রয়েছে। ২০২৪ সালে একবার অনুসন্ধান শুরু হলেও খারাপ আবহাওয়ার কারণে অভিযান বন্ধ করতে হয়, তবে গবেষকেরা হাল ছাড়েননি। দুর্ঘটনার ৭৫তম বার্ষিকীর আগে আবার অনুসন্ধানে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। অবশেষে চলতি বছরের ২ জুন অনুসন্ধান এলাকায় প্রথমবার ড্রোন উড়ানোর পর ধ্বংসাবশেষের অবস্থান শনাক্ত হয়। দেখা যায়, বিমানটি সমুদ্রের তলদেশে দুটি অংশে ভেঙে পড়ে আছে। পরে তোলা উচ্চমানের ছবিতে নিশ্চিত হওয়া যায়, সেটি ক্লিপার এনডেভারের ধ্বংসাবশেষ। ছবিতে বিমানের গায়ে থাকা প্যান অ্যামের লোগো এবং 'ক্লিপার এনডেভার' নাম এখনো স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

'এক্সপেডিশন আননোন' অনুষ্ঠানের উপস্থাপক জশ গেটস বলেন, "আজ মানুষ বিমানে ওঠার আগে যে নিরাপত্তা নির্দেশনা পান, তার পেছনে ক্লিপার এনডেভারের দুর্ঘটনার বড় ভূমিকা রয়েছে।" তার ভাষায়, ৭৫ বছর আগে ওই দুর্ঘটনায় যা ঘটেছিল, সেটিই আজকের বিমান ভ্রমণকে আরো নিরাপদ করেছে। তিনি আরো বলেন, ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়ার পুরো ঘটনাটি অনুসন্ধান জাহাজ থেকে সরাসরি দেখার সুযোগ তার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার সমুদ্রে নিখোঁজ হওয়া অন্য বিমানগুলোর সন্ধান পাওয়ার ক্ষেত্রেও নতুন আশা তৈরি করবে। এর মধ্যে রয়েছে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট এমএইচ৩৭০। ২০১৪ সালে ২৬৯ জন আরোহী নিয়ে বিমানটি নিখোঁজ হয়। ভারত মহাসাগরে বহুবার অনুসন্ধান চালানো হলেও এখন পর্যন্ত এর ধ্বংসাবশেষের অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

ক্লিপার এনডেভারের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়ার পুরো অভিযান নিয়ে 'এক্সপেডিশন আননোন' অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ পর্ব আগামী শরৎকালে প্রচারিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণভোটের বিরুদ্ধে গিয়ে বিএনপি শেখ হাসিনার সংবিধান বাস্তবায়নে কাজ করছে: নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৪ এম


গণভোটের বিরুদ্ধে গিয়ে বিএনপি শেখ হাসিনার সংবিধান বাস্তবায়নে কাজ করছে: নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী মন্তব্য করেছেন যে, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের দাবির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিএনপি শেখ হাসিনার সংবিধান বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে কুড়িগ্রাম শহরে অনুষ্ঠিত ‘‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণের পদযাত্রা’’ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা এনসিপি আয়োজিত সমাবেশে এই কথা বলেছেন।

নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী আরও বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে জীবনের খুনিদের টাকার বিনিময়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা ছাড়িয়ে নিচ্ছেন। খুনিদের রক্ষার জন্য তারা ট্রাইব্যুনালে নিজেদের পছন্দের লোক বসিয়েছে। ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং এমনকি মসজিদ কমিটিও তারা দখলে নিয়েছে।

তিনি এ নিয়ে বলেন, ‘‘আমরা বলেছিলাম, আবু সাইদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া হবে না।’’ কিন্তু, তারা আবু সাইদের স্বপ্ন ভঙ্গ করে দিয়েছে।

বিএনপির সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের দাবির বিপরীতে তারা শেখ হাসিনার সংবিধান, মুজিববাদী সংবিধান এবং ভারতীয় স্বার্থ বাস্তবায়নে কাজ করছে। ২০০ আসন পেয়ে বিএনপির পাখনা গজিয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘‘আমরা বলতে চাই, বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হলে সেই পাখনা ভেঙে মাটিতে পড়বে।’’

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেছেন, এই সরকারের আমলে বাজেট ঢাকা থেকে বগুড়া পর্যন্ত আসে, কিন্তু রংপুরে আসে না।

উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ‘‘এই দূর্দশাগ্রস্ত জেলাটাকে গড়তে চাই।’’ তিনি উল্লেখ করেছেন, আওয়ামীলীগের আমলে বাজেট বগুড়া পার হতো না, বিএনপির আমলে বাজেট ঢাকা থেকে বগুড়া আসে কিন্তু রংপুরে আসে না। কুড়িগ্রাম তো দূরের কথা।

ক্ষমতাসীন দলের জন্য তীব্র সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, ‘‘সীমান্তবর্তী প্রত্যেকটি জেলায় মাদকের ছড়াছড়ি করা হয়।’’ তিনি বলেন, ‘‘এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের চেষ্টা করা হচ্ছে।’’ বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন দিনের বেলায় মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলেন এবং রাতে তাদের ৫-১০ জন নেতা মাদকের লাভের ভাগের টাকা গ্রহণ করে।

সমাবেশে এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আকতার হোসেন বলেন, ‘‘বিএনপিও কিন্তু ২৪ এর আগে রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলেছিল।’’ তবে দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, ক্ষমতায় আসার পর তারা আর সংস্কার চাননি। আগে যেভাবে হাসিনা দেশ চালিয়েছিল, তারাও সেই ফায়দাটাই নিতে চায়।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ।

জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও মিডিয়া সেল প্রধান রাশেদুজ্জামান তাওহীদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান জুয়েল, সদস্য সচিব মাসুম মিয়া এবং জেলা, উপজেলা পর্যায়ের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এর আগে শহরের কলেজ মোড়স্থ স্বাধীনতার বিজয়স্তম্ভ চত্বর থেকে ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণের পদযাত্রা’ শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রাইেভেট পড়তে গিয়ে শিক্ষিকার বাবা হাতে ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩২ এম


প্রাইেভেট পড়তে গিয়ে শিক্ষিকার বাবা হাতে ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী (১৩) প্রাইভেট পড়তে গিয়ে স্কুলছাত্রী হিসেবে শিক্ষিকার বাবার হাতে ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) রাতে চরজব্বর থানায় ভুক্তভোগী স্কুল ছাত্রীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এ মামলা করেন। এর আগে, একই দিন সকালে উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নে এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক কামালকে গণধোলাইয়ের পর পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।

অভিযুক্ত কামাল উদ্দিন, যিনি সিএনজি কামাল নামেও পরিচিত (৫৫), উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইলিয়াছ সওদাগরের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকালে ভিকটিম তাঁর শিক্ষিকার বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে যায়। ছাত্রী শিক্ষিকার ঘরে গিয়ে দেখতে পায় যে তিনি ঘরে নেই। এসময় শিক্ষিকার বাবা সিএনজিচালক কামাল উদ্দিন দরজা খুলে ছাত্রীকে ঘরে ডেকে নেন এবং এক সময় তাকে ধর্ষণ করেন। পরে বিষয়টি কাউকেই না জানাতে ভিকটিমকে ৫০০ টাকা দিয়ে বিদায় করে দেন। ঘটনার পর ভুক্তভাগী শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরে এসে বিষয়টি স্বজনদের জানায়। ঘটনার পরপরই এলাকাবাসী সিএনজিচালক কামাল উদ্দিনকে আটক করে গণধোলাই শুরু করে এবং গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। এরপর পুলিশ খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান জানান, নির্যাতিত ছাত্রীর মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। সে মামলায় কামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে। শারীরিক ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তৃষ্ণায় ছটফট করলেও ছাত্রদল নেতাকে একফোঁটাও পানি দেয়নি খুনিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩৫ এম


তৃষ্ণায় ছটফট করলেও ছাত্রদল নেতাকে একফোঁটাও পানি দেয়নি খুনিরা

বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতার কারণে সাবেক ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার সময়কাল বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটার সময়ে সদর উপজেলার চালিতাবাড়ি এলাকায় ছিল।

নিহত আতিকুর রহমান সাগর মন্ডল (২৬) সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের পাঁচবারিয়া গ্রামের শাহাদাত মন্ডলের ছেলে এবং তিনি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন।

নিহত ব্যক্তির পরিবার এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে যে, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীদের সাথে সাগর মন্ডলের বিরোধ চলছিল। তিনি এবং তাঁর স্ত্রী মারজিয়া খাতুন উভয়ই চালিতাবাড়ি গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে বাস করতেন। বুধবার রাতের কিছু সময় আগে পরিবারের সদস্যরা ঘরে খাবার খাচ্ছিলেন। তখন সাগর বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

হঠাৎ বাইরে হইচই শুনে তার স্ত্রী মারজিয়া খাতুন ঘর থেকে বের হন। সেই মুহূর্তেই সাগরের চাচাতো ভাই জুলহাসসহ ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল টিনের গেট ভেঙে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে সাগরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে।

একপর্যায়ে সাগর পালানোর চেষ্টা করলে তিনি রাস্তায় পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়, কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্ত্রী মারজিয়া খাতুন বলেন, স্বামীকে বাঁচাতে চিৎকার শুরু করলে দুর্বৃত্তরা আমাকেও হুমকি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সাগরকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তখনও দুর্বৃত্তরা তাদের পিছু নেয় এবং ভয়ভীতি দেখায়। পরে প্রতিবেশীর বাড়ির গলি থেকে সাগরকে উদ্ধার করা হলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার প্রাণ হারানোর ঘটনা ঘটে।

নিহতের মা সাজেদা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে অত্যন্ত নির্মমভাবে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। আহত অবস্থায় আমার ছেলে পানির জন্য ছটফট করলেও খুনিরা তাকে একফোঁটা পানিও দেয়নি। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার ছেলে হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।

বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, রাতেই ঘটনাটি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব শত্রুতার কারণে সাগর মন্ডলকে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ শাপলা নামে এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নিহত সাগর মন্ডলের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা রয়েছে। ঘটনার গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করাসহ দ্রুত গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%