বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৩৫ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের মেলকাই খানবাড়ি দারুল কোরআন আরাবিয়া মাদ্রাসার উদ্যোগে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পঞ্চম বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল এবং হিফজ সম্পন্নকারী ছাত্রদের পাগড়ি প্রদান অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
গত বুধবার (৪ নভেম্বর) বাদ জোহর মাদরাসা ময়দানে আয়োজিত এই ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী মাহফিলে স্থানীয় এলাকাবাসী ছাড়াও বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। কোরআনের নূর ছড়ানোর এই মাহফিল গভীর রাত পর্যন্ত চলে।
এসময় বনগ্রাম খাদিমুল ইসলাম সুন্নাতীয়া মাদ্রাসার মুহতামিম আলহাজ্ব হযরত মাওলানা আব্দুল বারী সাহেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বয়ান পেশ করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মুফাসসিরে কোরআন ও শাইখুল হাদিস মাওলানা নাসির উদ্দিন যুক্তিবাদী (মুহতামিম, সুলতানশাহী মাদ্রাসা, গোপালগঞ্জ)। এছাড়া বিশেষ বক্তা হিসেবে মূল্যবান আলোচনা পেশ করেন ধুলগ্রাম হামিউস সুন্নাহ মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মুফতি তাজুল ইসলাম ফারুকী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাসার হামেদিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম আলহাজ্ব হাফেজ আবুল খায়ের এবং কাঁচপুরি সেন্টার জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা গোলাম হুসাইন।
মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা জাকির হোসেনের সার্বিক তত্ত্বাবধান এবং স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রতিষ্ঠাতা পরিষদের ঐকান্তিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সফল রূপ লাভ করে। দেশের দূরদূরান্ত থেকে আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উপস্থিতে মাদরাসা প্রাঙ্গণ এক অভূতপূর্ব আত্মিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানের আকর্ষণীয় পর্বে পবিত্র কোরআনে হাফেজ হওয়া কৃতি ছাত্রদের মাথায় পাগড়ি পরিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং ঐক্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
পরিশেষে আগত সকল মেহমান ও মুসল্লিদের তবারক বিতরণের মাধ্যমে এই মহতী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
শাওন বল
মাদারীপুর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কাইতকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নূরুল ইসলাম। পাঠদান ছেড়ে বিগত তিন বছর ধরে উপজেলা শিক্ষা অফিসে দাপ্তরিক ও অডিটের দায়িত্ব পালন করে আসছেন—এমন অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। বৈধ কোনো লিখিত আদেশ বা প্রেষণ ছাড়াই কেবল সাবেক শিক্ষা অফিসারের ‘মৌখিক নির্দেশে’ বছরের পর বছর ধরে তিনি এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় সাংবাদিকরা বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসে গিয়ে শিক্ষক নূরুল ইসলামকে হাতেনাতে পান এবং এ বিষয়ে তাঁর মুখোমুখি হন।
জিজ্ঞাসাবাদের জবাবে শিক্ষক নূরুল ইসলাম দাবি করেন, তাঁর আগের উপজেলা শিক্ষা অফিসার (যিনি ইতিপূর্বে এখান থেকে বদলি হয়ে গেছেন) তাঁকে মৌখিকভাবে এই দায়িত্ব দিয়েছিলেন। সেই মৌখিক আদেশের ভিত্তিতেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা অফিসের কম্পিউটার কাম সহকারীসহ অন্যান্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে বর্তমান উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল আউয়াল এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি মাত্র সাত মাস হলো এই কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক নূরুল ইসলামকে অফিসে কাজ করতে দেখায় তিনি বিষয়টি নিয়ে অতীতে কোনো প্রশ্ন তোলেননি।
ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ সখিনা আক্তারের নজরে আনা হলে তিনি জানান, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিসারকে অবগত করা হবে। ওই শিক্ষকের যদি কোনো বৈধ কাগজপত্র বা দাপ্তরিক প্রেষণের আদেশ না থাকে, তবে তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের মূল দায়িত্ব হলো বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা। কিন্তু কোনো ধরনের লিখিত সংযুক্তি বা প্রেষণ আদেশ ছাড়াই বছরের পর বছর শিক্ষা অফিসে বসিয়ে রেখে শিক্ষককে দিয়ে দাপ্তরিক বা অডিটের কাজ করানোর বিষয়টি যেমন প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী, তেমনি সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকার শিক্ষক ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বুধবার ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক আলোচনার সৃষ্টি করেছেন। তিনি মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য সরাসরি ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন।
অনেকে মনে করছেন, তার এই বক্তব্য ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার একটি প্রচেষ্টা।
ইরান যুদ্ধ সম্পর্কে ভ্যান্সের অবস্থান নিয়ে ওয়াশিংটনে আগেই আলোচনা চলছিল। তিনি প্রকাশ্যে এই যুদ্ধের প্রতি সমর্থন জানালেও, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠকে এর বিরোধিতা করেছেন বলে জানা গেছে। তবে এতদিন তার এই মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আসেনি। বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া প্রায় ৬০০ শব্দের এক বিবৃতিতে ভ্যান্স তার অবস্থান স্পষ্ট করেন।
তিনি লেখেন, ‘আপনি যদি মনে করেন, আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর বিনিময়ে এই যুদ্ধের মূল্য দেওয়া সার্থক হয়েছে, তাহলে সরাসরি সেটাই বলুন।’ অনেকে তার এই বক্তব্যকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের কাছ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
তিনি আরো লেখেন, ‘যুক্তি দিয়ে বোঝান, কেন এই মূল্য দেওয়া যৌক্তিক ছিল। আপনি একমত হোন বা না হোন, অন্তত সেটি হবে সৎ অবস্থান।’ ভ্যান্সের এই বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন নজির খুব কমই দেখা গেছে, যেখানে দায়িত্বে থাকা কোনো ভাইস প্রেসিডেন্ট গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সরাসরি প্রেসিডেন্টের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন।
তবে এরপর আরো বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে। সাধারণত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের কাছ থেকে নিঃশর্ত আনুগত্য প্রত্যাশা করেন। কিন্তু এবার তিনি ভ্যান্সের বক্তব্যের সঙ্গে অনেকটাই একমত পোষণ করেছেন।
ট্রাম্প বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ‘বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই’ ইরান যুদ্ধের কারণে নির্ধারিত হয়েছে। তবে তিনি জানান, আবারও এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তিনি ‘একই সিদ্ধান্ত নিতেন’।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে প্রাথমিকভাবে একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে যে, ভ্যান্স ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিলে ট্রাম্প তাকে নিজের অবস্থান থেকে ভিন্নমত প্রকাশের যথেষ্ট স্বাধীনতা দিতে পারেন। সাধারণত ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের কাছ থেকে কঠোর আনুগত্য প্রত্যাশা করা ট্রাম্পের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর তার অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেননি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) তিনি জানান, এ বিষয়ে তার কোনো উদ্বেগ নেই। বরং তিনি সতর্ক করেছেন যে, যদি ডেমোক্র্যাটরা এমন উদ্যোগ নেয়, তাহলে তারা রাজনৈতিকভাবে বিপাকে পড়বে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর প্রথমবারের মতো হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্পকে অভিশংসনের সম্ভাব্য উদ্যোগ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ নিয়ে তিনি ‘একটুও’ চিন্তিত নন।
ট্রাম্প বলেন, ‘না, না, না – একটুও না।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমার মনে হয়, তারা যদি এমনটা করে, তাহলে ডেমোক্রেটিক পার্টি ধ্বংস হয়ে যাবে। কারণ, কোনো কারণ ছাড়াই অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
ট্রাম্প কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যদি তার প্রশাসনের কাজে বাধা সৃষ্টি না করা হয়, তাহলে তাদের সঙ্গে সমঝোতা সম্ভব।
ট্রাম্প বলেন, ‘ডেমোক্র্যাটরা ধ্বংসাত্মক কিছু করতে না চাইলে সম্ভবত তাদের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক থাকবে। তবে আমার হাতে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।’
ডেমোক্র্যাটরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ, কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে। দেশজুড়ে দলটির একের পর এক নির্বাচনি সাফল্যের মধ্যে ট্রাম্পের এই মন্তব্য এসেছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ