ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

টানা বৃষ্টিতে চরম ঝুঁকিতে লাখো রোহিঙ্গা


টানা বৃষ্টিতে চরম ঝুঁকিতে লাখো রোহিঙ্গা

বিশ্বের সর্ববৃহৎ রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পাহাড় ধসের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে লাখো মানুষের জীবন। পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা বসতিগুলো বর্ষার টানা ভারী বৃষ্টিতে দিন দিন আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রতিবছরই পাহাড় ধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় শিবিরবাসীদের মনে বৃষ্টি নামলেই বাড়ছে নতুন আতঙ্ক।

তবে স্থানীয় প্রশাসন এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয় জানাচ্ছে, পাহাড় ধসের ঝুঁকি কমাতে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং মেগাক্যাম্প বিশ্বের সবচেয়ে বড় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির হিসেবে পরিচিত। এই আশ্রয়শিবিরের ৪ নম্বর ক্যাম্পে পাহাড় কেটে খাড়া ঢালে গড়ে তোলা হয়েছে শত শত ঝুপড়ি ঘর। বর্ষার টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের বেলে মাটি নরম হয়ে ধসে পড়ছে। ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন স্থানে বালুভর্তি বস্তা ও ত্রিপল ব্যবহার করা হলেও পুরোপুরি ঠেকানো যাচ্ছে না মাটির ধস। ফলে প্রতিটি ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা, আর চরম জীবনঝুঁকি নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন রোহিঙ্গারা।

আরও পড়ুন: কাউখালীতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ৫ শতাধিক চারা বিতরণ ও রোপণ

ক্যাম্প-৪ এর বাসিন্দা মো. রফিক তাঁর আতঙ্কের কথা জানিয়ে বলেছেন, 'বৃষ্টি হলেই আমাদের বুকে কাঁপন ধরে, প্রচণ্ড ভয় লাগে। কারণ যেকোনো সময় ওপর থেকে পাহাড় ধসে পড়তে পারে। জীবন বাঁচাতে বৃষ্টির রাতে আমরা ঘুমাতে পারি না, সবাই জেগে থাকি।'

একই ক্যাম্পের বাসিন্দা সলিম উল্লাহ জানিয়েছেন, 'ভারী বৃষ্টি হলেই পাহাড় ধসে পড়ে। এটা প্রতিবছরই হয়ে আসছে। পাহাড়ের ওপর থাকি, ছেলে-মেয়েদের নিয়ে সবসময় মরণের ভয়ে থাকি।'

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু ৪ নম্বর ক্যাম্প নয়, উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মধ্যে অন্তত ৮টি ক্যাম্প পাহাড় ধসের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশ ও খাড়া ঢালজুড়ে গড়ে ওঠা অসংখ্য ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে বাস করছেন এক লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। বর্ষায় টানা ভারী বর্ষণ শুরু হওয়ায় তাঁদের উদ্বেগ এখন চরমে।

ক্যাম্প-৯ এর বাসিন্দা মরিয়ম খাতুন জানিয়েছেন, 'পাহাড়ের ওপর ঘর নির্মাণ করেছি। এখন পাহাড়ের ওপরেও ঘর, নিচেও ঘর। কোন সময় ওপরের ঘর ধসে নিচের ঘরের ওপর পড়বে, সেই ভয়ে থাকি।' একই ক্যাম্পের বাসিন্দা সিরাজ বলেছেন, 'আমাদের তো আর কোনো উপায় নেই। বৃষ্টি হলেই পাহাড় ধসের আশঙ্কায় দিন কাটে।'

আরও পড়ুন: ফেনীতে পিআইবি'র মাল্টিমিডিয়া, এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু

ক্যাম্প-১০ এর সি ব্লকের বাসিন্দা দিলদার বেগম বলেছেন, 'ক্যাম্পের জীবন আমাদের জন্য অনেক কষ্টের। পাহাড়ের পাদদেশে চরম ঝুঁকিতে বাস করতে হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে প্রতিবছরই পাহাড় ধসে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে এবং ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা খুবই ভয়ের মধ্যে আছি।'

একই ক্যাম্পের বাসিন্দা ছৈয়দ আলম উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, 'ক্যাম্পে তো জায়গা খুব কম, কিন্তু মানুষ অনেক বেশি। খুবই ঘনবসতি। এখন পাহাড়ের ঢালে না থেকে আমরা যাব কোথায়?'

ঘনবসতি ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানের কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে পাহাড় ধসের পাশাপাশি জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও বাড়ছে। এই মানবিক ঝুঁকি মোকাবিলায় দুর্যোগ প্রস্তুতি ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়াতে দাতা দেশ ও সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন সময় সংবাদকে বলেছেন, 'ক্যাম্পগুলো খুবই ঘনবসতিপূর্ণ এবং প্রতিনিয়ত জনসংখ্যা বাড়ছে। আমরা দেখছি অনেক মানুষ এমন জায়গায় বসবাস করছেন, যেখানে আসলে তাদের থাকা নিরাপদ নয়। কেউ পাহাড়ের বিপজ্জনক ঢালে থাকছেন, যেখানে ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে; আবার কেউ এমন নিচু এলাকায় থাকছেন, যা ভারী বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়ে যায়। এটি একটি বড় সমস্যা।'

আরও পড়ুন: দিরাই–জগন্নাথপুর সীমান্তে কামারখালী নদীর ব্রিজের পূর্বপাড় বেহাল, জনদুর্ভোগ চরমে

তিনি আরও বলেছেন, 'আমরা দুর্যোগের জন্য প্রস্তুতি, আগাম সতর্কবার্তা এবং ঝুঁকি কমানোর বিভিন্ন কাজ করছি। আমরা দাতা দেশ ও সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানাই, যেন তারা এসব উদ্যোগে সহায়তা অব্যাহত রাখে। শুধু জরুরি সাড়ার জন্য নয়, ঝুঁকি কমানো এবং দুর্যোগ প্রতিরোধে আগে থেকে বিনিয়োগ করা জরুরি। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে প্রাণহানি ও ক্ষতি দুটোই কমানো সম্ভব।'

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় জানিয়েছে, বর্ষার শুরু থেকেই ভূমিধসের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখার কাজ চলছে। প্রয়োজনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই প্রতিটি ক্যাম্পে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেছেন, 'ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোকে আমরা বিশেষ নজরদারিতে রেখেছি। ভারী বৃষ্টিপাত বেশি হলে বা পাহাড় ধসের লক্ষণ দেখা দিলে বাসিন্দাদের অস্থায়ী নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হবে। গত বছরও এ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে, এবারও তা করার জন্য আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা প্রস্তুত রয়েছে।'

আরও পড়ুন: পলো বাওয়া উৎসব আছে, কিন্তু নেই আগের মতো মাছ

উল্লেখ্য, গত ৮ বছরে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট পাহাড় ধসের পৃথক ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গার প্রাণহানি ঘটেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
সংসদে জামায়াতের উদ্দেশে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম

চার-পাঁচবার বিরোধী দলে থাকলে সমালোচনা শিখে যাবেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:১৯ পি.এম


চার-পাঁচবার বিরোধী দলে থাকলে সমালোচনা শিখে যাবেন

সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের প্রতি সমালোচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। বাজেটের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ঘাটতি বাজেটের তথ্য তুলে ধরেন।

মন্ত্রী বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেন, ‘যারা বাজেট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন, তাদের জন্য বলতে চাই, প্রথম বিরোধী দল হয়েছেন, অনেক জায়গায় সমালোচনা করতে ভুল করছেন। সরকারি দল এখনো হন নাই। আমার বিশ্বাস, আরো দুই-চার-পাঁচবার বিরোধী দলে থাকলে আস্তে আস্তে সমালোচনা করাটা বুঝে যাবেন। আমি ওই সমালোচনাকে খুব একটা আমলে নিচ্ছি না।’

শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘বাজেট নিয়ে আমি খুব সমালোচনা শুনিনি সংসদে। কিছু শঙ্কা শুনেছি। এই বাজেট নিয়ে কেউ নেতিবাচক কিছু বলেননি। কিছু আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সেটি হচ্ছে, রাজস্ব আয়ে ঘাটতি হতে পারে। রাজস্ব আয়ের ঘাটতি হবে না। কারণ ই-চালানের মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহ করা হবে। কর অব্যাহতি কমানো হবে।

তিনি আরও বলেন, রাজস্ব ফাঁকির ক্ষেত্রে চিহ্নিতকরণ করা হবে এবং ভ্যাট কাঠামোতে নতুন বিন্যাস করা হবে। অতএব, রাজস্ব ঘাটতি আমি দেখছি না। আর আমাদের রাজস্ব আহরণ কর অনুপাতে যদি বলেন, সেটা যদি হয় ৯ শতাংশের কাছাকাছি, নেপাল-ভুটানও ১৩-১৪ শতাংশ করে। আমাদের ওখানে যেতে হবে। সে জন্য অর্থমন্ত্রী চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। আমার বিশ্বাস, রাজস্ব আয়ে ঘাটতি হবে না। ব্যাংকের কথা বলা হয়েছে, ব্যাংক ঋণও কমেছে। ২৫-২৬ অর্থবছরে ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। এবার করা হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লেবাননে হামলা চালাল ইসরাইল, চুক্তির রূপরেখা নাকচ হিজবুল্লাহর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:১৯ পি.এম


লেবাননে হামলা চালাল ইসরাইল, চুক্তির রূপরেখা নাকচ হিজবুল্লাহর

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে স্বাক্ষরিত রূপরেখা চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।

শান্তিচুক্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল। শনিবার (২৭ জুন) স্থানীয় সময় নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে নেতানিয়াহু বাহিনী।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানায়, হামলার স্থান হল নিরাপত্তা অঞ্চলের বাইরে, যেটি নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল। ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, ড্রোন ব্যবহার করে এমন একজনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যাকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল, কারণ সেখানে স্থলসেনা নেই।

শনিবার এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ মহাসচিব নাঈম কাসেম চুক্তিটিকে ‘অবৈধ ও অকার্যকর’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের শর্ত অনুযায়ী লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি সেনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানান।

তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার বৈরুত ও তেল আবিবের মধ্যে চলমান পঞ্চম দফার আলোচনা শেষে ওয়াশিংটনে রূপরেখা চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই এই প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে হিজবুল্লাহ প্রধানের প্রকাশ্যে মন্তব্য করা হয়।

নাঈম কাসেম বলেন, ‘এই চুক্তি পুরোপুরি অবৈধ ও অকার্যকর। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকে দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা আবশ্যক।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, লেবাননের পুরো ভূখণ্ডে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে যুক্ত করা অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রস্তাব, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের পদক্ষেপ লেবাননকে শত্রু ইসরাইলের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণের অধীনে নিয়ে যেতে পারে।’

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে হওয়া চুক্তিকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর শনিবার (১৭ জুন) দেয়া ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে হওয়া এই ফ্রেমওয়ার্ক সমঝোতা দুই দেশের সংঘাতের অবসানের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও লেবানন দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে প্রয়োজন অনুযায়ী ইসরাইলের উপস্থিতি বজায় রাখার অধিকার স্বীকার করেছে।

নেতানিয়াহু বলেন, এই চুক্তি নিয়ে ইরান ও হিজবুল্লাহর হতাশা এবং সমালোচনাও শুনেছেন আপনারা। এই চুক্তির মাধ্যমে লেবানন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র মূলত স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে লেবাননে ইরান বা হিজবুল্লাহর মত সন্ত্রাসী সংগঠনের কোনো অবস্থান, কোনো সম্পৃক্ততা বা কোনো ভূমিকা নেই।

ওয়াশিংটন ডিসিতে স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ জুন) ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। স্বাক্ষরের কয়েক ঘণ্টা পরেই এ চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর।

চুক্তিতে ‘ধাপে ধাপে এগোনোর প্রক্রিয়া’ (সিকুয়েন্সড প্রোসেস)-এর কথা বলা হয়েছে, যার মাধ্যমে লেবানিজ সেনাবাহিনী ‘লেবাননের সমগ্র ভূখণ্ডে কার্যকর সার্বভৌম কর্তৃত্ব’ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে — তবে তা নির্ভর করবে অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর (স্পষ্টত হিজবুল্লাহ) যাচাইকৃত নিরস্ত্রীকরণের ওপর।

শুধুমাত্র তখনই ইসরাইল লেবানন থেকে ‘ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার’ করবে। এই চুক্তিতে প্রাথমিকভাবে দুটি ‘পাইলট জোন’-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের প্রথম ধাপে লেবানিজ সেনাবাহিনী ‘ধাপে ধাপে পূর্ণ ও কার্যকর নিরাপত্তা দায়িত্ব’ গ্রহণ করবে।

চুক্তির ভাষ্য অনুসারে, ‘এসব পাইলট জোনে অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সফল নিরস্ত্রীকরণ এবং তাদের অবকাঠামো ভেঙে দেওয়ার নিশ্চয়তা পাওয়ার পর লেবানিজ সেনাবাহিনী সেখানে পূর্ণ ও কার্যকর নিরাপত্তা দায়িত্ব গ্রহণ করবে, আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হবে এবং লেবানিজ নাগরিকরা লেবানিজ রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের একক নিয়ন্ত্রণে নিরাপদে সেসব এলাকায় ফিরে যেতে সক্ষম হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীর পৃথক ঘটনায় দুইজনের অস্বাভাবিক মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:২০ পি.এম


রাজধানীর পৃথক ঘটনায় দুইজনের অস্বাভাবিক মৃত্যু

রাজধানীর কামরাঙ্গীচরে নিজ বাসায় গলায় ফাঁস লেগে মো. রিহাদ (১১) নামে এক শিশুর মৃত্যু ঘটে। অন্যদিকে, হাজারীবাগে গণকটুলিতে সাগর (২১) নামের যুবক গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

গতকাল শনিবার রাতে কামরাঙ্গীচরে, বারান্দার গ্রিলের সঙ্গে রশি দ্বারা ফাঁস লাগিয়ে রিহাদ নামে শিশুর মৃত্যু হয়। পরে বাড়ির লোকজন তা দেখতে পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃতের মা হাসি বেগম দাবি করেছেন, খেলার ছলে গলায় ফাঁস লেগে রিহাদের মৃত্যু হয়েছে। পরে, মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনরা নিয়ে যান। কামরাঙ্গীরচরের বড়গ্রাম এলাকায় ওই শিশু পরিবারের সাথে বসবাস করছিল।

অন্যদিকে, রবিবার ভোরে হাজারীবাগের গণকটুলিতে সাগর নামের ওই যুবক গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, সাগর মাদকাসক্ত ছিলেন। মা হামিদার কাছে মাদকের টাকা না পেয়ে, বারান্দায় গ্রিলের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। বাড়ির লোকজন তাকে দেখতে পেয়ে ঢামেক হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সাগর গণকটুলি হালিম মিয়ার ও হামিদার ছেলে।

মরদেহ দুটি ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বোরোর ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আউশ চাষে আগ্রহ বাড়ছে মৌলভীবাজারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:২১ পি.এম


বোরোর ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আউশ চাষে আগ্রহ বাড়ছে মৌলভীবাজারে

মৌলভীবাজারে চলতি বোরো মৌসুমের মধ্যে আগাম ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে হওয়া ফসলের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে আউশ ধান চাষাবাদে মনোযোগী হয়েছেন জেলার কৃষকেরা। জেলার বিভিন্ন হাওড় পাড়সহ বিস্তীর্ণ স্থানে আউশ চারা রোপণের কাজ ইতিমধ্যে পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে। চাষিদের এই আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে আউশের আবাদ বাড়াতে বিভিন্ন প্রকারের কারিগরি ও প্রণোদনা সহায়তা প্রদান করছে জেলা কৃষি বিভাগ।

সরেজমিনে চলে আসা পরিস্থিতি নির্দেশ করে দেখা গেছে, চলতি বর্ষায় আবহাওয়া আউশ চাষাবাদের জন্য সম্পূর্ণ অনুকূলে থাকায় মাঠজুড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমি প্রস্তুত করা এবং হালি চারা রোপণের কর্মযজ্ঞে মুখর হয়ে উঠেছে ফসলের মাঠ।

স্থানীয় চাষি ও কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কিছুদিন আগে মৌলভীবাজার অঞ্চলে ব্যাপকভাবে আউশ ধানের চাষ হতো। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে প্রতিবছর ফসল নষ্ট হওয়ার ফলস্বরূপ কৃষকেরা আউশ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক বছরের বোরো মৌসুমে উপর্যুপরি লসের প্রতিকার হিসেবে এবং কৃষি বিভাগের বিশেষ উদ্যোগের ফলে আবারও আউশের সুদিন ফিরছে।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছরে জেলায় আউশ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৬৮৪ হেক্টর অতিরিক্ত জমিতে আউশের আবাদ হয়েছে। বৈরী কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে, হেক্টর প্রতি গড়ে ২ দশমিক ৮৮ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। পুরো জেলায় কমবেশি আউশের চাষ হলেও, সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে জুড়ী, বড়লেখা, কুলাউড়া, শ্রীমঙ্গল এবং কমলগঞ্জ উপজেলায়।

শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওড় পাড়ের উদনার পাড় গ্রামের আউশ চাষি নাছিমা আক্তার, মনছুর আলী, সুজন মিয়া ও জয়নাল সময় সংবাদকে বলেন, 'এ বছর আগাম পাহাড়ি ঢলে আমাদের বোরো ফসল পুরোটাই তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা একদম নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলাম। পরে কৃষি বিভাগ থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়ায় আমরা আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস পেয়েছি। এখন আবহাওয়া ভালো থাকায় দুই-তিন কিয়ার (বিঘা) জমিতে আউশ চারা রোপণ করছি। আশা করছি এবার ভালো ফলন পাব।'

কৃষিবিদ মো. সেলিম হোসেন আরও জানান, বোরো ফসলের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার চাষিদের মাঝে বিনামূল্যে উচ্চ ফলনশীল আউশ বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। সরকারি এই প্রণোদনা পাওয়ার ফলে প্রান্তিক চাষিরা দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে মাঠে নেমেছেন।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. জালাল উদ্দিন বলেন, 'চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ৩৮ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে আবাদ হলেও ঢলের কারণে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সেই ক্ষতি পুষিয়ে দিতে এবং চালের উৎপাদন বাড়াতে আমরা আউশ চাষে সর্বোচ্চ জোর দিয়েছি। আউশের আবাদ বাড়াতে মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা চাষিদের সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করে যাচ্ছেন।'

তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত আবহাওয়া সম্পূর্ণ অনুকূলে রয়েছে। যদি কোনো বড় ধরনের আগাম বন্যা বা বৈরী পরিবেশ সৃষ্টি না হয়, তবে চলতি মৌসুমে জেলায় আউশের বাম্পার ফলন হবে এবং লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১ লাখ ১১ হাজার ১০১ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন সম্ভব হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%