০২:২০ পি.এম
বদলি ও পদায়নের কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নীলুফার সুলতানাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
রোববার (২১ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মুহাম্মদ আবদুল্যাহ আল জাবেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। গত ১৮ জুন প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নীলুফার সুলতানার বিরুদ্ধে রমনার থানার এক মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক প্রমাণাদি পাওয়া গেছে। এর পরবর্তী সময়ে, ডিএমপি ডিবি থেকে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আবেদন করা হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখা থেকে ২২ মে মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তারের অনুমতি দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
এছাড়া, প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে পুলিশ নীলুফার সুলতানাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেয়। রিমান্ড মিটে গেলে তাকে আদালতে পাঠানো হয় এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী, নীলুফার সুলতানাকে গ্রেপ্তারের তারিখ অর্থাৎ ২২ মে থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালীন তিনি বিধি মোতাবেক খোরপোষ ভাতা পাবেন।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ নীলুফার সুলতানাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত আরেকজন হলেন এম আমিনুর রহমান শান্ত।
গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলনে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ডিএমপি কমিশনার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ প্রদান করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ব্যবহার করে একটি চক্র সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদায়ন ও পদোন্নতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা করছে। একসাথে, বিভিন্ন ব্যক্তি ও রাজনৈতিক মহলের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ কমিটি ও পদ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে, ২১ মে রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে রাজধানীর পশ্চিম রামপুরা এলাকা থেকে এম আনিসুর রহমান শান্ত নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
জিজ্ঞাসাবাদে শান্ত প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে, তার হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা বিশ্লেষণ করে চক্রের আরেক সদস্য নীলুফার সুলতানার তথ্য পাওয়া যায়, যিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মরত।
ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আরও জানান, অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে বদলি ও পদায়ন নিয়ে কথোপকথন, বায়োডাটা সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য বদলি আদেশের কপি আদান-প্রদানের তথ্যে পাওয়া গেছে।
শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রায় ২০ থেকে ২২ পৃষ্ঠার বিভিন্ন কথোপকথনের তথ্য পেয়েছি। সেখানে দেখা গেছে তারা একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং কোথায় পদায়ন করে দিলে কত টাকা দেওয়া হবে এ ধরনের কথাবার্তাও রয়েছে।
যাই হোক, এখন পর্যন্ত কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তিনি আরও যোগ করেন, ডিভাইসগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। তদন্তে যেই জড়িত থাকুক না কেন, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন