০৩:২৫ পি.এম
সংকটের আগমন যে অনিবার্য, তা পূর্বেই উপলব্ধি করেছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক। দিল্লির মাটিতে পা রাখার পূর্বে যে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, সে বিষয়ে তার সুস্পষ্ট ধারণা ছিল। এছাড়া, শীর্ষ নেতৃত্ব যদি আটক হন, তবে আন্দোলনের নেতৃত্ব কে দেবেন, সেই বিষয়েও তিনি পূর্ব পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে প্লেন থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ অভিজিৎ দীপক, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রানাকে আটক করে। কিন্তু তার আগেই একটি পূর্ব রেকর্ড করা ভিডিও সিজেপির এক্স (টুইটার) হ্যান্ডলে প্রকাশিত হয়।
ওই ভিডিও বার্তায় দীপক ঘোষণা করেন, শীর্ষ নেতৃত্ব অনুপস্থিত থাকলে সিজেপির এই আন্দোলন ও বিক্ষোভের পরবর্তী নেতৃত্ব দেবেন দলের অর্গানাইজেশন ইন-চার্জ অজিঙ্কা শিন্ডে।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে সেনা-নৌবহর বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরানে হামলার ইঙ্গিত
ভিডিওতে দীপককে বলতে শোনা যায়, ‘আপনারা যদি এই ভিডিওটি দেখে থাকেন, তার মানে হলো—আমি, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রানা গ্রেপ্তার হয়েছি। আমাদের অনুপস্থিতিতে অজিঙ্কা এই প্রতিবাদ ও সিজেপি আন্দোলনকে নেতৃত্ব দেবে। দয়া করে সবাই তাকে অনুসরণ করবেন।’
কে এই অজিঙ্কা শিন্ডে?
মহারাষ্ট্রের আলিব্যাগ শহরের বাসিন্দা অজিঙ্কা শিন্ডে দীর্ঘ সময় ধরে অভিজিৎ দীপকের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে কাজ করছেন। এর আগে তিনি আম আদমি পার্টি (আপ)-এর মহারাষ্ট্র টিমের সোশ্যাল মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৬ সালে গোয়াতে প্রথম অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে।
অজিত শিন্ডে তার কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে পুরোদমে ‘আপ’-এর জন্য কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আম আদমি পার্টিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি এক বছর গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে সময় দেন।
আরও পড়ুন: প্যারিসের গুলির ঘটনাকে ‘বর্ণবাদী সন্ত্রাসী’ হামলা বললেন মাখোঁ
যদিও সেই নির্বাচনে দলটি কোনো আসন জিততে পারেনি, তথাপি অজিঙ্কা দলটির প্রতি অবিচল থেকে পরবর্তীতে ‘আপ’-এর মহারাষ্ট্র ইউনিটের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। এই সুবাদে তিনি মহারাষ্ট্রের প্রতিটি জেলা সফর করেছেন বলে জানা যায়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত সিজেপির এই বিক্ষোভের জন্য যথাযথ সময়ে অনুমতি না নেওয়ার কারণে দিল্লি পুলিশ অনুমতি দেয়নি। এর মধ্যে শনিবার সকালে মুম্বাই থেকে আসা বিমান থেকে দীপক, দাস ও রানাকে আটকের পাশাপাশি রাজধানীজুড়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয় পুলিশ।
এর আগে গত ৮ অক্টোবর ব্যাঙ্গালুরুর সিজেপি বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এবং নরেন্দ্র মোদি সরকারের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও শনিবার সকালে গুরুগ্রামের বাসা থেকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। এছাড়া যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করা বিক্ষোভকারীদের চত্বর থেকে জোর করে ধরে নিয়ে দিল্লির ছাত্রশাল স্টেডিয়ামে আটকে রাখা হয়।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলার সময় জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন