বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৩:৩৯ পি.এম
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিকিম রাজ্যে নির্মাণাধীন একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে আরো সাতটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর ফলে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২ জনে দাঁড়িয়েছে বলে বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) রাজ্য সরকার জানিয়েছে।
সোমবার সামারদুং গ্রামের তিস্তা নদীর ওপর রাষ্ট্রায়ত্ত ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার করপোরেশন (এনএইচপিসি)-এর নির্মাণাধীন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর আগে উদ্ধারকারীরা ১৩ এবং পরে ২০ জনের নিহত হওয়ার খবর দিয়েছিল।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, সুড়ঙ্গের ভেতরে শিলার মধ্যে আটকে থাকা বা সেখান থেকে নির্গত মিথেন গ্যাসের কারণে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর সুড়ঙ্গটি ঘন ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাসে ভরে যায়, ফলে এনএইচপিসির ২৫ জন কর্মী ও কর্মকর্তা সেখানে আটকা পড়েন।
সিকিম রাজ্য সরকার এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছে, ‘উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে। বিশেষজ্ঞ দলগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে বাকি নিখোঁজদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।’ কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়েছিল, সুড়ঙ্গে আটকে পড়াদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম।
সপ্তাহের শুরুতে কর্মকর্তারা জানান, সুড়ঙ্গের ভেতরে জমে থাকা কাদা ও পানি এবং সম্ভাব্য গ্যাস লিকের কারণে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে এনএইচপিসি বুধবার ঘোষণা করেছে, এই দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ লাখ ভারতীয় রুপি (প্রায় ৫১৭৮ মার্কিন ডলার) আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভেনেজুয়েলায় গত মাসে আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পের পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫ হাজার ৩৯৮ জনে পৌঁছেছে। সরকারি সর্বশেষ হিসাবে বুধবার এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
২৪ জুন আঘাত হানা ভূমিকম্প দুটির মাত্রা যথাক্রমে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ ছিল। ভূমিকম্পটি দেশটির উত্তর উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির কারণ হয়। সেখানে বেশ কয়েকশত ভবন ধসে পড়েছে।
এএফপি বার্তা সংস্থার মাধ্যমে কারাকাস থেকে এ খবর জানা গেছে। ভেনেজুয়েলার আইনসভার প্রধান হোর্হে রড্রিগেজ দৈনিক বুলেটিনে জানান, আগের দিনের তুলনায় মৃতের সংখ্যা ৫২ জন বেড়ে বর্তমানে ৫ হাজার ৩৯৮ জন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আহতের সংখ্যা ১৬ হাজার ৭৪০ জন রয়েছে।
এখনও কতজন নিখোঁজ রয়েছে, সে বিষয়ে কারাকাস কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ধারণায়, এখনও কয়েক হাজার মানুষের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ধ্বংসস্তূপের নিচে স্বজনদের মরদেহের খোঁজে উদ্ধার অভিযান এখনও পরিচালিত হচ্ছে। তবে, এক মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর কার্যক্রমটি বর্তমানে ধীরে ধীরে ভূমিকম্প-পরবর্তী মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠন কার্যক্রমের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ভূমিকম্পে বাস্তুচ্যুতদের জন্য ৪ হাজার ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। চলমান গৃহহীনদের মধ্যে আনুমানিক ২৩ হাজার মানুষও রয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১০ হাজার ঘর নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পুনর্গঠন কার্যক্রমের জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সংরক্ষিত তহবিল থেকে প্রায় ৩৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার ছাড় করেছে।
ভেনেজুয়েলার এককক্ষবিশিষ্ট জাতীয় পরিষদ আবাসন নির্মাণকে নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুনর্গঠন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কয়েকটি সংস্কারও অনুমোদন করেছে।
ভূমিকম্পের পর গত এক মাসে মোট ১ হাজার ৪০৫টি আফটারশকও রেকর্ড করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিলিস্তিনের হামাস সদস্যদের জন্য ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত একটি কারাগারে বিশেষ জেলখানার চারপাশে কুমির রাখার উদ্দেশ্যে পরিখা বা খাল খনন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদনে বুধবার (২২ জুলাই) এই খবর প্রকাশিত হয়েছে।
কারাগারটি অবস্থিত রামাত নেগেভ আঞ্চলিক কাউন্সিলের এক স্থানীয় কর্মকর্তা জানায়, ১৭০ মিটার বিস্তৃত পরিখার খনন কাজ কেতজিওত কারাগারের একটি উইংয়ে করা হচ্ছে, যা বাইরে থেকে ধরা পড়ে না। ইসরায়েলের পরিবেশ সুরক্ষা মন্ত্রী ইদিত সিলমান নীল নদীর কুমিরকে গৃহপালিত বন্যপ্রাণী হিসেবে নতুন শ্রেণীভুক্ত করার পরেই এই উদ্যোগের পথ উন্মুক্ত হয়েছে।
এদিকে, উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের দপ্তর জানায় যে, এটি একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হয়েছে এবং যারা একে সস্তা স্টান্ট মনে করছিলেন, তাদের ভুল প্রমাণিত করেছে। খাল এবং কুমিরের যত্নের জন্য ২১ মিলিয়ন শেকেল বা প্রায় ৬ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং কারা কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রকৃতি ও উদ্যান কর্তৃপক্ষ এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আইনগত উপদেষ্টা এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছেন। কেতজিওত কারাগারটি নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বন্দিশালা, যেখানে গাজা ও পশ্চিম তীর থেকে আটক ফিলিস্তিনিদের রাখা হয়।
ফিলিস্তিনি কারাবন্দি বিষয়ক সংস্থাগুলোর তথ्यानুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলের কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দির সংখ্যা ৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯ হাজার ৬০০ জনে পৌঁছেছে।
একই সাথে বন্দীদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছেঃ কম্বল ও খাবার না দেওয়া এবং লোহার পাতে ঘুমাতে বাধ্য করা হয় বলেও জানা গেছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার ৯ বছরের শিশু তানজিম সুলতানা ঝুমুরকে ধর্ষণ করে হত্যার একটি বহুল আলোচিত মামলায় মফিজুল ইসলাম মফু নামক এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ মাত্র ১৯ কার্যদিবসে বিচারকাজ সম্পন্ন করে এ রায় ঘোষণা করেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে ট্রাইবুনালের বিচারক মো. ইয়াছিন আরাফাত এ রায় ঘোষণা করেন।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা ইউনিয়নের খেয়াইশ গ্রামের সোনালী শিশু বিদ্যানিকেতনের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তানজিম সুলতানা ঝুমুর (৯) স্কুল থেকে ফেরার পথে নিখোঁজ হয়ে যায়। নির্ধারিত সময়ে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজার চেষ্টা করতে থাকে। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে খেয়াইশ ঠাকুরবাড়ি এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে ঝুমুরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মরদেহের সঙ্গে তার স্কুলব্যাগ, স্কুলড্রেস ও জুতা পাওয়া যায়।
নিহত ঝুমুর ছিল খেয়াইশ গ্রামের প্রবাসী জাকির হোসেনের একমাত্র মেয়ে।
জানা যায়, শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী মফিজুল ইসলাম মফুকে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে দেখেছিলেন। এ ঘটনার পরদিন নিহত শিশুর মা রাজিয়া আক্তার সদর দক্ষিণ উপজেলার খিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম মফুকে একমাত্র আসামি করে সদর দক্ষিণ থানায় মামলা করেন।
এই ঘটনার ৩ দিন পর র্যাব চাঁদপুরে অভিযান চালিয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বাসিন্দা আসামি মফিজুল ইসলাম মফুকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে তিনি শিশু ঝুমুরকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন।
রায় ঘোষণার পর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনাল-১ এর পাবলিক প্রসিকিউটর বদিউল আলম সুজন বলেন, "মাত্র ১৯ কার্যদিবসে বিচার সম্পন্ন করে আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। দ্রুততম সময়ে এ রায় সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সড়কে দুটি গাড়ির মাঝে পড়ে মোহাম্মদ সালাউদ্দিন নামে এক যুবদল নেতা নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর একটার দিকে বড়তাকিয়া জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে এই ঘটনাটি ঘটেছে।
মীরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াছমিন বলেন, সাহেরখালী ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক সালাউদ্দিন দুপুরে মোটরসাইকেলযোগে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে যাচ্ছিলেন। তিনি আবুতোরাব বাজারের পাশে মসলিম চত্বরে পৌঁছালে চট্টগ্রামমুখী সেভেন রিংস সিমেন্টের গাড়ি ও মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলমুখী চিটাগাং অনলাইন ইন্টারনেট সেবার একটি গাড়ির মাঝামাঝিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা দেন। এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে যুবদল নেতা সালাউদ্দিন নিহত হন।
নিহত যুবদল নেতা সালাউদ্দিন ১৬ নং সাহেরখালী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের বাংলাপাড়া গ্রামের মৃত মহিউদ্দিনের পুত্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।
মিরসরাই থানা যুবদলের প্রধান সমন্বয়ক এসএম সুমন বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত সালাউদ্দিন সাহেরখালী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তার মৃত্যুতে যুবদল পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ওসি ফরিদা ইয়াছমিন বলেন, দুর্ঘটনার পর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সালাউদ্দিনের লাশ উদ্ধার করেছি এবং সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ