ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

লেবাননে হামলা চালাল ইসরাইল, চুক্তির রূপরেখা নাকচ হিজবুল্লাহর


লেবাননে হামলা চালাল ইসরাইল, চুক্তির রূপরেখা নাকচ হিজবুল্লাহর

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে স্বাক্ষরিত রূপরেখা চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।

শান্তিচুক্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল। শনিবার (২৭ জুন) স্থানীয় সময় নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে নেতানিয়াহু বাহিনী।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানায়, হামলার স্থান হল নিরাপত্তা অঞ্চলের বাইরে, যেটি নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল। ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, ড্রোন ব্যবহার করে এমন একজনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যাকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল, কারণ সেখানে স্থলসেনা নেই।

আরও পড়ুন: মেট্রোরেল প্রকল্পে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার কাজ পেল এলঅ্যান্ডটি

শনিবার এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ মহাসচিব নাঈম কাসেম চুক্তিটিকে ‘অবৈধ ও অকার্যকর’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের শর্ত অনুযায়ী লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি সেনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানান।

তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার বৈরুত ও তেল আবিবের মধ্যে চলমান পঞ্চম দফার আলোচনা শেষে ওয়াশিংটনে রূপরেখা চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই এই প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে হিজবুল্লাহ প্রধানের প্রকাশ্যে মন্তব্য করা হয়।

নাঈম কাসেম বলেন, ‘এই চুক্তি পুরোপুরি অবৈধ ও অকার্যকর। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকে দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা আবশ্যক।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, লেবাননের পুরো ভূখণ্ডে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে যুক্ত করা অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রস্তাব, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের পদক্ষেপ লেবাননকে শত্রু ইসরাইলের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণের অধীনে নিয়ে যেতে পারে।’

আরও পড়ুন: কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের জন্য ১০ দফা সুপারিশ দিল গ্রিন ভয়েসেস

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে হওয়া চুক্তিকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর শনিবার (১৭ জুন) দেয়া ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে হওয়া এই ফ্রেমওয়ার্ক সমঝোতা দুই দেশের সংঘাতের অবসানের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও লেবানন দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে প্রয়োজন অনুযায়ী ইসরাইলের উপস্থিতি বজায় রাখার অধিকার স্বীকার করেছে।

নেতানিয়াহু বলেন, এই চুক্তি নিয়ে ইরান ও হিজবুল্লাহর হতাশা এবং সমালোচনাও শুনেছেন আপনারা। এই চুক্তির মাধ্যমে লেবানন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র মূলত স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে লেবাননে ইরান বা হিজবুল্লাহর মত সন্ত্রাসী সংগঠনের কোনো অবস্থান, কোনো সম্পৃক্ততা বা কোনো ভূমিকা নেই।

ওয়াশিংটন ডিসিতে স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ জুন) ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। স্বাক্ষরের কয়েক ঘণ্টা পরেই এ চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর।

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের ১৪ নেতাকর্মী রিমান্ডে

চুক্তিতে ‘ধাপে ধাপে এগোনোর প্রক্রিয়া’ (সিকুয়েন্সড প্রোসেস)-এর কথা বলা হয়েছে, যার মাধ্যমে লেবানিজ সেনাবাহিনী ‘লেবাননের সমগ্র ভূখণ্ডে কার্যকর সার্বভৌম কর্তৃত্ব’ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে — তবে তা নির্ভর করবে অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর (স্পষ্টত হিজবুল্লাহ) যাচাইকৃত নিরস্ত্রীকরণের ওপর।

শুধুমাত্র তখনই ইসরাইল লেবানন থেকে ‘ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার’ করবে। এই চুক্তিতে প্রাথমিকভাবে দুটি ‘পাইলট জোন’-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের প্রথম ধাপে লেবানিজ সেনাবাহিনী ‘ধাপে ধাপে পূর্ণ ও কার্যকর নিরাপত্তা দায়িত্ব’ গ্রহণ করবে।

চুক্তির ভাষ্য অনুসারে, ‘এসব পাইলট জোনে অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সফল নিরস্ত্রীকরণ এবং তাদের অবকাঠামো ভেঙে দেওয়ার নিশ্চয়তা পাওয়ার পর লেবানিজ সেনাবাহিনী সেখানে পূর্ণ ও কার্যকর নিরাপত্তা দায়িত্ব গ্রহণ করবে, আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হবে এবং লেবানিজ নাগরিকরা লেবানিজ রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের একক নিয়ন্ত্রণে নিরাপদে সেসব এলাকায় ফিরে যেতে সক্ষম হবে।

আরও পড়ুন: বিজেপির দাবি, ‘পাকিস্তান কাশ্মীরিদের রক্ষা করছে’ মন্তব্যে ফারুক আবদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হোক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীর পৃথক ঘটনায় দুইজনের অস্বাভাবিক মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:২০ পি.এম


রাজধানীর পৃথক ঘটনায় দুইজনের অস্বাভাবিক মৃত্যু

রাজধানীর কামরাঙ্গীচরে নিজ বাসায় গলায় ফাঁস লেগে মো. রিহাদ (১১) নামে এক শিশুর মৃত্যু ঘটে। অন্যদিকে, হাজারীবাগে গণকটুলিতে সাগর (২১) নামের যুবক গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

গতকাল শনিবার রাতে কামরাঙ্গীচরে, বারান্দার গ্রিলের সঙ্গে রশি দ্বারা ফাঁস লাগিয়ে রিহাদ নামে শিশুর মৃত্যু হয়। পরে বাড়ির লোকজন তা দেখতে পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃতের মা হাসি বেগম দাবি করেছেন, খেলার ছলে গলায় ফাঁস লেগে রিহাদের মৃত্যু হয়েছে। পরে, মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনরা নিয়ে যান। কামরাঙ্গীরচরের বড়গ্রাম এলাকায় ওই শিশু পরিবারের সাথে বসবাস করছিল।

অন্যদিকে, রবিবার ভোরে হাজারীবাগের গণকটুলিতে সাগর নামের ওই যুবক গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, সাগর মাদকাসক্ত ছিলেন। মা হামিদার কাছে মাদকের টাকা না পেয়ে, বারান্দায় গ্রিলের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। বাড়ির লোকজন তাকে দেখতে পেয়ে ঢামেক হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সাগর গণকটুলি হালিম মিয়ার ও হামিদার ছেলে।

মরদেহ দুটি ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বোরোর ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আউশ চাষে আগ্রহ বাড়ছে মৌলভীবাজারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:২১ পি.এম


বোরোর ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আউশ চাষে আগ্রহ বাড়ছে মৌলভীবাজারে

মৌলভীবাজারে চলতি বোরো মৌসুমের মধ্যে আগাম ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে হওয়া ফসলের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে আউশ ধান চাষাবাদে মনোযোগী হয়েছেন জেলার কৃষকেরা। জেলার বিভিন্ন হাওড় পাড়সহ বিস্তীর্ণ স্থানে আউশ চারা রোপণের কাজ ইতিমধ্যে পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে। চাষিদের এই আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে আউশের আবাদ বাড়াতে বিভিন্ন প্রকারের কারিগরি ও প্রণোদনা সহায়তা প্রদান করছে জেলা কৃষি বিভাগ।

সরেজমিনে চলে আসা পরিস্থিতি নির্দেশ করে দেখা গেছে, চলতি বর্ষায় আবহাওয়া আউশ চাষাবাদের জন্য সম্পূর্ণ অনুকূলে থাকায় মাঠজুড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমি প্রস্তুত করা এবং হালি চারা রোপণের কর্মযজ্ঞে মুখর হয়ে উঠেছে ফসলের মাঠ।

স্থানীয় চাষি ও কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কিছুদিন আগে মৌলভীবাজার অঞ্চলে ব্যাপকভাবে আউশ ধানের চাষ হতো। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে প্রতিবছর ফসল নষ্ট হওয়ার ফলস্বরূপ কৃষকেরা আউশ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক বছরের বোরো মৌসুমে উপর্যুপরি লসের প্রতিকার হিসেবে এবং কৃষি বিভাগের বিশেষ উদ্যোগের ফলে আবারও আউশের সুদিন ফিরছে।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছরে জেলায় আউশ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৬৮৪ হেক্টর অতিরিক্ত জমিতে আউশের আবাদ হয়েছে। বৈরী কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে, হেক্টর প্রতি গড়ে ২ দশমিক ৮৮ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। পুরো জেলায় কমবেশি আউশের চাষ হলেও, সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে জুড়ী, বড়লেখা, কুলাউড়া, শ্রীমঙ্গল এবং কমলগঞ্জ উপজেলায়।

শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওড় পাড়ের উদনার পাড় গ্রামের আউশ চাষি নাছিমা আক্তার, মনছুর আলী, সুজন মিয়া ও জয়নাল সময় সংবাদকে বলেন, 'এ বছর আগাম পাহাড়ি ঢলে আমাদের বোরো ফসল পুরোটাই তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা একদম নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলাম। পরে কৃষি বিভাগ থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়ায় আমরা আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস পেয়েছি। এখন আবহাওয়া ভালো থাকায় দুই-তিন কিয়ার (বিঘা) জমিতে আউশ চারা রোপণ করছি। আশা করছি এবার ভালো ফলন পাব।'

কৃষিবিদ মো. সেলিম হোসেন আরও জানান, বোরো ফসলের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার চাষিদের মাঝে বিনামূল্যে উচ্চ ফলনশীল আউশ বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। সরকারি এই প্রণোদনা পাওয়ার ফলে প্রান্তিক চাষিরা দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে মাঠে নেমেছেন।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. জালাল উদ্দিন বলেন, 'চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ৩৮ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে আবাদ হলেও ঢলের কারণে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সেই ক্ষতি পুষিয়ে দিতে এবং চালের উৎপাদন বাড়াতে আমরা আউশ চাষে সর্বোচ্চ জোর দিয়েছি। আউশের আবাদ বাড়াতে মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা চাষিদের সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করে যাচ্ছেন।'

তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত আবহাওয়া সম্পূর্ণ অনুকূলে রয়েছে। যদি কোনো বড় ধরনের আগাম বন্যা বা বৈরী পরিবেশ সৃষ্টি না হয়, তবে চলতি মৌসুমে জেলায় আউশের বাম্পার ফলন হবে এবং লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১ লাখ ১১ হাজার ১০১ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন সম্ভব হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পঞ্চগড়ে ১৫ দিনব্যাপী কম্পিউটার প্রশিক্ষণ শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:২১ পি.এম


পঞ্চগড়ে ১৫ দিনব্যাপী কম্পিউটার প্রশিক্ষণ শুরু

পঞ্চগড়ে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ১৫ দিনব্যাপী বেসিক কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন ট্রেনিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

রবিবার দুপুরে শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাবে এই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভিন।

জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের এই প্রশিক্ষণে ২৫ জন অংশ নিচ্ছেন। সমাজসেবা অধিদপ্তর জানায়, প্রশিক্ষণে জেলার ৫ উপজেলার অন্তর্ভুক্ত অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর তরুণ তরুণীরা অংশ নিতে আসছেন। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এটির জন্য প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক অনিল চন্দ্র বর্মণ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী পরিচালক গোলাম ফারুক, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার লায়লা আরজুমান, শহর সমাজসেবা অফিসার ওয়ালিউল হকসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে তাজিয়া শোভাযাত্রাকে ঘিরে ১৫ হাজার মানুষকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:২২ পি.এম


ভারতে তাজিয়া শোভাযাত্রাকে ঘিরে ১৫ হাজার মানুষকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

ভারতের বাণিজ্যিক নগরী মুম্বাইয়ে পবিত্র আশুরার তাজিয়া মিছিলে অংশ নেওয়া হাজার হাজার মানুষকে বিষাক্ত ক্যাপসুল খাইয়ে একযোগে হত্যার ভয়াবহ পরিকল্পনা নস্যাৎ করেছে দেশটির পুলিশ।

শুক্রবার (২৬ জুন) তাজিয়া মিছিলের অন্তর্ভুক্ত সাধারণ মানুষের মাঝে বিষাক্ত ক্যাপসুল বিলি করার সময় ফাইয়াজ প্রেমজি নামের এক যুবককে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে আটক যুবক স্বীকার করে যে, মিছিলে উপস্থিত অন্তত ১৫ হাজার মানুষকে বিষপ্রয়োগ করে মেরে ফেলার জন্য তার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল।

মুম্বাই পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার তাজিয়া মিছিল চলাকালীন ফাইয়াজের দেওয়া ওই ক্যাপসুল সেবন করে মুহূর্তের মধ্যেই অন্তত ডজনখানেক মানুষ মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা যায়, ওই ক্যাপসুলগুলোর ভেতরে জিঙ্ক ফসফাইড নামক অত্যন্ত প্রাণঘাতী রাসায়নিকের উপস্থিতি ছিল। সাধারণত, এই রাসায়নিকটি ইঁদুর মারার বিষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আটক ফাইয়াজকে শনিবার (২৭ জুন) স্থানীয় আদালতে হাজির করার পর বিচারক তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্তকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রয়ে রোডের রেহমতাবাদ কবরস্থানের নিকটবর্তী আশুরার মূল শোভাযাত্রায় ফাইয়াজ ওই বিষাক্ত ক্যাপসুলগুলো বিলি করছিল। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য সে ওই মরণঘাতী ক্যাপসুলগুলোকে বিভিন্ন ধরনের ব্যথানাশক এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধিকারী ওষুধ হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা চালাচ্ছিল। ফাইয়াজের এই ধোঁকাবাজিতে পড়ে অন্তত ১১ জন মানুষ সেই ক্যাপসুল সঙ্গে সঙ্গে খেয়ে মারাত্মক পেটের ব্যথা ও বমির সমস্যায় আক্রান্ত হন। তাদের সবাইকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও বর্তমানে তারা সবাই আশঙ্কামুক্ত বলেই চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

মুম্বাই পুলিশের উপকমিশনার জয়ন্ত মীনা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দ্রুত অভিযান চালিয়ে পুলিশ অভিযুক্ত ফাইয়াজের কাছ থেকে অন্তত ১৪ হাজার ৯০০টি বিষাক্ত ক্যাপসুল জব্দ করেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে আটক করার পূর্বেই সে মিছিলে বেশ কিছু ক্যাপসুল বিলি করতে সক্ষম হয়েছিল। পুলিশ আরও জানতে পেরেছে যে, এই চক্রান্তকে আরও বড় আকার দিতে ফাইয়াজ ইতিমধ্যে বাজার থেকে আরও ৩০ হাজার খালি ক্যাপসুল এবং ৫০ কেজি ফসফরাস কেনার জন্য অগ্রিম অর্ডার দিয়ে রেখেছিল।

মুম্বাইয়ের বাইকুল্লা থানা পুলিশ আরও জানিয়েছে, ওই দিন তাজিয়া মিছিলে অংশ নেওয়া তিন নারী স্বেচ্ছাসেবকের তৎপরতার কারণেই মূলত এই ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ওই তিন নারীর একজন প্রথমে ফাইয়াজকে সন্দেহজনকভাবে ওষুধ বিতরণ করতে দেখেন এবং দ্রুত তাকে বাধা দিয়ে স্থানীয় পুলিশকে খবর দেন। একই সঙ্গে তারা মুহূর্তের মধ্যে লাউডস্পিকারে মাইকিং করে শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া হাজার হাজার মানুষকে ওই বিতরণ করা ক্যাপসুল না খাওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধী ফাইয়াজ প্রেমজি স্বীকার করে বলেন, ‘আমি অন্তত ১৫ হাজার মানুষকে হত্যা করতে চেয়েছিলাম।’ এই চক্রান্তের কারণে তার বিরুদ্ধে বাইকুল্লা থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৩ ধারায় একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা রুজু করা হয়েছে, যা বিষ বা অনুরূপ উপায়ে মানুষের ক্ষতি করার অপরাধে শাস্তিযোগ্য। আটক এই মূল পরিকল্পনাকারীর পেছনে কোনো নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠনের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, জিঙ্ক ফসফাইড মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক ও মারাত্মক একটি বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ। এটি কোনোভাবে মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে তা পাকস্থলীর অ্যাসিডের সঙ্গে তীব্র বিক্রিয়া ঘটিয়ে ফসফিন নামক এক ধরনের অত্যন্ত প্রাণঘাতী বিষাক্ত গ্যাস উৎপন্ন করে। এই ক্ষতিকর গ্যাসটি সরাসরি মানুষের হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, যকৃত, কিডনি এবং মস্তিষ্ককে চিরতরে বিকল বা ক্ষতিগ্রস্ত করে তোলে। এই বিষের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো এর সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক নেই এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে কেবল লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসার মাধ্যমেই বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%