০৬:৫৭ পি.এম
চট্টগ্রামের পটিয়ায় পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে প্রতিপক্ষের হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ভাঙচুর ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ উঠেছে। হামলার সময় ভিডিও ধারণ করতে যাওয়ায় মা ও দুই ছেলেকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন—দিলয়ারা বেগম (৪৮) এবং তাঁর দুই ছেলে শাহদাত হোসেন ইরফান (২০) ও জিহান হোসেন (২৪)।
শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়নের ওকন্যারা গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। জাবেদ হোসেন বাদী হয়ে পটিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন এই ঘটনার প্রেক্ষিতে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
আরও পড়ুন: মধুপুরে পুলিশের পৃথক দুই অভিযানে ১৪৩ লিটার চোলাইমদ ও ৯০ লিটার উপকরণ উদ্ধার,গ্রেফতার- ৪
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন—আবদুল হান্নান (৪৫), মো. সেলিম (৪৬), নেজাম উদ্দিন (৪০) এবং ফোরকান উদ্দিন আজম (৩৫)। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ৩টার দিকে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জাবেদ হোসেনদের সঙ্গে একই এলাকার আলমসহ প্রতিপক্ষের লোকজনের মধ্যে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে গত শুক্রবার সকালে অভিযুক্তরা অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাদীর বসতবাড়ির পেছনের টিনের বেড়া ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলার সময় বাদীর এক ভাই মোবাইল ফোনে ঘটনার দৃশ্য ধারণ করার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাঁর ওপর চড়াও হন। এ সময় তাঁকে রক্ষায় মা দিলয়ারা বেগম এগিয়ে গেলে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের কোপে দিলয়ারা বেগমের কপালে গুরুতর জখম হয় এবং অপর এক হামলায় সাক্ষীর নাক ফাটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়।
পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
আরও পড়ুন: "বিশ্বম্ভরপুরে ভুয়া অফিসার! তিন বছর ধরে উপজেলা শিক্ষা অফিসে করছেন নিয়মিত কাজ"
এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, পৈতৃক সম্পত্তির বিরোধ ও ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে মা-ছেলেকে রক্তাক্ত করার ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন