বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:২৯ পি.এম
পুলিশের অতিরিক্ত ও সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার পাঁচ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে সিলেট জেলা পুলিশের দায়িত্বে এবং চারজনকে পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) বদলি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তরের পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট-১ শাখার অ্যাডিশনাল ডিআইজি মো. রায়হান উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. মনজুরুল আলমকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে সিলেট জেলায় বদলি করা হয়েছে।
এছাড়া, পুলিশ স্টাফ কলেজের সহকারী পুলিশ সুপার তানিয়া সুলতানা ইভাকে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়েছে। দিনাজপুরের হাকিমপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আ ন ম নিয়ামত উল্লাহকে সহকারী পুলিশ সুপার (এসবি), ঢাকা হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আবু হাসান ও আবদুল্লাহ আল মামুনকে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে এসবিতে বদলি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।
তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার সংকটের সমাধানে সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদ, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে আগামী শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী শান্তিপূর্ণ লংমার্চ সফল করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা এই আহ্বান জানিয়ে বলেন, "নির্বাচনের আগে বিএনপি সংস্কারের জন্য গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে তা বাস্তবায়ন না করে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।" দেশে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জনদুর্ভোগ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। প্রশাসনের সীমাহীন দলীয়করণ ও অব্যবস্থাপনার কারণে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
তারা আরও বলেন, "সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জনগণের এসব সমস্যা সমাধানের দাবি বারবার জানানো হলেও সরকার তা আমলে নেয়নি।" বরং গায়েরজোরে জনগণের অধিকার ও মানবাধিকারের পরিপন্থী বিভিন্ন আইন ও সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের একগুঁয়েমির কারণে সংসদে সোচ্চার ভূমিকা রেখেও সমাধান না হওয়ায় বিরোধী দল রাজপথে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচিতে জনগণের ব্যাপক সাড়া ও অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে যে এসব দাবি কেবল কোনো রাজনৈতিক দলের নয়; এগুলো জনগণের ন্যায্য দাবি।
১১ দলের নেতারা জানান, এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার শাপলা চত্বরে সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিতব্য জনসভা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চ শুরু হবে। পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও জনগণের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা ও অভিবাদন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চ কর্মসূচি সমাপ্ত হবে ইনশাআল্লাহ।
লংমার্চে নেতৃত্ব দেবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি, বিরোধীদলীয় চীপ হুইপ ও এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমীর মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান জনাব মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির আবু জাফর কাসেমীসহ শীর্ষ নেতারা।লংমার্চে বিপুলসংখ্যক যানবাহন ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে। পথসভাগুলোতেও ব্যাপক জনসমাগম হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা উল্লেখ করেন, "এটি কোনো দলের একক দাবি নয়; জনগণের অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের দাবিতেই এই লংমার্চ।" শীর্ষ নেতৃবৃন্দ কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সরকারকে কর্মসূচিতে সহযোগিতা কামনা করেন এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে তা জনগণকে প্রতিহত করার আহ্বান জানানো হয়।
দলের নেতা-কর্মীদেরও ধৈর্য, সাহস ও শৃঙ্খলার সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে চট্টগ্রাম অভিমুখী লং মার্চ সফল করার জন্য সর্বাত্মকভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অল্পদিনেই নষ্ট হচ্ছে লাইট-ফ্যান-সুইচ, পণ্য পরিবর্তনে টালবাহানার অভিযোগ; ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা চেয়েছেন ক্রেতারা
বরিশাল নগরীর বাংলাবাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের ইলেকট্রনিক সামগ্রী বিক্রির অভিযোগ উঠেছে আরিফ ইলেকট্রনিক্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটি পুরান ঢাকার নবাবপুর এলাকা থেকে নিম্নমানের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য সংগ্রহ করে বরিশালে তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি করছে—এমন অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ক্রেতা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, আরিফ ইলেকট্রনিক্স থেকে বিভিন্ন ধরনের লাইট, ফ্যান, সুইচসহ ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনার পর অল্প সময়ের মধ্যেই সেগুলোর কিছু অংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পণ্য কেনার সময় ওয়ারেন্টি বা পরিবর্তনের আশ্বাস দেওয়া হলেও পরবর্তীতে নষ্ট পণ্য পরিবর্তন কিংবা বিক্রয়োত্তর সেবা নিতে গেলে নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
দুই মাসেই নষ্ট সুইচ-লাইট, অভিযোগ ক্রেতার
বরিশাল নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের আমবাগান এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, তাঁর পাঁচতলা ভবনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী আরিফ ইলেকট্রনিক্সের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবুজের কাছ থেকে ক্রয় করেন তিনি।
সাইফুল ইসলামের অভিযোগ, পণ্যগুলো কেনার মাত্র দুই মাসের মধ্যেই সুইচ, লাইটসহ বিভিন্ন সামগ্রী নষ্ট হতে শুরু করে। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে নষ্ট পণ্য পরিবর্তন করে দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও তিনি কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাননি বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, আমার পাঁচতলা ভবনের জন্য প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক সামগ্রী তাদের কাছ থেকে কিনেছি। কিন্তু দুই মাস না যেতেই সুইচ, লাইটসহ বিভিন্ন পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি একাধিকবার জানিয়েছি এবং মালামাল পরিবর্তন করে দেওয়ার অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারা বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করেছে।”
দুই লাখ টাকার পণ্য কিনেও প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ
নগরীর ভাটিখানা এলাকার এক বাসিন্দার অভিযোগ, পরিচিত এক ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে আরিফ ইলেকট্রনিক্সের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবুজের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে ভবনের প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক সামগ্রী হিসেবে প্রায় দুই লাখ টাকার পণ্য ক্রয় করেন তিনি।
তাঁর দাবি, পণ্যগুলো ব্যবহারের কিছুদিনের মধ্যেই বিভিন্ন সামগ্রীতে ত্রুটি দেখা দেয় এবং বেশ কিছু পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবুজের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ওই বাসিন্দা বলেন, “বিশ্বাস করে ভবনের জন্য প্রায় দুই লাখ টাকার ইলেকট্রনিক মালামাল কিনেছিলাম। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই বিভিন্ন পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি সবুজকে বারবার জানিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান পাইনি।
‘ওয়ারেন্টি’ দেওয়ার পরও নষ্ট পণ্য নিয়ে ভোগান্তি
এদিকে নগরীর ব্যাপ্টিস্ট মিশন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা সোহান জানান, তাঁর বাসায় কাজ করানোর পর প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনার জন্য এলাকার পরিচিত একজন বড় ভাইয়ের মাধ্যমে তাঁর এক আত্মীয়ের কাছ থেকে পণ্য ক্রয় করেন।
সোহানের অভিযোগ, কেনার সময় পণ্যগুলোর ওয়ারেন্টি রয়েছে বলে তাকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু ব্যবহারের কিছুদিনের মধ্যেই লাইট, ফ্যান ও সুইচসহ বিভিন্ন সামগ্রীতে সমস্যা দেখা দেয়। নষ্ট পণ্য পরিবর্তন কিংবা ওয়ারেন্টি সুবিধা পাওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর সমাধান মেলেনি বলে দাবি তাঁর।
সোহান বলেন, “বিশ্বাস করে পরিচিতজনের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক সামগ্রী কিনেছিলাম। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই লাইট, ফ্যান ও সুইচ নষ্ট হয়ে যায়। কেনার সময় ওয়ারেন্টির কথা বলা হয়েছিল। এখন নষ্ট পণ্য নিয়ে যোগাযোগ করলে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে।
এ বিষয় আরিফ ইলেকট্রনিক প্রোপাইটার সবুজ মোবাইল যোগাযোগ করলে তিনি জানান পরে কথা বলবে এখন বাইক চালাচ্ছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা চাওয়ার দাবি
একাধিক ক্রেতার অভিযোগ, ইলেকট্রনিক পণ্যের মান, ওয়ারেন্টি এবং বিক্রয়োত্তর সেবা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষ করে কোনো প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের বা ত্রুটিপূর্ণ পণ্য বিক্রি করছে কি না, পণ্যের গায়ে উল্লেখ করা মান ও বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে বাস্তব পণ্যের মিল রয়েছে কি না এবং ক্রেতাদের দেওয়া ওয়ারেন্টি যথাযথভাবে কার্যকর করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সোহান বলেন, “ভোক্তাদের স্বার্থে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির পণ্যের মান ও বিক্রয় কার্যক্রম যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
আরও তথ্য পাওয়ার দাবি তালাশ বিডির
এদিকে আরিফ ইলেকট্রনিক্সের ব্যবসা, পণ্য সংগ্রহের উৎস, বিক্রয় কার্যক্রম এবং ক্রেতাদের অভিযোগের বিষয়ে তালাশ বিডির অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। অনুসন্ধানে আরও কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবে এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের কাজ চলছে।
অভিযোগের বিষয়ে আরিফ ইলেকট্রনিক্সের মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সবুজের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো সত্য কি না, পণ্যের মান নিয়ে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না এবং ভোক্তারা প্রকৃতপক্ষে ওয়ারেন্টি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন কি না—এসব বিষয়ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে সেটিও যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
তালাশ বিডির অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য ও প্রাসঙ্গিক নথিপত্র যাচাই শেষে এ বিষয়ে আরও প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়ায় গভীর রাতে অবৈধ বিড়ি কারাখানায় অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন রাজস্ব কর্মকর্তারা। এসময় দুই কাস্টমস কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে তাদের বহন করা গাড়ি।
বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৫০ মিনিটের দিকে ভেড়ামারার ধরমপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভবানীপুর এলাকার বাঁধন বিড়ি কারখানায় অভিযান চালাতে গিয়ে এ হামলার শিকার হন কুষ্টিয়া রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এ ঘটনায় অজ্ঞাতানামা ১০-১২ জনকে আসামি করে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভেড়ামারা থানায় মামলা দায়ের করেছেন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট সার্কেল কুষ্টিয়া-২ এর রাজস্ব কর্মকর্তা ওমর ফারুক ভূইয়া। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ রাজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনার কোন আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
রাজস্ব অফিস ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভেড়ামারা উপজেলার দক্ষিণ ভবানীপুর এলাকার বাঁধন বিড়ি নামের একটি অবৈধ বিড়ি কারখানা গড়ে উঠেছে। কারখানাটির মালিক বাঁধন দীর্ঘদিন ধরে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধ ভাবে বিড়ি কারখানাটি পরিচালনা করে আসছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অবহিত না করে অত্যন্ত গোপনে অভিযানটি পরিচালনা করার জন্য রাজস্ব বিভাগের ৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারি কুষ্টিয়া থেকে সেখানে রওনা দেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ফিরোজ আহম্মেদ, আলী হোসেন সরকার, আবদুল্লাহ মিয়া, রাহাত হোসেন, আল আমিন, নজিবুল্লাহ এবং গাড়ি চালক আবু হানিফসহ উপরোক্ত কর্মকর্তারা নিবারক কার্যক্রমে গাড়ি নং-ঢাকা-মেট্রো-চ-১৫-৮৭৪৯ নিয়ে বের হই।
বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২ টা ৫০ মিনিটের সময় ভেড়ামারা থানাধীন দক্ষিণ ভবানীপুর সাকিনস্থ বাঁধন বিড়ি ফ্যাক্টরির ১০০ গজ আগে পাকা রাস্তার উপর পৌঁছাইলে অজ্ঞাতনামা আসামিরা বেআইনী জনতাবদ্ধে মুখে গামছা বাধা অবস্থায় আমাদের গাড়ির গতিরোধ করে সরকারি কাজে বাঁধা প্রদানের উদ্দেশ্যে ইট ও লাঠিসোটা দিয়ে গাড়ির উপর হামলা করে। তাদের ইটের আঘাতে আমাদের ব্যবহৃত গাড়ির (ঢাকা মেট্রো-চ ১৫-৮৭৪৯) ডান পাশের হেডলাইট ও পিছনের গ্লাস এবং ডান পাশের গ্লাস ভেঙে যায়। অজ্ঞাতনামা আসামিদের ইট ও লাঠিসোটার আঘাতে রাজস্ব কর্মকর্তারা আহত হন। এরপর ৯৯৯ এ ফোন দিলে প্রায় আধা ঘণ্টা পর ভেড়ামারা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাদের উদ্ধার করেন। এসময় দুজন রাজস্ব কর্মকর্তা আহত হন।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুর রহমান হামলার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় কাস্টমস কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-৮। তবে এজাহারে কাউরের নাম উল্লেখ করা হয়নি। পুলিশ এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোন আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদ ভবন, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে পুলিশের একটি নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের উদ্দেশ্যে আজ জাতীয় সংসদে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে, যা র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর পরিবর্তে আসছে।
আজ সংসদে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এই বিলের মাধ্যমে র্যাব গঠনের আইনি বিধানগুলো বাতিল করে পুলিশের অধীনে এসআরবি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বিলটির উত্থাপনের বিরুদ্ধে আপত্তি জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তাদের উক্তির জবাবে বলেন, “র্যাব নামে কোনো সংস্থা থাকবে না-এটি ছিল সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি।” তিনি আরও বলেন, পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিটের প্রয়োজনীয়তা বজায় রেখেই সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই বিলটি আনা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, “পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার বিষয়টি পুরো পুলিশ বাহিনী বিলুপ্ত করার কারণ হতে পারে না।”
তিনি জানান, প্রস্তাবিত এসআরবিতে র্যাবের তুলনায় জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী বিধান থাকবে। বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতাদের সংসদীয় কমিটিতে বিলটি যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার এবং সেখানে নিজেদের সুপারিশ তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
বিলে র্যাবের জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুযোগ-সুবিধা, তহবিল, নগদ অর্থ ও ব্যাংক আমানত, দায়-দেনা, চুক্তি, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি এবং রেজিস্টার ও নথিপত্র এসআরবিতে হস্তান্তরের বিধান রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, এসআরবি পুলিশের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। সরকারি প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ সদস্য, অন্যান্য বাহিনীর সদস্য এবং নির্ধারিত সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পদায়ন বা প্রেষণের মাধ্যমে এটি গঠন করা হবে।
এই ইউনিটের জন্য বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত পতাকা, প্রতীক ও নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম থাকবে। এর মহাপরিচালক একজন কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তা হবেন, যার পদমর্যাদা ‘অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক’-এর নিচে হবে।
এসআরবির ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত এবং তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও মালামাল বা আলামত জব্দের ক্ষমতা থাকবে। এছাড়া তাদের নিজস্ব মালখানা বা মালামাল সংরক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে।
নাগরিকদের অভিযোগ এবং ইউনিটের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এই বিলে একাধিক সদস্যবিশিষ্ট একটি ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধসহ অন্যান্য গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধ ও দমন এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর সাড়া প্রদানের ক্ষেত্রে পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য এই নতুন ইউনিটের প্রয়োজন।
প্রস্তাবিত আইনে এই বিশেষায়িত ইউনিটের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে আইনের শাসন, মানবাধিকার, স্বচ্ছতা, কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি উত্থাপন করেন এবং এটি যাচাই-বাছাই করে ৪ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ করা হয়।
এরই মধ্যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন; যার লক্ষ্য হলো বিদ্যমান অধ্যাদেশটি বাতিল করে এই বাহিনীর জন্য একটি নতুন আইনি কাঠামো প্রবর্তন করা।
প্রস্তাবিত আইনে পুলিশের অধীনে এপিবিএন ইউনিটগুলোর (যেমন—স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যাটালিয়ন, হিল ব্যাটালিয়ন ও এয়ারপোর্ট ব্যাটালিয়ন এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্য যেকোনো ব্যাটালিয়ন) বিধান রাখা হয়েছে।
এই বিলের মাধ্যমে এপিবিএনকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হবে। এছাড়া ‘ফৌজদারি কার্যবিধি’ ও অন্যান্য বিদ্যমান আইনের সাপেক্ষে তাদের কোনো প্রাঙ্গণে প্রবেশ, তল্লাশি চালানো, সম্পত্তি জব্দ করা এবং গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও থাকবে।
এতে এপিবিএন সদস্যদের জন্য শৃঙ্খলা ও আচরণবিধিও নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণত কোনো সংগঠনের সদস্য হওয়া কিংবা কোনো সংগঠনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত হওয়া তাদের জন্য নিষিদ্ধ থাকবে; তবে পেশাগত উন্নয়ন বা এপিবিএন-এর স্বার্থসংশ্লিষ্ট পেশাজীবী সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে অনুমতি থাকবে।
এছাড়া উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা সংবাদপত্রে কোনো তথ্য বা নথিপত্র প্রকাশ করা কিংবা প্রকাশে সহায়তা করা থেকেও এপিবিএন সদস্যদের বিরত থাকতে হবে।
যাচাই-বাছাইয়ের জন্য এই বিলটিও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ