ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বর্ষায় মশার উপদ্রব বাড়ছে, জেনে নিন কার্যকর কিছু উপায়


বর্ষায় মশার উপদ্রব বাড়ছে, জেনে নিন কার্যকর কিছু উপায়

বর্ষা মৌসুমে, বৃষ্টির সাথে প্রচণ্ড গরমের কারণে মশার উপদ্রব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ঠিক এই সময়ে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিও যেমন ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া এবং ম্যালেরিয়ার আয় বৃদ্ধি পায়। তাই মশা নিয়ন্ত্রণে শুধু কয়েল বা স্প্রের ওপর ভরসা না করে, ঘরোয়া কিছু উপায়ও অনুসরণ করা যেতে পারে।

সম্প্রতি লেবুর খোসা এবং তেজপাতা পানিতে ফুটিয়ে সেখানকার বাষ্প ব্যবহার করে মশা তাড়ানোর একটি পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন যে, লেবুর খোসায় উপস্থিত ডি-লিমোনিন এবং তেজপাতার সিনেওল, লিনালুল ও ইউজিনল প্রভৃতি উদ্বায়ী উপাদান গরম হয়ে সুগন্ধ ছড়িয়ে দেয়। ফলে ঘরের ভ্যাপসা গন্ধ কিছুটা আড়াল হয়ে যায় এবং আশপাশের কিছু পোকামাকড় সাময়িকভাবে দূরে থাকতে পারে। যদিও এই পদ্ধতিতে মশা স্থায়ীভাবে দূর করতে সক্ষম—এ ধরনের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও সঠিকভাবে পাওয়া যায়নি।

মশা দূরে রাখতে আরেকটি পরিচিত ঘরোয়া পদ্ধতি হচ্ছে, লেবুর অর্ধেক অংশে কয়েকটি লবঙ্গ গুঁজে ঘরের বিভিন্ন স্থানে রাখা। সাইট্রাস ও লবঙ্গের তীব্র গন্ধ মশার জন্য একটি অস্বস্তিকর বিষয় হতে পারে, যার ফলে এটি কাজেও আসতে পারে।

আরও পড়ুন: বেগুনের খোসায় ফিরবে চুলের উজ্জ্বলতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, মশা নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হচ্ছে, কোনো স্থানে পানি জমতে দেওয়া। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ড্রেন, ফুলের টব বা আশপাশে জমে থাকা বৃষ্টির পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে, কারণ এসব স্থানেই মশা ডিম পাড়ে।

এছাড়াও, তুলসি, লেমনগ্রাস, গাঁদা, পুদিনা এবং ক্যাটনিপের মতো গাছ বাড়ির আশপাশে রোপণ করা হলে মশার উপদ্রব কিছুটা কমে আসতে পারে। পুদিনাপাতা পানিতে ভিজিয়ে বা ফুটিয়ে তার গন্ধ ছড়িয়ে দিলে কিছু পোকামাকড় দূরে থাকতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, ঘরোয়া এসব উপায় সহায়ক হলেও, ডেঙ্গু প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি হলো পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং প্রয়োজনে অনুমোদিত মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করা। এ সকল উপায়ের সমন্বিত প্রয়োগেই বর্ষাকালে মশার উপদ্রব কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

আরও পড়ুন: তেঁতুলিয়ায় পর্যটকদের ভিড়, নীলাকাশে উঁকি দিচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঘুমানোর আগে গরম দুধ পানে কি ভালো ঘুম হয়?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০৮ এম


ঘুমানোর আগে গরম দুধ পানে কি ভালো ঘুম হয়?

ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম দুধ পান করার অভ্যাস বহুদিন ধরে চলে আসছে। অনেকেই মনে করেন, এটি দ্রুত ঘুমাতে এবং ভালো ঘুম নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। তবে এই ধারণার পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক সত্যতা রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্বাসের কিছু বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে। দুধে থাকা ট্রিপটোফ্যান নামের একটি অ্যামাইনো অ্যাসিড শরীরে সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন তৈরিতে সহায়তা করে। এই দুটি হরমোন ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদিও শুধু দুধ পান করলেই তা ঘুমের ওষুধের মতো কাজ করবে না, কিন্তু এটি ঘুমের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সামান্য হলেও সহায়ক হতে পারে।

এছাড়া প্রতিদিন রাতে একই সময়ে গরম দুধ পান করার অভ্যাসও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়মিত এই রুটিন শরীরকে ইঙ্গিত দেয় যে বিশ্রামের সময় ঘনিয়ে এসেছে, ফলে ঘুমের প্রস্তুতি নিতে শরীর ও মস্তিষ্ক সহজে সাড়া দেয়। অনেক ক্ষেত্রে এই মানসিক প্রস্তুতিই দুধের পুষ্টিগুণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এরপরেও, তবে সবার জন্য রাতে দুধ পান করা সমানভাবে উপকারী নয়। ঘুমানোর ঠিক আগে অতিরিক্ত পরিমাণে দুধ পান করলে মূত্রথলি দ্রুত পূর্ণ হয়ে মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যেতে পারে। আবার যাদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে দুধ পেট ফাঁপা, গ্যাস বা হজমের সমস্যার কারণ হয়ে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। আর যাদের দুধে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের অবশ্যই এটি এড়িয়ে চলা উচিত। একইভাবে অ্যাসিড রিফ্লাক্সে ভোগা ব্যক্তিদেরও রাতে বেশি দুধ পান করলে অস্বস্তি বাড়তে পারে।

যদি রাতে দুধ পান করতে চান, তাহলে ঘুমানোর ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে পরিমিত পরিমাণে সাধারণ, চিনি ছাড়া দুধ পান করাই ভালো। অতিরিক্ত চিনি বা ফ্লেভারযুক্ত দুধ এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো অপ্রয়োজনীয় ক্যালোরি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রত্যাশিত উপকারও কমিয়ে দিতে সক্ষম। মোটের ওপর, গরম দুধ কোনো অলৌকিক সমাধান নয়, কিন্তু সঠিক অভ্যাসের সঙ্গে এটি ভালো ঘুমের জন্য একটি মৃদু সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রায় ২৫ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর অবশেষে রাজশাহী থেকে দূরপাল্লা এবং অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:১১ এম


প্রায় ২৫ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর অবশেষে রাজশাহী থেকে দূরপাল্লা এবং অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল শুরু

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়ে উঠতে সক্ষম হয়।

এর আগে, জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে, সোমবার রাত ৮টা থেকে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এর ফলে হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়ে যান।

শ্রমিক নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেলে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন নিয়ে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেন শ্রমিক নেতারা। বৈঠকে তারা সাধারণ সভার মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের দাবী জানান। জেলা প্রশাসক নিজে একটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। এছাড়া, ওই কমিটিতে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলালকে রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

কিন্তু শ্রমিকদের একটি পক্ষ জেলা প্রশাসকের ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে, যার ফলে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। এর ফলস্বরূপ সোমবার রাত ৮টা থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই বিরোধ মূলত জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা রফিকুল ইসলাম পাখি এবং মোমিনুল ইসলাম মোমিনের নেতৃত্বাধীন দুই পক্ষের মধ্যে চলছিল।

উৎপন্ন পরিস্থিতির সমাধানে জেলা প্রশাসক রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার নূর আলম সিদ্দিকীকে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করার দায়িত্ব দেন। মঙ্গলবার তিনি উভয় পক্ষের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, মোমিন গ্রুপের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে নজরুল ইসলাম হেলাল থাকবেন না। জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একইসাথে নির্বাচনকালীন সময়ে টার্মিনাল পরিচালনার জন্য উভয় পক্ষের চারজন করে মোট আট সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে। এই সিদ্ধান্তে সোমবার রাতের বৈঠকে দুই পক্ষই সম্মত হয় এবং পরবর্তীতে সন্ধ্যায় বাস চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়।

তবে এর পর, লিটন আলী নামে আরেক শ্রমিক নেতা নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বাস না চালানোর পক্ষাবলম্বন করেন। তিনি অনুসারীদের নিয়ে টার্মিনাল এলাকায় মাইকিং করলে বাস চলাচল আবারও বিলম্বিত হয়। পরে তাদের মধ্যেও একটি সমঝোতা হলে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাস চলাচল শুরু হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫ আগস্ট ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:১৬ এম


৫ আগস্ট ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বাস্থ্য মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের দিন থেকেই এই জাদুঘরটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক আহ্বানের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই কথা জানান।

ডা. শফিকুর রহমান এর আগে একটি বক্তব্যে বলেন, জুলাই মাসেই জুলাই স্মৃতি জাদুঘর খুলে দেওয়া উচিত। যদিও কিছু কাজ এখনও বাকি আছে, তবে এটি এখনই খুলে দেওয়া সম্ভব। পরবর্তীতে সংস্কার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ চলতে থাকবে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী যদি জাদুঘরটি উদ্বোধন করেন এবং আমন্ত্রণ জানান, তবে তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

এদিকে, সচিবালয়ে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, আগামী ৫ আগস্টের মধ্যেই জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের সকল ধরনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজের পর এবার বাব আল-মান্দেবেও চাপ বাড়াতে চায় ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:১৯ এম


হরমুজের পর এবার বাব আল-মান্দেবেও চাপ বাড়াতে চায় ইরান

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার পর এবার নতুন বার্তা দিচ্ছে ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ নিয়ে। দেশটি ইঙ্গিত দিয়েছে, প্রয়োজনে ইয়েমেনের হুতি মিত্রদের মাধ্যমে লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও জাহাজ চলাচল ব্যাহত করা হতে পারে।

এমন পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে, বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ইরানের ভেতরে সামরিক হামলা বাড়াচ্ছে এবং অন্যদিকে ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধেও অভিযান জোরদার করেছে। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে, ইরান সংঘাতকে আরো বিস্তৃত করার কৌশল নিচ্ছে।

শুধু উপসাগর নয়, লোহিত সাগর এলাকাকেও সংঘাতের আওতায় এনে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরির উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়াতে চাইছে তেহরান। ইতোমধ্যেই ইরান তাদের অন্যতম বড় কৌশলগত শক্তির প্রভাব দেখিয়েছে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করে। বিশ্লেষকদের ধারণা, বাব আল-মান্দেব প্রণালিকে দ্বিতীয় চাপের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

সৌদি আরবের তেল রপ্তানির বড় অংশ এবং বিশ্বের বিপুল পরিমাণ পণ্যবাহী জাহাজ এই পথ দিয়েই চলাচল করে। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ইয়েমেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, যদি সৌদি আরব ইয়েমেনে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তার দাবি, এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে পৌঁছে যেতে পারে।

হুতি আন্দোলন আনসারুল্লাহর রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহও একই ধরনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে ইয়েমেনে হামলা চালাতে উৎসাহিত করছে। তার ভাষায়, এই নীতি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের স্বার্থের বিরুদ্ধেই যাবে। তিনি আরো বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির আরো অবনতি হলে বাব আল-মান্দেব ও হরমুজ—দুই প্রণালিতেই যৌথ সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তার দাবি, এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে পৌঁছে যেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি হরমুজ প্রণালি ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী কৌশলগত হাতিয়ার হয়ে থাকে, তাহলে বাব আল-মান্দেব হতে পারে তাদের পরবর্তী বড় চাপ সৃষ্টির উপায়। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষক ফাওয়াজ গেরগেস রয়টার্সকে বলেন, ইরান প্রয়োজনে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত। তার মতে, তেহরান ওয়াশিংটনকে এই বার্তা দিতে চাইছে যে, তারা একই সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সামুদ্রিক পথকেই ঝুঁকির মুখে ফেলতে সক্ষম। এর ফলে সংঘাত শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। গেরগেস আরো বলেন, ইরান এখন একই সঙ্গে কাছের ও দূরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। তাদের বার্তা হলো, শুধু হরমুজ নয়, বাব আল-মান্দেবও এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বড় আশঙ্কা এখনই পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হওয়া নয়। বরং এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে কোনো পক্ষ সরাসরি যুদ্ধে না গিয়েও একের পর এক পদক্ষেপ নিয়ে সংঘাতের পরিধি বাড়াতে থাকবে। উপসাগর থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাণिज্য ও জ্বালানি সরবরাহ আরো অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি তেল পরিবহন পথ যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য ঝুঁকির মধ্যে থাকে, তাহলে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠবে। এমন অবস্থায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের ওপর আবারও আলোচনায় ফেরার আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচক ডেনিস রস বলেন, ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য হলো এমন পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে ইরান আবার আলোচনায় ফিরতে বাধ্য হয়। শুধু আলোচনা নয়, এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছানোও গুরুত্বপূর্ণ, যা উভয়পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে।

হুতিরা আগেই দেখিয়েছে যে তারা বাব আল-মান্দেব প্রণালির মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা শুরু করে। তাদের দাবি ছিল, ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করছে। এসব হামলার কারণে বিশ্বের বড় বড় জাহাজ পরিবহন কোম্পানিগুলোকে লোহিত সাগরের পরিবর্তে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে চলাচল করতে হয়। এতে পরিবহন ব্যয় ও সময় দুটিই বেড়ে যায়। পরিস্থিতি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য হুতিদের অবস্থানে বিমান হামলা চালায়। এই সঙ্গে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুজাতিক নৌ অভিযানও শুরু হয়। লন্ডনের কিংস কলেজের নিরাপত্তা গবেষণা বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ বলেন, হরমুজের পর বাব আল-মান্দেব নিয়ে হুতিদের সাম্প্রতিক হুমকি ইরানের আরেকটি চূড়ান্ত কৌশল হতে পারে। তার মতে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী যদি মনে করে পূর্ণমাত্রার সংঘাত এড়ানো আর সম্ভব নয়, তখনই তারা এই পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা আরো বাড়ায়, তাহলে তেহরান ইয়েমেনের হুতি মিত্রদের ব্যবহার করে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করতে পারে। এতে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে, তা আরো বেড়ে যাবে।

সৌদি আরবভিত্তিক গালফ রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান আবদুলআজিজ সাগের বলেছেন, উপসাগরীয় দেশগুলো ক্রমেই মনে করছে, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সীমা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। তবে একই সঙ্গে তারা এটাও বুঝতে পারছে যে, বড় ধরনের যুদ্ধ পুরো অঞ্চলের জন্যই অত্যন্ত ব্যয়বহুল হবে। তার ভাষায়, ইরান জিতুক বা হারুক—দুই ক্ষেত্রেই পুরো অঞ্চলের জন্য বড় ধরনের পরিণতি থাকবে। তবে কিছু উপসাগরীয় দেশ মনে করতে পারে, যদি ইরানের পরাজয়ের ফলে ভবিষ্যতে আরো স্থিতিশীল আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, তাহলে সেই মূল্য মেনে নেওয়া যেতে পারে। সাগের আরো বলেন, বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার সক্ষমতা এখনো হুতিদের রয়েছে। তবে তেহরানের সরাসরি নির্দেশনা ছাড়া তারা বড় ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি করবে বলে মনে হয় না। তার মতে, হুতিরা যদি আবার আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা আরো বড় সামরিক অভিযান চালাতে পারে। এর উদ্দেশ্য হবে হুতি গোষ্ঠীর সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়া।

এদিকে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে সামরিক অভিযান শুরু করে, তার পর থেকে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা বেড়েছে। সংঘাত ধীরে ধীরে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানও বিভিন্ন দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে। চলমান এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই ইরান ও লেবাননের নাগরিক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%