০৯:০৬ এম
বর্ষা মৌসুমে, বৃষ্টির সাথে প্রচণ্ড গরমের কারণে মশার উপদ্রব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ঠিক এই সময়ে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিও যেমন ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া এবং ম্যালেরিয়ার আয় বৃদ্ধি পায়। তাই মশা নিয়ন্ত্রণে শুধু কয়েল বা স্প্রের ওপর ভরসা না করে, ঘরোয়া কিছু উপায়ও অনুসরণ করা যেতে পারে।
সম্প্রতি লেবুর খোসা এবং তেজপাতা পানিতে ফুটিয়ে সেখানকার বাষ্প ব্যবহার করে মশা তাড়ানোর একটি পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন যে, লেবুর খোসায় উপস্থিত ডি-লিমোনিন এবং তেজপাতার সিনেওল, লিনালুল ও ইউজিনল প্রভৃতি উদ্বায়ী উপাদান গরম হয়ে সুগন্ধ ছড়িয়ে দেয়। ফলে ঘরের ভ্যাপসা গন্ধ কিছুটা আড়াল হয়ে যায় এবং আশপাশের কিছু পোকামাকড় সাময়িকভাবে দূরে থাকতে পারে। যদিও এই পদ্ধতিতে মশা স্থায়ীভাবে দূর করতে সক্ষম—এ ধরনের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও সঠিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মশা দূরে রাখতে আরেকটি পরিচিত ঘরোয়া পদ্ধতি হচ্ছে, লেবুর অর্ধেক অংশে কয়েকটি লবঙ্গ গুঁজে ঘরের বিভিন্ন স্থানে রাখা। সাইট্রাস ও লবঙ্গের তীব্র গন্ধ মশার জন্য একটি অস্বস্তিকর বিষয় হতে পারে, যার ফলে এটি কাজেও আসতে পারে।
আরও পড়ুন: বেগুনের খোসায় ফিরবে চুলের উজ্জ্বলতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, মশা নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হচ্ছে, কোনো স্থানে পানি জমতে দেওয়া। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ড্রেন, ফুলের টব বা আশপাশে জমে থাকা বৃষ্টির পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে, কারণ এসব স্থানেই মশা ডিম পাড়ে।
এছাড়াও, তুলসি, লেমনগ্রাস, গাঁদা, পুদিনা এবং ক্যাটনিপের মতো গাছ বাড়ির আশপাশে রোপণ করা হলে মশার উপদ্রব কিছুটা কমে আসতে পারে। পুদিনাপাতা পানিতে ভিজিয়ে বা ফুটিয়ে তার গন্ধ ছড়িয়ে দিলে কিছু পোকামাকড় দূরে থাকতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, ঘরোয়া এসব উপায় সহায়ক হলেও, ডেঙ্গু প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি হলো পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং প্রয়োজনে অনুমোদিত মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করা। এ সকল উপায়ের সমন্বিত প্রয়োগেই বর্ষাকালে মশার উপদ্রব কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
আরও পড়ুন: তেঁতুলিয়ায় পর্যটকদের ভিড়, নীলাকাশে উঁকি দিচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন