ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঝালকাঠিতে মা ইলিশ সংরক্ষণে ৭৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ


ঝালকাঠিতে মা ইলিশ সংরক্ষণে ৭৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ

ঝালকাঠি, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ : মা ইলিশ সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় আজ রাজাপুর উপজেলায় বিষখালী নদীতে অভিযান পরিচালনা করে ৭৫ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করেছে মৎস্য বিভাগ।

এই অভিযানের সময় পাঁচজনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত আটককৃতদের মধ্যে চারজনকে ১৫ দিন করে এবং একজনকে একমাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে।

আজ বুধবার বিকেল তিনটার দিকে জেলা মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

আরও পড়ুন: নওগাঁয়ে ঘরে মাটির নিচে ২৪৫ কেজির কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার, আটক ১

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, বুধবার বিকেল তিনটার দিকে রাজাপুর উপজেলায় বিষখালী নদীর পালট এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অযিুক্তদের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন- জেলার রাজাপুর উপজেলার পালট এলাকার মো. মোশারফের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর (৩৮), মো. নাছির মাঝির ছেলে মো. মেহেদী হাসান (২২), দক্ষিণ বড়ইয়া এলাকার মো. বেলালের ছেলে মো. বাপ্পি (১৯), মিরাজ হাওলাদারের ছেলে মো. রাজিব (৩৫) এবং মো. শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে মো. হেলাল হাওলাদার (৩৫)।

অভিযানকালে জব্দকৃত পাঁচকেজি ইলিশ মাছ স্থানীয় একটি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।

অভিযানকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: দিনাজপুর বোর্ডের ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুনামগঞ্জে টাঙ্গুয়ার হাওরে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৩৭ পি.এম


সুনামগঞ্জে টাঙ্গুয়ার হাওরে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত

সুনামগঞ্জ, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ : আজ জীববৈচিত্র্যে গুরুত্বপূর্ণ টাঙ্গুয়ার হাওরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে তাহিরপুর উপজেলায়।

আজ বুধবার বেলা ১১ টায় টাঙ্গুয়ার হাওরের ওয়াচ টাওয়ার এলাকায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপামনি দেবী।

এ অনুষ্ঠানটি পরিবেশবাদী সংগঠন ‘টাঙ্গুয়ার হাওর উন্নয়ন ফোরাম’-এর উদ্যোগে পরিচালিত হয়। দুলাল কান্তি পাল এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জুনাব আলী।

অনুষ্ঠানে রাজু আহমেদ রমজান, পলেন আহমদ, দশরথ হাজং, শামছুল আলম আখঞ্জি টিটু, সাংবাদিক এমএ রাজ্জাকসহ অন্যান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে টাঙ্গুয়ার হাওর এলাকায় করচ গাছের চারা রোপণ করা হয়। এরপর সংগঠনের সদস্যরা পর্যটকদের ফেলে যাওয়া বর্জ্য অপসারণে অংশ নেন এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সহযোগিতা করেন।

অনুষ্ঠানে হাওরাঞ্চলে শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখার জন্য প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষক মো. উস্তার আলী আখঞ্জিকে সংগঠনের পক্ষ থেকে মরণোত্তর সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্যারান্টি ক্লজের অভাবে তিস্তার পানি পায়নি বাংলাদেশ: রিজভী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৩৮ পি.এম


গ্যারান্টি ক্লজের অভাবে তিস্তার পানি পায়নি বাংলাদেশ: রিজভী

বাংলাদেশ-ভারত পানি চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজের অভাবের কারণে ১৯৯৬ সাল থেকে বাংলাদেশ প্রত্যাশিত পানি পায়নি বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের নতজানু নীতির ফলে প্রতিবেশী দেশটি পানির প্রশ্নে বাংলাদেশকে আরও বেশি প্রভাবিত করার সুযোগ পেয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজের ভূমিকা এবং নদ-নদী রক্ষা নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, "পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়ায় পদ্মা ও তিস্তার পানিপ্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।" তিনি আরও জানান, ফারাক্কার প্রভাবে রাজশাহীতে গত ২০ থেকে ২৫ বছরে বৃষ্টিপাত ৩০ শতাংশ কমেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "এখন পদ্মা ব্যারেজের মাধ্যমে সংকট সমাধান হলে সমস্যা কোথায়?" তিনি দাবি করেন, "পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ দিয়ে যদি পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা যায় তবে সুন্দর সুজলা-সুফলা দেশ গড়তে পারব।" তিনি জীব ও বৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারার কথাও উল্লেখ করেন।

পানি নিয়ে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সমন্বিত আলোচনার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।

রিজভী বলেন, "দেশপ্রেমকে ধারণ করে পানি চুক্তি নিয়ে কাজ করতে হবে।" তিনি জানান, "আমাদের ন্যায্য পাওনার জন্য কথা বলতে হবে।" তিনি আরও বলেন, "যতটুকু পানি পাওয়ার কথা সেটা কখনো পাইনি। এটা নিয়ে সেভাবে আমরা কথা বলতেও দেখিনি।" তিনি জানান, "পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে আমাদের সামগ্রিকভাবে আলোচনা করা দরকার।" তিনি উল্লেখ করেন, "ভারত নিজেও পানিসংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, অথচ অন্য দেশের পানি কেড়ে নিতে দ্বিধা করছে না।"

এর আগে, সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর গণসংলাপে বিদ্যুৎ খাত নিয়ে কথা বলেন রিজভী। তিনি অভিযোগ করেন, "কুইক রেন্টালের নামে বিদ্যুৎ খাতে লুটপাটের সুযোগ তৈরি করেছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকার।" বর্তমান সরকারের আমলে জবাবদিহিতা থাকায় সেই সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।

এসময় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন রিজভী। তিনি বলেন, "জাপানসহ উন্নয়ন সহযোগীদের নিয়ে সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা কাজে লাগানো গেলে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা সহজ হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২ বছরের বেতনবৃদ্ধি স্থগিত, ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১৭টি প্রমাণিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৩৯ পি.এম


২ বছরের বেতনবৃদ্ধি স্থগিত, ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১৭টি প্রমাণিত

গ্রাহকের আমানত আত্মসাৎ, জাল স্বাক্ষরে চেক নগদায়ন, ঋণের অর্থ উত্তোলনসহ বিভিন্ন অনিয়মের ১৯টি অভিযোগের মধ্যে ১৭টি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এই অভিযোগগুলোর মধ্যে মোট ২৩ লাখ ৯২ হাজার ২৩৪ টাকার আর্থিক অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলেও অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে মাত্র দুই বছরের বেতনবৃদ্ধি স্থগিত করার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। অভিযোগের শিকার অনেক গ্রাহক এখনও তাঁদের টাকা ফেরত পাননি। এর মধ্যে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নতুন করে গ্রাহকের আমানত আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম শাখার। অভিযুক্ত সাবেক ব্যবস্থাপক সরওয়ার আলম তালুকদার বর্তমানে ব্যাংকটির কুমিল্লা আঞ্চলিক কার্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন।

সরওয়ার আলম তালুকদারের বাড়ি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের বারৈয়া গ্রামে। তাঁর বিরুদ্ধে আগের অভিযোগের তদন্ত, শাস্তির মাত্রা এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ব্যাংকের গ্রাহক ও সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে নতুন অভিযোগগুলোর তদন্ত ও নিষ্পত্তি নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, সরওয়ার আলম তালুকদার ২০১৯ সালের ১৬ নভেম্বর থেকে ২০২১ সালের ৯ জুন পর্যন্ত চৌদ্দগ্রাম শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় গ্রাহকের আমানত আত্মসাৎ, ঋণের জামানত হিসেবে রাখা চেকে স্বাক্ষর জালিয়াতি, গ্রাহকের নামে ঋণ বিতরণ দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন এবং স্ত্রী ও স্বজনদের নামে ঋণনীতিমালা লঙ্ঘন করে ঋণ দেওয়ার মতো বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

২০২১ সালের জুনে ব্যাংকের কেন্দ্রীয় কার্যালয় তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে অভিযোগগুলোর তদন্তের জন্য। তদন্ত শেষে সরওয়ার আলম তালুকদারসহ শাখার আরও দুই কর্মকর্তা আবদুল জলিল ও আবুল কালামের বিরুদ্ধে ২৩ লাখ ৯২ হাজার ২৩৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার তথ্য উঠে আসে।

এ-সংক্রান্ত তথ্য ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট ব্যাংকের কেন্দ্রীয় সহকারী ব্যবস্থাপক মো. আবদুর রহিম শিকদারের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা, ২০০৫-এর সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী দায়িত্বে অবহেলা, অসদাচরণ, আত্মসাৎ, তহবিল তসরুপ ও প্রতারণামূলক অপরাধের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছিল।

তবে ক্ষমাপ্রার্থনা, লিখিত জবাব, চাকরির মেয়াদ ও বয়স বিবেচনায় তাঁকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ১ জুলাই ও ২০২৫ সালের ১ জুলাই প্রাপ্য দুই বছরের বেতনবৃদ্ধি স্থগিত করা হয়।

সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ সালের ৩ মার্চের অভিযোগনামায় গ্রাহকের আমানত আত্মসাৎ, জাল স্বাক্ষরে চেক নগদায়ন, গ্রাহকের নামে ঋণ বিতরণ দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন, এসডিপিএসের টাকা আত্মসাৎ এবং ঋণনীতিমালা লঙ্ঘন করে ঋণ দেওয়ার মতো ১৯টি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ১৭টি অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়।

অভিযোগনামা অনুযায়ী, অধীনস্থ এক কর্মকর্তার কাছ থেকে জোরপূর্বক চেক নিয়ে প্রাপকের স্বাক্ষর জাল করে ১ লাখ ২০ হাজার ৯৬৬ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ ছিল। এ ছাড়া আমানতকারীদের সঙ্গে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ৯ লাখ ৮ হাজার ৩০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয়।

গ্রাহকের নামে ঋণ বিতরণ দেখিয়ে ভুয়া স্বাক্ষরের মাধ্যমে ২ লাখ টাকা আত্মসাৎ, এসডিপিএস হিসাবের রসিদ পরিবর্তন করে ২৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ এবং এসডিপিএসের স্থিতির বিপরীতে ঋণ পরিশোধের ২ লাখ ৩২ হাজার ৩৬০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও ছিল।

এ ছাড়া সরওয়ার আলম তালুকদারের স্ত্রী রুনা লায়লার নামে ঋণ সার্কুলার লঙ্ঘন করে ৬৩ হাজার ৬৩০ টাকা অতিরিক্ত ঋণ প্রদান, প্রধান কার্যালয় থেকে নামঞ্জুর করা এক উদ্যোক্তাকে নিয়ম ভেঙে ১ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া এবং নগদ টাকা জমা ছাড়াই জমা-উত্তোলন দেখিয়ে ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।

এসডিপিএসের মাসিক কিস্তি আদায় করে ৪ হাজার টাকা এবং হিসাবধারীদের কাছ থেকে মাসিক জমার ৭৯ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা না দেওয়ার অভিযোগও তদন্তের আওতায় ছিল।

এসব অভিযোগের পাশাপাশি অন্যান্য অনিয়ম মিলিয়ে মোট ২৩ লাখ ৯২ হাজার ২৩৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।

পুরোনো অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই চলতি বছরের ২৫ আগস্ট সরওয়ার আলম তালুকদারের বিরুদ্ধে নতুন করে গ্রাহকের আমানত আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রাহক পারভীন আক্তারের ৫ হাজার ১৫৬ টাকা, পারভীন বেগমের ৩৮ হাজার ৪০৯ টাকা এবং আবুল খায়েরের ৩২ হাজার ৫১৭ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী সোহেল আহমেদের অভিযোগ, ২০২১ সালে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার সময় জামানত হিসেবে দেওয়া চেক ব্যবহার করে তাঁর স্বাক্ষর জাল করে অতিরিক্ত ২ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। বিষয়টি জানার পর তিনি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

সোহেলের দাবি, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলেও অতিরিক্ত ঋণের দায় এখনো তাঁকেই বহন করতে হচ্ছে। অভিযোগ করার পর প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার কথাও জানান তিনি। এ ঘটনায় সে সময় থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন বলেও দাবি করেন।

রহিমা বেগম নামে আরেক গ্রাহক অভিযোগ করেন, তিনি ও তাঁর স্বামী আবদুর রহমান পৃথক হিসাবে ১ লাখ টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের স্বাক্ষর জাল করে অতিরিক্ত ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা ঋণ তুলে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি।

রহিমা বেগম জানান, ২০২১ সালে অভিযোগ করলেও তদন্তের ফল সম্পর্কে তাঁরা জানতে পারেননি। ২০২৪ সালের জুনে তাঁর স্বামীর মৃত্যুর পরও অতিরিক্ত ঋণের দায় তাঁদের পরিশোধ করতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

প্রবাসী শফিউল আজম বলেন, ২০২১ সালে এসডিপিএসের আমানত তুলতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তাঁর হিসাব থেকে ২৬ হাজার ৫৩৬ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। অথচ তিনি ওই টাকা পাননি। এ ঘটনায় তৎকালীন ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেও আমানত ফেরত পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

আবুল খায়ের জানান, ২০২০ সালে এসডিপিএসের বিপরীতে নেওয়া ঋণের ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও চলতি বছরের আগস্টে তিনি জানতে পারেন, তাঁর নামে ওই ঋণ এখনো বকেয়া রয়েছে। বিষয়টি জানার পর তিনি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ব্যাংকের কাছে অভিযোগ জানিয়েও তাঁরা প্রত্যাশিত প্রতিকার পাননি। কারও হিসাবে আত্মসাতের অভিযোগ, কারও নামে অতিরিক্ত ঋণের দায়—সব মিলিয়ে তাঁরা আর্থিক ও মানসিক দুর্ভোগে রয়েছেন।

ব্যাংকের নথিতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার তথ্য থাকলেও শাস্তির মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ও সচেতন মহলের অনেকে।

তাঁদের প্রশ্ন, এতগুলো অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার পরও কেন শুধু দুই বছরের বেতনবৃদ্ধি স্থগিতের মতো লঘুদণ্ড দেওয়া হলো? একই সঙ্গে যেসব গ্রাহক তাঁদের আমানত বা ঋণসংক্রান্ত অনিয়মের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যকর উদ্যোগ কোথায়?

তবে বিভাগীয় শাস্তি, অর্থ পুনরুদ্ধার এবং নতুন অভিযোগের তদন্ত পৃথক বিষয়। নতুন অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই, ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি নিষ্পত্তি এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ভুক্তভোগীরা তাঁদের আমানতের টাকা ফেরত, ঋণসংক্রান্ত অনিয়মের দায় থেকে মুক্তি এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত চান। এখন দেখার বিষয়, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাঁদের দাবির বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয় এবং নতুন অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি কত দ্রুত হয়।

আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের চৌদ্দগ্রাম শাখার বর্তমান ব্যবস্থাপক নাছির উদ্দিন বলেন, সরওয়ার আলম তালুকদার দায়িত্বে থাকাকালে তাঁদের এসডিপিএসের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে—এমন অভিযোগে চারজন গ্রাহক তাঁর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে নতুন অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ব্যাংকটির কুমিল্লা অঞ্চলের আবাসিক ব্যবস্থাপক (আরএমও) জামাল উদ্দিন বলেন, সরওয়ার আলম তালুকদারের বিরুদ্ধে নতুন কোনো অভিযোগ এখনো তাঁর হাতে পৌঁছায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। খোঁজখবর নিয়ে এ বিষয়ে পরে বক্তব্য দেব।’

অন্যদিকে, সরওয়ার আলম তালুকদার তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে ওঠা অভিযোগগুলো মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। আগের শাস্তির বিষয়ে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে তিনি আপিল করেছেন।

এমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট ৭ দিন স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪০ পি.এম


ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট ৭ দিন স্থগিত

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির ডাকা ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি ৭ দিনের মধ্যে তাদের দাবি পূরণ না করা হয়, তবে তারা পরবর্তীতে আবার কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এই তথ্য নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাদল মাদবর।

তিনি উল্লেখ করেন, বিকেলে হাসপাতাল প্রশাসন এবং শাহবাগ থানার ওসির সঙ্গে তাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ৭ দিনের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যদি এই সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হয়, তবে তারা পুনরায় কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

এর আগে, ঢাকা মেডিকেল বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতি মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকে হাসপাতালটির চত্বরে স্থায়ী পার্কিং ব্যবস্থা চালু করার দাবিতে ধর্মঘট পালন করছিল। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের এই কর্মসূচি চলছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%