ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

আজকের নামাজের সময়সূচি: ৪ নভেম্বর ২০২৬


আজকের নামাজের সময়সূচি: ৪ নভেম্বর ২০২৬

আজ বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩, ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮।

ঢাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের নামাজ শুরু হবে দুপুর ১১টা ৪৫ মিনিটে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে ৭ দিনের সফরে আসছেন মাওলানা সায়্যিদ মাসউদ আসআদ মাদানি

আসরের নামাজ শুরু হবে ৩টা ৪১ মিনিটে।

মাগরিবের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে ৫টা ২১ মিনিটে।

এশার নামাজ শুরু হবে ৬টা ৩৬ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৪টা ৫৩ মিনিটে

আরও পড়ুন: অধ্যাপক ড. ইয়াহইয়া: শিক্ষা, গবেষণা ও মানবসেবায় অনন্য জীবন

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে ৫টা ২১ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ৬টা ৬ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৪ নভেম্বর: ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২২ এম


৪ নভেম্বর: ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা

আজ বুধবার ২ নভেম্বর, ২০২৬। ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে এই দিনটি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য ঘটনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয়। চলুন, এক নজরে দেখে নেওয়া যাক—ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যুদিনসহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ঘটনাবলি

১৯১৮ সালে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির এক সপ্তাহ আগে অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্যবাদী মিত্র বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে।

১৯৪৬ সালে, জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৫৬ সালে, সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে আন্দোলন দমন করার উদ্দেশ্যে সোভিয়েত সেনাবাহিনী হাঙ্গেরিতে প্রবেশ করে।

১৯৭২ সালে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়।

১৯৭৮ সালে, ইরানের মুসলিম জনগণের বিদ্রোহের মুখে শাহ সরকারের শরীফ ইমামির সরকার পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়।

১৯৯০ সালে, ইরানি গবেষক ডক্টর ফারার্মায অশুরি জাপানে প্রাকৃতিক কিছু বস্তুর মধ্যে রশ্মি-বিরোধী গুণ-বৈশিষ্ট্য খুঁজে পেতে সক্ষম হন।

১৯৯২ সালে, ডেমোক্রেটিক পার্টির বিল ক্লিনটন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

জন্ম

১৫৭৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন গুইডো রেনি, যিনি ইতালীয় চিত্রশিল্পী ছিলেন।

১৬১৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন আওরঙ্গজেব, যিনি মুঘল সম্রাট ছিলেন।

১৮৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন সাহিত্যিক কাজী ইমদাদুল হক।

১৮৮৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু।

১৮৯০ সালে জন্মগ্রহণ করেন ক্লাবুন্ড, যিনি জার্মান লেখক ও কবি ছিলেন।

১৯০৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন জোসেফ রটব্লাট, যিনি নোবেল পুরস্কার বিজয়ী পোলিশ ইংরেজ পদার্থবিদ ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।

১৯১৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন ওয়াল্টার ক্রঙ্কিটে, যিনি আমেরিকান সাংবাদিক, ভয়েস অভিনেতা ও প্রযোজক ছিলেন।

১৯২৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন ঋত্বিক ঘটক, যিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ভারতীয় অভিনেতা, পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার ছিলেন।

১৯৩৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন মাননীয় চার্লস কুয়েন কাও, যিনি নোবেল পুরস্কার বিজয়ী চীনা বংশোদ্ভূত হংকং-এর পদার্থবিদ ও প্রকৌশলী ছিলেন।

১৯৪৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন লরা বুশ, যিনি আমেরিকার শিক্ষাবিদ ও ৪৫ তম ফার্স্ট লেডি ছিলেন।

১৯৫০ সালে জন্মগ্রহণ করেন চার্লস ফ্রাইয়ের, যিনি আমেরিকান লেখক ছিলেন।

১৯৭১ সালে জন্মগ্রহণ করেন টাবু, যিনি ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী।

১৯৮৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন আইলা ইউসুফ, যিনি নাইজেরিয়ান ফুটবলার ছিলেন।

১৯৮৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন মারকেল জান্সেন, যিনি জার্মান ফুটবলার ছিলেন।

মৃত্যু

১৬৬৫ সালে বিজয়পুরের সুলতান মুহাম্মদ আদিল শাহ মৃত্যুবরণ করেন।

১৭০২ সালে জন বেনবও, যিনি ইংরেজ এডমিরাল ছিলেন, এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন।

১৭৭১ সালে কবি ও সাংবাদিক জেমস মন্টোগোমারি মৃত্যুবরণ করেন।

১৮১৮ সালে ইংরেজ কবি উইলফেদ্ধড ওয়েন নিহত হন।

১৮৪৭ সালে ফেলিক্স মেন্ডেলসহ্ন, যিনি জার্মান পিয়ানোবাদক, সুরকার ও পথপ্রদর্শক ছিলেন, মৃত্যুবরণ করেন।

১৮৯৩ সালে পিয়ের টিরারড, যিনি ফ্রান্সের সুইস ফরাসি প্রকৌশলী ও রাজনীতিবিদ এবং ৫৪ তম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, মৃত্যুবরণ করেন।

১৯১৮ সালে উইলফ্রেড ওয়েন, যিনি ইংরেজ সৈনিক ও কবি ছিলেন, মৃত্যুবরণ করেন।

১৯২১ সালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী হারা তাকাশি টোকিওতে আততায়ীর দ্বারা নিহত হন।

১৯২৪ সালে গাব্রিয়েল ফাউরে, যিনি ফরাসি পিয়ানোবাদক, সুরকার ও শিক্ষাবিদ ছিলেন, মৃত্যুবরণ করেন।

১৯৪৯ সালে ইরানের প্রধানমন্ত্রীর আবদুল হোসেন নিহত হন।

১৯৯৫ সালে ইসহাক রবিন, যিনি নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ইসরায়েলি জেনারেল, রাজনীতিবিদ ও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, চরমপন্থি এক ইসরাইলীর হাতে নিহত হন।

১৯৯৫ সালে আফগান কবি ও সাংবাদিক নাদিয়া আঞ্জুমান মৃত্যুবরণ করেন।

১৯৯৭ সালে লেখক সাংবাদিক রণেশ দাশগুপ্তের মৃত্যু ঘটে।

১৯৯৯ সালে ম্যালকম ডেঞ্জিল মার্শাল, যিনি বার্বাডোসে জন্মগ্রহণকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটার ছিলেন, মৃত্যুবরণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সচিবালয়ে নিরাপত্তা জোরদারে সার্বক্ষণিক পরিচয়পত্র প্রদর্শনের নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২২ এম


সচিবালয়ে নিরাপত্তা জোরদারে সার্বক্ষণিক পরিচয়পত্র প্রদর্শনের নির্দেশ

সরকার সচিবালয়ে প্রবেশ ও অবস্থানের সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) সার্বক্ষণিক দৃশ্যমান রাখার নির্দেশনা দিয়েছে, যা নিরাপত্তা জোরদারের জন্য অপরিহার্য। সচিবালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তাঁদের প্রবেশ কার্ড এমনভাবে প্রদর্শন করতে হবে, যেন সহজেই তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবালয় নিরাপত্তা শাখার একটি প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সচিবালয়ের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা/কর্মচারীকে তাঁদের সচিবালয় প্রবেশ কার্ড (আইডি কার্ড) দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করা প্রয়োজন।

এতে আরও বলা হয়েছে, সচিবালয়ে স্থায়ী, অস্থায়ী, মিটিংয়ে আগত এবং OTP এর মাধ্যমে অনেক দর্শনার্থী প্রবেশ করে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন সচিবালয়ে অফিস করায় এর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আইডি কার্ড প্রদর্শন করা একান্ত প্রয়োজন।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সচিবালয়ে প্রবেশ ও অবস্থানকালে সচিবালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের আবশ্যিকভাবে সচিবালয় প্রবেশ কার্ড (আইডি কার্ড) সার্বক্ষণিক দৃশ্যমান রাখার জন্য নিজ নিজ মন্ত্রণালয়/বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের নির্দেশনা প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হলো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোবিপ্রবির সমাবর্তনে প্রয়াত শিক্ষার্থীদের স্মরণে দেওয়া হবে মরণোত্তর সম্মাননা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৩১ এম


নোবিপ্রবির সমাবর্তনে প্রয়াত শিক্ষার্থীদের স্মরণে দেওয়া হবে মরণোত্তর সম্মাননা

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) তৃতীয় সমাবর্তনে প্রয়াত শিক্ষার্থীদের স্মরণে তাদের পরিবারের কাছে বিশেষ মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হবে।

এ সম্মাননা আগামী ২৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সমাবর্তনে ২০১৪-১৫ থেকে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের মধ্যে মৃত্যুবরণ করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।

উপাচার্য মন্তব্য করেন, ‘সমাবর্তন শুধু সনদ বিতরণের অনুষ্ঠান নয়, এটি পুরো নোবিপ্রবি পরিবারের মিলনমেলা। এই দীর্ঘ সময়ে আমরা আমাদের যেসব প্রিয় শিক্ষার্থীকে হারিয়েছি, তাদের স্মৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে অমলিন। সমাবর্তনের মূল আয়োজনে ১০ম থেকে ১৬তম ব্যাচের প্রয়াত শিক্ষার্থীদের স্মরণে তাদের পরিবারের হাতে মরণোত্তর সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।’

তিনি আরো জানান, সমাবর্তনকে উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজন করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিবন্ধনের অগ্রগতি এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়েও প্রশাসন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উইজডেন কিভাবে ক্রিকেটের ‘বাইবেল’ হয়ে উঠল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৩১ এম


উইজডেন কিভাবে ক্রিকেটের ‘বাইবেল’ হয়ে উঠল

বিশ্বের দীর্ঘকাল ধরে প্রকাশিত ক্রীড়া গ্রন্থ 'উইজডেন ক্রিকেটার্স’ অ্যালম্যানাক' অন্যতম। ১৮৬৪ সাল থেকে এটি প্রতি বছর প্রকাশিত হয়ে আসছে। যুদ্ধ, মহামারি, সামাজিক অস্থিরতা এমনকি ক্রিকেট বন্ধ থাকার সময়েও এর প্রকাশনা কখনো থেমে যায়নি।

প্রথম সংস্করণটি ছিল ১১২ পৃষ্ঠার, যেখানে মূলত ইংল্যান্ডে গত ৫০ বছরের ম্যাচের স্কোরকার্ড, ক্রুসেডের তারিখ এবং জর্জ ওয়াশিংটনের মৃত্যুর তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। আর সর্বশেষ ২০২৬ সালের সংস্করণটি ১,৫২০ পৃষ্ঠার, যেখানে বিশ্বব্যাপী ক্রিকেট, নারী ক্রিকেট, বিশদ বিশ্লেষণ এবং বিপুল পরিসংখ্যান স্থান পেয়েছে।

ক্রিকেটের জন্মভূমি ইংল্যান্ডে এটি সংকলিত ও প্রকাশিত হলেও বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এর পাঠক ও সংগ্রাহক রয়েছেন। বিরল সংস্করণগুলোর জন্য অনেক সংগ্রাহক বিপুল অর্থ ব্যয় করতে প্রস্তুত।

কিভাবে শুরু হলো উইজডেন?

সাবেক ক্রিকেটার জন উইজডেন ১৮৬০-এর দশকের শুরুতে এই অ্যালম্যানাক প্রতিষ্ঠা করেন। লন্ডনে তার তামাক ও ক্রীড়াসামগ্রীর দোকান ছিল। প্রতিদ্বন্দ্বী এক দোকান 'দ্য ইয়ং ক্রিকেটার্স গাইড' নামে একটি প্রকাশনা বের করত। সেই প্রতিযোগিতায় নামতেই উইজডেন নিজের পত্রিকা শুরু করেন।

১৮৬৪ সালের প্রথম সংস্করণের দাম ছিল এক শিলিং। ভূমিকায় উইজডেন লিখেছিলেন, ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য যতটা সম্ভব তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছে এবং সাফল্য পেলে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত সংস্করণ প্রকাশ করা হবে।

সেই "মাঝারি সাফল্য" আজ এক বিশাল ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। এখন এটি ক্রিকেটের ‘বাইবেল’ হিসেবে পরিচিত।

লাখ লাখ টাকার সংগ্রহ

উইজডেনের সব ১৬৩টি মূল সংস্করণের পূর্ণ সেট কিনতে হলে বর্তমানে খরচ পড়বে ৩ লাখ পাউন্ডেরও বেশি (প্রায় ৪ লাখ ডলার)। এটি যুক্তরাজ্যের গড় বাড়ির মূল্যের চেয়েও বেশি।

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ উইজডেন সংগ্রাহক ও বিক্রেতা বিল ফারমিজ জানান, আসল সংস্করণগুলোর মধ্যে ১৮৭৫ সালের সংস্করণ সবচেয়ে বিরল। মাত্র ২৫০ কপি ছাপা হয়েছিল। পরে পুনর্মুদ্রণের সময় অগ্নিকাণ্ডে অধিকাংশ কপি নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে একটি আসল ১৮৭৫ সংস্করণের মূল্য ৪৫ থেকে ৫০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে।

১৮৯৭ সালের হার্ডকভার সংস্করণ দ্বিতীয় বিরলতম। ১৮৯৬ সালে প্রথম হার্ডকভার প্রকাশিত হলেও বিক্রি কম হওয়ায় পরের বছর কমসংখ্যক কপি ছাপা হয়েছিল।

ইন্টারনেট যুগে টিকে থাকার লড়াই

উইজডেনের বর্তমান সম্পাদক লরেন্স বুথের মতে, ইন্টারনেট আসার পর অ্যালম্যানাককে তার ভূমিকা বদলাতে হয়েছে।

এক সময় মানুষ পরিসংখ্যানের জন্য উইজডেনের উপর নির্ভর করত। কিন্তু এখন অনলাইনে মুহূর্তেই তথ্য হালনাগাদ হয়। তাই উইজডেন ধীরে ধীরে শুধু পরিসংখ্যানের ভাণ্ডার না হয়ে উচ্চমানের ক্রিকেট সাহিত্য ও বিশ্লেষণের বইয়ে পরিণত হয়েছে।

বুথ বলেন, “বইটির প্রথম ৩০০ পৃষ্ঠা আমরা বছরের সেরা ক্রিকেট-লেখায় ভরিয়ে দিতে চাই।”

নারী ক্রিকেটের উত্থান

নারী ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বও প্রতিফলিত হয়েছে উইজডেনে। ২০১৮ সালের সংস্করণে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপজয়ী তারকা আনিয়া শ্রাবসোল প্রথম নারী হিসেবে প্রচ্ছদে স্থান পান।

উইজডেনে নারী ক্রিকেটের প্রথম উল্লেখ আসে ১৯৩৮ সালে।

ইতিহাসের সাক্ষী

উইজডেন শুধু ক্রিকেট বই নয়, বরং এক অর্থে সামাজিক ইতিহাসও।

এর পাতায় অসংখ্য চমকপ্রদ গল্প ও তথ্য পাওয়া যায়। যেমন, ভবিষ্যৎ রাজা ষষ্ঠ জর্জ এক ম্যাচে টানা তিন বলে উইকেট (হ্যাটট্রিক) নিয়েছিলেন। মজার ব্যাপার হলো, সেই তিন ব্যাটার ছিলেন তার দাদা, বাবা এবং বড় ভাই, যারা পরবর্তীতে একই ক্রমে ব্রিটিশ সিংহাসনে বসেছিলেন।

আবার ১৯৮৫ সালের সংস্করণে একটি স্কুল ক্রিকেট ম্যাচের স্কোরকার্ডে দেখা যায়, ভবিষ্যৎ ইংল্যান্ড অধিনায়ক নাসের হুসেইন ও মাইক আথারটন ১৬ বছর বয়সে একে অপরকে আউট করেছিলেন। পরে তারা ইংল্যান্ডের হয়ে ৫৭টি টেস্ট খেলেন একসঙ্গে।

যুদ্ধ ও মহামারির ছাপ

প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ক্রিকেট কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল। এর প্রভাব উইজডেনেও পড়ে। ১৯১৪ সালের সংস্করণ ছিল ৭৯৯ পৃষ্ঠার, যা ১৯১৬ সালে কমে দাঁড়ায় মাত্র ২৯৯ পৃষ্ঠায়।

একইভাবে করোনা মহামারির বছরে প্রকাশিত ২০২১ সংস্করণও স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক পাতলা ছিল।

সংগ্রাহকদের আবেগ

অনেকের কাছে উইজডেন শুধু বই নয়, বরং পারিবারিক স্মৃতি। সাংবাদিক পলি স্টার্কি তার দাদার কাছ থেকে ৫০টিরও বেশি সংস্করণ উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছেন।

অন্যদিকে স্পেনে বসবাসকারী স্টিভ গ্রিনের সংগ্রহে রয়েছে ১৮৬৪ সালের প্রথম সংস্করণ থেকে শুরু করে প্রতিটি উইজডেন। তিনি ১৯৬২ সাল থেকে প্রতি বছর নতুন সংস্করণ কিনে আসছেন।

ক্রিকেটের চিরন্তন দলিল

দেড় শতকেরও বেশি সময় ধরে উইজডেন শুধু ক্রিকেটের তথ্য সংরক্ষণ করেনি, বরং ক্রিকেটের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানবিক গল্পও তুলে ধরেছে। সংগ্রাহকদের আগ্রহ, পাঠকদের ভালোবাসা এবং সম্পাদকদের যত্নশীল সংকলনের কারণে ক্রিকেটের এই ‘বাইবেল’ আগামী দিনেও তার মর্যাদা ধরে রাখবে বলেই মনে করা হয়।

আর তাই, ১৬৩ সংস্করণ পেরিয়ে এখন সবাই অপেক্ষা করছে পরবর্তী সংস্করণের।

সূত্র: দ্য অ্যাথলেটিক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%